সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

টাঙ্গুয়ার হাওরে আর আগের মতো নেই পরিযায়ী পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ

দেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তের জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ সবচেয়ে বড় জলাভূমি বিশ্বের অন্যতম রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরে এবার অতিথি পাখি কম এসেছে। কয়েক বছর আগেও পরিযায়ী পাখির কলকাকলি আর ডানা ঝাপটানোর শব্দে মুখরিত থাকত টাঙ্গুয়ার হাওর। মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশের এই হাওরে এবার শীতের কনকনে হাওয়া বইলেও অতিথি পাখির ভিড় কম

দেশের উত্তর-পূর্ব প্রান্তের জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ সবচেয়ে বড় জলাভূমি বিশ্বের অন্যতম রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরে এবার অতিথি পাখি কম এসেছে। কয়েক বছর আগেও পরিযায়ী পাখির কলকাকলি আর ডানা ঝাপটানোর শব্দে মুখরিত থাকত টাঙ্গুয়ার হাওর। মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশের এই হাওরে এবার শীতের কনকনে হাওয়া বইলেও অতিথি পাখির ভিড় কম।

হাওরপাড়ের বাসিন্দারা মনে করেন, গত কয়েক বছর ধরেই পাখি কম আসছে, এবার কমেছে বেশি। পাখি ও মাছ শিকারিদের তাণ্ডবের কারণেই এমনটা হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে তাহিরপুর ও ধর্মপাশা উপজেলায় টাঙ্গুয়ার হাওরের অবস্থান। ছয়কুড়ি বিল, নয়কুড়ি কান্দার সমন্বয়ের এ হাওরের দৈর্ঘ্য ১১ এবং প্রস্থ ৭ কিলোমিটার। শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা একেক ঋতুতে এই হাওড় একেক রূপ ধারণ করে।

বর্ষায় অন্যান্য হাওরের সঙ্গে মিশে এটি সাগরের রূপ ধারণ করে। শুকনো মৌসুমে ৫০-৬০টি আলাদা বা সংযুক্ত বিলে পরিণত হয় পুরো হাওর। ১১টি বাগসহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য হিজল-করচ গাছ, নলখাগড়া, দুধিলতা, নীল শাপলা, পানিফল, শোলা, হেলেঞ্চা, বনতুলসিসহ শতাধিক প্রজাতির উদ্ভিদ হাওরকে দৃষ্টিনন্দন করে।

অক্টোবর থেকে এই হাওরে শুরু হয় পরিযায়ী পাখির সমাবেশ। স্থানীয় জাতের পানকৌড়ি, কালেম, দেশি মেটে হাঁস, বালিহাঁস, বকসহ শীত মৌসুমে আসা লক্ষাধিক পরিযায়ী পাখি এখানে যাত্রা বিরতি করে। আবার কোনো কোনো পরিযায়ী পাখি পুরো শীতকাল এখানেই কাটায়।

সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, হিমালয়, উত্তোর এশিয়া, নেপালসহ পৃথিবীর নানা শীতপ্রধান দেশ থেকে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে অতিথি পাখিরা বাংলাদেশের বৃহৎ জলমহাল টাঙ্গুয়ার হাওরে আসে। এসব পাখির মধ্যে লেঞ্জা, পাতিহাঁস, বুটিহাঁস, বৈকাল, নীলশির, পানকৌড়ি, পাতারি, দলপিপি, রাঙ্গামুড়ি, পান্তামুখী প্রভৃতি পাখি ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত অবস্থান করে হাওরে।

হাওরপারের বাসিন্দারা বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরপারের ৮৮টি গ্রামেই ৮-১০ জন করে পাখি শিকারি রয়েছে। ৭ থেকে ৮শ মানুষের পেশাই এখন পাখি শিকার করে বিক্রি করা। সেই সঙ্গে রয়েছে মাছ শিকারিদের উৎপাত।

হাওরপারের রিপন মিয়া জাগো নিউজকে জানান, হাওরপারের প্রত্যেকটি গ্রাম ছাড়াও বাইরে থেকে পাখি শিকারিরা প্রতিদিন টাঙ্গুয়ার হাওরে গিয়ে পাখি শিকার করছে। তাহিরপুর সদর এবং রতনশ্রি গ্রামের পেশাদার শিকারি রয়েছে। এরা ফাঁদ ও জাল পেতে নানা পন্থায় পাখির ওপর আক্রমণ করে। এছাড়া গাছ-গাছালী কমে যাওয়ার কারণেও পাখি কম আসছে।

হাওরপারের বাসিন্দা মো. সাজিনুর মিয়া জাগো নিউজকে জানান, অনেকে পাখি শিকারকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে। একটা পাখি বিক্রি করলে ৮০০ থেকে ২০০০ টাকা পাওয়া যায়, এজন্য অনেকে ঝুঁকি নিয়েই এই ব্যবসা করছে। শিকারীরা সুযোগ পেলে সীমান্তের ওপারেও পাখি পাঁচার করে।

তাহিরপুরের বাসিন্দা নাহিদ আহমেদ বলেন, হাওরপারের বাসিন্দাদের লাকড়ি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করলে এই হাওরের বন-বাদালি আগের অবস্থায় আনা যাবে না। এই অবস্থার বিনামূলে গ্যাস সিলিন্ডার এবং গ্যাসের চুলা বিতরণের প্রস্তাব করেন তিনি। তার মতে বন-বাদালি রক্ষা হলে জলজ প্রাণীসহ অনেক প্রাণ-বৈচিত্রই রক্ষা পাবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জাগো নিউজকে জানান, টাঙ্গুয়ার হাওরে অতিথি পাখি যাতে কেউ শিকার না করতে পারে সেজন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্টদের নীবিড়ভাবে হাওর তদারকি করতে নির্দেশ দেয়া আছে। যেই পাখি শিকার করবে তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

লিপসন আহমেদ/এফএ/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)