সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

সাকার ফিশ দিয়ে সুষম প্রাণিখাদ্য তৈরি করলেন শেকৃবির গবেষক দল

নিষিদ্ধ আগ্রাসী সাকার ফিশ থেকে বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর সুষম খাদ্য তৈরির কথা জানিয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ও গবেষক। তাঁদের ভাষ্য, প্রায় এক বছরের গবেষণার পর বিড়ালের ওপর ট্রায়ালে আশানুরূপ ফল মিলেছে; আইএএএস ওয়ার্ল্ডের অর্থায়নের প্রকল্পটি সংগঠনটির ২০২৪ সালের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় চতুর্থ হয়।

সাকার ফিশ দিয়ে সুষম প্রাণিখাদ্য তৈরি করলেন শেকৃবির গবেষক দল
মৎস্য

সাকার ফিশ থেকে সুষম ও মানসম্পন্ন প্রাণিখাদ্য তৈরিতে সাফল্যের কথা জানিয়েছেন ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) একদল শিক্ষার্থী, গবেষক ও উদ্যোক্তা। দক্ষিণ আমেরিকার এই বর্মধারী ক্যাটফিশ দেশের নদী, পুকুর ও হাওরে ছড়িয়ে পড়েছে, আর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সরকার মাছটি নিষিদ্ধ করে। ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল প্রকাশিত জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক বছরের গবেষণায় দলটি সাকার ফিশ দিয়ে বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য তৈরি করে এবং এর মাঠপর্যায়ের ট্রায়ালও সফলভাবে শেষ করে। প্রকল্পের অর্থায়ন করে কৃষি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন আইএএএস ওয়ার্ল্ড (IAAS World)। সংগঠনটির গ্লোবাল প্রজেক্ট কম্পিটিশন ২০২৪-এ "সাকার ফিশ থেকে প্রাণিখাদ্য তৈরি" প্রতিপাদ্যের এই প্রকল্প নিয়ে অংশ নিয়ে তরুণ গবেষকরা সারা বিশ্বে চতুর্থ হন।

দেশে সাকার ফিশকে সাধারণত ক্ষতিকর ও মূল্যহীন মাছ হিসেবে দেখা হয়। জেলে ও মাছচাষিরা ছেঁড়া জাল, ভাঙা পুকুরপাড় আর কমে যাওয়া মাছের জন্য একে দায়ী করেন, আর মৎস্য কর্মকর্তারা একে দেশি মাছ ও পরিবেশের জন্য হুমকি বলেছেন। শেকৃবির দলের ভাবনা ছিল এই সমস্যাকেই সম্পদে রূপ দেওয়া: যে মাছ কেউ চায় না, তা কাঁচামাল হয়ে উঠলে এবং ধরা মাছের ক্রেতা থাকলে পানি থেকে মাছটি তুলে আনাও লাভজনক হয়ে ওঠে।

যেভাবে খাদ্যটি তৈরি ও পরীক্ষা করা হয়


জাগো নিউজ জানায়, প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবীব, ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের প্রভাষক নাজমুস সাকিব অনিক, এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের অধ্যাপক গোলাম মোহাম্মদ পাটোয়ারী এবং প্রভাষক আব্দুর রহমান রাফি।

প্রকল্পের সদস্য, শেকৃবির শিক্ষার্থী নিয়ামুল ইসলাম পত্রিকাটিকে বলেন, প্রচলিত "ওয়েস্ট টু ওয়েলথ" (বর্জ্য থেকে সম্পদ) ধারণার পাশাপাশি তাঁরা "প্রবলেম টু ওয়েলথ" (সমস্যা থেকে সম্পদ) ধারণা প্রতিষ্ঠা করে দেখাতে চেয়েছেন, সাকার ফিশের মতো একটি সমস্যাকে কীভাবে সহজেই সম্পদে রূপান্তর করা যায়। তাঁর ভাষ্য, প্রথম পরীক্ষায় খাদ্যটি ৭০ শতাংশ সাফল্য পায় এবং দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও আশানুরূপ ফল মেলে। এই সাফল্যের হার কীভাবে মাপা হয়েছে, প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি। নিয়ামুল ইসলাম আরও বলেন, কোনো বাণিজ্যিক কোম্পানির মাধ্যমে খাদ্যটি বাজারজাত করা গেলে প্রাণিখাদ্য আমদানির ওপর চাপ কমবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

