দেশে বছরে দেড় কোটি টনের বেশি সবজি উৎপাদিত হয়, এর সঙ্গে যুক্ত এক কোটি ৬০ লাখের বেশি কৃষক। অথচ এর শূন্য দশমিক ৩ শতাংশেরও কম আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছায়। এই ব্যবধান কমাতে বেসরকারি আইএফআইসি ব্যাংক এমন একটি অর্থায়ন মডেল তৈরি করছে, যেখানে কৃষকের উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের মান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পরিপালন ও রপ্তানির প্রস্তুতি ঋণ মূল্যায়নের অংশ হবে, জানিয়েছে সমকাল।
উদ্যোগে ব্যাংকের অংশীদার সুইসকন্ট্যাক্ট। সবজি খাতের স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) মান পরিপালন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে চলমান সেইফ-বিডি প্রকল্পের আওতায় মডেলটি হবে। লক্ষ্য কৃষক, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ এবং রপ্তানিকারকদের ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করা।
মৌসুমনির্ভর উৎপাদন, খণ্ডিত সরবরাহ ব্যবস্থা ও মধ্যস্বত্বভোগীনির্ভরতার কারণে অনেক কৃষক প্রচলিত ঋণের শর্ত পূরণ করতে পারেন না। প্রস্তাবিত মডেলে জামানত ও আর্থিক তথ্যের পাশাপাশি উৎপাদন পরিস্থিতি, সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ, মান নিশ্চিত করার সক্ষমতা ও পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ (ট্রেসেবিলিটি) বিবেচনা করা হবে, যাতে উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত পুরো মূল্যশৃঙ্খল এক অর্থায়ন কাঠামোয় আসে।
প্রাথমিকভাবে যশোর ও নরসিংদীর কৃষি ক্লাস্টারে কাজ শুরুর পরিকল্পনা আছে। কৃষকেরা উন্নত কৃষিচর্চা, জলবায়ু-সহনশীল চাষ, ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ কীটনাশক ব্যবহারের প্রশিক্ষণ পাবেন; রপ্তানিকারকেরা এসপিএস মান, হ্যাসাপ, সনদায়ন, রপ্তানি নথি ও ট্রেসেবিলিটিতে সহায়তা পাবেন। প্রশিক্ষিত কৃষক ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে ব্যাংকের কৃষি ও সিএমএসএমই ইউনিটের সরাসরি সংযোগ হবে; ৫০০ কৃষক ও উদ্যোক্তাকে আর্থিক সাক্ষরতা ও ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মো. মেহমুদ হোসেন বলেন, লক্ষ্য শুধু কৃষিঋণ বাড়ানো নয়, বরং উন্নত মান, শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা ও উপযুক্ত আর্থিক পণ্যের মাধ্যমে দেশের কৃষক ও প্রক্রিয়াজাতকারীদের বৈশ্বিক ক্রেতাদের সঙ্গে যুক্ত করার একটি অর্থায়নসমর্থিত রপ্তানি ব্যবস্থা গড়া। সুইসকন্ট্যাক্ট ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের ক্রেতাদের সঙ্গে রপ্তানিকারকদের সংযোগ তৈরিতে সহায়তা করবে।
ছবি: NahidSultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)