রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় গুদামে পর্যাপ্ত সার থাকলেও কৃষক তা পাচ্ছেন না। জমি প্রস্তুত করেও সারের অভাবে আগাম আলু, বাদাম, ভুট্টা ও সবজির বীজ রোপণ করতে পারছেন না অনেকে, ফলে আগাম বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ হারানোর আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যে, গঙ্গাচড়ায় এখন চার ধরনের সার মজুত আছে মোট ৮৩৬.২০ টন: ইউরিয়া ২৩২.৪৫ টন, টিএসপি ২৬.৫০ টন, ডিএপি ২৫৭.৮০ টন এবং এমওপি ৩১৯.৪৫ টন। এত মজুতের পরও কৃষক কেন সার পাচ্ছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
নোহালী ইউনিয়নের মিনার বাজার এলাকার কৃষক মোশারফ হোসেন ৫৪ শতক জমি আলুর জন্য তৈরি করে রেখেছেন। তাঁর কথায়, সময়মতো সার পেলে এত দিনে আলুগাছ দুই থেকে তিন ইঞ্চি বড় হয়ে যেত। একই এলাকার মহুবার রহমান ৯৫ শতকে বাদাম লাগাতে চান, কয়েকবার ডিলারের কাছে গিয়েও সার পাননি। লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ভুট্টাচাষি ছবুর আলীর আশঙ্কা, সময়মতো সার দিতে না পারলে ফলন কমবে।
সার ডিলারদের দাবি, উপজেলায় সংকট নেই। নোহালীর ডিলার লেবু মিয়া বলেন, এখন আবাদের মৌসুম নয় বলে সার মজুত রাখা হচ্ছে, মৌসুম শুরু হলে দেওয়া হবে; এখনই দিলে অনেকে মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেন।
লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, মজুত থাকার পরও কৃষক কেন সার পাচ্ছেন না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি; অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন জানান, পর্যাপ্ত মজুত আছে, চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং সরকার নির্ধারিত দামে কৃষক যাতে সার পান, সে জন্য ডিলারদের কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
প্রতিবেদন: রিয়াদুন্নবী রিয়াদ, গঙ্গাচড়া (রংপুর), আমার দেশ
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: আমার দেশ





মন্তব্য
(০)