অধ্যাপক কাজী আহসান হাবীব বলেন, সাকার ফিশ থেকে তৈরি খাদ্যটি বিড়ালের ওপর পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আশানুরূপ ফল পাওয়া গেছে: বিড়াল খাদ্যটি খাচ্ছে। আরও ফর্মুলেশনের মাধ্যমে খাদ্যটিকে বিড়ালের পাশাপাশি কুকুর ও পোলট্রির উপযোগী করার চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, সাকার ফিশ থেকে পোলট্রি, বিড়াল, কুকুরসহ অন্যান্য পোষা প্রাণীর খাদ্য কীভাবে তৈরি করা যায়, তা নিয়ে শেকৃবিতে গবেষণা চলছে, আর বৃহত্তর পরিসরে বিভিন্ন অপ্রচলিত জৈববস্তু দিয়ে পোলট্রি, মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর খাদ্য তৈরির চেষ্টাও চলছে।

জাগো নিউজের প্রতিবেদনে খাদ্যটির পুষ্টি বিশ্লেষণ, ট্রায়ালে কতটি প্রাণী ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা মাছ কোন পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। তাই এখানে বর্ণিত ফলাফল প্রতিবেদনের দিনে গবেষক দল পত্রিকাটিকে যা জানিয়েছে, সেটুকুই।

মাছটি নিয়ে গবেষকরা যা বলেছেন


অধ্যাপক কাজী আহসান হাবীব জাগো নিউজকে বলেন, সাকার ফিশ জলজ বাস্তুতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর এবং মাছটি তখন ঢাকার বুড়িগঙ্গা থেকে হাওর অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। একে নিয়ন্ত্রণ করা খুবই প্রয়োজন, কিন্তু কষ্টসাধ্য। তাঁর মতে, কোনো বাণিজ্যিক কোম্পানি খাদ্যটি বাজারে আনলে আপাতত সাকার ফিশ নিয়ন্ত্রণের একটি উপায় পাওয়া যাবে।

বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় বুড়িগঙ্গা জোয়ারভাটার প্রভাবযুক্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি নদী, যা ঢাকা শহরের পশ্চিম ও দক্ষিণ দিক দিয়ে বয়ে গেছে। নদীটি কলাতিয়ার কাছে ধলেশ্বরী থেকে বেরিয়ে কামরাঙ্গীরচরে তুরাগের পানি পায় এবং মুন্সীগঞ্জে আবার ধলেশ্বরীতে মেশে। এর গড় প্রস্থ প্রায় ৪০০ মিটার, গড় গভীরতা প্রায় ১০ মিটার। বাংলাপিডিয়া নদীটির মারাত্মক দূষণের কথা লিখেছে, যার প্রধান উৎস হাজারীবাগ এলাকার ট্যানারি; শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন খুব কমে যায়, এমনকি শূন্যে নেমে আসে। ২০২২ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে মৎস্য কর্মকর্তারা বলেন, সাকার ফিশ ঠিক এমন কম অক্সিজেনের দূষিত পানিই সহ্য করতে পারে।

বাংলাপিডিয়ার ভাষায়, হাওর হলো গামলার মতো বিশাল ভূগাঠনিক নিম্নভূমি, যা বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলরাশিতে পরিণত হয় এবং বর্ষার পর বেশির ভাগ শুকিয়ে যায়। হাওরের অবস্থান মূলত বৃহত্তর সিলেট ও বৃহত্তর ময়মনসিংহে: পুরো সুনামগঞ্জ জেলা, হবিগঞ্জের বড় অংশ এবং সিলেট সদর ও মৌলভীবাজারের কিছু এলাকা। এই অববাহিকায় প্রায় ৪৭টি বড় হাওর এবং প্রায় ৬ হাজার ৩০০ বিল রয়েছে, যার প্রায় ৩ হাজার ৫০০টি স্থায়ী এবং ২ হাজার ৮০০টি মৌসুমি। বাংলাপিডিয়া হাওরকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যক্ষেত্র বলেছে।

