রংপুরের পীরগঞ্জে প্রচণ্ড গরম ও বৃষ্টির অভাবে আমন ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ধানখেতে সেচসংকট দেখা দিয়েছে, কোথাও মাটি ফেটে চৌচির। এতে ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা, জানিয়েছে বাসস।
রায়পুর, বড় দরগা ও পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন মৌসুমে নিয়মিত বৃষ্টির ওপর অনেকটা নির্ভর করতে হয়; এবার তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় জমির আর্দ্রতা কমেছে, তীব্র রোদে মাটি দ্রুত শুকাচ্ছে। অনেকে সেচ দিচ্ছেন, কিন্তু বাড়তি সেচে উৎপাদন খরচ বাড়ায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা দুশ্চিন্তায়। কৃষি বিভাগের তথ্যে উপজেলায় ৩২ হাজার ৮০০ হেক্টরে আমন চাষ হয়েছে; চলতি মৌসুমে রোপা আমন ২৫ হাজার ৫৯৫ হেক্টরে।
বড় দরগার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জমিতে পানি নেই, বাধ্য হয়ে সেচ দিতে হচ্ছে, খরচ অনেক বেড়েছে; দ্রুত বৃষ্টি না হলে ফলনে বিপদ। রায়পুরের মজনু মিয়া জানান, জমির মাটি ফেটে গেছে, গাছের বৃদ্ধি আগের মতো নেই, অথচ আমনই তাঁদের সারা বছরের খাদ্য ও আয়ের বড় উৎস।
আলমপুরের মাহামুদুল হাসান বলেন, শীষ বের হওয়ার এই সময়ে জমিতে প্রচুর পানি লাগে। কাবিলপুরের নজরুল ইসলামের কথায়, বর্ষায় বৃষ্টির পানির ওপর ভরসা করেই আমন চাষ হয়; সময়মতো বৃষ্টি না হলে বিকল্প সেচে বাড়তি টাকা, সময় ও শ্রম লাগে, তাই স্বল্প খরচে সেচের ব্যবস্থা হলে উপকার হতো। পৌরসভার কৃষক রানু মিয়াও শীষ বের হওয়ার সময়ের পানির প্রয়োজনের কথা বলেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ বলেন, এখন কৃষকদের প্রয়োজনমতো সেচ দিয়ে জমির আর্দ্রতা ধরে রাখতে হবে; মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, আর সামনে বৃষ্টি হলে ক্ষতি অনেকটা কমে আসবে বলে তাঁর আশা।
ছবি: Parvezahmed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)