সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

বর্ষাকালে সবজি চাষের নিয়ম: উঁচু বেড, পানি নিষ্কাশন, জাত ও বালাই দমন

২০২৫ সালের জুনে জাগো নিউজে প্রকাশিত নির্দেশিকায় বর্ষায় সবজি চাষের নিয়ম তুলে ধরা হয়: পানি না জমা জমি, ঝুরঝুরে মাটি ও বেড, ভালো বীজ, সাবধানে বালাই দমন, পানি নিষ্কাশন ও মালচিং। প্রতিটি নিয়মের খুঁটিনাটি মেলে বারি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নির্দেশনায়।

বর্ষাকালে সবজি চাষের নিয়ম: উঁচু বেড, পানি নিষ্কাশন, জাত ও বালাই দমন
শাকসবজি

২০২৫ সালের জুনে জাগো নিউজ বর্ষাকালে সবজি চাষের নিয়ম নিয়ে একটি ছোট নির্দেশিকা প্রকাশ করে। তার মূল কথা ছিল, বর্ষার ফলন অনেকটাই ঠিক হয়ে যায় বীজ বোনার আগেই: জমি এমনভাবে তৈরি করতে হবে যেন বৃষ্টির পানি না জমে, মাটি ভালোভাবে চাষ দিয়ে ঝুরঝুরে করতে হবে, মৌসুমের ফসল অনুযায়ী বেড বানাতে হবে, আর বীজ হতে হবে ভালো মানের। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়, কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে কীটনাশক দিতে হবে অথবা প্রাকৃতিক উপায়ে, যেমন নিমের তেল দিয়ে, পোকা দমন করতে হবে; জমিতে প্রয়োজনমতো পানি দিতে হবে এবং বাড়তি পানি বের করে দিতে হবে; আর মাটি মালচ দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এই প্রতিবেদনে সেই কথাগুলো রেখে প্রতিটি বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তখন পর্যন্ত প্রকাশিত বিস্তারিত নির্দেশনা যোগ করা হলো। এর বেশির ভাগ নেওয়া হয়েছে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত বারির কৃষি প্রযুক্তি হাতবইয়ের দশম সংস্করণ থেকে।

বর্ষাকাল কেন সবজির জন্য কঠিন


বাংলাদেশের বর্ষা দীর্ঘ ও ভেজা। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া বলছে, বর্ষা মৌসুম চলে জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত, আর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের সব জায়গায় আপেক্ষিক আর্দ্রতা থাকে ৮০ শতাংশের ওপরে। দেশের পশ্চিম-মধ্যাঞ্চলে বছরে বৃষ্টি হয় প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার, আর উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ৪০০ সেন্টিমিটারের বেশি। বছরের মোট বৃষ্টির প্রায় ৭০ শতাংশ পূর্বাঞ্চলে, ৮০ শতাংশ দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ৮৫ শতাংশের কিছু বেশি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হয় বর্ষার মাসগুলোতে। জুলাই মাসে গড় তাপমাত্রা দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে উত্তর-পশ্চিমে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকে।

এই আবহাওয়া কিছু ফসলের উপযোগী, কিছুর জন্য ক্ষতিকর। বাংলাপিডিয়ার সবজি নিবন্ধে মিষ্টিকুমড়া, করলা, কাঁকরোল, ঝিঙা, চালকুমড়া, ঢেঁড়স, বরবটি ও পুঁইশাককে প্রধান গ্রীষ্মকালীন সবজি বলা হয়েছে; বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, ঢেঁড়স ও লালশাক দুই মৌসুমেই হয়। সেখানে আরও বলা হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও পোকার আক্রমণ গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষকে সীমিত করে রাখে। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ববিদদের ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রেও একই কথা আছে: কৃষি-পরিবেশগত সীমাবদ্ধতার কারণে গ্রীষ্মে সবজির সরবরাহ কম থাকে, আর বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া সবজির ক্ষতি করে।

মাঠে এর অর্থ কী, তা আগের সংবাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়। ২০১৫ সালের জুনে দ্য ডেইলি স্টার ডিএইর তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, সে বছর কৃষকেরা ২ দশমিক ৯৭ লাখ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি লাগিয়েছিলেন, আগের বছর যা ছিল ২ দশমিক ৯৪ লাখ হেক্টর। ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও পটুয়াখালীসহ সাত জেলায় ৫ হাজার ৯ হেক্টর সবজিখেত তলিয়ে যায়। ডিএইর এক কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, টানা বৃষ্টিতে নতুন চারা নষ্ট হয় এবং জলাবদ্ধতায় বড় গাছও মরে যেতে পারে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে তখন বছরে ১ কোটি ৩০ লাখ টনের বেশি সবজি উৎপাদন হতো, যার প্রায় ৩০ শতাংশ গ্রীষ্মকালীন সবজি।