২০১৩ সালে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী। ছবি: David Brewer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
২০১৩ সালে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী। ছবি: David Brewer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)

সাকার ফিশ আসলে কী


"সাকার ফিশ" বা সাকার মাছ হলো লরিকারিডি (Loricariidae) গোত্রের টেরিগোপ্লিকথিস (Pterygoplichthys) গণের বর্মধারী, চোষক-মুখো ক্যাটফিশের স্থানীয় নাম। এদের আদি নিবাস লাতিন আমেরিকা, আর অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছ হিসেবে এরা সারা বিশ্বে বিক্রি হয়। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অ্যাকোয়াটিক ইনভেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মো. শাখাওয়াত হোসেন এবং চেক প্রজাতন্ত্র ও ইন্দোনেশিয়ার সহগবেষকরা তুরাগ নদ এবং গাজীপুর ও ময়মনসিংহের বসতবাড়ির পুকুর থেকে ধরা মাছ পরীক্ষা করেন। তাঁরা এগুলোকে পি. ডিসজাংকটিভাস (P. disjunctivus), পি. পারডালিস (P. pardalis) অথবা এই দুইয়ের সংকর হিসেবে শনাক্ত করেন। আগের কাজে অন্য নামও এসেছে: ২০০৮ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম বৈজ্ঞানিক রেকর্ডে নাম ছিল পি. মাল্টিরেডিয়েটাস (P. multiradiatus), আর ২০২২ সালের নভেম্বরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে বৈজ্ঞানিক নাম লেখা হয় হিপোস্টোমাস প্লেকোস্টোমাস (Hypostomus plecostomus)।

একই গবেষণায় সেসব বৈশিষ্ট্যের তালিকা আছে, যেগুলো এই ক্যাটফিশকে সফল আগ্রাসী প্রজাতিতে পরিণত করেছে: বাচ্চার পরিচর্যা, বড় ডিম থেকে সবল পোনা, বাসা তৈরি, দীর্ঘ প্রজনন মৌসুম, বিপুল ডিম ধারণক্ষমতা, দ্রুত বৃদ্ধি এবং পাঁচ বছরের বেশি আয়ু। পানিতে অক্সিজেন কমে গেলে এরা বাতাস গিলে অন্ত্রের আবরণ দিয়ে অক্সিজেন নিতে পারে, আর সাধারণ গর্তে থেকে কয়েক ঘণ্টা শুকনো অবস্থাতেও বেঁচে থাকে। শক্ত আঁশ এবং পাখনার ধারালো কাঁটা শিকারি প্রাণীকে দূরে রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্যপত্র অনুযায়ী, ভার্মিকুলেটেড সেইলফিন ক্যাটফিশ বা পি. ডিসজাংকটিভাসের আদি নিবাস আমাজন অববাহিকার মাদেইরা নদী-ব্যবস্থা, আর এটি ৭০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। মাছটির দেহ নমনীয় হাড়ের প্লেটে ঢাকা, মুখ দেহের নিচের দিকে চোষকের মতো; এটি তলদেশে ঘুরে জৈব আবর্জনা ও শেওলা খায় এবং প্রতি হাজারে ১০ ভাগ পর্যন্ত লবণাক্ত পানিতে দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে। পুরুষ মাছ নদীর পাড়ে গর্ত খোঁড়ে, স্ত্রী মাছ সেখানে ডিম পাড়ে এবং ডিম পাহারা দেওয়া হয়। বিপুল সংখ্যায় গর্ত খোঁড়ার ফলে পলি জমে এবং পাড় ভাঙে।

