সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

ফাহমিদার শখের পাখিতে সফলতা

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

তার বাবার ছিল অসংখ্য কবুতর। নানা রঙের। নানা জাতের। কবুতরের ওড়াউড়ি, ডানা ঝাপটানো তার ভালোই লাগতো। বড় হয়ে কবুতরের পাশপাশি খাঁচায় বিদেশি পাখি পুষছেন। নানা প্রজাতির বিদেশি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত তার ঘর। শিক্ষকতার পাশাপাশি খাঁচার পাখি পালনে সফলতা পেয়েছেন ফাহমিদা আহমেদ। ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স করেছেন তিনি। স্বামী আর একমাত্র ছেলেকে নিয়ে ঢাকার বনশ্রীতে তার বসবাস।

বাবার কবুতর পালন দেখে তার শিশুমনে পাখির প্রতি আগ্রহ জন্মে। যার রেশটা পড়ে বড় হওয়ার পর। ২০১১ সালে মাত্র এক জোড়া বাজরিগার পাখি পালনের মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু। ফাহমিদার সংগ্রহে আছে ১টি কনুর, ২ জোড়া রিংনেক, ১৬ জোড়া বাজরিগার, ২ জোড়া কোকাটেল, ৬ জোড়া ফিঞ্চ, ২০ জোড়া অস্ট্রেলিয়ান ঘুঘু, ১০ জোড়া কবুতর।

তিনি জানান, এসব পাখি খাঁচায় ডিম-বাচ্চা দেয়। পাখির সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে তখন বিক্রি করেন। পাখি কেনার জন্য মানুষ অনলাইনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। ঘর-সংসার, বাচ্চা, মেহমান সব সামলে পাখিতে তার সফলতা যেন অন্যদের পথ দেখায়। সবকিছু করেও শখের কাজ করা যায়।

ফাহমিদা এ প্রসঙ্গে বলেন, 'শখের কাজ করলে মন ভালো থাকে। অবসর যখন অন্যদের জন্য সাদামাটা। কখনো বা একদম একঘেয়েমি। আমার জন্য তখন তা রঙিন। খাঁচার পাখির জীবনযাত্রা দেখার মতো।'

বাবার কবুতর পালনের রেওয়াজও ধরে রেখেছেন তিনি। সংগ্রহ করেছেন লক্ষ্যা কবুতর, সিরাজি, লাহরী, সাটিন, ভালো জাতের কাগজি, গিয়া চুল্লি ও রেসার জাতের কবুতর। ফাহমিদার কবুতর পালার অভিজ্ঞতা পাখির থেকেও বেশি। বিয়ের আগে বাবাকে কবুতর পালন করতে দেখেছেন। শ্বশুরবাড়িতে এসে নিজ উদ্যোগে লক্ষ্যা জাতের কবুতর দিয়ে শুরু করেন।

খাঁচায় বিদেশি পাখি অনেকে মানতেই পারেন না। নানা ছুতোয় এসব পাখি ছেড়ে দেন। এই নিয়ে ফাহমিদার আফসোসের শেষ নেই। তিনি বলেন, 'এসব পাখি খাঁচায় পালনের উপযোগী করে ডেভেলপ করা হয়েছে। এদের ছেড়ে দেওয়া মানে হত্যার নামান্তর। মুক্ত প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার মতো সক্ষমতা এদের নেই। খাঁচার সবচেয়ে জনপ্রিয় পাখি বাজরিগার। এ পাখি ১৮০৫ সাল থেকে খাঁচায় পালন করা হয়।'

ফাহমিদা চেয়েছেন খাঁচায় পাখি পালকের সংখ্যা বাড়ুক। সৌখিন পাখিপ্রেমীরা ভুল-ত্রুটিগুলো শুধরে উঠুক। সে কারণে গড়ে তুলেছেন বাজরিগার ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড কেয়ার জোন। প্রায় ৩০ হাজার সদস্য সংগঠনটির। ফাহমিদা জানান, বাজরিগার ট্রিটমেন্ট অ্যান্ড কেয়ার জোন মূলত কাজ করে পাখাল সমাজের পাখিদের সঠিক ট্রিটমেন্ট, তথ্য-উপাত্ত প্রদান ও কেইজ বার্ড নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা। প্রতি বছর সেরা পাখালদের নির্বাচন, ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে সম্মাননা প্রদান করা অন্যতম কাজ।

