দিনাজপুরে আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষে এখন ব্যস্ত কৃষকেরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসসকে জানান, চলতি মৌসুমে ১৩ উপজেলায় ২৭ হাজার ৩৫০ হেক্টরে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা, এর মধ্যে আগাম জাতের ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর; এ ছাড়া ৩৬ হাজার ২৫০ হেক্টরে আলু চাষের লক্ষ্য।
অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আনিসুজ্জামান বলেন, সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারিতে শীতের সবজি বাজারে আসে, তখন সরবরাহ বেশি থাকায় কৃষক ন্যায্য দাম পান না। কিন্তু বর্ষার শেষে কার্তিকের শুরু থেকে দাম ও চাহিদা দুটোই বেশি থাকে; সে কারণেই এবার সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে উঁচু জমি প্রস্তুত করে চাষ শুরু হয়েছে, আর কিছু সবজি এরই মধ্যে ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে।
সদরের কর্ণাই গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪২) ৬০ শতক জমি তিন ভাগে ভাগ করে আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি, কাঁঠালি বেগুন, টমেটো ও মুলা করেছেন। অসময়ের বৃষ্টির কথা ভেবে খেতে ৩ ফুট পরপর নালা কেটে পানি নামার ব্যবস্থা রেখেছেন, তাতে সবজি ক্ষতি থেকে বেঁচেছে। ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বাজারে তুলতে পারবেন বলে আশা তাঁর।
ফুলবাড়ীর আলাদিপুরের সহিদ মিয়া (৩৮) ৩২ শতকে আগাম ফুলকপি করেছেন; এ পর্যন্ত খরচ প্রায় ২১ হাজার, বাজারজাত পর্যন্ত লাগবে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। গত বছর একই জমি থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার ফুলকপি বেচেছিলেন; এবার কপির সঙ্গে শিম ও শসাও করেছেন, ৮ থেকে ১০ দিনে কপি তুলবেন। উলিপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৪৮) বলেন, কয়েক বছর ধরে আগাম সবজি করে তাঁরা লাভবান, আধুনিক পদ্ধতিতে পরিশ্রম ও খরচ দুটোই কমেছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, আগাম সবজি লাভজনক বলে অনেক চাষি এ পদ্ধতি নিচ্ছেন; এখানকার সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় যায়, আর কৃষি বিভাগ চাষ ও রোগবালাই দমনে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে।
ছবি: রাজশাহীর নাগা বাজারে সকালের সবজি, NagaBazarRajshahi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)