সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এক সন্ধ্যায় শিয়ালের কামড়ে আহত সাতজন

২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নসহ কয়েকটি এলাকায় একটি শিয়াল ৬০ বছরের এক নারী ও ১৪ বছরের এক কিশোরসহ সাতজনকে কামড়ায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সবাইকে চিকিৎসা দেয় এবং তিনজনকে জামালপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়।

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে এক সন্ধ্যায় শিয়ালের কামড়ে আহত সাতজন
পরিবেশ

২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় একটি শিয়ালের কামড়ে সাতজন আহত হন। আহতদের মধ্যে একজন নারী ও ছয়জন পুরুষ ও কিশোর, যাঁদের বয়স ১৪ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তাঁদের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরদিন ২৮ অক্টোবর সোমবার সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) রবিউল ইসলাম ঘটনাটি নিশ্চিত করেন এবং জানান, গুরুতর আঘাতের কারণে সাতজনের মধ্যে তিনজনকে জামালপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জাগো নিউজ ২৪ ও সংবাদ প্রকাশ সেদিন ঘটনাটির খবর প্রকাশ করে এবং দুই সংবাদমাধ্যমই জানায়, এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মহাদান ইউনিয়নে কী ঘটেছিল


দুই প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যার পর হামলা শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা সংবাদ প্রকাশকে জানান, সন্ধ্যার দিকে কয়েকটি শিয়াল গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তার মধ্যে একটি হঠাৎ মানুষের ওপর চড়াও হয়। অল্প সময়ের মধ্যে সেটি সাতজনকে কামড়ে আহত করে, যাঁদের মধ্যে ৬০ বছরের এক নারী ও ১৪ বছরের এক কিশোর রয়েছে। অন্য আহতদের বয়স ২১, ৩০, ৪৫, ৪৫ ও ৬০ বছর। জাগো নিউজ জানায়, আহতরা সবাই মহাদান ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং তাঁদের মুখে, পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের চিহ্ন রয়েছে।

সংবাদ প্রকাশের প্রতিবেদনে এক স্থানীয় বাসিন্দা শিয়ালটিকে "পাগলা" শিয়াল বলে বর্ণনা করেন এবং বলেন, সেটি বিভিন্ন স্থানে মানুষকে কামড়াচ্ছে, সরিষাবাড়ীর বাউসি গ্রামে আক্রমণ বেশি হয়েছে। শিয়ালটি ধরা পড়েছে বা মারা পড়েছে কি না, কিংবা প্রাণীটির জলাতঙ্ক পরীক্ষা হয়েছে কি না, দুই প্রতিবেদনের কোনোটিতেই তা বলা হয়নি। "পাগলা" বর্ণনাটি স্থানীয়দের নিজস্ব; প্রাণীটির কী হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো কর্মকর্তা কিছু বলেননি।

আরএমও রবিউল ইসলাম সংবাদ প্রকাশকে বলেন, রোববার সন্ধ্যায় শিয়ালের কামড়ে আহত সাতজন রোগী চিকিৎসা নিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। তাঁদের মধ্যে চারজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান। বাকি তিনজনের আঘাত বেশি হওয়ায় তাঁদের জামালপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জাগো নিউজও আরএমওর একই বক্তব্য প্রকাশ করে। সোমবার সকালে প্রকাশিত সংবাদ প্রকাশের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী জেলা হাসপাতালে পাঠানো তিনজনও সেখান থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন, তবে এলাকায় শিয়াল আতঙ্ক তখনো কাটেনি।

