রাজধানী ঢাকার বনানীতে বুধবার, ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া) একটি ‘ফ্রি অ্যানিমেল ক্লিনিক’ চালু করেছে। সেদিন দুপুরে ক্লিনিকটি উদ্বোধন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি সংগঠনটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক। সেদিন বিকেলে প্রকাশিত জাগো নিউজ ২৪, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস, দ্য ডেইলি স্টার, বাংলা ট্রিবিউন ও সংবাদ সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
আয়োজকেরা জানান, এই ক্লিনিকে প্রাণীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। জাগো নিউজ ২৪ জানায়, অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টরা বলেন, পথপ্রাণী ও অসহায় প্রাণীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বাওয়ার এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ক্লিনিক কোথায়, কী সেবা মিলবে
বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্লিনিকটি স্থাপন করা হয়েছে বনানীর কে ব্লকের ২৪ নম্বর (লেকপাড়) সড়কের ১৮ নম্বর ভবনে। সড়কটি ঢাকার গুলশান, বনানী ও বারিধারার মাঝের লেকের পাড় ধরে গেছে।
বাসস ও দ্য ডেইলি স্টার জানায়, বাওয়া কর্তৃপক্ষ বলেছে, ফ্রি অ্যানিমেল ক্লিনিক সাধারণ মানুষ ও তাদের প্রাণীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং এখানে চিকিৎসা-বিষয়ক পরামর্শ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে। ঢাকা ট্রিবিউনে প্রকাশিত ইউএনবির প্রতিবেদনে আয়োজকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, চিকিৎসার খরচ বহন করতে পারেন না এমন প্রাণীর মালিকদের কাছে প্রাথমিক ভেটেরিনারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই ক্লিনিকটির লক্ষ্য।
বাসস জানায়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ দেশের প্রাণীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলা ট্রিবিউন লিখেছে, উদ্বোধনের পর তিনি ক্লিনিকের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন, ক্লিনিকের চিকিৎসক ও অন্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ওষুধ, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোগত প্রয়োজনের কথা জানতে চান। পত্রিকাটির তথ্যমতে, তিনি স্বেচ্ছাসেবকদের কাজের প্রশংসা করেন এবং প্রায় আধা ঘণ্টা পর ক্লিনিক থেকে বের হন। একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, লন্ডনে থাকাকালে তারেক রহমান কীভাবে পশুপাখির সেবা করতেন, অনুষ্ঠানে সে কথা জানান সংগঠনটির আহ্বায়ক।
বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুষ্ঠানে বিএনপির মিডিয়া সেলের একজন সদস্য, আয়োজক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা ও প্রাণী অধিকারকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। সেদিন প্রকাশিত কোনো প্রতিবেদনে ক্লিনিকের সেবার সময়, সেখানে কর্মরত ভেটেরিনারি চিকিৎসকের সংখ্যা বা অর্থায়নের উৎস জানানো হয়নি; তাই এই প্রতিবেদনেও সেসব তথ্য নেই।

ক্লিনিকের পেছনের সংগঠন
ক্লিনিক চালুর কয়েক মাস আগেও বাওয়া খবরে এসেছিল। বাংলানিউজ২৪-এর ইংরেজি সংস্করণ ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জানায়, সেদিন শনিবার ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সংগঠনটি দিনব্যাপী ‘অ্যানিমেল অ্যান্ড লাইফ ফেয়ার’ আয়োজন করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তখনকার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিকেলে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে মেলায় যুক্ত হবেন।
