সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

আড়তে মিলছে না রেণু: চিংড়ি চাষে স্থবিরতা

শামীম হাসান বাগেরহাট সদরের কাড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বাবা রেখে যাওয়ায় পর ২৪ বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরেন তিনি। বাবার ঋণ ও সংসারের খরচ মেটাতে ঋণ নিয়ে শুরু করেছিলেন চিংড়ি চাষ। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি।

শামীম হাসান বাগেরহাট সদরের কাড়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বাবা রেখে যাওয়ায় পর ২৪ বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরেন তিনি। বাবার ঋণ ও সংসারের খরচ মেটাতে ঋণ নিয়ে শুরু করেছিলেন চিংড়ি চাষ। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি।

প্রথমে ঘেরে বাগদার পোনা ছাড়লেও সেগুলো ধরার উপযোগী হওয়ার আগেই মরণব্যাধি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এপ্রিল, মে, জুন - এই তিন মাস ঘেরে গলদার রেণু ছাড়ার মৌসুম। কিন্তু মৌসুম শেষ হতে চললেও রেণু ছাড়তে পারেনি তিনি।

আড়তে রেণুর সংকট থাকায় গিয়েও ফিরে এসেছেন কয়েকবার। সময়মতো রেণু ছাড়তে না পারলে বছর শেষে লোকসানের বোঝা টানতে হবে। বাগদা ভাইরাসে মারা যাওয়ায় এবং মৌসুমের শেষে এসেও গলদার রেণু ছাড়তে না পারায় দিশেহারার এই নতুন চিংড়িচাষি।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে ঘেরের পাড়ে বসে জাগোনিউজকে তিনি এসব কথা বলেন।

চিংড়িচাষি শামীম হাসান বলেন, 'নিজের জমি নেই। ৪০ হাজার টাকা দিয়ে জমি বন্ধক নিয়ে চিংড়ি চাষ শুরু করেছিলাম। পরে ঘের প্রস্তুত করতে আরও ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। এই সবকিছুই ঋণের টাকায়। এখন রেণু ছাড়তে না পারলে বছর শেষে লোকসান হবে। এখন ঋণের টাকা দেবো নাকি লোকসান সামলাবো—সেই চিন্তায় আছি। অন্যদিকে সংসার চলবে কীভাবে সেই দুশ্চিন্তাও পিছু ছাড়ছে না।'

মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, বাগেরহাট জেলায় ৫৪ হাজার ৮শ ৪৮টি মৎস্য ঘের রয়েছে। এ ঘেরে ৯৮ কোটি ৬০ লক্ষ রেণুর চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে রেণুর চাহিদা মেটাতে চারটি হ্যাচারিতে রেণু উৎপাদন করা হচ্ছে। যা মোট চাহিদার ৮% পূরণ হচ্ছে।

ফকিরহাটের মৌভূক এলাকার মৎস্য চাষি দীপক চৌধুরী বলেন, 'আগে রেণুর দাম ছিল ১৫শ টাকা থেকে ১৭শ টাকা। এ বছর রেণুর দাম ৩ হাজার থেকে ৩৩শ টাকা। এই দামেও পর্যাপ্ত রেণুও পাওয়া যাচ্ছে না আড়তে। আমার ১০ বিঘা ঘেরে মাত্র ৪ হাজার রেণু ছাড়তে পারছি। আরও রেণু না ছাড়লে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হবে।

চিংড়িচাষী আহাদ শেখ বলেন, '৪০ বিঘা ঘেরে মাত্র ৩৭ হাজার রেণু ছাড়তে পেরেছি। আমার দেড় লাখ রেণুর প্রয়োজন। চাহিদা অনুযায়ী রেণু পাচ্ছি না। টাকা থাকলেও রেণু মিলছে না। দক্ষিণাঞ্চলের সবাই চিংড়ি চাষের উপর নির্ভর করে জীবন যাপন করি। ঘেরে যদি রেণুই না ছাড়তে পারি তাহলে তো ঘের করে কোনো লাভ নেই।'

তিনি আরও বলেন, 'নদীতে রেণু ধরা নিষেধ থাকায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সরকার বিকল্প ব্যবস্থা না করেই নদী থেকে মাছ করা নিষেধ করছে। হ্যাচারির রেণুতে এমনিতেই গুণগত মান ভালো থাকে না। তারপর চাহিদার মাত্র ৮ থেকে ১০ ভাগ উৎপাদন হয়। রেণু সংকটের এর সমস্যা সমাধান না হলে চিংড়িচাষিরা ক্ষতির সম্মুখীন হবে।'

রেণুর আড়তদার সালাম শেখ বলেন, 'দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ চিংড়ি চাষের উপর নির্ভর করে। ফকিরহাটের ৬০টির মতো রেণুর আড়ত রয়েছে। এখানে প্রতিদিন চিংড়িচাষিরা রেণু নিতে এসে ফিরে যাচ্ছে। হ্যাচারি থেকে যে রেণু পাচ্ছি তা চাহিদার মাত্র ৮ থেকে ১০ ভাগ। বাকি চাহিদা মেটাতে বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, ভোলা, পটুয়াখালী জেলার নদী ও সমুদ্র থেকে আহরিত রেণু ও ভারত থেকে আসা রেণুর উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সরকার নদী ও সমুদ্র থেকে আহরিত রেণু এবং ভারতীয় রেণু ক্রয় বিক্রয় নিষিদ্ধ করায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে।'

বাগেরহাট জেলা মৎস্য অফিসার (অ:দা:) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, 'সরকার নদী থেকে রেণু আহরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করায় কঠোরভাবে নজরদারি করছি। অবৈধভাবে বাইরের দেশ থেকে যদি বাংলাদেশে কোনো রেণু আসে তাহলে গলদা চিংড়ি চাষে নতুন রোগের সম্ভাবনা থাকতে পারে। চাষিদের চাহিদা মেটাতে খুলনাতে কয়েকটি হ্যাচারি স্থাপনের কাজ চলছে। এই হ্যাচারি গুলোর উৎপাদন ক্ষমতাও অনেক। হ্যাচারিগুলো উৎপাদন লক্ষ্য পূরণ করলে রেণুর আর সংকট হবে না।'

নাহিদ ফরাজী/এএইচ/এএসএম

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)