সরিষাবাড়ী উপজেলা ও মহাদান ইউনিয়ন


সরিষাবাড়ী জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলার একটি, যমুনা নদীর তীরঘেঁষা এলাকা। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী উপজেলার আয়তন ২৬৩.৫০ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে মাদারগঞ্জ ও জামালপুর সদর উপজেলা, দক্ষিণে ভূঞাপুর উপজেলা, পূর্বে গোপালপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা এবং পশ্চিমে নদীর ওপারে সারিয়াকান্দি, কাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা। প্রধান নদী যমুনা ও ঝিনাই; বালাকুড়িয়া বিল ও কাউয়ামারা বিল এখানকার উল্লেখযোগ্য জলাশয়। সরিষাবাড়ী থানা গঠিত হয় ১৯৬০ সালে এবং ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলায় রূপান্তরিত হয়।

বাংলাপিডিয়ায় উদ্ধৃত ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী উপজেলার জনসংখ্যা ৩ লাখ ২৫ হাজার ৩২০। এখানে একটি পৌরসভা, আটটি ইউনিয়ন, ১১৭টি মৌজা ও ১৮৩টি গ্রাম রয়েছে। যে মহাদান ইউনিয়নে শিয়ালটি হামলা চালায়, তার আয়তন ৬ হাজার ৫৬৩ একর; ওই শুমারিতে সেখানে পুরুষ ছিলেন ১৭ হাজার ২২০ জন ও নারী ১৮ হাজার ৭০ জন, সাক্ষরতার হার ৪৪.১ শতাংশ। কৃষিই প্রধান জীবিকা: ৬৩.৮৪ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। প্রধান ফসল ধান, পাট, গম, সরিষা, আখ, চীনাবাদাম, মিষ্টি আলু, মসুর, পান, হলুদ, মরিচ ও শাকসবজি; প্রধান ফল আম, নারকেল, সুপারি, কলা ও পেঁপে। উপজেলার উল্লেখযোগ্য শিল্পের মধ্যে রয়েছে পাটকল ও সার কারখানা।

বাংলাপিডিয়ার তালিকায় সরিষাবাড়ীতে একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, আটটি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, চারটি স্যাটেলাইট ক্লিনিক ও দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সই পুরো উপজেলার সরকারি হাসপাতাল; এ কারণেই আহত সাতজনকে প্রথমে সেখানে নেওয়া হয় এবং গুরুতর আহত তিনজনকে জামালপুর শহরের জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুরো জামালপুর জেলার আয়তন ২ হাজার ১১৫.১৬ বর্গকিলোমিটার এবং ২০১১ সালের শুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ২২ লাখ ৯২ হাজার ৬৭৪। জেলাটি গঠিত হয় ১৯৭৮ সালে; এর সাতটি উপজেলা রয়েছে এবং উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সঙ্গে সীমান্ত। জেলার প্রধান নদী যমুনা, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, বানার ও ঝিনাই।

শেরপুর-জামালপুর সেতু থেকে দেখা ব্রহ্মপুত্র নদ, জামালপুর জেলা, ২০১৬ সালে তোলা। ছবি: Hasan Iqbal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
শেরপুর-জামালপুর সেতু থেকে দেখা ব্রহ্মপুত্র নদ, জামালপুর জেলা, ২০১৬ সালে তোলা। ছবি: Hasan Iqbal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

বাংলাদেশের শিয়াল


বাংলায় যে প্রাণীকে শিয়াল বলা হয়, বাংলাদেশের বেশির ভাগ এলাকায় সেটি সোনালি বা এশীয় শিয়াল, বৈজ্ঞানিক নাম Canis aureus। বাংলাপিডিয়া একে কুকুর-গোত্রের প্রাণী হিসেবে বর্ণনা করেছে, দাঁতের গঠন, গোল চোখের মণি, গর্ভকাল এবং অনেকটা স্বভাবেও যা নেকড়ে ও কুকুরের মতো। এর রং ধূসর-হলুদ, পিঠের দিকে গাঢ়; উচ্চতা প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার, দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার, লেজ ঝোপালো। বাংলাপিডিয়া জানায়, বাংলাদেশে শিয়ালের একমাত্র প্রজাতি Canis aureus এবং বন, তৃণভূমি, গ্রাম সব ধরনের পরিবেশেই দেশজুড়ে এদের দেখা মেলে। আকারে ছোট খেঁকশিয়াল বা বেঙ্গল ফক্স (Vulpes bengalensis) আলাদা প্রাণী।

