সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

চুয়াডাঙ্গায় আম সংগ্রহ শুরু, ফরমালিন নিয়ে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি প্রশাসনের

২০২৬ সালের ১৩ মে চুয়াডাঙ্গায় আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আঁটি, গুটি ও বোম্বাই আম সংগ্রহ দিয়ে মৌসুম শুরু হয়; জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, ক্যালেন্ডার না মানলে জরিমানা আর আমে রাসায়নিক বা ফরমালিন মেশানোর প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চুয়াডাঙ্গায় আম সংগ্রহ শুরু, ফরমালিন নিয়ে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি প্রশাসনের
ফল

চুয়াডাঙ্গায় ২০২৬ সালের আম সংগ্রহ মৌসুম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ১৩ মে, বুধবার। সেদিন চুয়াডাঙ্গা শহরের মহলদার আম্রকানন বাগানে গাছ থেকে আম পেড়ে মৌসুমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। জেলার আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সেদিন থেকেই আঁটি, গুটি ও বোম্বাই জাতের আম সংগ্রহ করা যাচ্ছিল, আর বাকি জাতগুলোর জন্য জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত আলাদা আলাদা তারিখ নির্ধারিত ছিল। উদ্বোধনের সময় জেলা প্রশাসক হুঁশিয়ার করে বলেন, ক্যালেন্ডারের ব্যত্যয় ঘটালে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর আমে কোনো ধরনের রাসায়নিক বা ফরমালিন মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহলদার বাগানে উদ্বোধন অনুষ্ঠান


জাগো নিউজ ২৪-এর সেদিন বিকেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আম সংগ্রহ শুরুর আগে জেলা প্রশাসক মহলদার আম বাগান ঘুরে দেখেন। আমের গুণগত মান কেমন এবং রাসায়নিকমুক্ত আম যেন বাজারে যায়, সে বিষয়টি দেখতেই তিনি বাগান পরিদর্শন করেন। এরপর গাছ থেকে আম পেড়ে মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ছিল জেলা আম ব্যবসায়ী ও আম বাগান মালিক সমিতি।

একই দিন দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে প্রকাশিত বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, উদ্বোধন হয়েছিল বেলা ১২টায়, শহরের মহিলা কলেজ এলাকার একটি বাগানে। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন, যিনি নিজেও একজন বাগান মালিক।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (উদ্যান) দেবাশীষ কুমার দাস, সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল শামীম, আমচাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মহলদার, সমিতির সহসভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল করিম, রিন্টু মহলদার এবং স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

২০২৬ সালের আম ক্যালেন্ডার: কোন জাত কবে


আম ক্যালেন্ডারের উদ্দেশ্য হলো সংগ্রহের সময় ধাপে ধাপে ভাগ করে দেওয়া, যাতে প্রতিটি জাত কেবল তখনই পাড়া হয়, যখন সেটি পরিপক্ব হওয়ার কথা। জাগো নিউজ ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৬ সালে চুয়াডাঙ্গায় জাতভিত্তিক আম সংগ্রহের তারিখ ছিল এমন:

  • ১৩ মে থেকে: আঁটি, গুটি ও বোম্বাই
  • ২০ মে থেকে: হিমসাগর
  • ২৫ মে থেকে: ল্যাংড়া
  • ৫ জুন থেকে: আম্রপালি
  • ১৫ জুন থেকে: ফজলি
  • ২০ জুন থেকে: হাঁড়িভাঙা
  • ২২ জুন থেকে: ব্যানানা ম্যাঙ্গো
  • ৩০ জুন থেকে: আশ্বিনা ও বারি-৪
  • ৫ জুলাই থেকে: কাটিমন
  • ৩১ জুলাই থেকে: গৌড়মতি