যে জমিতে পানি জমে না: জমি বাছাই ও তৈরি


নির্দেশিকার প্রথম নিয়ম ছিল জমি এমনভাবে বাছাই ও তৈরি করা যেন পানি জমে না থাকে, কারণ জমে থাকা পানিতে গাছের শিকড় পচে বড় ক্ষতি হতে পারে। বারির হাতবইয়ে প্রতিটি ফসলের ক্ষেত্রে একই কথা বলা আছে। ঢেঁড়সের জন্য সেচ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাসহ উঁচু জমি বাছাই করে ৫-৬ বার চাষ ও মই দিতে হবে, আর ১ মিটার চওড়া ও ১৫-২০ সেন্টিমিটার উঁচু বেড বানাতে হবে, পাশাপাশি দুটি বেডের মাঝে থাকবে ৩০ সেন্টিমিটার চওড়া নালা। টমেটো সম্পর্কে হাতবইয়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, টমেটো গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না; সেচ বা বৃষ্টির বাড়তি পানি দ্রুত বের করে দিতে ৩০-৪০ সেন্টিমিটার চওড়া নালা রাখতে হবে এবং জমি এক দিকে সামান্য ঢালু হলে ভালো।

নির্দেশিকায় মাটি ভালোভাবে চাষ দিয়ে ঝুরঝুরে করার যে কথা বলা হয়েছিল, হাতবইয়েও কাজ শুরু সেখান থেকেই: টমেটোর জন্য ৪-৫ বার চাষ ও মই, ঢেঁড়সের জন্য ৫-৬ বার, আর পুঁইশাকের জন্য মাটির ধরন অনুযায়ী ৪-৬টি গভীর চাষ। মিষ্টিকুমড়াসহ লতানো ফসলের জন্য বারি আরও চওড়া নকশা দিয়েছে। বেড হবে ১৫-২০ সেন্টিমিটার উঁচু ও আড়াই মিটার চওড়া, আর দুটি বেডের মাঝে থাকবে ৬০ সেন্টিমিটার চওড়া সেচ ও নিকাশ নালা। ৫০-৫৫ সেন্টিমিটার চওড়া ও ৫০-৫৫ সেন্টিমিটার গভীর মাদা প্রতিটি বেডের এক পাশে এক সারিতে ২ মিটার পরপর তৈরি করতে হবে, যাতে বেডের অন্য পাশের খালি জায়গায় লতা ছড়াতে পারে।

ভেজা মাটিতে চারার রোগও বাড়ে। বারির উদ্ভিদ রোগতত্ত্ববিদেরা টমেটো ও বেগুনের ড্যাম্পিং অফ বা চারা ঢলে পড়া রোগের বর্ণনা দিয়েছেন: আক্রান্ত চারা ফ্যাকাসে সবুজ হয়ে যায়, মাটি বরাবর কাণ্ডে বাদামি রঙের পানিভেজা দাগ পড়ে, গোড়া পচে চারা মারা যায়। হাতবই অনুযায়ী এ রোগের কারণ ফাইটোফথোরা, পিথিয়াম, ফিউজারিয়াম, রাইজোকটোনিয়া ও স্কেলেরোশিয়াম গণের মাটিবাহিত ছত্রাক। সুস্থ বীজতলার জন্য পরামর্শ হলো জমি ভালোভাবে চাষ করে ৫ দিন কড়া রোদে ফেলে রাখা, তারপর বীজতলার ওপর প্রায় ৬ সেন্টিমিটার পুরু শুকনো কাঠের গুঁড়া বিছিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মাটি শোধন করা। রোগ প্রতিরোধী জাত হিসেবে বারি টমেটো-১৬ ও বারি টমেটো-১৭ চাষের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বর্ষার উপযোগী সবজি ও বারির জাত