২০২৪ সালের গবেষণায় বাংলাদেশে মাপা মাছগুলোর গড় ওজন ছিল ৩৩২ গ্রাম (৯০ থেকে ৫৪০ গ্রাম) এবং গড় মোট দৈর্ঘ্য ২১.২ সেন্টিমিটার (১৭.৮ থেকে ২৬.২ সেন্টিমিটার)। সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বর্ণিত মাছগুলো ছিল ১০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার লম্বা, ওজন ০.২ থেকে ২ কেজি। স্থানীয় মানুষ মাছটিকে নানা নামে চেনেন, যেমন "টাইগার ফিশ", "হাজার কাঁটা মাছ", "হেলিকপ্টার মাছ" ও "সাকার ফিশ"।

২০২২ সালের নভেম্বরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাছটি মুখ দিয়ে চুষে খাবার খায়, দেশি মাছের পোনা খেয়ে ফেলে, শেওলা ও ক্ষুদ্র জীবের মতো খাবার নিয়ে দেশি মাছের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে, দ্রুত বংশ বাড়ায়, কম অক্সিজেন ও দূষিত পানি সহ্য করে এবং পানির বাইরে প্রায় ২৪ ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে। কর্মকর্তারা আরও বলেন, মাছটি পানির তলদেশে থাকে, যেখানে ভারী ধাতু জমা হয়। অধিদপ্তরের উপপরিচালক (মৎস্যচাষ) ড. মো. খালেদ কনক বলেন, কোনো দেশেই এটিকে খাদ্য মাছ হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি।

বাড়ির অ্যাকোয়ারিয়ামে একটি আমাজন সেইলফিন ক্যাটফিশ (Pterygoplichthys pardalis); অ্যাকোয়ারিয়ামের ব্যবসার পথেই এই মাছ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছে। ছবি: Ildar Sagdejev (Specious) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাড়ির অ্যাকোয়ারিয়ামে একটি আমাজন সেইলফিন ক্যাটফিশ (Pterygoplichthys pardalis); অ্যাকোয়ারিয়ামের ব্যবসার পথেই এই মাছ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়েছে। ছবি: Ildar Sagdejev (Specious) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বাংলাদেশে যেভাবে ছড়াল


অ্যাকোয়াটিক ইনভেশনসের ২০২৪ সালের গবেষণা অনুযায়ী, টেরিগোপ্লিকথিস ক্যাটফিশ ১৯৮০-এর দশকে অ্যাকোয়ারিয়াম ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে আমদানি করা হয় এবং ১৯৯০-এর দশকে ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত অবমুক্তির মধ্য দিয়ে প্রাকৃতিক জলাশয়ে চলে যায়। ২০০৭ সালের আগে প্রকৃতিতে এর কোনো রেকর্ড ছিল না; সে বছর উত্তরাঞ্চলে প্রথম মাছটি পাওয়া যায়, যার বিবরণ ২০০৮ সালে জার্নাল অব অ্যাপ্লায়েড ইকথিওলজিতে প্রকাশিত হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিশেস সাময়িকীতে হোসেন ও সহগবেষকদের এক পর্যালোচনায় এর বিস্তারের কারণ হিসেবে অ্যাকোয়ারিয়াম থেকে অবমুক্তি ও মাছের খামার থেকে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়, যা ঝড়ের বন্যা ও সেচখালের মাধ্যমে আরও ছড়িয়েছে।

২০২৪ সালের গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের আগে এই মাছ আমদানি নিষিদ্ধ করার কোনো আইন ছিল না। আমদানির জন্য মৎস্য অধিদপ্তরের সুস্পষ্ট অনুমতি লাগত এবং অধিদপ্তর একে "শর্তসাপেক্ষ" প্রজাতি হিসেবে গণ্য করত। কিন্তু গবেষকদের মতে নিয়মটি কাগুজে নিয়মে পরিণত হয়েছিল, কারণ অ্যাকোয়ারিয়াম ব্যবসায়ীরা অনুমতি ছাড়াই মাছটি আমদানি করে স্থানীয় হ্যাচারিতে বাণিজ্যিকভাবে বিপুল সংখ্যায় প্রজনন করাতেন। অবৈধ প্রজননের উদ্বৃত্ত মাছ এবং বর্ষায় গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মাধ্যমে ভারতের নদীর সঙ্গে সংযোগকেও গবেষণাটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