মেলাটি সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল, এবং প্রতিবেদনে একে দেশে এ ধরনের প্রথম আয়োজন বলা হয়। আয়োজকেরা জানান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশকে সব প্রাণী ও জীবের নিরাপদ আবাসভূমি হিসেবে তুলে ধরাই মেলার উদ্দেশ্য। দিনভর আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীরা দর্শনার্থীদের প্রাণীর চিকিৎসা, খাদ্য ও লালনপালন নিয়ে পরামর্শ দেন।
প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার ঘটনায়ও সংগঠনটি ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশে প্রাণী নির্যাতনের আলোচিত ঘটনা নিয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দ্য ডেইলি স্টার এক প্রতিবেদনে লেখে, বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় রান্নাঘর থেকে খাবার খেয়ে ফেলায় এক নারী একটি বিড়ালকে মেরে ফেলেছেন বলে খবর ছড়ালে বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একজন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। দেশে প্রাণিকল্যাণে কাজ করা কয়েকটি সংগঠনের একটি বাওয়া। একই পত্রিকা অন্যদের কথাও উল্লেখ করেছে, যেমন অভয়ারণ্য-বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এবং পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন, যার প্রতিষ্ঠাতা ঢাকায় কুকুর ও বিড়াল হত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন।
ঢাকার পথকুকুর: নিধন থেকে বন্ধ্যাকরণ
পথপ্রাণীর জন্য উন্মুক্ত একটি বিনামূল্যের ক্লিনিক চালু হলো এমন এক শহরে, যেখানে পথকুকুর সামলানোর ইতিহাস দীর্ঘ ও কঠিন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং অভয়ারণ্য-বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের গবেষকদের লেখা এবং ২০১৫ সালের মে মাসে ‘পিএলওএস নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজেস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় সেই ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
গবেষণাটি জানায়, জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থ চেষ্টা হিসেবে ২০১১ সালের শেষ দিক পর্যন্ত দেশের বড় শহরগুলোতে ব্যাপক হারে কুকুর নিধন করা হতো। ২০০৩ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে পাঁচটি বড় শহরে (ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও টঙ্গী) ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯১টি পথকুকুর নিধন করা হয়, যার ৮০ শতাংশ, অর্থাৎ ১ লাখ ১২ হাজার ৭৮টি, মারা হয় শুধু ঢাকা শহরেই। তবু জলাতঙ্ক স্থানীয়ভাবে রয়েই যায়।
গণহারে কুকুর নিধনের বিরুদ্ধে ফাউন্ডেশনটির প্রচারণার পর সরকার ঢাকায় কুকুরের সংখ্যা ও জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে মানবিক পদ্ধতিকে সমর্থন দেয়। ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ঢাকা শহরে গণহারে কুকুর নিধন বন্ধ হয়, এবং ২০১২ সালের ১ এপ্রিল ফাউন্ডেশনটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে সই করে। এর আওতায় ‘ক্যাচ-নিউটার-ভ্যাকসিনেট-রিলিজ’ (সিএনভিআর), অর্থাৎ ধরা, বন্ধ্যাকরণ, টিকা দেওয়া ও ছেড়ে দেওয়ার কর্মসূচির মাধ্যমে মানবিক উপায়ে শহরের কুকুর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেয় সংগঠনটি।