শিয়াল মূলত নিশাচর। দিনের বেলা ঝোপঝাড় ও অন্যান্য আড়ালে লুকিয়ে থাকে, সন্ধ্যা নামলে খাবারের খোঁজে খামারবাড়ি ও গ্রামে আসে। এদের খাদ্যের বড় অংশ ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও হাঁস-মুরগি, সঙ্গে ইঁদুর, পোকামাকড় ও টিকটিকি-জাতীয় প্রাণী। জীবন্ত শিকার না পেলে মরা প্রাণী ও নানা ধরনের আবর্জনা খায়; বাংলাপিডিয়ার মতে এভাবে পচনশীল বর্জ্য সরিয়ে এরা উপকারও করে। ফলের মধ্যে কুল এদের প্রিয়, আর আখ ও ভুট্টার প্রতিও এদের ঝোঁক আছে বলে জানা যায়। রাজশাহী, ঈশ্বরদী, রংপুর, সেতাবগঞ্জ ও জয়পুরহাটের মতো আখ-প্রধান এলাকায় শিয়ালকে আখের কুখ্যাত বালাই হিসেবে গণ্য করা হয়।

শিয়াল একা বা জোড়ায় থাকে, মাঝে মাঝে দল বাঁধে। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী এদের গর্ভকাল প্রায় ৬২ দিন এবং একবারে তিন থেকে আটটি বাচ্চা হয়। উইকিপিডিয়ার বিবরণে আরও আছে, প্রজননরত জোড়াই এদের সামাজিক জীবনের মূল একক; পুরুষ শিয়ালের দেহের দৈর্ঘ্য ৭১ থেকে ৮৫ সেন্টিমিটার, ওজন ৬ থেকে ১৪ কেজি; খাবারের প্রাপ্যতা অনুযায়ী এদের বিচরণ এলাকা ১ থেকে ২০ বর্গকিলোমিটার এবং এক রাতে এরা ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। বিস্তৃত বিচরণের কারণে আইইউসিএনের লাল তালিকায় প্রজাতিটি "ন্যূনতম উদ্বেগ" শ্রেণিতে রয়েছে। উইকিপিডিয়া এ-ও উল্লেখ করেছে, কিছু সোনালি শিয়াল মানুষের জন্য ক্ষতিকর রোগ বহন করে, জলাতঙ্ক তার একটি।

শিয়ালের কামড়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি কেন


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জলাতঙ্ক বিষয়ক তথ্যপত্রের ২০২৪ সালের ৫ জুনের সংস্করণে জলাতঙ্ককে টিকায় প্রতিরোধযোগ্য একটি ভাইরাসজনিত রোগ বলা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রান্ত করে এবং কুকুর, বিড়াল, গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণীসহ স্তন্যপায়ী প্রাণীকে সংক্রমিত করে। রোগটি ছড়ায় লালার মাধ্যমে, সাধারণত কামড় বা আঁচড়ে, কিংবা চোখ, মুখ বা খোলা ক্ষতের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে। ডব্লিউএইচও বলছে, একবার উপসর্গ দেখা দিলে জলাতঙ্ক কার্যত শতভাগ প্রাণঘাতী। দেড় শর বেশি দেশ ও অঞ্চলে, প্রধানত এশিয়া ও আফ্রিকায়, এটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা; বছরে আনুমানিক ৫৯ হাজার মানুষ এ রোগে মারা যায়, যাদের ৪০ শতাংশ ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু।

