২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল, শুক্রবার, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় ভিড় করেন হাজারো দর্শনার্থী। কেউ এসেছিলেন বন্ধুদের সঙ্গে, কেউ পরিবার নিয়ে। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে রাজধানীর বাইরে থেকেও এসেছিলেন অনেকে। খাঁচা থেকে খাঁচায় ঘুরে তাঁরা দেখেছেন নানা প্রজাতির প্রাণী ও পাখি।
দুপুরের পর বাড়ে ভিড়, গেটে হকার ও অটোরিকশা
জাগো নিউজের প্রতিবেদক সেদিন দুপুরে চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখেন, দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই শিশু-কিশোর। এর আগের সপ্তাহে ঈদের ছুটি শেষ হয়েছিল। ঈদ বা উৎসবের ছুটির দিনের মতো লোকারণ্য না হলেও শুক্রবার দুপুরের পর থেকে বিনোদনকেন্দ্রটিতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে।
দর্শনার্থীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে মূল গেটের সামনে শত শত হকারের বেচাকেনা। কেউ লেবুর শরবত বিক্রি করছিলেন, কেউ বাদাম, বেলুন, খেলনা বা আচার। গেটের সামনে সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জটও লেগে ছিল।

বাঘ, সিংহ আর পাখির খাঁচার সামনে শিশুরা
বানর, বাঘ, সিংহ, হরিণ ও জিরাফের খাঁচার সামনে শিশু ও অভিভাবকদের ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। মূল ফটক দিয়ে ঢুকলেই বানরের খাঁচা, তার সামনে পাখির খাঁচা। সেখানে বক, কালিম পাখি, গ্রেটার ফ্লেমিঙ্গো ও পেলিকানসহ বিভিন্ন প্রজাতির কয়েকশ পাখি রয়েছে। সেখান থেকে বাঁ দিকে এগোলে বাঘ ও সিংহের খাঁচা। এ ছাড়া বিভিন্ন খাঁচায় সাপসহ নানা প্রাণী রাখা আছে।
গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন কাজী মামুন। তিনি গাজীপুরের একটি কারখানায় কাজ করেন। মামুন জানান, ছুটির দিন হওয়ায় অফিসের সহকর্মীরা মাইক্রোবাস ভাড়া করে চিড়িয়াখানায় এসেছেন। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে গ্রামে ছিলাম। ছুটি শেষে কাজে যখন ফিরি তখন সবাই মিলে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করি। আজ দুটি মাইক্রোবাসে আমরা ৬ জন পরিবারসহ এসেছি। বাচ্চারা বাঘ-ভাল্লুক দেখেছে। সবাই মিলে খাওয়াদাওয়া করছি। আনন্দে সময় কেটে যাচ্ছে।’
পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে এসেছিলেন তরুণ মোতালেব আমিন। টিকিট কাটার সময় তিনি বলেন, ‘মূলত বন্ধুবান্ধব নিয়ে বেড়ানোর জন্যই এসেছি। সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া যায় না। আজ পেয়েছি, তাই হুট করে চলে এসেছি।’

দেশের সবচেয়ে বড় চিড়িয়াখানা
মিরপুরের এই চিড়িয়াখানা দেশের সবচেয়ে বড় চিড়িয়াখানা। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৫০ সালে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে একটি প্রাণী উদ্যান দিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। ১৯৭৪ সালের ২৩ জুন চিড়িয়াখানাটি মিরপুরের বর্তমান জায়গায় সরিয়ে আনা হয়। এটি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘ঢাকা চিড়িয়াখানা’ নাম বদলে রাখা হয় ‘বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা’।
বাংলাপিডিয়ায় বলা হয়েছে, চিড়িয়াখানায় ১৯১ প্রজাতির ২,১৫০টি মেরুদণ্ডী প্রাণী রয়েছে; এর মধ্যে ৯১ প্রজাতির ১,৫০০ পাখি। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষ চিড়িয়াখানায় আসেন, বছরে আসেন প্রায় ৩০ লাখ। ভেতরের দুটি লেকে প্রতি শীতে আশ্রয় নেয় অসংখ্য পরিযায়ী পাখি। বিনোদনের পাশাপাশি চিড়িয়াখানাটি প্রাণিবিদ্যা ও ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের শেখার জায়গাও; বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ভেটেরিনারি কলেজের শিক্ষার্থীরা এখানে ইন্টার্নশিপ করেন।

ছবি: Dolon Prova / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)