সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

তালগাছ যেভাবে প্রকৃতি রক্ষা করে

তালগাছ প্রাচীন একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ। সারাবিশ্বের মতো আমাদের দেশেও তাল একটি অতিপরিচিত ফল। তালগাছকে বলা হয় কল্পবৃক্ষ। এই বৃক্ষের কাছে যা চাওয়া হয়, তাই পাওয়া যায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষিনির্ভর দেশ কম্বোডিয়ার জাতীয় বৃক্ষ তাল। এরই আদ্যোপান্ত একবার জেনে নিই।

তালগাছ প্রাচীন একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ। সারাবিশ্বের মতো আমাদের দেশেও তাল একটি অতিপরিচিত ফল। তালগাছকে বলা হয় কল্পবৃক্ষ। এই বৃক্ষের কাছে যা চাওয়া হয়, তাই পাওয়া যায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষিনির্ভর দেশ কম্বোডিয়ার জাতীয় বৃক্ষ তাল। এরই আদ্যোপান্ত একবার জেনে নিই।

প্রকৃতির এক পরম বন্ধুর নাম তালগাছ। খরায় পুড়ছে মাটি, সংকটে মাটির নিচে থাকা পানির স্তর, বইছে শৈত্যপ্রবাহ, বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বজ্রপাতের মতো দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে তালগাছের ভূমিকা অপরিসীম। আমাদের দেশে প্রত্যেক বছর বজ্রপাতে অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। বজ্রপাতে নিহতদের বেশিরভাগ ক্ষেত-খামারে হাওর-বিলে কাজ করতে যাওয়া কৃষক, জেলে ও মাঝি বা পথচারী। দূর পাথারের মধ্যে বজ্রপাত বেশি ঘটে। এ ক্ষেত্রে তালগাছ বজ্রপাত নিরোধক হিসেবে ভূমিকা রাখে। ফাঁকা রাস্তার ধারে সারি সারি সুউচ্চ তালগাছ থাকলে বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কেননা বজ্রপাত উচ্চ স্থানে পতিত হয়।

দীর্ঘদেহী তালগাছ। এর গুণাগুণ আরও লম্বা। নিপুণ কারিগর বাবুই পাখি। এরা কিন্তু বাসা বাঁধে ওই তালগাছের মাথার ওপর। দৃষ্টিতে নন্দন বাবুই পাখির বাসা। ফাঁকা রাস্তার দুধারে সারি সারি তালগাছ লাগানো থাকলে দূর থেকে মনে হয় যেন তালসাম্রাজ্য। তালগাছের গুঁড়ি থেকে বানানো হয় তালের ডোঙা। এই ডোঙা দেখতে খুবই সুন্দর ও স্থায়ী। তালকাঠ দিয়ে ঘরের স্থায়ী আড়া বানানো হয়। যেটা দেখতে বেশ চমৎকার। বাঁদুড়কে তালগাছে ঝুলে থাকতে দেখা যায়। শকুন, ঈগল ও ময়ূরসহ অসংখ্য পাখি সারা দিন মাঠে চরে বেড়ানোর পর রাতে ঘুমায় তালগাছের মাথায়। টিয়া পাখি তালগাছের ওপরে ডিম পাড়ে।

তালগাছের বিভিন্ন অংশ দিয়ে তৈরি হয় বাহারি কারুপণ্য। যেমন- হাতপাখা, ঘরের ছাউনি, টুপি, পাটি, হাতব্যাগ, বর্ষাতি বা ছাতা, মাথাল, তালপাতার বাঁশিসহ বিভিন্ন লোকজ উপাদান। বাঙালির লোকসংস্কৃতিতে তালবৃক্ষের ব্যাপক অবদান আছে। কাগজ আবিষ্কৃত হওয়ার আগে তালপাতায় সব লিপিবদ্ধ করে রাখা হতো। অনেক জাদুঘরে বা লাইব্রেরিতে তালপাতার পুঁথি এখনো দেখা যায়। আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা—এই পাঁচটি মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য যে উপকরণ দরকার সেটা তালগাছ থেকে পেয়ে থাকি। তালগাছের পাতা দিয়ে যেমন- হাতপাখা, টুপি, ব্যাগ, বর্ষাতি, মাথাল, ঝুড়ি বানানো হয়। পাকা তালের আঁশ থেকে পাওয়া যায় রেয়নের মতো সুতা, যা দিয়ে তৈরি করা যায় বস্ত্র। তালগাছ শক্তির প্রতীক।

একটা তালগাছ বাঁচে ১০০ বছরের বেশি। এর উচ্চতা প্রায় ১০০ ফুট। লাগানোর পর সেই গাছে তাল ধরতে সময় লাগে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর। তালগাছ যেমন দীর্ঘদেহী এর ফল পেতেও অনেকটা সময় অপেক্ষা করতে হয়। কথায় আছে না অপেক্ষার ফল সুমিষ্ট হয়। তালগাছও তাই। একটা গাছে বছরে ছয়টি থেকে ১২টি কাদিতে ৩০০টি পর্যন্ত তাল ধরে। পুরুষ গাছে ফল ধরে না, ফুলের জটা হয়। জটা কেটে রস নামানো হয়। স্ত্রী গাছে ফল ধরে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে তালগাছে ফুল ফোটে ও রস হয়। দেড় থেকে দুই মাস ধরে পুরুষ পুষ্পমঞ্জুরিতে ফুল ফুটতে থাকে। মার্চ-এপ্রিলে তালের রস নামে।