বিশ্বজুড়ে মানুষের জলাতঙ্কের ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষেত্রে দায়ী কুকুর। ডব্লিউএইচও জানায়, বৈশ্বিক পরিসরে শিয়াল-জাতীয় প্রাণী, র‍্যাকুন, স্কাংকসহ অন্যান্য বন্য স্তন্যপায়ীর সংস্পর্শে আসার পর মানুষের মৃত্যু খুবই বিরল। তবে বাংলাদেশের নথিতে শিয়ালের উপস্থিতি আছে। ২০২০ সালের নভেম্বরে হেলিয়ন সাময়িকীতে প্রকাশিত বাংলাদেশি গবেষকদের এক গবেষণায় জলাতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে বলে চিহ্নিত ২৫৬ জনের তথ্য তাঁদের স্বজনদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হয়। এর মধ্যে ৮১.৬৪ শতাংশ ক্ষেত্রে দায়ী ছিল কুকুর, ১২.১১ শতাংশে বিড়াল, ৩.৯১ শতাংশে শিয়াল এবং ২.৩৪ শতাংশে বেজি।

একই গবেষণায় দেখা যায়, মৃতদের বেশির ভাগ পুরুষ (৭১.৮৮ শতাংশ), গ্রামের বাসিন্দা (৮০.৪৭ শতাংশ) এবং ৪৭.২৭ শতাংশ ১৫ বছরের কম বয়সী শিশু। কামড়ের সবচেয়ে সাধারণ স্থান ছিল হাত-পা (৬৭.৯৭ শতাংশ), আর মাথা ও মুখে কামড়ের ক্ষেত্রে সুপ্তিকাল সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের তথ্য হলো, মৃতদের ৮৬.৭২ শতাংশ কোনো টিকাই নেননি এবং ৬৬.৮০ শতাংশ গিয়েছিলেন কবিরাজ বা প্রথাগত চিকিৎসকের কাছে। যে ৩৪ জন কিছু টিকা নিয়েছিলেন, তাঁদের মাত্র ৮.৮২ শতাংশ পুরো কোর্স শেষ করেছিলেন এবং কেউই র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন পাননি। গবেষকেরা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা কার্যক্রমের সুপারিশ করেন, যাতে মানুষ কবিরাজের কাছে না গিয়ে টিকা নেন।

ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, জলাতঙ্কের সুপ্তিকাল সাধারণত দুই থেকে তিন মাস, তবে ভাইরাস শরীরের কোথায় ঢুকেছে এবং কতটা ঢুকেছে তার ওপর নির্ভর করে তা এক সপ্তাহ থেকে এক বছর পর্যন্ত হতে পারে। প্রথম লক্ষণ জ্বর, ব্যথা এবং ক্ষতস্থানে অস্বাভাবিক শিরশির, খোঁচা লাগা বা জ্বালাপোড়া। উগ্র ধরনে রোগী অতিচঞ্চল হয়ে ওঠে, পানি ও বাতাসের ঝাপটায় ভয় পায়; আর পক্ষাঘাতগ্রস্ত ধরনে, যা মানুষের মোট রোগীর প্রায় ২০ শতাংশ, ক্ষতস্থান থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে মাংসপেশি অবশ হয়ে আসে। ডব্লিউএইচও বলছে, উপসর্গ শুরুর আগে জলাতঙ্ক সংক্রমণ শনাক্তের অনুমোদিত কোনো পরীক্ষা নেই এবং সম্ভব হলে কামড়ানো প্রাণীটির পরীক্ষা করা উচিত।

কামড়ের পর ডব্লিউএইচওর পরামর্শ


ডব্লিউএইচওর তথ্যপত্রে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সময়মতো কামড়-পরবর্তী প্রতিষেধক চিকিৎসা (পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফিল্যাক্সিস বা পিইপি) নিলে জলাতঙ্কে মৃত্যু প্রতিরোধ করা যায়, কারণ এই চিকিৎসা ভাইরাসকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছানোর আগেই থামিয়ে দেয়। জলাতঙ্কগ্রস্ত হতে পারে এমন কোনো প্রাণী কামড়ালে বা আঁচড় দিলে সঙ্গে সঙ্গে পিইপি নিতে হবে। ডব্লিউএইচওর মতে পিইপির অংশ তিনটি:

  • সংস্পর্শের পর যত দ্রুত সম্ভব সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধরে ক্ষতস্থান ভালোভাবে ধোয়া;
  • জলাতঙ্কের টিকার পূর্ণ কোর্স; এবং
  • প্রয়োজন হলে ক্ষতস্থানে র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন বা মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি দেওয়া।

ডব্লিউএইচও সংস্পর্শকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করে। প্রাণীকে ছোঁয়া বা খাওয়ানো, কিংবা অক্ষত ত্বকে চেটে দেওয়া প্রথম শ্রেণি; এতে শুধু ত্বক ধুলেই চলে। খোলা ত্বকে আলতো কামড়, কিংবা রক্ত বের হয়নি এমন ছোট আঁচড় বা ছড়ে যাওয়া দ্বিতীয় শ্রেণি; এতে ক্ষত ধোয়া ও সঙ্গে সঙ্গে টিকা দরকার। ত্বক ভেদ করা এক বা একাধিক কামড় বা আঁচড়, কিংবা ক্ষত, চোখ, নাক বা মুখে লালা লাগা তৃতীয় শ্রেণি, অর্থাৎ গুরুতর সংস্পর্শ; এতে ক্ষত ধোয়া, সঙ্গে সঙ্গে টিকা এবং র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন বা মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি লাগে। ফলে শরীরের যেখানেই হোক, ত্বক ভেদ করা কামড় গুরুতর শ্রেণিতে পড়ে; আর হেলিয়নের গবেষণা অনুযায়ী মাথা ও মুখে কামড়ে সুপ্তিকাল সবচেয়ে কম।

কোন টিকার সূচি লাগবে এবং ইমিউনোগ্লোবিউলিন দরকার কি না, সে সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের। বাংলাদেশে শিয়াল, কুকুর, বিড়াল বা বেজি কামড়ালে ক্ষতস্থান ভালো করে ধুয়ে সেদিনই নিকটতম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা হাসপাতালে যাওয়া উচিত; কবিরাজের ওপর ভরসা করা উচিত নয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলার সরকারি হাসপাতাল; ছবির কমপ্লেক্সটি চাঁদপুরের হাইমচরে, ২০১৯ সালে তোলা। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলার সরকারি হাসপাতাল; ছবির কমপ্লেক্সটি চাঁদপুরের হাইমচরে, ২০১৯ সালে তোলা। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বাংলাদেশের জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি


বাংলাদেশ এক দশকের বেশি সময় ধরে "ওয়ান হেলথ" পদ্ধতিতে জলাতঙ্কের বিরুদ্ধে লড়ছে, যেখানে স্বাস্থ্য, প্রাণিসম্পদ ও স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করে। ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ সাউথইস্ট এশিয়া সাময়িকীতে বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক গবেষকদের প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বলা হয়েছে, জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি শুরু হয় ২০১১ সালে, আর সে বছরই কক্সবাজার পৌরসভায় কুকুরকে গণটিকা দেওয়া শুরু হয়। কর্মসূচিতে যুক্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার বিভাগ।

প্রবন্ধটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত কুকুরের গণটিকাদান দেশের ৬৪ জেলাতেই পৌঁছেছিল; ৪৫টি জেলায় দ্বিতীয় দফা এবং আটটিতে তৃতীয় দফা শেষ হয়েছিল। প্রতিটি জেলায় বছরে গড়ে ২১ হাজার ২৯৫টি কুকুরকে টিকা দেওয়া হয়, দেশে কুকুরের আনুমানিক সংখ্যা ১৬ লাখ ৬৮ হাজার ১৪০; এক বছরে সর্বোচ্চ ৬ লাখ ২৫ হাজার ২০৮টি কুকুরকে টিকা দেওয়া হয় ২০১৯ সালে। মানুষের জন্য দেশে তিন শর বেশি অ্যানিমেল বাইট ম্যানেজমেন্ট সেন্টার গড়ে তোলা হয় এবং প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি কেন্দ্রে পিইপি ও ক্ষতের চিকিৎসা মেলে। প্রবন্ধ অনুযায়ী, কর্মসূচি দেশজুড়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিনা মূল্যে টিকা ও চিকিৎসা দেয় এবং বছরে চার লাখের বেশি কামড়-আক্রান্ত মানুষকে পিইপি দেওয়া হয়; ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ২৭ লাখ ৩০ হাজার ৮২৯ ডোজ জলাতঙ্ক টিকা ব্যবহার হয়েছে।

