সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

মানিকগঞ্জে হালি পেঁয়াজের চারা রোপণ শুরু, উৎপাদন লক্ষ্য ৭০ হাজার ৫৭৫ টন

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় হালি পেঁয়াজের চারা রোপণ শুরু হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ৪ হাজার ৪৫২ হেক্টরে ৭০ হাজার ৫৭৫ টন উৎপাদনের লক্ষ্য ধরে; কৃষকেরা খরচ, সার ও আমদানি নিয়ে চিন্তায় ছিলেন।

মানিকগঞ্জে হালি পেঁয়াজের চারা রোপণ শুরু, উৎপাদন লক্ষ্য ৭০ হাজার ৫৭৫ টন
শাকসবজি

রবি মৌসুমের শুরুতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় হালি বা চারা পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কৃষকেরা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে মাঠে দলবদ্ধভাবে জমি তৈরি করে সারি ধরে চারা লাগানো হচ্ছিল; কেউ সেচ দিচ্ছিলেন, কেউ সার ছিটাচ্ছিলেন। জাগো নিউজ ২৪ ২৬ ডিসেম্বর এ খবর দেয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এ মৌসুমে হালি পেঁয়াজ থেকে ৭০ হাজার ৫৭৫ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করেছিল।

লক্ষ্যমাত্রা ও রোপণের অগ্রগতি


ডিএইর হিসাবে, আগের অর্থবছরে জেলার সাত উপজেলায় ৪ হাজার ১৪৯ হেক্টর জমিতে চারা পেঁয়াজ চাষ করে উৎপাদন হয়েছিল ৬৫ হাজার ৭৪০ মেট্রিক টন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে হালি পেঁয়াজের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪ হাজার ৪৫২ হেক্টর। প্রতিবেদনের দিন পর্যন্ত ৪৩০ হেক্টরে রোপণ শেষ হয়েছিল। হরিরামপুর ও শিবালয় উপজেলায় সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ চাষ হয়।

জেলায় সব ধরনের পেঁয়াজ মিলিয়ে মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৮৬৭ হেক্টর: হালি পেঁয়াজ ৪ হাজার ৪৫২ হেক্টর, মুড়িকাটা পেঁয়াজ ৩ হাজার ৩৮৬ হেক্টর এবং বীজ পেঁয়াজ ২৯ হেক্টর। দৈনিক ইনকিলাব ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর জানায়, শুধু হরিরামপুরেই সে মৌসুমে ১ হাজার ১৪০ হেক্টরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্য ছিল, উৎপাদন লক্ষ্য ১৯ হাজার ৫১৬ টন।

মাঠে পেঁয়াজের চারা রোপণ করছেন নারীরা, উগান্ডার কাপচোরওয়া জেলা। ছবি: David Oriokot / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মাঠে পেঁয়াজের চারা রোপণ করছেন নারীরা, উগান্ডার কাপচোরওয়া জেলা। ছবি: David Oriokot / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

হালি ও মুড়িকাটা: পেঁয়াজ চাষের দুই পদ্ধতি


হালি পেঁয়াজ বীজতলায় তৈরি চারা থেকে চাষ হয় এবং মৌসুমের শেষ দিকে তোলা হয়। মুড়িকাটা আগাম জাতের পেঁয়াজ; ঢাকা ট্রিবিউনের ২০২৫ সালের জানুয়ারির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি বীজ থেকে নয়, আগের বছরের ছোট আকারের পেঁয়াজ বা ‘গুটি’ লাগিয়ে চাষ করা হয় এবং সাধারণত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওঠে। প্রথম আলো ২০২৫ সালের নভেম্বরে জানায়, মুড়িকাটা পেঁয়াজ ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে বাজারে আসতে শুরু করে।

মানিকগঞ্জ ঢাকা বিভাগের একটি জেলা, আয়তন ১ হাজার ৩৮৩.৬৬ বর্গকিলোমিটার। দৌলতপুর, ঘিওর, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ সদর, সাটুরিয়া, শিবালয় ও সিংগাইর এর সাত উপজেলা। পদ্মা, যমুনা, কালীগঙ্গা, ধলেশ্বরী ও ইছামতী নদী জেলার ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, এখানকার মাটি পেঁয়াজের উপযোগী, তাই এটি জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল।

বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদন। ছবি: Shmunmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদন। ছবি: Shmunmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