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনেও হিমসাগর থেকে আশ্বিনা ও বারি-৪ পর্যন্ত জাতগুলোর জন্য একই তারিখ উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনগুলোতে এটিকে জেলার জন্য নির্ধারিত ক্যালেন্ডার হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, আর জেলা প্রশাসক বলেছেন, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ী উভয়কেই এটি মেনে চলতে হবে।

আঁটি ও গুটি বলতে চাষিরা বীজ থেকে জন্মানো গাছের আমকে বোঝান। বাংলাপিডিয়ার আম বিষয়ক ভুক্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আম প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত। এক ভাগে আছে উন্নত বা অভিজাত জাত, যেগুলোর চারা কলম ও অন্যান্য অঙ্গজ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। অন্য ভাগে আছে বীজ থেকে জন্মানো স্থানীয় জাত, যেগুলো সাধারণভাবে দেশি বা গুটি আম নামে পরিচিত; এগুলোর স্বীকৃত কোনো জাতনাম নেই এবং স্বাদেরও নিশ্চয়তা নেই। বাংলাপিডিয়ার অভিজাত জাতের তালিকায় বোম্বাইয়ের পাশাপাশি আছে ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, খিরসাপাত, আশ্বিনা, কোহিতুর, লক্ষ্মণভোগ, মোহনভোগ ও মিশ্রিভোগ।

কর্মকর্তারা যা বলেছিলেন


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার আমকে ফলের রাজা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অপরিপক্ব আম যাতে কোনো বাগান মালিক সংগ্রহ না করেন, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ তদারকি করবে। পরিপক্ব আম যাতে বাজারে আসে এবং নিরাপদ ও রাসায়নিকমুক্ত আম যাতে বাজারে বিক্রি হয়, সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ কাজ করছে বলেও জানান তিনি। তাঁর আশা ছিল, সেই মৌসুমেও জেলার উৎপাদিত আম সারা দেশের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখবে।

উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, নির্ধারিত ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার আম বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। ক্যালেন্ডারের ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, আমে কোনো ধরনের রাসায়নিক বা ফরমালিন মেশানোর প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর এ জন্য জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত বাজার তদারকি করবে।

এই হুঁশিয়ারি ছিল মৌসুমজুড়ে প্রশাসন কী করবে, তার ঘোষণা। জাগো নিউজ ২৪ কিংবা তার আগে প্রকাশিত বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে চুয়াডাঙ্গার আমে রাসায়নিক ব্যবহারের নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার উল্লেখ ছিল না।

আগের বছরও একই বার্তা দেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালের ১৫ মে, বৃহস্পতিবার, তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম শহরের কেদারগঞ্জ এলাকার একটি আমবাগানের গাছ থেকে আম নামিয়ে মৌসুমের উদ্বোধন করেছিলেন। বিডিনিউজ২৪ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি তখন বলেছিলেন, ভোক্তার হাতে নিরাপদ আম পৌঁছে দিতে হবে এবং কোনোভাবেই আমে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ব্যবহার করা যাবে না। সে অনুষ্ঠানেও সভাপতিত্ব করেছিলেন মাসুদুর রহমান সরকার, আর বক্তাদের মধ্যে ছিলেন বাগান মালিক কুদ্দুস মহলদার।

চুয়াডাঙ্গার আমবাগান: আয়তন, লক্ষ্যমাত্রা ও বাজার


২০২৬ সালের ১৩ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে উদ্ধৃত জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেই মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছিল। ওই বছর জেলায় প্রায় ৩০ হাজার ৮৪২ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এই হিসাব বছর বছর বদলেছে। ২০২৫ সালে মাসুদুর রহমান সরকার বিডিনিউজ২৪ডটকমকে জানিয়েছিলেন, জেলায় ২ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমবাগান আছে এবং ৩৪ হাজার ৫০০ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জাগো নিউজকে জানিয়েছিল, জেলার ২ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমির বাগানে আম চাষ হয়েছে এবং সে বছর ২৮ হাজার ২৬৫ টন আম উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে।

