ঢাকাকে বসবাসের যোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৬ সালের ৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানো এবং কোন পরিবেশে কোন গাছ লাগাতে হবে, সে বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল "বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"।
বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা তৃতীয়
জাগো নিউজ ২৪ ও দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান এখন তৃতীয় এবং এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা খুবই জরুরি। তিনি বলেন, সভ্য দেশ হয়েও যেভাবে যত্রতত্র কলকারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে, তা কাম্য নয়। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বিষয়টিকে হালকাভাবে না দেখে গুরুত্ব দিয়ে ভাবার এবং পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী যে তালিকার কথা বলেন, সেটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইকোনমিস্ট গ্রুপের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগ ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) গ্লোবাল লাইভেবিলিটি ইনডেক্স ২০২৬। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের ৭ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সূচকে ১৭৩টি শহরের মধ্যে ঢাকা ১৭১তম হয়েছে; এর নিচে আছে কেবল সিরিয়ার দামেস্ক ও লিবিয়ার ত্রিপোলি। ঢাকার মোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৪২, যা আগের বছরের মতোই। স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো, এই পাঁচ মানদণ্ডে শহরগুলোকে মাপা হয়। ঢাকা সবচেয়ে কম নম্বর পেয়েছে অবকাঠামোতে, ২৭; সংস্কৃতি ও পরিবেশে পেয়েছে ৪১।

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বেশির ভাগ মানুষ পরিবেশ সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন নন, তাই মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করতে হবে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর অঙ্গীকারও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রথম আলো ও বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর এই মহাপরিকল্পনায় জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ড্রোন প্রযুক্তি ও একটি জাতীয় বৃক্ষ ডেটাবেজ দিয়ে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে। কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন কর্মসংস্থান এবং ১০ হাজার নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ঢাকায় ১২০টি স্টল নিয়ে মাসব্যাপী বৃক্ষমেলার পাশাপাশি ৭টি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিন, ৫৬টি জেলা সদরে ৭ দিন এবং ২৯টি উপজেলায় ৩ দিন বৃক্ষমেলা আয়োজনের কথা জানানো হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে জলপাই, জারুল ও নিম গাছের চারা রোপণ করেন।


ইউক্যালিপটাস কেন নিরুৎসাহিত
কোন পরিবেশে কী ধরনের গাছ লাগানো উচিত, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার কথা বলে প্রধানমন্ত্রী ইউক্যালিপটাসের মতো ক্ষতিকর গাছ লাগানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন-১ শাখা প্রজ্ঞাপন জারি করে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা রোপণ, উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় তখন জানায়, আগ্রাসী এই প্রজাতিগুলো মাটির নিচের পানি অতিরিক্ত শোষণ করে, এদের পাতার বিষাক্ত উপাদান আশপাশের মাটিকে অন্য গাছের জন্য অনুপযোগী করে এবং দেশি গাছপালা, পোকামাকড় ও পাখি এসব গাছে আশ্রয় বা খাবার পায় না। বনায়নে এর বদলে দেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগাতে বলা হয়।

পরিবেশ পদক ও বৃক্ষরোপণ পুরস্কার
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ ও বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ তুলে দেন এবং সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন। পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য তিন ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠান জাতীয় পরিবেশ পদক পান। বৃক্ষরোপণে ৭টি শ্রেণিতে মোট ২১ জন জাতীয় পুরস্কার পান।
ছবি: Mashkawat.ahsan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলা ট্রিবিউন, প্রথম আলো, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস





মন্তব্য
(০)