সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

বরিশালের পোর্ট রোড আড়তে ইলিশের আকাল, সরবরাহ কম থাকায় দাম চড়া

২০২৬ সালের জুনে ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও বরিশালের পোর্ট রোড পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশ আসছিল খুব কম; ২ জুন সেখানে এসেছিল প্রায় ৬০ মণ, অথচ এ সময়ে হাজার মণ আসার কথা, ফলে দাম ছিল চড়া।

বরিশালের পোর্ট রোড আড়তে ইলিশের আকাল, সরবরাহ কম থাকায় দাম চড়া
মৎস্য

ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও ২০২৬ সালের জুনে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড পাইকারি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশ আসছিল খুবই কম। জাগো নিউজ ২৪ ১৭ জুন এই আকালের খবর দেয়। এর আগে ২ জুন মঙ্গলবার সকালে কেন্দ্রটি ঘুরে আরটিভি জানায়, সেদিন মোকামে প্রায় ৬০ মণ ইলিশ এসেছিল, অথচ এ সময়ে হাজার মণ ইলিশ পাওয়ার কথা। বাংলাদেশে এক মণ ৪০ কেজি। সরবরাহ কম থাকায় বাজারে ইলিশের দাম বেড়ে গিয়েছিল।

বরিশাল শহর কীর্তনখোলা নদীর তীরে; এটি বরিশাল জেলা ও বিভাগের সদর দপ্তর, আর বরিশাল নদীবন্দর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদীবন্দর। পোর্ট রোডের আড়তগুলো দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশ কেনাবেচার বড় কেন্দ্র।

সরবরাহ কম, দাম আকাশছোঁয়া


আরটিভির ২ জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রে এক কেজি আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছিল প্রতি কেজি আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায়। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রামের (এলসি) ইলিশ কেজি ২ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৪০০ গ্রামের ইলিশ কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়। বিক্রেতারা বলেন, ভরা মৌসুমেও নদীতে ইলিশ না থাকায় সরবরাহ কম, তাই দাম বেশি।

মেসার্স দুলাল ফিশের ম্যানেজার মো. রবিন বলেন, ‘দুয়েক বছর আগেও ভরা মৌসুমে পোর্ট রোডের আড়তে দিনশেষে দুই হাজার মণ ইলিশ বেচাকেনা হতো। কিন্তু এখন সেই দৃশ্য পুরোপুরি উল্টো।’ তাঁর কথায়, কয়েক দিন ধরে ৬০ মণের বেশি মাছ আসছিল না, ফলে চাহিদা থাকলেও দাম বাড়ছিল।

পোর্ট রোডে মাছ কিনতে আসা শাহিন আরটিভিকে বলেন, আগে যে ইলিশের কেজি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা ছিল, তা তখন কিনতে হচ্ছিল ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়; তাঁর অভিযোগ, সরবরাহ কমের অজুহাতে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়েছে। ক্রেতা সোহেল রানা বলেন, কম দামের আশায় পাইকারি বাজারে এসেও খুচরা বাজারের মতো দাম দিতে হয়েছে; ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের চারটি ইলিশ তিনি কিনেছেন ৩ হাজার টাকায়।

কীর্তনখোলা নদীর তীরে বরিশাল নদীবন্দর। ছবি: Lonely Explorer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কীর্তনখোলা নদীর তীরে বরিশাল নদীবন্দর। ছবি: Lonely Explorer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ধারদেনায় জেলেরা, অপেক্ষা বৃষ্টির


নদীতে ইলিশ ধরতে যাওয়া জেলে আসলাম বলেন, ‘ইলিশও নেই, জাটকাও নেই।’ তিনি জানান, আপাতত ধারদেনায় চলছেন, তবে বৃষ্টি হলে মাছ ধরা পড়বে বলে তাঁর আশা। কীর্তনখোলা নদীর জেলে সগির বলেন, নিষেধাজ্ঞা মেনেই নদীতে নেমেছেন, অথচ ইলিশের দেখা নেই; এমন চলতে থাকলে জাল বেচে দেনা শোধ করতে হবে।

বরিশালের কীর্তনখোলা নদী। ছবি: শাহাদাত সায়েম / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বরিশালের কীর্তনখোলা নদী। ছবি: শাহাদাত সায়েম / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

মৌসুম, নিষেধাজ্ঞা ও জাটকার হিসাব


বরিশালের মৎস্য কর্মকর্তা ড. হাদিউজ্জামান আরটিভিকে বলেন, জুন থেকে ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও ভরা মৌসুম শুরু হয় জুলাইয়ে। বৃষ্টি হলেই সাগর থেকে নদীতে ইলিশ আসবে বলে তিনি আশা করেন, কারণ সে বছর মার্চ ও এপ্রিলে ষষ্ঠ অভয়াশ্রমে কড়া নজরদারিতে জাটকা নিধন কমেছিল। তাঁর কথায়, বড় ইলিশ ধরায় কোনো বাধা ছিল না।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন আরটিভিকে জানান, সে বছর এপ্রিলের শেষ নাগাদ চাপিলা আকারের জাটকার ঝাঁক সাগরে চলে গিয়েছিল, আগের বছর যা গিয়েছিল মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। মৎস্য অধিদপ্তরের নজরদারিতে এবার জাটকা কম ধরা পড়ায় তাঁদের ধারণা, প্রায় ৯০ শতাংশ জাটকা সাগরে পৌঁছেছে।

ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। এটি ডিম ছাড়তে সাগর থেকে নদীর উজানে আসে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সময়ে; ২০১৭ সালে ইলিশ বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়। ইউএনবি ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল জানায়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদের তথ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন হয় ৫ লাখ মেট্রিক টন, যা মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ইলিশ রক্ষায় দেশে ছয়টি অভয়াশ্রম রয়েছে, আর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা, পরিবহন ও বিক্রি নিষিদ্ধ।

বাসসের খবর অনুযায়ী, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও টেকসই মাছ উৎপাদনের জন্য বঙ্গোপসাগরে সব ধরনের মাছ ধরায় ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা ১৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ১১ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত চলে। অর্থাৎ আরটিভি যখন পোর্ট রোডের চিত্র তুলে ধরে, তখন সাগরে নিষেধাজ্ঞা চলছিল, আর জাগো নিউজের খবরের কয়েক দিন আগে তা শেষ হয়েছিল।

ইলিশ, বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। ছবি: Prabirghose / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ইলিশ, বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। ছবি: Prabirghose / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, আরটিভি, ইউএনবি, বাসস, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)