ক্যালেন্ডারের তারিখও কিছুটা সরেছে। ২০২৩ সালে আম সংগ্রহ ও বাজারজাত শুরু হয়েছিল ১৪ মে; এরপর ২২ মে থেকে হিমসাগর, ২৫ মে ল্যাংড়া, ৫ জুন আম্রপালি ও বারি-৩, ২১ জুন ফজলি এবং ১ জুলাই আশ্বিনা ও বারি-৪ সংগ্রহের সময় নির্ধারিত ছিল। ২০২৫ সালে মৌসুম শুরু হয়েছিল ১৫ মে; সে বছর ২০ মে হিমসাগর, ২৮ মে ল্যাংড়া, ৫ জুন আম্রপালি, ১৫ জুন ফজলি এবং ২৮ জুন আশ্বিনা ও বারি-৪ সংগ্রহের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল।

২০২৩ সালের মে মাসে জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জেলার আমের সবচেয়ে বড় মোকাম চুয়াডাঙ্গা শহরে মাথাভাঙ্গা নদীর তীরের বড়বাজার ফলপট্টি, যেখানে প্রতিদিন ভোর থেকেই আম আমদানি ও বেচাকেনা শুরু হয়। ২০২৩ সালের ২৪ মে তারিখের ওই প্রতিবেদনে সে মৌসুমের দরপতনের চিত্র উঠে এসেছিল। পাইকারি বাজারে তখন বোম্বাই আম প্রতি মণ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, আঁটি ও গুটি আম ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং সদ্য বাজারে আসা হিমসাগর ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল; অথচ আগের মৌসুমের শুরুতে হিমসাগরের মণ ছিল ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা এর কারণ হিসেবে বাজারে প্রচুর আমের সরবরাহ আর তখনও লিচুর চাহিদা থাকার কথা বলেছিলেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা ফল ও আম ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কালাম মিয়া তখন জানিয়েছিলেন, প্রশাসনের পাশাপাশি সমিতির পক্ষ থেকেও ক্যালেন্ডারের বিষয়টি নজরদারি করা হচ্ছে, এবং চুয়াডাঙ্গার আম বিদেশে রপ্তানি করা গেলে চাষি ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হতেন।

চুয়াডাঙ্গা জেলা ও তার নদী


জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা খুলনা বিভাগের একটি জেলা, আয়তন ১১৭৪.১০ বর্গকিলোমিটার। জেলাটির উত্তরে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলা, দক্ষিণ ও পূর্বে ঝিনাইদহ জেলা এবং পশ্চিমে মেহেরপুর জেলা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য। প্রধান নদী মাথাভাঙ্গা, ভৈরব, চিত্রা, নবগঙ্গা ও কুমার; উল্লেখযোগ্য বিলের মধ্যে আছে ভান্ডারদহ, উজলপুর, মহেশ্বরী, নেহালপুর ও জাজরি।

দেশভাগের আগে চুয়াডাঙ্গা ছিল নদীয়া জেলার একটি মহকুমা। ১৯৪৭ সালে কৃষ্ণগঞ্জ থানা ছাড়া পুরো মহকুমাটি কুষ্টিয়া জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়, আর ১৯৮৪ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলায় উন্নীত হয়। জেলায় উপজেলা চারটি: আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা সদর, জীবননগর ও দামুড়হুদা। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ১১ লাখ ২৯ হাজার ১৫। বাংলাপিডিয়ার তথ্যে জনগোষ্ঠীর প্রধান আয়ের উৎসের মধ্যে কৃষির অংশ ৬৫.১৪ শতাংশ এবং ব্যবসার অংশ ১৪.২৪ শতাংশ।

উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়েছিল যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায়, তার আয়তন ২৯৮.২৭ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে আলমডাঙ্গা উপজেলা, দক্ষিণে জীবননগর, পূর্বে ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলা এবং পশ্চিমে দামুড়হুদা উপজেলা ও পশ্চিমবঙ্গ। চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা গঠিত হয় ১৯৬০ সালে, তবে কার্যক্রম শুরু করে ১৯৬৫ সালে।

