সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ইলিশ ও দেশীয় মাছ আমদানি নিয়ন্ত্রণে মৎস্য অধিদপ্তরের দুই চিঠি ফাইলবন্দি মন্ত্রণালয়ে

২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর ও ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর মৎস্য অধিদপ্তর রুই, কাতলা, বোয়াল ও ইলিশ আমদানি নিয়ন্ত্রণের সুপারিশ পাঠালেও মন্ত্রণালয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেই; বেনাপোল দিয়ে চলতি অর্থবছরে ৪৫০ টন ইলিশ এসেছে, আর ডিজি খালেদ কনক বলছেন শেষ হওয়া ৪৩১ কোটি টাকার ইলিশ প্রকল্পের অনিয়ম খতিয়ে দেখা উচিত।

ইলিশসহ রুই, কাতলা, আইড় ও বোয়ালের মতো দেশীয় মাছ আমদানি না করে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর সুপারিশ বারবার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর, কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদক মুছা মল্লিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর তৎকালীন মহাপরিচালক আবদুর রউফ স্বাক্ষরিত চিঠিতে দেশীয় মাছের আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে ৫০ দশমিক ১৮ লাখ টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে, যার ৩৭ দশমিক ০৬ শতাংশ (১৮ দশমিক ৬০ লাখ টন) কার্পজাতীয়; ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৯০ হাজার ৬২০ টন মৎস্যপণ্য রপ্তানিতে ৬ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা এসেছে এবং জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশ এ খাতের ওপর নির্ভরশীল। আমদানি নীতি আদেশে ভারত ও মিয়ানমার থেকে রুই, কাতলা, ভেটকি, বোয়াল ও কাঁচকি আসছে; ঢালাও আমদানি অভ্যন্তরীণ মৎস্যচাষে বিরূপ প্রভাব ফেলবে এবং আমদানি করা মাছে ফরমালিন, ভারী ধাতু, অ্যান্টিবায়োটিক ও হিস্টামিনের ঝুঁকি আছে বলে সতর্ক করা হয়।

চিঠি পাঠানোর তিন মাসের বেশি পর ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন সচিব আবু তাহের মোহাম্মদ জাবের তা অতিরিক্ত সচিবকে ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়ে পাঠান, তবু অগ্রগতি হয়নি; চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আমদানি-নির্ভরতা কমাতে পাঠানো নতুন চিঠিও ফাইলবন্দি। অতীতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক বছরেই ৮ হাজার ১২৫ দশমিক ৬১৭ টন ইলিশ আমদানিতে প্রায় ৬১ লাখ ৬৪ হাজার ডলার ব্যয় হয়েছিল; বেনাপোল দিয়ে ২০২৪-২৫-এ ৫৬৬ টন, ২০২৫-২৬-এ ৭৬৫ টন এবং চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ৪৫০ টন এসেছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া ৪৩১ কোটি টাকার ইলিশ উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ৩০ জুন শেষ হলেও টেকসই কাঠামো তৈরি হয়নি এবং অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে সূত্র জানায়। মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, ‘প্রকল্পে কী কী অনিয়ম হয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা উচিত’; কারা জড়িত ছিল ও কোন প্রক্রিয়ায় অর্থ বেহাত হয়েছে, গভীর অনুসন্ধানে অনেক কিছু বেরিয়ে আসতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। দাম অন্যায্যভাবে বাড়লে প্রতি বছর সীমিত ইলিশ আমদানি করে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা হয়, তবে আমদানি-নির্ভরতা না কমলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হবে বলেও তিনি জানান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরোপুরি আমদানি বন্ধের প্রধান বাধা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার গ্যাট চুক্তির ১১ অনুচ্ছেদ, যা শুল্ক ছাড়া কোটা বা লাইসেন্সের মতো পরিমাণগত নিষেধাজ্ঞা নিষিদ্ধ করে; তাই সরবরাহ, ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতা, জেলেদের জীবিকা ও মৎস্যসম্পদের ভারসাম্য বিবেচনায় তথ্যভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি নীতি এবং নদী ও অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনা, জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণে জোর দেওয়ার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএফআরআইয়ের সাবেক পরিচালক ও ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, বিশেষ সংকট না থাকলে দেশে উৎপাদিত মাছ বিদেশ থেকে আমদানির প্রয়োজন তিনি দেখেন না; স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ইলিশ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিতে হবে।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট, প্রতিবেদন: মুছা মল্লিক

ঢাকা পোস্টসূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)