সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

নটডাঙ্গা বিলের শাপলা আর পুঁটি মাছের ঝোল

নৌকায় যিনি বসে আছেন, তার নাম চঞ্চল খান। বাড়ি ছোট্ট জেলা নড়াইলের তালবাড়িয়া গ্রামে। চোখ বন্ধ করলেই আজও সেই ছোটবেলার দিনগুলো ভেসে ওঠে। তিনি এক সাধারণ কৃষক পরিবারের ছেলে। বাপ-দাদার কাঁধে চেপে মাঠে যাওয়া, কাদায় পা ডুবিয়ে ধানের চারা লাগানো, আর বিলের পাড়ে বসে সূর্যাস্ত দেখা—এই ছিল তার শৈশব।

নৌকায় যিনি বসে আছেন, তার নাম চঞ্চল খান। বাড়ি ছোট্ট জেলা নড়াইলের তালবাড়িয়া গ্রামে। চোখ বন্ধ করলেই আজও সেই ছোটবেলার দিনগুলো ভেসে ওঠে। তিনি এক সাধারণ কৃষক পরিবারের ছেলে। বাপ-দাদার কাঁধে চেপে মাঠে যাওয়া, কাদায় পা ডুবিয়ে ধানের চারা লাগানো, আর বিলের পাড়ে বসে সূর্যাস্ত দেখা—এই ছিল তার শৈশব।

এখন পড়াশোনা শেষ করে সরকারি চাকরি করেন। পোস্টিং খুলনা শহরে। বড় বড় ভবন, ইট-পাথরের রাস্তা, বড় বড় রেস্টুরেন্ট, বিদেশি খাবারের ভিড়ে দেশি খাবার আজ বিলুপ্তির পথে। কিন্তু রাতে যখন একা বসেন, তখন বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে। মনটা ছুটে চলে যায় গ্রামের সেই সবুজ মাঠে, থই থই করা পানির বিলে। বিশেষ করে এই আষাঢ় মাসে। আকাশ ফেটে বৃষ্টি পড়ে, মাঠ ভেসে যায়, আর প্রিয় তালবাড়িয়ার নটডাঙ্গা বিলটা যেন জেগে ওঠে নতুন করে।

তালবাড়িয়া আর বগুড়া গ্রামের মাঝখানে এই বিল। পাশের আরও কত গ্রামের মানুষ এখানে আসেন মাছ ধরতে, শাপলা তুলতে। এখন পানি এত বেড়েছে যে চারদিক থই থই করছে। সকালবেলা নৌকায় উঠলে চোখ জুড়িয়ে যায়। শাপলা ফুলগুলো পানির ওপর ভেসে ভেসে হাসছে—সাদা, গোলাপি, কখনো লালচে। পাখির ঝাঁক উড়ছে, ডাকছে অবিরাম। একটু এগিয়ে গেলে পদ্মবিল—সেখানে পদ্মফুল ফুটে আছে। এত সুন্দর যে, মনে হয় স্বর্গের দরজা খুলে গেছে।

সেদিন ছুটি পেয়ে বাড়িতে এসেই চঞ্চলের মনটা অস্থির হয়ে উঠল। মাকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‌'মা, আজ বিলে যাব।' মা চোখের কোণে পানি চেপে হাসলেন। বললেন, 'যা বাবা, সাবধানে।' নৌকা নিয়ে একা একা চলে গেলেন নটডাঙ্গায়। বৈঠা চালাতে চালাতে চোখে পানি চলে এলো। মনে পড়ছিল বাপ-দাদার কথা। তারা যেভাবে শাপলা তুলতেন, পুঁটি মাছ ধরতেন, ভাই-বোনেরা পাশে বসে দেখতো। সেই স্মৃতি আজও বুকে জ্বলে।

বিলের মাঝখানে গিয়ে শাপলার কাণ্ড আর পাতা তুললেন চঞ্চল। জাল ফেলে কয়েকটা তাজা পুঁটি মাছও ধরলেন। পানিতে হাত ডুবিয়ে যখন শাপলা তুলছিলেন; মনে হচ্ছিল গ্রামের মাটি, বিলের পানি যেন তাকে জড়িয়ে ধরছে। 'ফিরে আয় বাবা, এখানেই তোর ঘর'—এমনই একটা ডাক শুনতে পাচ্ছিলেন।

চঞ্চল বাড়ি ফিরতেই মা রান্নাঘরে ঢুকে গেলেন। হাতে-বাটা মসলা—পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা সব একসাথে বেটে। তাতে বিলের তাজা শাপলা আর পুঁটি মাছ ছেড়ে দিলেন। আঁচের আগুনে যখন রান্না হচ্ছে; সেই গন্ধে পুরো বাড়ি ভরে গেল। চঞ্চল চুপ করে বসে দেখছিলেন। মায়ের হাতের ছোঁয়ায় যেন জাদু আছে। এক চামচ মুখে দিতেই চোখ বন্ধ হয়ে গেল। কী স্বাদ! পৃথিবীর কোনো দামি হোটেলে এই স্বাদ মিলবে না। এটা শুধু তরকারি নয়—এটা মায়ের ভালোবাসা, বাপ-দাদার স্মৃতি, গ্রামের মাটির গন্ধ, বিলের তাজা পানির আশীর্বাদ।

শহরে ফিরে গেলে আবার সেই হু হু ভাবটা আসবে। কিন্তু আজ অন্তত কয়েকদিনের জন্য মনটা ভরে গেছে। ভাই-বোনেরা, যারা গ্রাম ছেড়ে শহরে আছেন; একবার সময় করে বাড়িতে যান। নটডাঙ্গা বিলে নৌকা ভাসান। শাপলা তুলুন, মায়ের হাতের শাপলা-পুঁটির ঝোল খান। দেখবেন, জীবনের আসল সুখ কোথায় লুকিয়ে আছে।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)