গবেষকেরা ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশে মানুষের জলাতঙ্কের ৮৭৯টি ঘটনা নথিভুক্ত পান, বছরে গড়ে ৬৬টি; সর্বোচ্চ ১০৬টি ২০১৪ সালে। তাঁদের হিসাবে মানুষের জলাতঙ্ক প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে, এবং এই ধারা বজায় থাকলে ২০১৫ সালে নির্ধারিত বৈশ্বিক "জিরো বাই থার্টি" লক্ষ্য, অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে কুকুরবাহিত জলাতঙ্কে মানুষের মৃত্যু শূন্যে নামানো, বাংলাদেশের পক্ষে অর্জন করা সম্ভব। ভবিষ্যতে কুকুর ও বন্যপ্রাণী উভয়ের জন্য মুখে খাওয়ানো জলাতঙ্ক টিকার সুপারিশও করেছেন তাঁরা, কারণ কুকুরের টিকাদান অভিযান শিয়ালের মতো বন্যপ্রাণী পর্যন্ত পৌঁছায় না।

এ ধরনের কর্মসূচি কেন কুকুরকে অগ্রাধিকার দেয়, ডব্লিউএইচওর তথ্যপত্রে তার ব্যাখ্যা আছে। গণটিকাদানের মাধ্যমে বাচ্চাসহ সব কুকুরকে টিকা দেওয়াই মানুষের জলাতঙ্ক প্রতিরোধের সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায়, কারণ এতে সংক্রমণ উৎসেই থেমে যায়; অন্যদিকে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো কুকুর মেরে ফেলা জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নয়। ডব্লিউএইচও শিশু ও বড়দের জন্য কুকুরের আচরণ, কামড় এড়ানো এবং কামড়ের পর করণীয় নিয়ে জনসচেতনতার ওপরও জোর দেয়। গবেষণাগারের কর্মী, প্রাণিরোগ নিয়ন্ত্রণকর্মী ও বন্যপ্রাণী রক্ষীর মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশার মানুষের জন্য আগাম টিকার সুপারিশ রয়েছে, তবে তা কামড়ের পরের চিকিৎসার বিকল্প নয়। ডব্লিউএইচওর হিসাবে জলাতঙ্কের বৈশ্বিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৮৬০ কোটি মার্কিন ডলার; ২০১৮ সালে কামড়-পরবর্তী এক কোর্স চিকিৎসার গড় খরচ ছিল ১০৮ মার্কিন ডলার, যা দিনে এক-দুই ডলার আয়ের পরিবারের জন্য বড় বোঝা; আর বিশ্বে প্রতিবছর ২ কোটি ৯০ লাখের বেশি মানুষ জলাতঙ্কের টিকা নেন।

২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর পিএলওএস গ্লোবাল পাবলিক হেলথ সাময়িকীতে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি), স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের গবেষকদের প্রকাশিত আরেক গবেষণায় ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ঢাকার মহাখালীর সরকারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আসা ৪৫৭ জন কামড়-আক্রান্ত রোগীকে অনুসরণ করা হয়। হাসপাতালটিতে টিকা ও ইমিউনোগ্লোবিউলিন বিনা মূল্যে দেওয়া হতো। কামড়ের ৫১ শতাংশ ছিল কুকুরের, ৪৭ শতাংশ বিড়ালের, আর তিনজনকে কামড়েছিল শিয়াল-জাতীয় প্রাণী (ফক্স)। মাত্র ২০ শতাংশ রোগী কামড়ের দিনই প্রথম ডোজ পান, ৬৬ শতাংশ পান প্রথম থেকে তৃতীয় দিনের মধ্যে; দেরির প্রধান কারণ ছিল অন্য কাজে ব্যস্ততা ও কেন্দ্রের দূরত্ব।

