ত্বকের ক্যানসার মেলানোমার রোগীদের ওপর এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, অস্ত্রোপচারে টিউমার অপসারণের পর ব্যক্তিভিত্তিক এমআরএনএ টিকা নেওয়া রোগীদের দুই বছরের মধ্যে ক্যানসার ফিরে আসা বা মৃত্যুর সম্মিলিত ঝুঁকি টিকা না নেওয়াদের চেয়ে ৪২ শতাংশ কম ছিল। তবে রোগীরা শেষ পর্যন্ত বেশি দিন বাঁচেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়, জানিয়েছে বাংলা ট্রিবিউন।
ওষুধ কোম্পানি মার্ক ও মডার্না পরীক্ষামূলক টিকাটির তৃতীয় পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ করেছে। ফল প্রথমে মাদ্রিদে ইউরোপীয় সোসাইটি ফর মেডিক্যাল অনকোলজির কংগ্রেসে উপস্থাপনের কথা ছিল, কিন্তু কিছু তথ্য আগেই ফাঁস হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগে প্রকাশ করা হয়।
পরীক্ষায় অংশ নেন ১ হাজার ১৩৭ জন রোগী। অস্ত্রোপচারের পর সবাইকে পেমব্রোলিজুমাব (কিট্রুডা) নামের ইমিউনোথেরাপির ওষুধ দেওয়া হয়, যা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি বাধা সরিয়ে ক্যানসার কোষ চিনে আক্রমণে সাহায্য করে। দৈবচয়নে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রোগী এর সঙ্গে টিকার ৯টি ডোজ পান, বাকিরা পান প্লাসিবো।
টিকাটি তৈরি হয় প্রত্যেক রোগীর টিউমারের বৈশিষ্ট্য ধরে; তাতে থাকে রোগীর টিউমারের সর্বোচ্চ ৩৪টি ‘নিওঅ্যান্টিজেন’ বা নতুন ধরনের প্রোটিনের তথ্য, যাতে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সেগুলো চিনে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়তে শেখে। মার্কের অনকোলজি ক্লিনিক্যাল ডেভেলপমেন্টের প্রধান ডা. মার্জোরি গ্রিন বলেন, এতে কার্যত শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ক্যানসার চিনে ধ্বংস করার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে; যত দ্রুত সম্ভব নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের আবেদন করবেন তাঁরা।
আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্যানসার রিসার্চের নবনির্বাচিত সভাপতি ডা. রবার্ট ভন্ডারহাইড বলেন, মেলানোমার চিকিৎসায় এটি নতুন পদ্ধতি হয়ে উঠতে পারে বলে সবাই আশাবাদী।
তবে সতর্কতাও আছে। টিকাটি সামগ্রিক আয়ু বা ওভারঅল সারভাইভাল বাড়ায় কি না, তা এই পরীক্ষায় বা আগের দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়নি, অথচ ক্যানসার চিকিৎসার কার্যকারিতা যাচাইয়ে এটিই অন্যতম প্রধান মানদণ্ড। অগ্ন্যাশয় ও মস্তিষ্কের ক্যানসারেও এমন টিকা নিয়ে গবেষণা চলছে, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে মেলানোমা ইমিউনোথেরাপিতে তুলনামূলক ভালো সাড়া দেয় বলে সেই সাফল্য অন্য ক্যানসারে একইভাবে না-ও মিলতে পারে।
ছবি: এমআরএনএ টিকা যেভাবে কাজ করে (ইনফোগ্রাফিক), Biochemlife / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন


মন্তব্য
(০)