তাল কাঁচা অবস্থায়ও খাওয়া যায়। কচি তালের শাঁস খেতে খুব মজাদার। পুষ্টি ও স্বাদে ভরপুর। জ্যৈষ্ঠের খররৌদ্রের দাবদাহে কচি তালের শাঁসের খুব চাহিদা। তালের শাঁস দেহকে ক্লান্তিহীন করে। তালের দিয়ে পায়েস, গুড়, পাটালি, মিছরি ইত্যাদি তৈরি হয়। এর রস পানিশূন্যতা দূর করে। রুচি বৃদ্ধি করে। লিভারের সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রাখে। এই শাঁসে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড় গঠনে কাজ করে। তালে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তালের রস আফ্রিকায় মদ ও বিয়ার তৈরির অন্যতম উপকরণ। প্রতি তালগাছ থেকে বছরে প্রায় ১৫০ লিটার রস পাওয়া যায়।

ভাদ্র মাসের চড়া গরমে তাল পাকে। এই সময়ে গ্রাম-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে তালের মহোৎসব পড়ে যায়। তালপিঠা খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। পাকা তাল খাওয়ার নানা উপায় আছে। পাকা তালের ক্বাথ দিয়ে নানারকম পিঠা-পায়েস তৈরি হয় বাঙালির ঘরে ঘরে। তালের সেঁকা পিঠা: চিনি, দুধ, নারকেল দিয়ে তালের ক্বাথ জ্বাল দিয়ে তার সঙ্গে চালের গুঁড়া বা আটা মিশিয়ে কলাপাতায় খামির রেখে চুলায় সেঁকে নিয়েও খেতে দেখা যায়। তালের রুটি জনপ্রিয় একটি নাশতা। পাকা তালের কমলা রস থেকে তৈরি হয় তালবড়া, তালপিঠা, তালক্ষীর, তালপাটালি, তাল বরফি ইত্যাদি। অক্টোবর-নভেম্বরে তালের আঁটি থেকে গ্যাঁজ হয় ও ভেতরে ফাপা হয়। তাল ফাপা নারকেলের মতো বীজের শাঁস থেকে তেল ইত্যাদি খাদ্য তৈরি হয়। এমনকি তালের আঁটি থেকে সদ্য গজানো অঙ্কুর বা গ্যাঁজ সেদ্ধ করে খাওয়া যায়, যা পুষ্টিকর।

ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে; স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে, শারীরিক স্বাস্থ্যরক্ষা, হজম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে, কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করা ও দেহের হাড়কে শক্তিশালী করাসহ তাল অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তালশাঁস শরীরকে দ্রুত শীতল করে।

তালে আছে ভিটামিন এ, বি, সি, জিংক, পটাশিয়াম, আয়রন, ক্যালসিয়ামসহ আরও অনেক খনিজ উপাদান। এর সঙ্গে আরও আছে অ্যান্টি-অক্সিজেন ও অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান। পাকা তালের প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য অংশে আছে খাদ্যশক্তি ৮৭ কিলোক্যালরি, জলীয় অংশ ৭৭.৫ গ্রাম, আমিষ .৮ গ্রাম, চর্বি .১ গ্রাম, শর্করা ১০.৯ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন ১ মিলিগ্রাম, থায়ামিন .০৪ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাভিন .০২ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন .৩ মিলিগ্রাম ও ভিটামিন সি ৫ মিলিগ্রাম। ভিটামিন বি-এর অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধে তাল ভূমিকা রাখে। তালে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস আছে, যা দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়ক।

শত গুণাগুণ সমৃদ্ধ এই তালবৃক্ষ বপন বা রোপণ সম্পর্কে একটু জেনে নিই। সব ধরনের মাটিতেই তালগাছ হয়। তবে উঁচু জমি হলে ভালো হয়। সারি থেকে সারি ৭ মিটার এবং চারা থেকে চারা ৭ মিটার দূরত্ব রাখা ভালো। গর্তের আকার হবে সোয়া ৩ ফুট চওড়া ও সোয়া ৩ ফুট গভীর। গর্ত করার ১০-১৫ দিন পর প্রতি গর্তে ১৫-২০ কেজি জৈব সার, ২৫০ গ্রাম টিএসপি এবং ২০ গ্রাম এমপি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। প্রায় ১০ ফুট লম্বা এবং ৩ ফুট চওড়া বীজতলায় এক হাজার তালের আঁটি বা বীজ বসানো যায়। বীজতলার নিচের অংশে পাতলা টিনের শিট বা পুরু পলিথিন বিছিয়ে দিলে ভালো হয়। বীজ বপনের ৩-৪ সপ্তাহের মধ্যে বীজ অঙ্কুরিত হওয়া শুরু হবে।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)