পাহাড়ের পাদদেশে চট্টগ্রামের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিল এখন আমনের সবুজে ঢাকা। বেশির ভাগ খেতে শীষ উঁকি দিচ্ছে। উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্যে, চলতি আমন মৌসুমে বিলে রেকর্ড সাড়ে তিন হাজার হেক্টরে ধান আবাদ হয়েছে। গত বোরো মৌসুমে আবাদ ছিল ৩ হাজার ৪৬০ হেক্টরে, হেক্টরপ্রতি গড় ফলন ৬ মেট্রিক টন। অনুকূল আবহাওয়ায় এবার আমনের ফলন আগের রেকর্ড ছাড়াতে পারে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় এবার মোট ১৫ হাজার ৪৫৭ হেক্টরে আমন আবাদ হয়েছে: হাইব্রিড ৬৪২ হেক্টর, উফশী ১৪ হাজার ৬৮৫ হেক্টর আর স্থানীয় জাত ১২০ হেক্টর। লোকমুখে প্রচলিত আছে, এই বিল একাই দেশের প্রায় আড়াই দিনের চালের চাহিদা মেটাতে পারে।
গুমাই বিলের কৃষক মো. রেজাউল করিম আট কানি জমিতে বোরো করে গড়ে ৬ মেট্রিক টন করে ধান পেয়েছিলেন। এখন প্রতি আড়ি (১০ কেজি) মোটা ধান ৩৩০ টাকা আর চিকন ধান ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভালো দাম পাওয়ায় আমনেও একই পরিমাণ জমিতে আবাদ করেছেন, ফলনও ভালো হবে বলে আশা তাঁর। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলাল হোসেন জানান, লক্ষ্য পূরণে কৃষকদের প্রণোদনা ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে; ধান পরিপুষ্ট হতে শুরু করেছে, এক মাসের মধ্যে ফলন আসবে।
এই সম্ভাবনার উল্টো পিঠে আছে উদ্বেগ। সরকারি হিসাবে, গত এক দশকে দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ইটভাটায় গুমাই বিলের প্রায় ৫০ হেক্টর উর্বর জমি স্থায়ীভাবে হারিয়ে গেছে। বিলের জমিতে উঠেছে স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা, উপকণ্ঠে চন্দ্রঘোনা ও নিশ্চিন্তাপুরে বসেছে ছয়টি ইটভাটা। বিলের ভেতরে সড়ক ও সেচ অবকাঠামো না থাকায় মূল সড়ক থেকে দূরের প্রায় ১ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি থাকছে।
রাঙ্গুনিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, বিলের আবাদি জমি রক্ষায় নিয়মিত অভিযান চলছে, নির্মাণাধীন বেশ কিছু স্থাপনার কাজ বন্ধ করা হয়েছে, ইটভাটাসহ অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কৃষিবিদ ও সচেতন মহলের মতে, দ্রুত সেচ ও সড়ক অবকাঠামো এবং জমি ভরাট পুরোপুরি বন্ধ না হলে দেশের অন্যতম বড় এই শস্যভান্ডার তার ঐতিহ্য হারাতে পারে।
প্রতিবেদনটি দৈনিক আজাদীর রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি জগলুল হুদার।
ছবি: Smshaheen123 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিলের একাংশ।
সূত্র: দৈনিক আজাদী





মন্তব্য
(০)