চুয়াডাঙ্গা শহরে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপরের সেতু, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তোলা। ছবি: Fardin Ahmed Shovon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চুয়াডাঙ্গা শহরে মাথাভাঙ্গা নদীর ওপরের সেতু, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তোলা। ছবি: Fardin Ahmed Shovon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

একই সপ্তাহে রাজশাহীর ক্যালেন্ডার


ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার জেলাভিত্তিক তৈরি হয়; ২০২৩ সালে জাগো নিউজ চুয়াডাঙ্গার ক্যালেন্ডারকে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের তৈরি বলে উল্লেখ করেছিল। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গায় উদ্বোধনের তিন দিন আগে, ২০২৬ সালের ১০ মে রোববার, রাজশাহী জেলা প্রশাসন জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আম পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও সংগ্রহ বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় সে বছরের ক্যালেন্ডার প্রকাশ করে। তাতে গুটি জাতের আম ১৫ মে, গোপালভোগ ২২ মে, রানীপছন্দ ও লক্ষ্মণভোগ ২৫ মে, হিমসাগর ও খিরসাপাত ৩০ মে, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও ল্যাংড়া ১০ জুন এবং আম্রপালি ও ফজলি ১৫ জুন থেকে সংগ্রহের সময় ঠিক করা হয়। বারি আম-৪ ৫ জুলাই, আশ্বিনা ১০ জুলাই ও গৌড়মতি ১৫ জুলাই থেকে সংগ্রহ করা যাবে বলে জানানো হয়, আর কাটিমন ও বারি আম-১১ সারা বছরই সংগ্রহ করা যাবে।

সভায় রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, আমচাষি, ব্যবসায়ী ও কৃষি অফিসের সমন্বয়ে ক্যালেন্ডারটি তৈরি করা হয়েছে, যাতে কেউ অপরিপক্ব আম নামিয়ে বাজারজাত করতে না পারেন। নির্ধারিত সময়ের আগে কেউ আম নামালে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। সে বছর রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছিল এবং সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন।

আবহাওয়ার সঙ্গে ক্যালেন্ডারের শুরুর তারিখও বদলায়। দৈনিক ইত্তেফাক ২০২৫ সালের মে মাসে জানিয়েছিল, রাজশাহীতে গুটি আম পাড়া শুরুর তারিখ ২০২২ সালে ছিল ১৩ মে, ২০২৩ সালে ৪ মে এবং ২০২৪ সালে ১৫ মে; ২০২৫ সালের জন্যও ১৫ মে নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখনকার জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেছিলেন, কোনো দুর্যোগ দেখা দিলে চাষিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে আগাম আম পাড়তে পারবেন।

ফলে একই জাতের আম ভিন্ন ভিন্ন জেলা থেকে ভিন্ন সময়ে বাজারে আসে। ২০২৬ সালে চুয়াডাঙ্গার ক্যালেন্ডারে হিমসাগর সংগ্রহ শুরুর তারিখ ছিল ২০ মে আর ল্যাংড়ার ২৫ মে; রাজশাহীতে হিমসাগরের তারিখ ছিল ৩০ মে আর ল্যাংড়ার ১০ জুন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুর বাজারে একটি আমের আড়ত, ২০১৫ সালের জুনে তোলা। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুর বাজারে একটি আমের আড়ত, ২০১৫ সালের জুনে তোলা। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