ঢেঁড়স খরিফ মৌসুমেরই ফসল। বারির হাতবই বলছে, ঢেঁড়সের জন্য অপেক্ষাকৃত বেশি তাপমাত্রা দরকার, শুষ্ক ও আর্দ্র দুই অবস্থাতেই এটি জন্মে এবং সাধারণত খরিফ মৌসুমেই এর চাষ হয়; দোআঁশ ও সুনিষ্কাশিত মাটি সবচেয়ে ভালো। দেশে সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ঢেঁড়স বোনা হয়। হাতবইয়ের হিসাবে দেশে ১২ দশমিক ৫৬ হাজার হেক্টর জমিতে ৯৬ হাজার টন ঢেঁড়স উৎপাদিত হয়। ১৯৯৬ সালে অনুমোদিত বারি ঢেঁড়স-১ গাছ ২-২.৫ মিটার লম্বা হয়, গাছপ্রতি ২৫-৩০টি ফল ধরে এবং উন্নত পদ্ধতিতে হেক্টরে ১৪-১৬ টন ফলন হয়। বারি ঢেঁড়স-২ একটি আগাম জাত, ৪০-৪২ দিনে প্রথম ফুল আসে, গড় ফলন হেক্টরে ১৭-২১ টন।

মূল মৌসুমে, অর্থাৎ বৈশাখ মাস থেকে (১৫ এপ্রিলের পর), বারি ১ মিটার চওড়া বেডে ৬০ × ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্বে দুই সারিতে বীজ বোনার পরামর্শ দেয়। বোনার আগে বীজ ২৪ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে নিলে অঙ্কুরোদ্গম ভালো হয়; প্রতি জায়গায় ২টি করে বীজ ২-৩ সেন্টিমিটার গভীরে বুনতে হয়, আর চারা গজানোর ৭ দিন পর একটি সুস্থ-সবল গাছ রেখে বাকিগুলো তুলে ফেলতে হয়। বারির সার তালিকা অনুযায়ী হেক্টরপ্রতি ঢেঁড়সে লাগে ১০ টন গোবর বা কম্পোস্ট ও ১০০ কেজি টিএসপি, যা শেষ চাষের সময় দিতে হয়; আর ইউরিয়া ও এমওপি লাগে ১৫০ কেজি করে, যার ৭৫ কেজি শেষ চাষে এবং বাকিটা বীজ বোনার ৩০, ৫০ ও ৮০ দিন পর ২৫ কেজি করে তিন কিস্তিতে উপরিপ্রয়োগ করতে হয়।

ফল ও ফুলসহ ঢেঁড়স গাছ (প্রতীকী ছবি)। ছবি: Federix / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ফল ও ফুলসহ ঢেঁড়স গাছ (প্রতীকী ছবি)। ছবি: Federix / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ডাঁটা রবি ও খরিফ দুই মৌসুমেই চাষ করা যায়। বারি বলছে, ডাঁটা উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার ফসল, ২০-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ও পূর্ণ আলোয় সবচেয়ে ভালো জন্মে, আর গভীর উর্বর মাটি দরকার, যা সুনিষ্কাশিত অথচ স্যাঁতসেঁতে থাকে। ফেব্রুয়ারি থেকে জুন বীজ বোনার উপযুক্ত সময়, তবে সেচের ব্যবস্থা থাকলে সারা বছরই বোনা যায়। হাতবইয়ের হিসাবে দেশে ১১ দশমিক ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে ডাঁটার চাষ হয় এবং উৎপাদন ৯১ দশমিক ০৯ হাজার মেট্রিক টন। বারি ডাঁটা-৪ সারা বছর চাষ করা যায়; বীজ বোনার ৩০-৫০ দিনের মধ্যে শাক হিসেবে এবং ৪৩-৭০ দিনের মধ্যে ডাঁটা হিসেবে তোলা যায়।

বর্ষার দিনে বসতবাড়ির সবচেয়ে প্রিয় সবজি পুঁইশাক। বারি বলছে, তীব্র শীত ছাড়া বছরের যেকোনো সময় পুঁইশাক চাষ করা যায়, তবে মার্চ-এপ্রিল বীজ বোনা বা চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়; এরপর সাত-আট মাস ধরে সংগ্রহ করে খাওয়া যায়। গাছের বাড়ন্ত অবস্থার জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া দরকার, আর শীতের প্রভাব না পেলে ফুল আসে না, তাই নভেম্বর-ডিসেম্বরে ফুল দেখা যায়। বারি পুঁইশাক-১ (চিত্রা) ও বারি পুঁইশাক-২ জাত দুটি ১৯৯৯ ও ২০০৫ সালে জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদন পেয়ে সারা দেশে চাষের জন্য সুপারিশ করা হয়।

