সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ছয় দিন খালি জাল, ষষ্ঠ দিনে এফভি কুলসুমায় ২৬ লাখ টাকার ইলিশ

কক্সবাজারের ফিশারিঘাটে এক ট্রলারের ২ হাজার ২০০ ইলিশ বিক্রি হলো ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকায়; তবে জেলার ৬ হাজার ট্রলারের ৪ হাজারই ঘাটে পড়ে আছে, আর ইলিশ আহরণ নেমেছে তলানিতে।

সাত দিন সাগরে কাটিয়ে সোমবার সকালে কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়াছটা ঘাটে ফিরেছে মাছ ধরার ট্রলার এফভি কুলসুমা। পাঁচ দিন জাল ফেলে ইলিশের দেখা পাননি ১২ জেলে; ষষ্ঠ দিনে মহেশখালী উপকূলে জাল ফেলতেই উঠে আসে ২ হাজার ২০০ ইলিশ। পাশের ফিশারিঘাটের পাইকারি মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে সেই ইলিশ কয়েকজন ব্যবসায়ী কিনে নেন ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকায়। প্রতিটির ওজন ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম। বরফমিশ্রিত কার্টনে ভরে দুপুরেই মাছ রওনা হয় ঢাকার পথে।

ট্রলারের মালিক নুনিয়াছটার আমান উল্লাহ (৫৪) জানান, গত তিন মাস কক্সবাজারের জেলেরা ইলিশের দেখা পাননি; বঙ্গোপসাগরে ঘন ঘন নিম্নচাপ ও লঘুচাপের কারণে দুই মাস সাগরে নামাই যায়নি। মহেশখালীর তাজিয়াকাটা থেকে পশ্চিমে ১০-১২ কিলোমিটার দূরে জাল ফেলে তাঁর জেলেরা এই ইলিশ পেয়েছেন। তাঁর ভাষায়, গভীর সাগরে ইলিশ আছে, কিন্তু ছোট ট্রলার নিয়ে ৮০-৯০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে মাছ ধরা ঝুঁকির কাজ।

জেলে মো. আলমগীর জানান, খরচ বাদ দিয়ে ১২ জেলের প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকার মতো পাবেন, এক মৌসুমের খোরাকির জন্য যথেষ্ট না হলেও এক দিনের হিসাবে অনেক। ফিশারিঘাটে সোমবার পাইকারিতে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা, ৮০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৭০০ টাকা, ৫০০-৭০০ গ্রামের ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং ৩০০-৪০০ গ্রামের ইলিশ ৬৫০-৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাঝারি আকারের বেশির ভাগ ইলিশের পেটে ডিম ছিল বলে জানান জেলে ও ব্যবসায়ীরা।

ঘাটে থাকা ২৭ জন মাছ ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক দিনে তিন শতাধিক ট্রলার ফিশারিঘাটে ফিরেছে, প্রতিটিতে ২০০ থেকে ৩০০ ইলিশ। কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুই মাস জেলেরা সাগরে নামতে পারেননি; গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়ছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেয়েছে এফভি কুলসুমা।

এক ট্রলারের সাফল্যের আড়ালে জেলার মৎস্য খাতের সংকট স্পষ্ট। কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, জেলার ছোট-বড় ৬ হাজার ট্রলারের মধ্যে ৪ হাজার ঘাটেই পড়ে আছে। সাত দিনের এক ট্রিপে ৬-৭ লাখ টাকা খরচ হলেও মাছ বিক্রি করে মেলে ১ থেকে ৩ লাখ টাকা। লোকসানে বহু মালিক ট্রলার বিক্রি করে দিচ্ছেন; জেলার ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি জেলে সবচেয়ে বেশি বিপদে।

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই বাজারে ৫ হাজার ৬৫৮ টন মাছ অবতরণ হয়েছিল, যার মধ্যে ইলিশ ১ হাজার ৬২৮ টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট অবতরণ নেমে আসে ২ হাজার ৩৯ টনে, ইলিশ ৫২২ টন। জেলা মৎস্য বিভাগের হিসাবে গত অর্থবছরে জেলায় ২০ হাজার টনের বেশি ইলিশ ধরা পড়লেও চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই-আড়াই মাসে ৫০০ টনও হয়নি।

কক্সবাজার সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশরাফুল হক এর কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন, সামুদ্রিক দূষণ, উপকূলে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক ও ছেঁড়া জাল এবং ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বৃদ্ধির কথা বলছেন। তাঁর মতে, সাগরে যে পরিমাণ মাছ মজুত আছে, আহরণ হচ্ছে তার চেয়ে বেশি, সেখান থেকেই মাছের সংকটের শুরু।

সূত্র: প্রথম আলো

প্রথম আলোসূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)