সারা বছর ক্যাপসিকাম, টমেটোসহ উচ্চমূল্যের সবজি চাষের আশায় পাবনায় নির্মিত ১৭টি পলিনেট হাউসের প্রায় সবগুলো এখন অকেজো। রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিগত সরকারের আমলে প্রতিটি হাউস নির্মাণে ২৪ লাখ টাকা খরচ হয়। চার বছর পর সাঁথিয়া ও ঈশ্বরদীর কয়েকটি হাউসে দেখা গেছে, পলিথিন ছিঁড়ে লোহার কাঠামো কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে আছে, ভেতরে ফসল নেই; কেউ কেউ বাধ্য হয়ে আঙুরগাছ লাগিয়েছেন, জানিয়েছে কৃষি সময়।
ঈশ্বরদীর বখতারপুর গ্রামের চাষি নজরুল ইসলাম সরকার বলেন, ওই জমি ইজারা দিলে বছরে এক লাখ টাকা পাওয়া যেত; হাউসের ভেতরে তাপমাত্রা এত বেশি যে কোনো ফসল টেকে না, তাই পলিথিন খুলে এখন বাইরে সাধারণ পদ্ধতিতে চাষ করছেন। সাঁথিয়ার মাধপুরের নজরুল ইসলাম ফকিরের হাউসের নেট ঝড়ে ছিঁড়েছে, বৃষ্টির পানিতে জায়গাটি জলমগ্ন; তাঁর অভিযোগ, সকাল ১০টার পর ভেতরে কাজ করা যায় না, চারা ও শাকসবজি তাপে ঝলসে যায়।
তাপ নিয়ন্ত্রণের মিস্ট ও ড্রিপ সেচব্যবস্থার বেশির ভাগই অচল। কৃষকদের অভিযোগ, ভূগর্ভস্থ পানিতে অতিরিক্ত আয়রন ও খর পানির কারণে যন্ত্র দ্রুত নষ্ট হয়েছে, আর নিম্নমানের উপকরণ ও কম মাইক্রনের পলিথিনে হাউস টেকেনি। চুক্তিতে পাঁচ বছর রক্ষণাবেক্ষণের কথা থাকলেও এক বছর পর কেউ খোঁজ নেননি। শ্রমিক বাবুল হোসেন, আজগর আলী ও হাসু খাঁ জানান, সকাল ১০টার পর গরমে ভেতরে কাজ করা যায় না।
ঈশ্বরদীর জাতীয় পদকপ্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তা বেইলি বেগমের অভিযোগ, প্রতিশ্রুত মানের উপকরণ দেওয়া হয়নি; সাধারণ সবজি চাষ বা জমি লিজ দিয়ে যে আয় হতো, তার চেয়েও বেশি ক্ষতিতে পড়েছেন কৃষকেরা।
বাংলাদেশ ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও পাবনার চাষি শাহজাহান আলী বাদশা নিজেও প্রকল্পের ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, শীতপ্রধান দেশের আদলে তৈরি হাউস বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী করতে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ু চলাচল নিয়ন্ত্রণ জরুরি, আর ফসলভেদে আলাদা তাপ নিয়ন্ত্রণ লাগে; কিন্তু হাউসগুলোতে সব ফসলের জন্য একই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামান অবশ্য দাবি করেছেন, কৃষকেরা পরিশ্রম করতে চান না এবং পরামর্শ না মানায় সফল হননি। সুরক্ষিত চাষের প্রযুক্তি দেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় কতটা টেকে, পাবনার এই অভিজ্ঞতা সেই প্রশ্নই সামনে আনল।
ছবি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিনহাউস, Hermitage17 / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)