মাছটির বিস্তার মানচিত্রে তুলতে গবেষকরা সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করেন। ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তাঁরা ৩৪টি জেলায় ৬৫টি রেকর্ড পান, যাতে জেলে ও অন্যদের ধরা প্রায় ২০০ মাছের খবর ছিল। এর ৬৯ শতাংশ রেকর্ড নদী ও প্লাবনভূমির মতো উন্মুক্ত জলাশয় থেকে, আর ৩১ শতাংশ চাষের বা বসতবাড়ির পুকুর থেকে; সবচেয়ে কম রেকর্ড ছিল ২০১৪ সালে, সবচেয়ে বেশি ২০২০ ও ২০২১ সালে। জলবায়ু মিলিয়ে দেখার একটি মডেলে দেখা যায়, প্রায় পুরো বাংলাদেশই মাছটির উপযোগী; কেবল সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু অংশ কম অনুকূল।

২০২৩ সালে বায়োলজিক্যাল ইনভেশনস সাময়িকীতে পারভেজ ও সহগবেষকদের আরেক গবেষণায় দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলের ১৭টি নদীতে ভার্মিকুলেটেড সেইলফিন ক্যাটফিশ পাওয়া যায়, যার চারটি স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত প্রজননক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। গবেষকরা বৃদ্ধি, বেঁচে থাকার হার ও পাকস্থলীর খাদ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তিনটি দেশি কার্প জাতীয় মাছের সঙ্গে এর প্রতিযোগিতা মাপেন এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে আগ্রাসী মাছটি এই উচ্চমূল্যের দেশি মাছগুলোর ওপর প্রভাব ফেলে।

২০২২ সালের নভেম্বরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনে মৎস্য অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক খন্দকার মাহবুবুল হক বলেন, হয়তো কোনো এক সময় অ্যাকোয়ারিয়ামে রাখার জন্য মাছটি আনা হয়েছিল, পরে ধীরে ধীরে তা মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মাছটি প্রথমে পুকুর ও খালে দেখা দেয়, পরে বুড়িগঙ্গা এবং কার্প জাতীয় মাছের প্রধান প্রজননক্ষেত্র হালদাসহ বিভিন্ন নদীতে পৌঁছায় এবং মাছের ঘেরে ঢুকে খামারিদের ক্ষতি করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরির ড. মনজুরুল কিবরিয়া সতর্ক করেন, মাছটির সংখ্যা দ্রুত বাড়লে অন্য মাছ এবং বৃহত্তর বাস্তুতন্ত্র হুমকিতে পড়তে পারে।

জেলে ও মাছচাষিদের ক্ষতি


২০২৪ সালের গবেষণার জন্য গবেষকরা জেলে, মাছচাষি, মাছ বিক্রেতা, পোষা প্রাণীর দোকানের মালিক, নদীতীরের শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ ৯৭ জনের সাক্ষাৎকার নেন। তাঁদের প্রায় অর্ধেক মাছটিকে চিনতেন না। যাঁরা চিনতেন, তাঁদের বেশির ভাগ (৬৩ শতাংশ) পুকুর ও উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছটির উপস্থিতি এবং দেশি মাছের উৎপাদনে এর প্রভাব নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন।