আম এবং ক্যালেন্ডারের জাতগুলো


বাংলাপিডিয়া জানায়, আমের বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা, এটি অ্যানাকার্ডিয়েসি গোত্রের উদ্ভিদ। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের মতে আমের আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চল, যার মধ্যে বাংলাদেশ, আসাম ও মিয়ানমার পড়ে। আমগাছ বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে দেশে প্রায় ১০০টি আমের জাত আছে; বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অভিজাত জাতের বেশির ভাগ চাষ হয় রাজশাহী, নবাবগঞ্জ ও দিনাজপুরে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের বাগান, হর্টিকালচার সেন্টার ও নার্সারি থেকে অভিজাত জাতের কলম উৎপাদন ও বিতরণ করে, আর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ আম নিয়ে গবেষণার জন্য একাধিক গবেষণাকেন্দ্র পরিচালনা করে।

কলমের গাছে সাধারণত লাগানোর চতুর্থ বছরে প্রথম ফল আসে এবং প্রায় ৪৫ বছর পর্যন্ত গাছ ফলবান থাকে; বীজের গাছে ফল আসতে আরও কয়েক বছর বেশি লাগে, তবে সেগুলো ৬০ বছর বা তার বেশি বয়স পর্যন্ত ফল দিতে পারে। জানুয়ারি থেকে মার্চে গাছে মুকুল আসার সময় কুয়াশা, বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়া থাকলে ফল ধরায় ক্ষতি হয়, আর ফল বড় হওয়ার সময় ঝড়, বিশেষ করে শিলাবৃষ্টি হলে অনেক কাঁচা আম ঝরে পড়ে। বাংলাদেশে প্রায় তিন ডজন পোকা আমগাছ আক্রমণ করে, যার মধ্যে আছে আমের শোষক পোকা বা হপার, ফলের উইভিল, কাণ্ড ও ডগা ছিদ্রকারী পোকা এবং মাছি পোকা; অ্যানথ্রাকনোজ, শুটি মোল্ড ও পাউডারি মিলডিউর মতো ছত্রাকজনিত রোগও ক্ষতি করে।

চুয়াডাঙ্গার ক্যালেন্ডারের কয়েকটি জাত সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গেও প্রচলিত। হিমসাগর, যার আরেক নাম খিরসাপাতি, আঁশহীন আম; এর শাঁস হলুদ থেকে কমলা রঙের। একেকটি ফলের ওজন ২৫০ থেকে ৩৫০ গ্রাম, যার প্রায় ৭৭ শতাংশ শাঁস। বাংলাদেশে প্রধানত চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবং পশ্চিমবঙ্গের মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও হুগলি জেলায় এর চাষ হয়। ল্যাংড়া, যার আরেক নাম বেনারসি ল্যাংড়া, প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ বছর আগে বর্তমান উত্তর প্রদেশের বেনারসে প্রথম চাষ হয়; পাকার সময়ও এর খোসায় সবুজাভ আভা থেকে যায়। আম্রপালি দশেরি ও নীলম জাতের সংকরায়ণে তৈরি; ১৯৭১ সালে দিল্লির ভারতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে জাতটি উদ্ভাবিত হয়। এর গাছ খাটো এবং প্রতি বছর নিয়মিত ফল দেয়; গাঢ় কমলা-লাল শাঁসে অন্যান্য বাণিজ্যিক জাতের তুলনায় প্রায় আড়াই থেকে তিন গুণ বেশি বিটা ক্যারোটিন থাকে, তবে এটি তুলনামূলক কম দিন টেকে।

বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ২০০৫-০৬ সালে বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ ৪১ হাজার ৫২৫ একর জমি থেকে প্রায় ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৮২০ টন আম উৎপাদিত হয়েছিল। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ২০২৩ সালের তথ্যে বিশ্বে আম, ম্যাঙ্গোস্টিন ও পেয়ারার (এফএও এগুলোর হিসাব একসঙ্গে দেয়) মোট উৎপাদন ছিল প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন, যার ৪৩ শতাংশই ভারতের।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হিমসাগর আম, ২০২২ সালের মে মাসে তোলা। ছবি: Billjones94 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হিমসাগর আম, ২০২২ সালের মে মাসে তোলা। ছবি: Billjones94 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ফরমালিন ও আম পাকানোর রাসায়নিক: গবেষণা যা বলে