কুমড়াজাতীয় সবজিই এ মৌসুমের প্রধান ভরসা। বারির হিসাবে দেশে প্রায় ১৬ রকমের কুমড়াজাতীয় সবজি আছে, আর সারা বছরই কোনো না কোনো কুমড়াজাতীয় সবজি উৎপাদন করা যায়; প্রধানগুলো হলো লাউ, মিষ্টিকুমড়া, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, ঝিঙা, করলা, চালকুমড়া, পটল ও স্কোয়াশ। করলার মধ্যে বারি করলা-১ গড়ে হেক্টরে ২৪-২৭ টন ফলন দেয়। ২০১৯ সালে মুক্তায়িত বারি হাইব্রিড করলা-২ ভাইরাস ও পাউডারি মিলডিউ রোগ সহনশীল, সারা বছর চাষ উপযোগী এবং উন্নত পদ্ধতিতে হেক্টরে প্রায় ৩৫-৩৭ টন ফলন দেয়।

টমেটো এ দেশে শীতের ফসল, তবে বারি গ্রীষ্ম ও বর্ষার জন্য আলাদা হাইব্রিড জাত উদ্ভাবন করেছে। বারি হাইব্রিড টমেটো-৪ জাতের প্রতিটি গাছে গড়ে ৩০টি মাঝারি, গোল, লাল ফল ধরে, প্রতিটির গড় ওজন ৫০ গ্রাম, গাছপ্রতি ফলন প্রায় দেড় কেজি। গ্রীষ্মে ফল ধরাতে কৃত্রিম হরমোন লাগে না; হেক্টরে ফলন ৪০ টন। জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত যেকোনো সময় এর বীজ বোনা যায়, আর বর্ষায় অতিবৃষ্টি থেকে বাঁচাতে পলিথিনের ছাউনিতে চাষ করা হয়। বারি হাইব্রিড টমেটো-৮ উচ্চ তাপমাত্রায় ফুল ও ফল ধরাতে পারে। ২০১৭ সালে মুক্তায়িত বারি হাইব্রিড টমেটো-১০ ও ২০১৮ সালে মুক্তায়িত বারি হাইব্রিড টমেটো-১১ গ্রীষ্মে হেক্টরে যথাক্রমে প্রায় ৪৮-৫১ ও ৪৮-৫০ টন ফলন দেয়। হাতবইয়ে গ্রীষ্মকালে বীজ বোনার সময় বলা হয়েছে এপ্রিল থেকে জুন, এবং বলা হয়েছে, বর্ষায় টমেটোর দাম বেশি থাকে বলে এসব জাত চাষে বেশি লাভ হয়।

মাঠের গবেষণা দেখায়, কেন এসব হাইব্রিড জাত জরুরি। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষণায় ২০১৪ সালের মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পলিথিনের টানেলের নিচে পাঁচটি হাইব্রিড জাত চাষ করা হয়। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, দিনে ২৬ ডিগ্রি ও রাতে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় টমেটোর ফল ধরা ব্যাহত হয়, আর বর্ষায় টমেটো চাষের প্রধান সমস্যা হলো কম ফল ধরা ও ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগ। ওই পরীক্ষায় বারি হাইব্রিড টমেটো-৪ গাছপ্রতি ০.৯৭ কেজি ফলন দিয়ে শীর্ষে ছিল, এবং গবেষকেরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে সিলেট অঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে।

পলিথিন ছাউনি, মাচা ও অন্যান্য কাঠামো


টমেটো খেতে সরাসরি বৃষ্টি পড়া ঠেকাতেই বারির পলিথিন ছাউনি। ভরা বর্ষায় লাগানো চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের জন্য হাতবইয়ে বেডের ওপর নৌকার ছইয়ের মতো করে স্বচ্ছ পলিথিনের ছাউনি দেওয়ার পরামর্শ আছে। মাঝে ৩০ সেন্টিমিটার নালাসহ মোট ২৩০ সেন্টিমিটার চওড়া দুটি বেডের ওপর লম্বালম্বি একটি ছাউনি দেওয়া যায়। ছাউনির উচ্চতা দুই পাশে ১৩৫ সেন্টিমিটার (সাড়ে ৪ ফুট) আর মাঝখানে ১৮০ সেন্টিমিটার (৬ ফুট)। দুটি ছাউনির মাঝে অন্তত ৫০ সেন্টিমিটার চওড়া নালা রাখতে হয়, যাতে ছাউনি থেকে গড়িয়ে পড়া বৃষ্টির পানি বেরিয়ে যায় এবং পরিচর্যার কাজও সহজ হয়। ছাউনির দৈর্ঘ্য জমির আকারের ওপর নির্ভর করে, তবে চওড়া হওয়া উচিত বাজারে পাওয়া পলিথিনের সর্বোচ্চ চওড়া অনুযায়ী ২.৩ মিটার; ছাউনি ২০ মিটার লম্বা হলে হেক্টরে প্রায় ১৭০টি ছাউনি লাগতে পারে।