ফাহমিদা বিভিন্ন সময় অ্যাডমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি পাখির অনলাইন চিকিৎসা, বিভিন্ন পাখালদের খামারে গিয়ে পাখি পর্যবেক্ষণ এবং নতুনরা যাতে পাখি পালনে আগ্রহী হয়; সে বিষয়ে কাজ করছেন। মনে আনন্দের পাশাপাশি খাঁচার পাখি থেকে যা আয় হয়, তাতে ফাহমিদা সন্তুষ্ট। তার মুখেই শোনা গেল, 'একটু গুছিয়ে পাখির খামার করে গৃহবধূরা লাভবান হতে পারেন। অন্তত নিজের একটি ভিন্ন পরিচয় গড়ে উঠতে পারে।'

খাঁচার বিদেশি এসব পাখি বনের পাখির মতো যা খুশি খেতে পারে না। এদের যত্ন কী? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'পাখিকে উন্নতমানের সীডমিক্স (শস্যদানা), সবজি এবং সেদ্ধ ডিম খেতে দিতে হবে। প্রতিদিন খাবার এবং পানি নতুন করে দেওয়া ভালো। অবশ্যই সীডমিক্স পরিষ্কার করে দিতে হবে। বাজার থেকে এনেই ধুলা-বালি মিশ্রিতগুলো দেওয়া যাবে না।

কিছুদিন পালন করে একটু অভিজ্ঞতা হোক। জানা-বোঝার পাল্লা যখন পোক্ত হবে; তখন বাণিজ্যিকভাবে খামার করা উত্তম। এমনটাই ফাহমিদার মত। ফেসবুকে তার পাখি পালন নিয়ে প্রচুর লেখা, ইউটিউবে ভিডিও আছে। আগ্রহীরা সেগুলো দেখে নিতে পারেন। ইনবক্সে কেউ কিছু জানতে চাইলে তিনি না করেন না। পোষা পাখিপ্রেমীদের জন্য তার সাহায্যের দুয়ার সব সময়ই খোলা।

শুধু যে ময়না পাখি কথা বলে, তা নয়। খাঁচার পোষা পাখি রিংনেকও কথা বলতে পারে। রিংনেককে কথা শিখিয়েছেন ফাহমিদা। তিনি বলেন, 'আমার রিংনেক পাখিকে কথা বলা শেখানো আমার জন্য অনেক মজার একটি অভিজ্ঞতা ছিল। এটাকে একদম বাচ্চা অবস্থায় আমি বড় করেছি। এখন অনেক সুন্দর কথা বলতে পারে।

ফাহমিদার স্বামী পাখি পালনে সব সময় উৎসাহ দেন। ছাদে সুন্দর পাখির ঘর করে দিয়েছেন। সেখানে সাজানো খাঁচায় পাখিগুলো মনের আনন্দে সময় কাটায়। খুনসুটি করে। বন দিয়ে বাসা বানিয়ে সেখানে ডিম পেড়ে বাচ্চা ফুটায়। বাচ্চাকে খাইয়ে বড় করে তোলে। ফাহমিদা জানান, তার স্বামীও একজন পাখিপ্রেমী। তার অনেক কবুতর আছে।

খাঁচার পোষা পাখি পালন ছাড়া একজন আর্টিস্ট হিসেবে ফাহমিদা বেশ পরিচিতি। দুটি এক্সিবিশনে সফলভাবে অংশ নিয়েছেন। বাচ্চাদের জন্য একটি আর্ট একাডেমি খোলার ইচ্ছা তার।

লেখক: অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, সেলস অপারেশন্স, ফেয়ার ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)