তুরাগ ও বুড়িগঙ্গায় সাক্ষাৎকার দেওয়া প্রত্যেক জেলে জানান, মাছটি তাঁদের মাছ ধরার সরঞ্জামের ক্ষতি করেছে, কিংবা এর কাঁটায় তাঁরা আঘাত পেয়েছেন বা আঘাতের ভয়ে আছেন; তাঁরা আরও বলেন, আক্রান্ত জলাশয়ে মাছ ধরা পড়া কমে গেছে। প্রায় ৭১ শতাংশ মাছচাষি একমত হন যে মাছটি গর্ত খুঁড়ে পুকুরের পাড় নষ্ট করে, পানি ঘোলা করে এবং পুকুরের উৎপাদন কমায়। যেসব চাষি পুকুর সেচে রোদে শুকিয়ে মাছটি দূর করার চেষ্টা করেছেন, তাঁরা দেখেছেন মাছ আবার ফিরে আসে; কারও কারও ধারণা, কাদায় সুপ্ত ডিম থেকে যায়। একসময় বুড়িগঙ্গায় গোসল করতেন এমন মানুষ গবেষকদের বলেন, মাছটির শক্ত কাঁটাওয়ালা পাখনায় আঘাতের ভয়ে তাঁরা এখন নদীতে নামতে ভয় পান।

গবেষকরা অন্য গবেষণার উল্লেখ করে লিখেছেন, আক্রান্ত জলাশয়ে এই মাছ নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের বড় অংশ নিজের দেহে আটকে রাখে এবং যে প্রাথমিক উৎপাদনের ওপর অন্য মাছ নির্ভর করে, তা বাধাগ্রস্ত করে। তাঁরা পাড় মেরামত ও পুকুর সেচের বাড়তি খরচের কথাও বলেছেন। মাছটি যাঁরা ধরেন, তাঁদের বেশির ভাগ একে আবার পানিতে ফেলে দেন বা মরার জন্য পাড়ে ছুড়ে ফেলেন, আর প্রায় ৮৮ শতাংশ উত্তরদাতা ধরার পর মাছটি মেরে ফেলা, পোড়ানো বা মাটিতে পুঁতে ফেলার পরামর্শ দেন।

মাছটি এমন জলাশয়ে এসেছে, যেগুলো আগে থেকেই চাপে আছে। মোঙ্গাবে ২০২২ সালের অক্টোবরে জানায়, আইইউসিএন বাংলাদেশ ২০১৫ সালে প্রকাশিত মিঠাপানির মাছের লাল তালিকায় ২৫৩টি প্রজাতি মূল্যায়ন করে, যার ৬৪টি হুমকির মুখে: ৯টি মহাবিপন্ন, ৩০টি বিপন্ন এবং ২৫টি সংকটাপন্ন। ওই প্রতিবেদনে দেশি মাছ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে আবাসস্থল হারানো, অতিরিক্ত আহরণ, দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলা হয়।

২০২৩ সালের নিষেধাজ্ঞা


২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সাকার মাউথ ক্যাটফিশ নিষিদ্ধ করতে মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর অধীন বিধি সংশোধনের খসড়া প্রস্তাব প্রকাশ করে এবং আপত্তি বা পরামর্শ জানাতে জনসাধারণকে দুই মাস সময় দেয়। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ও দ্য ডেইলি স্টার জানায়, রাষ্ট্রপতির আদেশে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মৃণাল কান্তি দে ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি চূড়ান্ত গেজেট প্রজ্ঞাপনে সই করেন, যা ২৫ জানুয়ারি প্রকাশ্যে আসে। এ অনুযায়ী কেউ মাছটি আমদানি, চাষ, পরিবহন, বিক্রি, সরবরাহ বা সংরক্ষণ করতে পারবেন না। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর পরে নিষেধাজ্ঞার আওতা হিসেবে আমদানি, প্রজনন, চাষ, পরিবহন, বিক্রি, বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ, মজুদ ও লালনপালনের কথা উল্লেখ করে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের খবর অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, পরিবেশ ও জলাশয়ের জন্য হুমকি এই মাছ নির্মূলে সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা নেবে। তিনি বলেন, প্রতিটি নদী থেকে মাছটি সরিয়ে ফেলার সক্ষমতা সরকারের নেই, এবং জনসচেতনতার আহ্বান জানান। ২০২৪ সালের গবেষণায় উল্লেখ আছে, কর্মকর্তারা বুড়িগঙ্গায় মাছ ধরে ধরা পড়া সাকার মাছ প্রকাশ্যে পাড়ে পুঁতে ফেলেন, যাতে মানুষ একই কাজে উৎসাহিত হয়।