লতানো ফসলকে ভেজা মাটি থেকে তুলে রাখতে হয়। চিচিঙ্গার ক্ষেত্রে বারি বলছে, বাউনি দেওয়াই প্রধান পরিচর্যা: চারা ২০-২৫ সেন্টিমিটার উঁচু হলেই ১-১.৫ মিটার উঁচু মাচা বানাতে হবে, কারণ বাউনি দিলে ফলন বেশি হয় এবং ফলের মানও ভালো হয়। গাছের গোড়া থেকে বের হওয়া ডালপালা কেটে দিলে গোড়া পরিষ্কার থাকে, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের উৎপাত কমে। হাতবইয়ে আরও বলা হয়েছে, জুন-জুলাই মাসে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর আর সেচ লাগে না, তবে জমির পানি বের হওয়া নিশ্চিত করতে বেড ও নিকাশ নালা সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে।

বাকি পরিচর্যা ফল ধরানো নিয়ে। মিষ্টিকুমড়ার ক্ষেত্রে বারি গাছের গোড়া থেকে ৪০-৪৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত শোষক শাখাগুলো ধারালো ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলার পরামর্শ দেয়। পরাগায়ন মূলত মৌমাছির মাধ্যমে হয়, তাই বেশি ফল পেতে হেক্টরে ২-৩টি মৌমাছির কলোনি বসানো যেতে পারে, অথবা হাত দিয়ে কৃত্রিম পরাগায়ন করা যায়। চিচিঙ্গা প্রসঙ্গে হাতবই বলছে, পানির অভাব হলে গাছের বৃদ্ধির প্রতিটি ধাপে তার লক্ষণ দেখা দেয়, চারার বৃদ্ধি থেমে যাওয়া থেকে শুরু করে ফুল ও ফল ঝরে পড়া পর্যন্ত; তাই বর্ষাতেও নিষ্কাশন আর পানির জোগানের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হয়।

করলা গাছ (প্রতীকী ছবি)। ছবি: HitroMilanese / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
করলা গাছ (প্রতীকী ছবি)। ছবি: HitroMilanese / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ভালো বীজ ও হাইব্রিড বীজের নিয়ম


নির্দেশিকায় পোকামাকড় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এমন ভালো বীজ বাছাই করতে এবং বর্ষায় হাইব্রিড বীজ বেছে নিতে বলা হয়েছিল। বাছাইয়ের সুযোগ কতটা, তা বারির নিজের হিসাবেই দেখা যায়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের হাতবইয়ের মুখবন্ধে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তারা বিভিন্ন ফসলের ৬৭৭টি উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাত এবং ৬৭৩টি উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, বাংলাদেশ বিশ্বে সবজি উৎপাদনে তৃতীয় স্থানে আছে, এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি, খরা, লবণাক্ততা, অপ্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় বারির বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত পীড়ন সহনশীল জাতের ফলে সারা বছরই সবজির প্রাপ্যতা নিশ্চিত হয়েছে।

হাইব্রিড বীজের সঙ্গে একটি নিয়ম আছে, যা প্রত্যেক চাষির জানা দরকার। বারির হাতবই সতর্ক করেছে, হাইব্রিড জাতের বীজ কোনো অবস্থাতেই পরের বছরের জন্য রেখে দেওয়া যাবে না; প্রতি বছর নতুন বীজ কিনে লাগাতে হবে, তবেই ফলন ঠিক থাকবে। মুক্তপরাগী ফসলে বীজ রাখতে হলে শুধু ভাইরাসমুক্ত গাছ থেকে বীজ সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টমেটোর বীজ বোনার আগে কেজিপ্রতি ২ গ্রাম ভিটাভেক্স বা অটোস্টিন দিয়ে শোধন করার কথাও হাতবইয়ে আছে।