পাপুয়া নিউগিনির মাদাংয়ে ২০০৭ সালের আগস্টে এক বেসামরিক সহায়তা কর্মসূচিতে একজন পশুচিকিৎসক একটি পোষা কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দিচ্ছেন; কুকুরের গণটিকাদানই জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণের মূল উপায়। ছবি: Bryan M. Ilyankoff, U.S. Navy / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
পাপুয়া নিউগিনির মাদাংয়ে ২০০৭ সালের আগস্টে এক বেসামরিক সহায়তা কর্মসূচিতে একজন পশুচিকিৎসক একটি পোষা কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা দিচ্ছেন; কুকুরের গণটিকাদানই জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণের মূল উপায়। ছবি: Bryan M. Ilyankoff, U.S. Navy / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

দেশে আগেও শিয়ালের হামলা


সরিষাবাড়ীর ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। এর আগের মাস ও বছরগুলোতে দেশের সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনার খবর এসেছে। ২০২৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো জানায়, আগের দিন সন্ধ্যায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের চান্দপাড়া এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে দুটি শিয়াল বেরিয়ে আসে এবং তার একটি ১০ জনকে কামড়ে আবার ঝোপে লুকিয়ে পড়ে; আটজনকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সরিষাবাড়ীর ঘটনার এক মাসেরও কম আগে, ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর যুগান্তর জানায়, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের বাগইল ও তালোড়া বাইগুনি গ্রামে একটি শিয়াল শিশুসহ অন্তত ২০ জনকে কামড়েছে। কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা না থাকায় আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে টিকার জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর সময়ের আলো জানায়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে একটি শিয়াল ঢুকে প্রায় ২০ জনকে কামড়েছে; উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাঁদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মহাখালীর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আইনে শিয়ালের অবস্থান


সরিষাবাড়ীর ঘটনার সময় দেশে বন্যপ্রাণী বিষয়ে প্রযোজ্য আইন ছিল বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৩০ নং আইন), যার তারিখ ১০ জুলাই ২০১২। এই আইনের তফসিল ১, অর্থাৎ রক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকায়, কুকুর-গোত্রের স্তন্যপায়ীদের মধ্যে পাতি শিয়াল (Canis aureus) রয়েছে। খেঁকশিয়াল (Vulpes bengalensis) রয়েছে তফসিল ২-এ।

আইনের ৬(১) ধারায় বলা আছে, এই আইনের অধীন লাইসেন্স বা পারমিট ছাড়া কোনো ব্যক্তি কোনো বন্যপ্রাণী শিকার করতে পারবেন না; আর ৬(২) ধারায় সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে নির্দিষ্ট বন বা এলাকায় কিংবা সারা দেশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো বা সব বন্যপ্রাণী শিকার নিষিদ্ধ করতে পারে। ৩৯ ধারা অনুযায়ী ৬ ধারা লঙ্ঘন অপরাধ; এর সাজা সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড, আর একই অপরাধের পুনরাবৃত্তিতে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড।

ছবি: Fabian Roudra Baroi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, সংবাদ প্রকাশ, বাংলাপিডিয়া (বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ সাউথইস্ট এশিয়া, হেলিয়ন, পিএলওএস গ্লোবাল পাবলিক হেলথ, বাংলাদেশ আইন (লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ), প্রথম আলো, যুগান্তর, সময়ের আলো, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)