পানির নিরাপত্তা আর খাদ্যের নিরাপত্তা একসঙ্গেই নিশ্চিত করতে হবে; এর জন্য দরকার পানির দক্ষ ব্যবহার, ন্যায্য বণ্টন এবং চক্রাকার ও পুনরুজ্জীবনমূলক চাষের দিকে যাত্রা। রোমে ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরামের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন রোম ওয়াটার ডায়ালগ ২০২৬-এ এ কথা বলেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক চু দোংইউ (QU Dongyu)।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এল নিনোর ঘটনাগুলো দেখিয়েছে, বৃষ্টির ধরন কত দ্রুত বদলে খরা ও বন্যা ডেকে আনতে পারে, যাতে মানুষ, গবাদিপশু ও ফসলের ক্ষতি হয়। এতে কৃষি, জনপদ, শিল্প ও প্রকৃতির মধ্যে সীমিত পানির জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ছে। তাঁর ভাষায়, ‘পানির নিরাপত্তাই খাদ্যের নিরাপত্তা। পানিই খাদ্য, পানিই জীবন।’ কৃষি কীভাবে পানি ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা করে, তা না বদলালে পানির নিরাপত্তা আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মহাপরিচালক ‘৪আর’ পদ্ধতির ব্যাপক ব্যবহারের আহ্বান জানান: কম ব্যবহার (রিডিউস), পুনর্ব্যবহার (রিইউজ), পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ (রিসাইকেল) ও পুনর্ভরণ (রিপ্লেনিশ)। একসঙ্গে এগিয়ে নিতে চারটি অগ্রাধিকারও তুলে ধরেন তিনি: উদ্ভাবন, নির্ভরযোগ্য তথ্য ও স্বচ্ছ পানি হিসাবের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানো; ক্ষুদ্র উৎপাদক, নারী, আদিবাসী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য ন্যায্য ও নির্ভরযোগ্য প্রাপ্যতা; আগাম সতর্কতার মাধ্যমে খরা ও বন্যার প্রস্তুতি; এবং পানিচক্র নিয়ন্ত্রণকারী বন, নদী, হ্রদ ও মাটির সুরক্ষা। তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তি ছাড়া দক্ষতা বৈষম্য বাড়ায়।
আলোচনায় পানির দাম ও বণ্টনের প্রসঙ্গও আসে। এফএওর মতে, সরকারি নীতির সহায়তায় উপযুক্ত প্রণোদনা দক্ষতা বাড়াতে পারে, আবার মৌলিক চাহিদাও রক্ষা করতে পারে। ২০২২ সালের জাতিসংঘ পানি সম্মেলনে শুরু হওয়া পানির ভোগাধিকার নিয়ে বৈশ্বিক সংলাপ, পানি হিসাব ও জাতীয় পানি রোডম্যাপে দেশগুলোকে সহায়তা চালিয়ে যাবে সংস্থাটি।
এফএও এ উপলক্ষে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও চালু করেছে: সেচ সম্ভাবনা ও প্রয়োজন মানচিত্রায়ণ উদ্যোগ বা ইরমা (IRMA)। এতে বিদ্যমান সেচ, জমির প্রাকৃতিক উপযোগিতা, উন্নয়নের প্রয়োজন ও সম্ভাব্য লাভের তথ্য এক জায়গায় আনা হয়েছে, যাতে কৃষিজমি মূল্যায়ন, তুলনা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা যায়। এতে সরকারগুলো বুঝতে পারবে কোথায় সেচ সম্ভব, কোথায় সবচেয়ে বেশি দরকার এবং কোথায় তা টেকসই সুফল দেবে।
অধিবেশনে লেসোথো, তাজিকিস্তান, তুরস্ক, কাজাখস্তান, সিরিয়া, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, মরক্কো ও চীনের মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা অংশ নেন। ছিলেন জাতিসংঘের মরুকরণবিরোধী কনভেনশন ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিনিধিরাও।
সূত্র: এফএও নিউজরুম




মন্তব্য
(০)