সবল চারা তৈরিও একই কাজের অংশ। পুঁইশাকের জন্য বারি চারা তৈরিতে হেক্টরে ২-২.৫ কেজি এবং সরাসরি বপনে ৩-৩.৫ কেজি বীজের হার দিয়েছে; চারা বীজতলায় বা পলিব্যাগে তৈরি করা যায় এবং ২০-২৫ দিন বয়সে মূল জমিতে, কিংবা মাচায় চাষের জন্য মাদায় লাগানো হয়। বীজতলায় নিয়মিত সেচ দিতে হয়, আর মাটির চটা ভেঙে দিলে চারা মরে যাওয়া বা রোগ হওয়ার প্রবণতা কমে বলে হাতবইয়ে উল্লেখ আছে। মিষ্টিকুমড়ার চারা অর্ধেক মাটি ও অর্ধেক গোবর মিশিয়ে ভরা ৮ × ১০ সেন্টিমিটার পলিব্যাগে তৈরি করে ১৬-১৭ দিন বয়সে মাঠে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছে বারি।

পোকামাকড় ও রোগ: স্প্রের আগে ফাঁদ ও হাতের কৌশল


নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, অন্য মৌসুমের চেয়ে বর্ষায় পোকামাকড়ের আনাগোনা বেশি, তাই কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়েই কীটনাশক দিতে হবে, অথবা প্রাকৃতিক উপায়ে, যেমন নিমের তেল দিয়ে, পোকা দমন করতে হবে। বাংলাপিডিয়া এ মৌসুমের ফসলের প্রধান শত্রুদের নাম দিয়েছে: ঢেঁড়সে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা এবং জ্যাসিড, আর সাদা মাছি ছড়ায় ঢেঁড়সের শিরা স্বচ্ছতা (ভেইন ক্লিয়ারিং) ভাইরাস, যা দেশে ঢেঁড়সের সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগ; কুমড়াজাতীয় ফসলে ফলের মাছি পোকা ও পামকিন বিটল, আর রোগের মধ্যে পাউডারি মিলডিউ, ডাউনি মিলডিউ, সারকোস্পোরা পাতার দাগ, মোজাইক ও কটনি লিক।

বারির হাতবইয়ে আগে রাসায়নিক ছাড়া দমনের পদ্ধতি দেওয়া আছে। ফলের মাছি পোকার স্ত্রী মাছি কচি ফলে ডিম পাড়ে, ডিম ফুটে কীড়া ফলের শাঁস খায়, ফল পচে অকালে ঝরে পড়ে। এর প্রতিকারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ, আক্রান্ত ও পচা ফল সংগ্রহ করে মাটিতে পুঁতে ফেলা এবং সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও বিষটোপ ফাঁদ একসঙ্গে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে; হাতবই বলছে, কীটনাশকের দোকানে সেক্স ফেরোমন ফাঁদ সহজেই পাওয়া যায়। ২০১৬ সালে বারির কীটতত্ত্ব বিভাগ কুমড়াজাতীয় ফসলের মাছি পোকা দমনে আকর্ষণ করে মেরে ফেলার একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করে, যাতে পুরুষের পাশাপাশি স্ত্রী মাছিও মারা পড়ে। এতে খেতের সীমানার গাছের লতানো কাণ্ডে বা মাচার বাঁশে, মাটি থেকে ২-৩ ফুট ওপরে, ১০-১২ মিটার পরপর কিউলিউর ফেরোমন ও জৈব বালাইনাশক মেশানো জেল অল্প করে লাগাতে হয়, আর খেতের ভেতরে একই দূরত্বে জৈব বালাইনাশক মেশানো খাবারসহ ফাঁদ ঝুলিয়ে দিতে হয়।

অন্য কিছু পোকা হাতেই দমন করা যায়। পামকিন বিটলের পূর্ণাঙ্গ পোকা চারার পাতা ছিদ্র করে খায়, আর কীড়া গোড়ার মাটিতে থেকে শিকড়ের ক্ষতি করে; বারি পূর্ণাঙ্গ পোকা হাতে ধরে মেরে ফেলা এবং চারা অবস্থায় ২০-২৫ দিন মশারির জাল দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেয়। জাব পোকার ক্ষেত্রে আক্রান্ত পাতা ও ডগার পোকা হাত দিয়ে পিষে মারা, আর আধভাঙা নিমবীজ ১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে তৈরি নিমবীজের দ্রবণ অথবা ১০ লিটার পানিতে ২ চা-চামচ গুঁড়া সাবান মেশানো সাবান-পানি স্প্রে করার কথা বলা হয়েছে। লেডিবার্ড বিটল এবং সিরফিড মাছির কীড়া জাব পোকা খেয়ে ফেলে, তাই এসব উপকারী পোকা রক্ষা করলে আক্রমণ অনেক কমে।