ফরমালিন হলো পানিতে ফরমালডিহাইডের দ্রবণ, ওজনের হিসাবে যাতে প্রায় ৩৭ থেকে ৪০ শতাংশ ফরমালডিহাইড থাকে; এটি জৈব নমুনা সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষকদের একটি গবেষণা ২০১৮ সালে পিয়ার-রিভিউড সাময়িকী এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটিতে প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়, ক্রান্তীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ফল, সবজি ও মাছে কৃত্রিম সংরক্ষক হিসেবে ফরমালিন ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে, আর আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (আইএআরসি) ফরমালডিহাইড ও ফরমালিনকে গ্রুপ ১ ক্যানসার সৃষ্টিকারী পদার্থের তালিকায় রেখেছে।

একই গবেষণায় দেখা যায়, এমন ব্যবহার প্রমাণ করা কেন সহজ নয়। স্বাভাবিক বিপাকের উপজাত হিসেবে অনেক খাবারে প্রাকৃতিকভাবেই ফরমালডিহাইড তৈরি হয়। ঢাকার বাজার থেকে কেনা নমুনায় গবেষকেরা ফলে সর্বোচ্চ ৫৮.৩ পিপিএম এবং সবজিতে সর্বোচ্চ ৪০.৬ পিপিএম প্রাকৃতিক ফরমালডিহাইড পান। ফ্রিজে তিন দিন রেখে দেখা গেছে, কলা ও ম্যান্ডারিন কমলায় ফরমালডিহাইডের মাত্রা ক্রমে বেড়েছে। গবেষকেরা সতর্ক করেন, খাবারে বাইরে থেকে মেশানো ফরমালডিহাইড ধরতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে যে তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করে, প্রাকৃতিক ফরমালডিহাইড সেই পরীক্ষার ফলে প্রভাব ফেলতে পারে; তাই বাইরে থেকে কতটা মেশানো হয়েছে তা বুঝতে হলে প্রাকৃতিক মাত্রা জানা জরুরি।

আমের ক্ষেত্রে বেশি আলোচিত উদ্বেগ হলো কৃত্রিমভাবে পাকানো। ২০১০ সালে কারেন্ট সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় পশ্চিমবঙ্গের বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব অনুষদের মো. ওয়াসিম সিদ্দিকী ও আর এস ধুয়া লেখেন, বেশির ভাগ ফল বিক্রেতা ফল পাকাতে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ব্যবহার করেন। পানির সংস্পর্শে এলে কার্বাইড থেকে অ্যাসিটিলিন গ্যাস তৈরি হয়, যা ফল পাকানোর হরমোন ইথিলিনের মতো কাজ করে; সেই সঙ্গে কার্বাইডে আর্সেনিক ও ফসফরাস হাইড্রাইডের অবশেষও থাকে। লেখকদের মতে, কার্বাইড কেবল খোসার রং বদলায়, অপরিপক্ব ফলের ভেতরটা কাঁচাই থেকে যায়; এমন ফলের স্বাদ-গন্ধ কম এবং তা কম দিন টেকে। ফল যত অপরিপক্ব, তাকে পাকাতে তত বেশি কার্বাইড লাগে, ফলে তা আরও স্বাদহীন এবং সম্ভবত বিষাক্ত হয়ে ওঠে। যেসব দেশে কার্বাইড নিষিদ্ধ হলেও ব্যবহৃত হচ্ছে, সেই তালিকায় তাঁরা বাংলাদেশের নামও উল্লেখ করেন।

পর্যালোচনাটিতে আর্সেনিক বা ফসফরাস বিষক্রিয়ার প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে বমি, ডায়রিয়া, বুক ও পেটে জ্বালাপোড়া, তৃষ্ণা, দুর্বলতা এবং ঢোক গিলতে কষ্টের কথা বলা হয়েছে। আম ক্যালেন্ডারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি বিষয়ও সেখানে আছে: ল্যাংড়া, হিমসাগর ও ফজলি জাতের আম পাকলেও পুরোপুরি হলুদ হয় না, আর নির্ধারিত সময়ের আগে বাজারে আসা ফল প্রায় নিশ্চিতভাবেই কৃত্রিম উপায়ে পাকানো।

