২০২৬ সালের ৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জিয়া স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় তিনি প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান।
জিয়া স্মৃতি জাদুঘর চট্টগ্রামের পুরোনো সার্কিট হাউস ভবন। ব্রিটিশ আমলে ১৯১৩ সালে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন হিসেবে ভবনটি নির্মিত হয়। ১৯৮১ সালে এখানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন, আর ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভবনটি জাদুঘর হিসেবে উদ্বোধন করা হয়।
জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে বক্তাদের বক্তব্য
এরশাদ উল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর অন্যতম। তাঁর ভাষায়, ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি, বন্যা, নদীভাঙন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বিকল্প নেই। তিনি বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার কথা বলেন। তাঁর মতে, প্রত্যেক নাগরিক অন্তত একটি গাছ লাগিয়ে তার যত্ন নিলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, নির্মল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।
বিশেষ অতিথি মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার একটি কার্যকর উপায়। তিনি মহানগরের প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড, ইউনিট এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে ব্যাপকভাবে গাছ লাগানো এবং লাগানো গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তাদের এই উদ্বেগের পেছনে গবেষণার তথ্যও আছে। বিশ্বব্যাংক ২০২২ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত বাংলাদেশের জলবায়ু ও উন্নয়ন প্রতিবেদনে জানায়, গড়পড়তা ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশের বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয় এবং তীব্র বন্যায় দেশের জিডিপি ৯ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। প্রতিবেদনের হিসাবে, ২০৫০ সালের মধ্যে কৃষি জিডিপির এক-তৃতীয়াংশ হারানোর এবং ১৩ মিলিয়ন মানুষের দেশের ভেতরে জলবায়ু অভিবাসী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যু ১০০ গুণ কমিয়েছে।

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের লক্ষ্য
এরশাদ উল্লাহ বলেন, বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার কর্মসূচিতে পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার রয়েছে, আর সে লক্ষ্যে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির প্রতিটি থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করবে।
ক্ষমতাসীন বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছরের মধ্যে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ঢাকা ট্রিবিউন ও ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৩ জুন কক্সবাজার সদর উপজেলার দুলাহাজারায় মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রথম ধাপে ৪৯ জেলার ১৪৯ উপজেলায় দেড় কোটি চারা লাগানো হবে, আর উদ্বোধনস্থলের বনে প্রথম পর্যায়ে দেশি প্রজাতির ১ হাজার ১৮০টি চারা রোপণ করা হবে।

গাছ লাগানোর পর পরিচর্যা
৩০ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে দুই বক্তাই শুধু চারা লাগানো নয়, লাগানো গাছ বাঁচিয়ে রাখার ওপর জোর দেন। এরশাদ উল্লাহর আহ্বান ছিল প্রত্যেক নাগরিক যেন অন্তত একটি গাছের পরিচর্যার দায়িত্ব নেন, আর নাজিমুর রহমান দলের সব ইউনিটকে রোপণ করা চারার যত্ন নিশ্চিত করতে বলেন।

ছবি: Owais Al Qarni / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ঢাকা ট্রিবিউন, ইউএনবি, বিশ্বব্যাংক, উইকিপিডিয়া (জিয়া স্মৃতি জাদুঘর)





মন্তব্য
(০)