বৃষ্টি কিছু রোগ ছড়াতেও সাহায্য করে। অ্যানথ্রাকনোজে পাতায় গোল দাগ পড়ে এবং বৃষ্টিতে পাতা পচে যায়; বারি এ জন্য রোগমুক্ত ভালো বীজ ব্যবহার এবং ঝরনা দিয়ে গাছে পানি না দেওয়ার পরামর্শ দেয়। পাউডারি মিলডিউ হলে আক্রান্ত পাতা ও গাছ সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। মোজাইক ভাইরাসে পাতায় হলদে ছোপ পড়ে ও পাতা কুঁকড়ে যায়; এর কোনো ওষুধ নেই, তাই হাতবইয়ের পরামর্শ হলো আক্রান্ত গাছ দেখামাত্র তুলে নষ্ট করে ফেলা।

স্প্রে এড়ানো না গেলে কী মাথায় রাখতে হবে, তা-ও বারি বলেছে। বিষাক্ত কীটনাশকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের মারাত্মক সমস্যা তৈরি হয় এবং পোকার মধ্যে সহনশীলতা বেড়ে কীটনাশক অকার্যকর হয়ে পড়ে; এ কারণেই প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) উদ্ভাবন করেছেন। বারি সবজিতে কয়েকটি প্রচলিত কীটনাশকের শেষ স্প্রে থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত অপেক্ষার সময়ও নির্ধারণ করেছে: ডাইমেথোয়েটের ক্ষেত্রে বেগুনে ৭ দিন, শিম ও বাঁধাকপিতে ৮ দিন; কুইনালফসের ক্ষেত্রে টমেটোতে ৪ দিন, শিমে ৭ দিন; ফেনিট্রোথিয়নের ক্ষেত্রে টমেটোতে ৬ দিন, লালশাকে ৭ দিন। কোন ওষুধ কতটা দিতে হবে, নির্দেশিকার পরামর্শমতো সে সিদ্ধান্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে নেওয়াই ভালো।

সেচ, পানি নিষ্কাশন ও মালচিং


বৃষ্টি হলেও পানি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন ফুরায় না, শুধু ধরন বদলায়। নির্দেশিকায় প্রয়োজনমতো পানি দেওয়া এবং বাড়তি পানি বের করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। বারির হাতবই বলছে, গিমাকলমিতে বর্ষাকালে সাধারণত সেচ লাগে না, তবে একটানা বৃষ্টি না হলে ১০-১৫ দিন পরপর সেচ দিতে হয়। মিষ্টিকুমড়াকে পানির প্রতি খুবই সংবেদনশীল ফসল বলে হাতবইয়ে কখনো পুরো জমি ভিজিয়ে প্লাবন সেচ না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে; শুধু সেচ নালায় পানি দিয়ে আটকে রাখলে গাছ নিজেই পানি টেনে নেয়। টমেটোর চারা রোপণের পর ৩-৪ দিন পর্যন্ত হালকা সেচ দিতে হয়।

নির্দেশিকার শেষ পরামর্শ ছিল মালচিং, আর বারি একে ব্যাপক অর্থে সংজ্ঞায়িত করেছে: খড়, কাঠের গুঁড়া বা শুকনা পাতা দিয়ে মাটি ঢেকে, অথবা সেচের পর মাটির চটা ভেঙে দিয়ে জমির আর্দ্রতা ধরে রাখার কাজকে মালচিং বলে। রসুনের অধ্যায়ে হাতবই বলছে, মালচ বাষ্পীভবন কমিয়ে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে, আগাছা দমনে সাহায্য করে, ফলে তুলনামূলক কম সেচ লাগে; হলুদের অধ্যায়ে বলা হয়েছে, মালচ হিসেবে ব্যবহৃত পাতা বা খড় পরে পচে জমিতে জৈব সার তৈরি করে। মিষ্টিকুমড়া ও চিচিঙ্গার মতো লতানো ফসলে প্রতিবার সেচের পর হালকা মালচ করে গাছের গোড়ার মাটির চটা ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ আছে, যাতে শিকড়ে বাতাস পৌঁছায়।

পুঁইশাক (Basella alba) গাছ (প্রতীকী ছবি)। ছবি: Sbose wk / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
পুঁইশাক (Basella alba) গাছ (প্রতীকী ছবি)। ছবি: Sbose wk / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বন্যা এলে: ডিএইর পরামর্শ ও ভাসমান বেড


