চিংড়ি চাষে ভাইরাসের আক্রমণ, লবণপানির সংকট, খরা ও অতিবৃষ্টিতে বারবার লোকসানের পর খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ার অনেক চাষি এখন ছোট পুকুর ও ঘেরে দেশি শোল মাছ চাষ করছেন। কম খরচ, কম ঝুঁকি আর বাজারে চাহিদা থাকায় এ চাষ দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে কৃষি সময়।
পাইকগাছার চাঁদখালী ইউনিয়নের গড়েরাবাদ গ্রামের জাকির একসময় ভ্যান চালাতেন। দুই বছর আগে চাচাতো ভাই রেজওয়ানের সঙ্গে যৌথভাবে চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরে প্রায় ১ হাজার ২৫০টি পোনা ছেড়ে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা খরচে ৪ লাখ ৩৮ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেন; দ্বিতীয় বছরে ২ হাজার ৫০০ পোনায় খরচ ১ লাখ ৪২ হাজার, বিক্রি ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এখন জাকির নিজেই আলাদা চাষ শুরু করেছেন।
ডুমুরিয়ার উত্তম মণ্ডল চিংড়িতে লোকসানের পর চলতি বছর ৫০ শতক জমির চারটি পুকুরে ১২ হাজার ৪০০টি শোলের পোনা ছেড়েছেন। পাঁচ মাসে মাছের গড় ওজন প্রায় এক কেজি, বিক্রি করছেন কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায়। তাঁর খরচ ২৫ থেকে ২৬ লাখ টাকা, বিক্রি থেকে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা পাওয়ার আশা।
পাইকগাছার বাদুড়িয়া গ্রামে প্রায় তিন শতাধিক পুকুরে শোল চাষ হচ্ছে, স্থানীয়রা গ্রামটিকে বলেন "শোল মাছের রাজধানী"। খাদ্য তৈরি, পুকুর পরিচর্যা ও বিপণনে গ্রামের অধিকাংশ মানুষ যুক্ত, নারীরা মাছের খাদ্য তৈরির কাজ করছেন। এখানকার চাষি মো. হাসান ছয় শতকের পুকুরে ২ হাজার ৬০০ পোনা ছেড়েছেন; সাত-আট মাসে মাছ ৭০০ গ্রাম থেকে এক কেজি হয়, বছরে সাড়ে তিন-চার লাখ টাকা খরচে সাত-আট লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেন।
ডুমুরিয়ার শোভনা ইউনিয়নের মাদারতলা গ্রামের লক্ষী মণ্ডল মৎস্য অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ১২ শতকের পুকুরে চার হাজার পোনা ছেড়েছিলেন, পোনা বাঁচার হার ছিল ৮০ শতাংশ। ২১০ দিনে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ করে তিনি আট লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন।
ডুমুরিয়ার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মো. জিল্লুর রহমান রিগান বলেন, চিংড়িপ্রধান এলাকায় অল্প জায়গায় দেশি মাছের চাষ জনপ্রিয় হওয়া আশাব্যঞ্জক। পাইকগাছার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক জানান, মৎস্য বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।
প্রতিবেদন: খুলনা সংবাদদাতা, কৃষি সময়
ছবি: Henry Sullivan Thomas / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: কৃষি সময়




মন্তব্য
(০)