খরচ, সার আর আমদানি নিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তা


বাজারে চাহিদা ভালো থাকলেও সার সংকট ও শ্রমিকের বাড়তি মজুরি কৃষকদের চাপে ফেলেছিল। কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কোটকান্দি গ্রামের জিন্নাত আলী মোল্লা জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত বছর তিন বিঘা জমিতে হালি পেঁয়াজের চাষ করেছিলাম। অনেক খরচ হয়েছিল, লস গুনতে হয়েছে। এবারো তিন বিঘা জমিতেই পেঁয়াজ চাষ করবো। প্রতি বিঘায় কম হলেও ৫০ হাজার টাকা খরচ হবে।’ কুটিরহাটখোলা গ্রামের হজরত ফকির জানান, এ এলাকার পেঁয়াজ ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার চাহিদা মেটায়, তবে খরচ এত বেশি যে লাভ প্রায় থাকে না।

হরিরামপুরের জাকির হোসেন প্রতি বছর প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন। তিনি বলেন, তখনকার বাজারদর বজায় থাকলে কৃষক আগের বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন, কিন্তু ভরা মৌসুমে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হলে ক্ষতির মুখে পড়বেন। তাঁর ভাষায়, হালি পেঁয়াজের মৌসুমে সারের তীব্র সংকট দেখা দেয়; তিনি সার ও বীজ সহজলভ্য করার আবেদন জানান।

এই শঙ্কার পটভূমি ছিল জাতীয় বাজার। দ্য ডেইলি স্টার জানায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে ঢাকার খুচরা বাজারে পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল এবং কৃষি মন্ত্রণালয় ৭ ডিসেম্বর থেকে সীমিত আমদানির অনুমতি দেয়: দিনে ৫০টি আমদানি অনুমতিপত্র, প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন, মোট দিনে ১ হাজার ৫০০ টন। ডিএইর হিসাবে আগের মৌসুমে দেশে ৩৯ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছিল, তবু সংগ্রহোত্তর ক্ষতি পোষাতে ৬ থেকে ৭ লাখ টন আমদানির প্রয়োজন ধরা হয়। প্রথম আলোর তথ্যে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ লাখ ৮৩ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়, যার ৯৯ শতাংশ এসেছিল ভারত থেকে।

সারের দাম নিয়েও অভিযোগ ছিল। দ্য ডেইলি স্টার ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষে পাবনা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ীর পেঁয়াজচাষিদের কথা তুলে ধরে জানায়, সেখানে ৫০ কেজির ডিএপি সারের বস্তা ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, যেখানে সরকারি দাম ১ হাজার ৫০ টাকা। কর্মকর্তারা সংকটের কথা অস্বীকার করে ব্যবসায়ীদের তৈরি কৃত্রিম সংকটকে দায়ী করেন।

বাংলাদেশের পেঁয়াজ। ছবি: Roshu Bangal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের পেঁয়াজ। ছবি: Roshu Bangal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কৃষি বিভাগ যা জানায়


মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ জাগো নিউজকে জানান, বাকি জমিতে হালি পেঁয়াজ রোপণ পরের ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে শেষ হবে। তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী চাষাবাদ হওয়ায় এবার পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করছি।’ কৃষকেরাও আশা করছিলেন, ফলন ভালো হলে বাড়তি খরচের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া যাবে।

ছবি: RockyMasum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, ঢাকা ট্রিবিউন, দৈনিক ইনকিলাব, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

শাকসবজি

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

কুয়াশায় শিকড় খাওয়ানোর প্রযুক্তিতে রোগমুক্ত আলুবীজ উৎপাদনের পরীক্ষা ইংল্যান্ডে

স্টার্টআপ এয়ারপনিক্স ও ডাইসন ফার্মিং ডেফরার অর্থায়নে দুই বছরের এক পরীক্ষা শুরু করেছে: কুয়াশাভিত্তিক পদ্ধতিতে বর্তমান খরচের অর্ধেকেরও কমে ইংল্যান্ডে রোগমুক্ত প্রথম প্রজন্মের আলুবীজ উৎপাদন সম্ভব কি না।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

মাশরুমের গাঁজন প্রযুক্তিতে টফুর বর্জ্য হলো প্রোটিনসমৃদ্ধ সুস্বাদু উপাদান

সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা সয়া দুধ ও টফুর অবশিষ্ট ওকারা ঝিনুক মাশরুমের মাইসেলিয়াম দিয়ে গাঁজন করে এর প্রোটিন প্রায় ২৮ থেকে ৩০ শতাংশে তুলেছেন, বাড়িয়েছেন উমামি স্বাদ।

Green Queen১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

মাদারগঞ্জে ৬০ হেক্টরে আগাম শসা, দুই হাজার টন উৎপাদনের আশা

জামালপুরের মাদারগঞ্জে এবার প্রায় ৬০ হেক্টরে আগাম শসার আবাদ হয়েছে, উৎপাদন হতে পারে প্রায় দুই হাজার টন; পাইকারি বাজারে কেজি ৩০-৪০ টাকা, বিঘায় খরচ ১৫-২০ হাজার আর বিক্রি ৩০-৪০ হাজার টাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)