সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

ইথিওপিয়ায় সেচের সিদ্ধান্ত কৃষকের হাতে, সৌর পাম্পের ৭০ শতাংশ খরচ দেবে সরকার

ইথিওপিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক-নেতৃত্বাধীন সেচ উন্নয়ন (ফ্লিড) কর্মসূচিতে কৃষক নিজেই সেচব্যবস্থার ধরন ও আকার বেছে নেন এবং নগদ অর্থ দেন; সৌর পাম্পে সরকার দেয় ৭০ শতাংশ, ডিজেল পাম্পে ৪০ শতাংশ। বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কর্মসূচিটির অগ্রগতি তুলে ধরে।

ইথিওপিয়ায় সেচের সিদ্ধান্ত কৃষকের হাতে, সৌর পাম্পের ৭০ শতাংশ খরচ দেবে সরকার
পরিবেশ

ইথিওপিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় সেচ উন্নয়নে এক নতুন পথ নিয়েছে, যেখানে সিদ্ধান্ত নেন কৃষক নিজে। বিশ্বব্যাংক ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, কৃষক-নেতৃত্বাধীন সেচ উন্নয়ন বা ‘ফ্লিড’ কর্মসূচিতে কৃষক এককভাবে বা দলবদ্ধভাবে ঠিক করেন কোন ধরনের ও কত বড় সেচব্যবস্থা তাঁরা চান, এবং তার জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ দেন। সরকার নিজে নির্মাণ না করে দিকনির্দেশনা ও সম্পদ দিয়ে সহায়তা করে। কর্মসূচিটির পেছনে আছে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলা ‘ইথিওপিয়া ফুড সিস্টেমস রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ (এফএসআরপি)।

বৃষ্টিনির্ভর কৃষি ও আগের সেচ উদ্যোগের দুর্বলতা


বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইথিওপিয়ার কৃষি দীর্ঘদিন অনিশ্চিত বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল এবং ভয়াবহ খরার সামনে অরক্ষিত। ক্ষুদ্র সেচের আগের চেষ্টাগুলোর বেশির ভাগই ছিল সরকার-চালিত, আর সেগুলো ভেঙে পড়া অবকাঠামো ও এলোমেলো ব্যবস্থাপনার সমস্যায় ভুগেছে।

খরার চাপ কতটা গভীর, তা বোঝা যায় ২০২২ সালের হিসাবে। সে বছরের ২১ জুন পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য ২৩০ কোটি ডলারের খাদ্যব্যবস্থা সহনশীলতা কর্মসূচি অনুমোদনের সময় বিশ্বব্যাংক জানায়, দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে তীব্র খরার কারণে ইথিওপিয়ায় ২ কোটি ২৭ লাখ পর্যন্ত মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন। কর্মসূচির প্রথম ধাপে সহায়তা পায় ইথিওপিয়া ও মাদাগাস্কার; এই ধাপের মোট অর্থায়ন ছিল ৭৮ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে তোলা ছবিতে ইথিওপিয়ার গোদে শহরের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে শাবেলি নদীর ধারে সেচখাল ও খেত। ছবি: ISS Expedition 27 crew / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে তোলা ছবিতে ইথিওপিয়ার গোদে শহরের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে শাবেলি নদীর ধারে সেচখাল ও খেত। ছবি: ISS Expedition 27 crew / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

কৃষক বেছে নেন, খরচ ভাগ হয় দুই পক্ষে


বিশ্বব্যাংকের সংজ্ঞায়, কৃষক-নেতৃত্বাধীন সেচ উন্নয়ন হলো এমন প্রক্রিয়া, যেখানে কৃষক এককভাবে বা সম্মিলিতভাবে সেচকৃষি প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন বা সম্প্রসারণে নেতৃত্ব দেন। ইথিওপিয়ার কর্মসূচিতে যন্ত্রের খরচ ভাগাভাগির হার ঠিক করা আছে:

  • সৌরচালিত সেচব্যবস্থা: সরকার ৭০ শতাংশ, কৃষক ৩০ শতাংশ
  • ডিজেলচালিত সেচব্যবস্থা: সরকার ৪০ শতাংশ, কৃষক ৬০ শতাংশ

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মালিকানা কৃষকের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করে এবং সমাধানগুলো স্থানীয় প্রয়োজনের সঙ্গে মেলে। কর্মসূচিটি ইথিওপিয়ার ভেতরের সফল পরীক্ষামূলক উদ্যোগ এবং উগান্ডাসহ অন্যান্য আফ্রিকান দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে; লক্ষ্য বিদ্যমান সরকারি উদ্যোগের পরিপূরক হয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা। উগান্ডার কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাইক্রো-স্কেল ইরিগেশন প্রোগ্রামেও কৃষক নিজের সেচযন্ত্র কেনেন, আর সরকার যন্ত্রের মোট দামের ২৫ থেকে ৭৫ শতাংশ দেয়, একরপ্রতি সর্বোচ্চ ৭২ লাখ উগান্ডান শিলিং পর্যন্ত।

ইথিওপিয়ার কৃষক দাউইত মোনি; স্থানীয় একটি বাঁধে জমানো ঝরনার পানি খাল দিয়ে তাঁর বাগানে যায়। ছবি: Tamiru Legesse, Trócaire / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
ইথিওপিয়ার কৃষক দাউইত মোনি; স্থানীয় একটি বাঁধে জমানো ঝরনার পানি খাল দিয়ে তাঁর বাগানে যায়। ছবি: Tamiru Legesse, Trócaire / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

তিন ধাপে বাস্তবায়ন


বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় কর্মসূচির প্রথম ধাপ শেষ হয়েছিল। এই ধাপে আঞ্চলিক কৃষি দপ্তরসহ অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ, বাস্তবায়ন নির্দেশিকা তৈরি, ৯টি অঞ্চলের ১৫৮ জন কর্মীকে ফ্লিডের প্রক্রিয়া ও কারিগরি বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং ১৬টি সেচযন্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করে কর্মসূচির প্রক্রিয়া বোঝানো হয়।

দ্বিতীয় ধাপ তখন চলছিল। কৃষক সমাজে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছিল, আগ্রহী কৃষকেরা প্রকল্পের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নাম নিবন্ধন করছিলেন, যোগ্যতা যাচাইয়ে খামার মূল্যায়ন হচ্ছিল, আর কৃষকেরা যন্ত্রের আনুমানিক দামের ১০ শতাংশ প্রথম কিস্তি হিসেবে জমা দিচ্ছিলেন। তৃতীয় ধাপে যন্ত্রের দরপ্রস্তাব ও অর্থায়ন, বাকি অর্থ জমা, স্থাপন এবং কৃষকদের যন্ত্র চালানো ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে পরীক্ষামূলক পর্যায় এবং পরের অর্থবছরে সারা দেশে পূর্ণ বিস্তার হওয়ার কথা। বিশ্বব্যাংক জানায়, ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে ইথিওপিয়ার ক্ষুদ্র কৃষকদের নেতৃত্বে আধুনিক ও দক্ষ সেচব্যবস্থায় চলা নতুন খামার কার্যক্রম শুরু হবে বলে কর্মসূচিটি আশা করছে।

ইথিওপিয়ার রুবা ওয়েইনিতে সেচের জমি। ছবি: Jan Nyssen / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ইথিওপিয়ার রুবা ওয়েইনিতে সেচের জমি। ছবি: Jan Nyssen / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Niels Van Iperen / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: বিশ্বব্যাংক, বিশ্বব্যাংক প্রেস বিজ্ঞপ্তি (২১ জুন ২০২২), বিশ্বব্যাংক: ফার্মার-লেড ইরিগেশন ডেভেলপমেন্ট, উগান্ডার কৃষি, পশুসম্পদ ও মৎস্য মন্ত্রণালয়

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)