নিষেধাজ্ঞা মাছটির ব্যবসা বন্ধ করে, কিন্তু ধরা পড়া মাছের কোনো ব্যবহার দেয় না। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সাকার মাছ পরিবহন, বিক্রি ও সরবরাহ নিষিদ্ধ, আর শেকৃবির খাদ্য বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন এই নিয়মের মধ্যে কীভাবে করা হবে, জাগো নিউজের প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি।

অন্য দেশের গবেষণা যা বলে


শেকৃবির ঘোষণার আগেই বৈজ্ঞানিক গবেষণায় সাকার মাছ দিয়ে প্রাণিখাদ্য তৈরির ধারণা এসেছিল। ২০২৪ সালের গবেষণায় হোসেন ও সহগবেষকরা আগের গবেষণার উল্লেখ করে লেখেন, দূষণমুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা সাকার মাছ দিয়ে ফিশমিল এবং পোলট্রি ও গবাদিপশুর খাদ্য তৈরি করা যেতে পারে। অন্য গবেষকরা এর চামড়া হস্তশিল্পে এবং দেহের বিভিন্ন অংশ সাবান, জৈবজ্বালানি, এনজাইম, কোলাজেন বা ঘোলা পানি পরিষ্কারের প্রাকৃতিক কোয়াগুলেন্ট তৈরিতে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে থাইল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ফায়াওর গবেষকরা লাইফ সাময়িকীতে একটি গবেষণা প্রকাশ করেন। তাতে খামারে চাষ করা চাইনিজ বুলফ্রগ (Hoplobatrachus chinensis) ব্যাঙের খাদ্যে বাণিজ্যিক ফিশমিলের বদলে পি. পারডালিস থেকে তৈরি মিল ব্যবহার করা হয়। ৯০ দিন ধরে তাঁরা শূন্য থেকে শতভাগ পর্যন্ত প্রতিস্থাপনের ছয়টি খাদ্য তুলনা করেন, যার পাঁচটিতে একটি উদ্ভিজ্জ নির্যাস যোগ করা হয়। সাকার মাছের মিলে বাণিজ্যিক ফিশমিলের চেয়ে মান ও পরিমাণ দুই দিক থেকেই ভালো অ্যামাইনো অ্যাসিড পাওয়া যায়, তবে বাণিজ্যিক ফিশমিলে ফ্যাটি অ্যাসিড ছিল বেশি। শুধু শতভাগ প্রতিস্থাপনের দলেই বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে, আর খাদ্যভেদে যকৃতের এনজাইমে কোনো পার্থক্য দেখা যায়নি। গবেষকদের সিদ্ধান্ত, ব্যাঙের খাদ্যে বাণিজ্যিক ফিশমিলের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সাকার মাছের মিল দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যায়, বৃদ্ধির ক্ষতি না করেই।

বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গবেষণাটি একটি সতর্কতাও দিয়েছে। এতে বলা হয়, দূষিত নদীর দূষক মাছটির মাংসে জমতে পারে; এ কারণেই গবেষকরা দূষণমুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা মাছের কথা বলেছেন। ২০২২ সালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদনেও মাছটির আবাসস্থলে ভারী ধাতু নিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্বেগের কথা এসেছে। গবেষণায় আরও দেখা যায়, কিছু গৃহহীন ও অতিদরিদ্র মানুষ নিজেরা খাওয়ার জন্য মাছটি সংগ্রহ করেন বা রাস্তায় কেজিপ্রতি প্রায় ১.২ থেকে ২ মার্কিন ডলারে বিক্রি করেন। তবে মাছটি চেনেন এমন উত্তরদাতাদের প্রায় ৭০ শতাংশ (৪৯ জনের মধ্যে ৩৪ জন) এর শক্ত বর্মের কারণে মাছটি খেতে রাজি হননি।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও আইএএএস ওয়ার্ল্ড


শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত। অবিভক্ত বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৩৮ সালের ১১ ডিসেম্বর বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট নামে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে এর নাম হয় ইস্ট পাকিস্তান এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট এবং ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট। ২০০১ সালে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের মাধ্যমে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। এর অনুষদগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি, কৃষি ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন এবং মাৎস্যবিজ্ঞান, অ্যাকোয়াকালচার ও মেরিন সায়েন্স; শেষেরটি চালু হয় ২০১৭ সালে। ফলে সাকার ফিশ প্রকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি নতুন অনুষদের শিক্ষকরা একসঙ্গে কাজ করেছেন।

আইএএএস, অর্থাৎ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব স্টুডেন্টস ইন অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রিলেটেড সায়েন্সেস, ১৯৫৭ সালে তিউনিসিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়; এর সদর দপ্তর বেলজিয়ামের লুভেনে। ৫৫টির বেশি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে এর কমিটি রয়েছে, আর সংগঠনটির লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান, তথ্য ও ধারণার আদান-প্রদান বাড়ানো। সেমিনার, বিনিময় কর্মসূচি এবং ভিলেজ কনসেপ্ট প্রজেক্টের মতো ছোট উন্নয়ন প্রকল্প এর কাজের অংশ। নিজেদের ওয়েবসাইটে আইএএএস ওয়ার্ল্ড নিজেকে শিক্ষার্থী-পরিচালিত, অলাভজনক সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে, যা সারা বিশ্বের কৃষি শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে।

ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: Jubair1985 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: Jubair1985 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

দেশের মৎস্য খাতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ


বাংলাদেশে খাদ্য ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে রয়েছে মাছ। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের অক্টোবরের এক উপস্থাপনায় বলা হয়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে মোট মাছ উৎপাদন হয় ৪৯ লাখ ১০ হাজার টন (৪.৯১ মিলিয়ন টন); মানুষের গ্রহণ করা প্রাণিজ আমিষের ৬০ শতাংশ আসে মাছ থেকে, আর মাথাপিছু দৈনিক মাছ গ্রহণ ৬৭.৮০ গ্রাম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর উদ্ধৃতি দিয়ে উপস্থাপনাটিতে বলা হয়, ২০২৪ সালে জাতীয় জিডিপিতে মৎস্য খাতের অবদান ২.৫৩ শতাংশ এবং কৃষি জিডিপিতে ২২.২৬ শতাংশ; খাতটিতে পূর্ণ ও খণ্ডকালীন মিলিয়ে কর্মসংস্থান ২ কোটি মানুষের।

এফএওর ২০২৪ সালের পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে একই উপস্থাপনায় অভ্যন্তরীণ মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশকে বিশ্বে দ্বিতীয় এবং অ্যাকোয়াকালচারে পঞ্চম বলা হয়। দেশে মিঠাপানির মাছের প্রজাতি ২৬০টি, বিদেশি প্রজাতি ১২টি এবং সামুদ্রিক মাছের প্রজাতি ৪৭৫টি বলেও এতে উল্লেখ আছে। দেশি মাছের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, জাল ও পুকুরপাড়ের ক্ষতি এবং মাছটি তাড়ানোর খরচের মধ্য দিয়ে সাকার ফিশ এই অভ্যন্তরীণ আহরণ ও পুকুরের উৎপাদনকেই হুমকিতে ফেলছে।

ছবি: harum.koh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, অ্যাকোয়াটিক ইনভেশনস (হোসেন ও অন্যান্য, ২০২৪), বায়োলজিক্যাল ইনভেশনস (পারভেজ ও অন্যান্য, ২০২৩), ফিশেস (হোসেন ও অন্যান্য, ২০১৮), জার্নাল অব অ্যাপ্লায়েড ইকথিওলজি (২০০৮), যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস), লাইফ (ইউনিভার্সিটি অব ফায়াও, ২০২৫), বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, দ্য ডেইলি স্টার, বাংলাপিডিয়া, মোঙ্গাবে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, আইএএএস ওয়ার্ল্ড

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)