হুঁশিয়ারির পেছনের আইন


প্রশাসনের হুঁশিয়ারির ভিত্তি ছিল সে সময় বলবৎ কয়েকটি আইন। নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৪৩ নং আইন, ১০ অক্টোবর ২০১৩) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বা বিষক্রিয়া সৃষ্টিকারী রাসায়নিক দ্রব্য, যেমন ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ফরমালিন ও সোডিয়াম সাইক্লামেট, কোনো খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহার করতে পারবেন না; এমন দ্রব্য মেশানো খাদ্য মজুদ, বিপণন বা বিক্রিও করা যাবে না (ধারা ২৩)। এই আইনের অধীন অপরাধের বিচার, যতটুকু প্রযোজ্য, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী করা যায় (ধারা ৭৫)।

একই আইনের ৫ ধারায় সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী এর প্রধান দায়িত্ব হলো বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিবীক্ষণ করা এবং নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব সংস্থার কাজের সমন্বয় করা। খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সে তথ্য বিনিময় করাও এর কাজের অংশ।

ফরমালিন নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ৫ নং আইন, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫) অনুযায়ী ফরমালিন বলতে ফরমালিন, ফরমালডিহাইড, প্যারাফরমালডিহাইড ও এদের যেকোনো মাত্রার দ্রবণ বোঝায়, আর এর আমদানি, উৎপাদন, পরিবহন, মজুদ, বিক্রয় ও ব্যবহারে লাইসেন্স লাগে। আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, খাদ্যদ্রব্যের সংরক্ষণ, পচনরোধ বা অন্য উদ্দেশ্যে অননুমোদিত, মাত্রাতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় ফরমালিন ব্যবহার অনিরাময়যোগ্য রোগব্যাধি সৃষ্টি করছে। লাইসেন্স ছাড়া ফরমালিন বিক্রি বা ব্যবহার করলে অন্তত ছয় মাস ও অনধিক দুই বছর কারাদণ্ড, বা অন্তত ১ লাখ ও অনধিক ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ড হতে পারে (ধারা ২২)। লাইসেন্স ছাড়া আমদানি, উৎপাদন বা মজুদ এবং লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের অপরাধ (ধারা ২০ ও ২১) ছাড়া এই আইনের অন্য অপরাধগুলোর বিচার মোবাইল কোর্টে করা যায় (ধারা ৩৫)।

মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং নিজ নিজ এলাকায় ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে সীমিত ক্ষমতা দিয়েছে: তফসিলভুক্ত কোনো অপরাধ তাঁদের সামনে সংঘটিত বা উদ্ঘাটিত হলে তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলেই তা আমলে নিয়ে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে দণ্ড দিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট আইনে যে দণ্ডই থাকুক, মোবাইল কোর্ট দুই বছরের বেশি কারাদণ্ড দিতে পারে না, তবে সেই আইনে নির্ধারিত সীমার মধ্যে যেকোনো পরিমাণ অর্থদণ্ড দিতে পারে। অভিযুক্ত অভিযোগ অস্বীকার করলে এবং তাঁর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে মামলাটি এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে পাঠানো হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট তল্লাশি, জব্দ এবং প্রয়োজনে জব্দ করা মালামাল নিষ্পত্তিও করতে পারেন।

ছবি: SyedAminul / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ প্রতিদিন, বিডিনিউজ২৪ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া, এফএও (ফাওস্ট্যাট), এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড সিকিউরিটি (২০১৮), কারেন্ট সায়েন্স (২০১০), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ আইন (লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)