সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

কুশিয়ারা বিপৎসীমার ওপরে, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুরের নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ২০২৬ সালের ২৮ জুন জানায়, ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদী বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা বলা হয়।

কুশিয়ারা বিপৎসীমার ওপরে, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুরের নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা
পরিবেশ

দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি ২০২৬ সালের জুনের শেষ সপ্তাহে বাড়ছিল। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র রোববার, ২৮ জুন নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাস নিয়ে যে বিজ্ঞপ্তি দেয়, তাতে জানানো হয়, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারা নদী বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। সেই সঙ্গে সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কার কথা বলা হয়। জাগো নিউজ ২৪ সেদিন এ খবর প্রকাশ করে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠান; ১৯৭২ সালে এটি গড়ে ওঠে। দেশের নদীগুলোর পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করে এই কেন্দ্র বন্যার পূর্বাভাস দেয়।

কোন নদী কোথায় বিপৎসীমা ও সতর্কসীমায়


বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সেদিন একটি স্টেশনে পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছিল, আর তিনটি স্টেশনে পানি ছিল সতর্কসীমায়:

  • কুশিয়ারা নদী, ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট): বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপরে।
  • তিস্তা নদী, ডালিয়া (নীলফামারী): সতর্কসীমায়।
  • কুশিয়ারা নদী, মারকুলি: সতর্কসীমায়।
  • সোমেশ্বরী নদী, কলমাকান্দা (নেত্রকোণা): সতর্কসীমায়।

সিলেট অঞ্চলে সুরমা-কুশিয়ারার পানি বাড়ার আভাস


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগের ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বেড়েছিল এবং পরের তিন দিনও বাড়তে পারে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই নদীগুলো সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়াতে পারে, তাতে নদীর পাশের নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়। সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদী শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলায় সতর্কসীমায় বইতে পারে এবং কোথাও কোথাও নিচু এলাকা সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে বলেও বলা হয়।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, ভারত থেকে আসা বরাক নদী সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার অমলশিদে দুই ভাগ হয়েছে: উত্তর-পশ্চিমের শাখা সুরমা, দক্ষিণ-পশ্চিমের শাখা কুশিয়ারা। অমলশিদে সুরমার তলদেশ অনেকটা ভরাট হয়ে যাওয়ায় বরাকের প্রায় ৮৫ শতাংশ পানি কুশিয়ারা দিয়ে বয়ে যায়। প্রায় ১৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ হয়ে এগিয়েছে, বর্ষায় এর গড় গভীরতা ১০ মিটার পর্যন্ত হয়। আজমিরীগঞ্জ উপজেলার মারকুলিতে কুশিয়ারা আবার সুরমার সঙ্গে মেশে। বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অববাহিকা থেকে নামা পানিতে আকস্মিক বন্যা হয়, যা সাধারণত অল্প সময় থাকে, কিন্তু কখন কতটা হবে তা আগে থেকে বলা কঠিন।

জকিগঞ্জে বরাক নদী ভাগ হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারার জন্ম। ছবি: Ahnaf Tahmid Manan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
জকিগঞ্জে বরাক নদী ভাগ হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারার জন্ম। ছবি: Ahnaf Tahmid Manan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

রংপুর অঞ্চলে তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মার পরিস্থিতি


রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলার পানি আগের ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল ছিল, তবে পরের তিন দিন বাড়তে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই নদীগুলো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইতে পারে এবং নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীর পাশের নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা হতে পারে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, তিস্তা নীলফামারী জেলা দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা হয়ে যমুনায় পড়েছে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীতে নৌকা। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীতে নৌকা। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানিও আগের ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছিল, যা পরের পাঁচ দিন চলতে পারে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়। ১ থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা সতর্কসীমায় বইতে পারে এবং কোথাও কোথাও নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। অন্যদিকে গঙ্গার পানি কমেছিল, পদ্মার পানি বেড়েছিল; দুই দিন স্থিতিশীল থেকে পরের তিন দিন এই পানি বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচে থাকতে পারে বলে জানানো হয়।

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদ। ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদ। ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বর্ষায় নদীর পানি কেন নিচু এলাকা ডোবায়


বাংলাপিডিয়ার ব্যাখ্যায়, বর্ষায় নদী, খাল, বিল, হাওর ও নিচু জমির ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি পানি এলে তা আশপাশের এলাকা ডুবিয়ে দেয় এবং ফসল, বসতবাড়ি ও রাস্তার ক্ষতি করে। এ দেশে বন্যার পানির একটি বড় অংশ গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও মেঘনা দিয়ে উজান থেকে আসে। সিলেট অঞ্চলের নিচু অববাহিকায় সুরমা ও কুশিয়ারা মিলে মেঘনা তৈরি করেছে; বর্ষার শুরুতেই এই অববাহিকা দ্রুত পানিতে ভরে যায় এবং পানি নামে ধীরে। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বরের বর্ষাকালে বন্যা হয়; ছোট আকারের বন্যা জমিতে পলি ফেলে মাটিকে উর্বর করে।

ছবি: Minar ahmed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)