ভারী বৃষ্টি থেকে বন্যা হতে পারে, আর সে জন্য ডিএই আলাদা পরামর্শ দেয়। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে ডিএইর কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ প্রকল্প ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট সম্ভাব্য বন্যা নিয়ে একটি বিশেষ কৃষি আবহাওয়া পরামর্শ জারি করে। তাতে কৃষকদের বলা হয়:

  • বন্যা আসার আগেই পরিপক্ক সবজি দ্রুত তুলে ফেলতে হবে;
  • নালা পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে জমিতে পানি জমে না থাকে;
  • জমির আইল উঁচু করতে হবে এবং ফসলি জমি থেকে বাড়তি পানি সরানোর ব্যবস্থা নিতে হবে;
  • ঝুঁকি থাকা পর্যন্ত সেচ, সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ এড়িয়ে চলতে হবে;
  • কলা, অন্যান্য উদ্যান ফসল ও সবজি গাছে খুঁটি দিতে হবে।

দেশের সবচেয়ে নিচু এলাকায় কৃষকেরা আরও এক ধাপ এগিয়ে পানির ওপরেই সবজি ফলান। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ২০১৫ সালে গোপালগঞ্জ, পিরোজপুর ও বরিশালের ভাসমান বাগানকে বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ঐতিহ্য ব্যবস্থার (জিআইএএইচএস) স্বীকৃতি দেয়; এর আওতায় প্রায় ২ হাজার ৫০০ হেক্টর এলাকা। ধাপ নামের এই ভাসমান বেড তৈরি হয় কচুরিপানা ও অন্যান্য উদ্ভিদের অবশেষ স্তরে স্তরে সাজিয়ে, ওপরে বাঁশ বিছিয়ে বেড স্থির রাখা হয়; শেষ স্তর সাজানোর ৮-১০ দিন পর বীজ বোনা বা চারা লাগানো হয়। গ্রীষ্মে এসব বেডে ঢেঁড়স, ঝিঙা, পুঁইশাক, বেগুন, শসা, লালশাক ও ডাঁটা, চালকুমড়া ও করলার মতো সবজি হয়, আর এক বর্ষা মৌসুমে দুই-তিনবার ফসল তোলা যায়। এফএও বলছে, স্থানীয় কৃষকেরা প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

বাংলাদেশের একটি ভাসমান সবজি বাগান, ২০২০ সালের নভেম্বরে তোলা। ছবি: Azimronnie / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের একটি ভাসমান সবজি বাগান, ২০২০ সালের নভেম্বরে তোলা। ছবি: Azimronnie / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (কৃষি প্রযুক্তি হাতবই, দশম সংস্করণ, ডিসেম্বর ২০২৪), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (বিশেষ কৃষি আবহাওয়া পরামর্শ, ২১ আগস্ট ২০২৪), বাংলাপিডিয়া, জার্নাল অব দ্য সিলেট এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি, দ্য ডেইলি স্টার, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

কুয়াশায় শিকড় খাওয়ানোর প্রযুক্তিতে রোগমুক্ত আলুবীজ উৎপাদনের পরীক্ষা ইংল্যান্ডে

স্টার্টআপ এয়ারপনিক্স ও ডাইসন ফার্মিং ডেফরার অর্থায়নে দুই বছরের এক পরীক্ষা শুরু করেছে: কুয়াশাভিত্তিক পদ্ধতিতে বর্তমান খরচের অর্ধেকেরও কমে ইংল্যান্ডে রোগমুক্ত প্রথম প্রজন্মের আলুবীজ উৎপাদন সম্ভব কি না।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

মাশরুমের গাঁজন প্রযুক্তিতে টফুর বর্জ্য হলো প্রোটিনসমৃদ্ধ সুস্বাদু উপাদান

সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা সয়া দুধ ও টফুর অবশিষ্ট ওকারা ঝিনুক মাশরুমের মাইসেলিয়াম দিয়ে গাঁজন করে এর প্রোটিন প্রায় ২৮ থেকে ৩০ শতাংশে তুলেছেন, বাড়িয়েছেন উমামি স্বাদ।

Green Queen১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

মাদারগঞ্জে ৬০ হেক্টরে আগাম শসা, দুই হাজার টন উৎপাদনের আশা

জামালপুরের মাদারগঞ্জে এবার প্রায় ৬০ হেক্টরে আগাম শসার আবাদ হয়েছে, উৎপাদন হতে পারে প্রায় দুই হাজার টন; পাইকারি বাজারে কেজি ৩০-৪০ টাকা, বিঘায় খরচ ১৫-২০ হাজার আর বিক্রি ৩০-৪০ হাজার টাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)