প্রথম দুই বছরে কর্মসূচিটি কীভাবে চলেছে, গবেষণায় তার বিবরণ আছে। শুরুর আগে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দুই মাস ধরে চারজন ভেটেরিনারি সার্জন ও চারজন প্যারা-ভেটেরিনারিয়ানকে ভারতে হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল (এইচএসআই) মানবিক উপায়ে কুকুর ধরা, অস্ত্রোপচারে বন্ধ্যাকরণ, অস্ত্রোপচার-পরবর্তী পরিচর্যা ও কুকুর জরিপের প্রশিক্ষণ দেয়। প্রশিক্ষিত কর্মীরা সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ১০টার মধ্যে হাতে বা জাল দিয়ে পথকুকুর ধরে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে মোহাম্মদপুরের বছিলার ক্লিনিকে নিয়ে যেতেন; গর্ভবতী ও দুধ খাওয়ানো মা কুকুর ধরা হতো না, আর পোষা কুকুর মালিকেরাই নিয়ে আসতেন। প্রতিটি কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা এবং দেহের ভেতর ও বাইরের পরজীবী দমনের ইনজেকশন দেওয়া হতো। মালিকহীন ও কমিউনিটি কুকুরের কানে অজ্ঞান অবস্থায় স্থায়ী ‘ভি’ আকৃতির কাটা চিহ্ন দেওয়া হতো, যাতে চিকিৎসা পাওয়া কুকুর চেনা যায়। দুপুর ২টার মধ্যে অস্ত্রোপচার শেষ করা হতো, যাতে কুকুরগুলো সেরে উঠে সেদিন বিকেলেই যেখান থেকে ধরা হয়েছিল সেখানে ফিরে যেতে পারে; যেগুলোর সেরে উঠতে দেরি হতো, সেগুলোকে ক্লিনিকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হতো। লেখকেরা জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরতাল, সরকারি ছুটি এবং ওষুধের ঘাটতির সময় কাজ মাঝে মাঝে বন্ধ রাখতে হয়েছে।
একই গবেষণায় ঢাকার মুক্তভাবে ঘোরা কুকুরের প্রথম হিসাব দেওয়া হয়। ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চে শহরের ১৮টি ওয়ার্ডে কুকুর চিহ্নিত করে পরে আবার গুনে গবেষকেরা হিসাব করেন, ঢাকা শহরে প্রায় ১৮ হাজার ৫৮৫টি মুক্তভাবে ঘোরা কুকুর আছে, অর্থাৎ প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৫২টি, এবং প্রতি ৮২৮ জন মানুষের বিপরীতে একটি কুকুর। ২০১২ ও ২০১৩ সালে শহরের ৯২টি ওয়ার্ডের ২৯টিতে ৬ হাজার ৬৬৫টি কুকুরকে (৩ হাজার ৩৫৭টি পুরুষ ও ৩ হাজার ৩০৮টি স্ত্রী) বন্ধ্যাকরণ করে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়। একটি প্রাথমিক জরিপে সিএনভিআরের গড় আওতা পাওয়া যায় ৬০ দশমিক ৬ শতাংশ; মাত্র আটটি ওয়ার্ডে তা ৭০ শতাংশ ছাড়ায়, যা জলাতঙ্কের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ করা মাত্রা। যেসব এলাকায় সিএনভিআর তখনো পৌঁছায়নি, সেখানে গণহারে কুকুরকে টিকা দেওয়ার সুপারিশ করেন লেখকেরা।
আদালতেরও ভূমিকা ছিল। দ্য ডেইলি স্টার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে লেখে, সিটি করপোরেশনগুলো বহু বছর ধরে পথকুকুর নিধন করছিল, তবে ২০১৪ সালে একটি বেসরকারি সংস্থার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কুকুর নিধন বন্ধের নির্দেশ দেন। পত্রিকাটি জানায়, সেই আদেশ অমান্য করে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কুকুর নিধনে নামে; তখন প্রাণিকল্যাণ সংগঠনগুলো প্রতিবাদ করে এবং নিধনের বদলে বন্ধ্যাকরণ ও জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।
জলাতঙ্ক: প্রাণীর চিকিৎসা কেন জনস্বাস্থ্যেরও বিষয়
পথকুকুরের স্বাস্থ্য মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার প্রধান কারণ জলাতঙ্ক। ২০১৫ সালের ঢাকা-বিষয়ক গবেষণায় বলা হয়, বাংলাদেশে বছরে আনুমানিক ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার মানুষ জলাতঙ্কে মারা যান বলে হিসাব করা হয়েছিল, যা ভারত ও চীনের পর দেশটিকে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রাখে; আর প্রতিবছর মানুষের ওপর আনুমানিক ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯০টি প্রাণীর কামড়ের ঘটনা জানা যায়। জলাতঙ্কের প্রধান রেফারেল কেন্দ্র ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল দিনে ৩৫০ থেকে ৪৫০ জন কুকুরে কামড়ানো রোগীকে চিকিৎসা দিত এবং ২০০৪ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে সেখানে জলাতঙ্কে ১ হাজার ১৫২ জনের মৃত্যু রেকর্ড হয়। গবাদিপশুও এ রোগে মারা যায়: ২০১০ থেকে ২০১২ সালে একটি নজরদারি ব্যবস্থায় গরু, ছাগল ও ভেড়ার জলাতঙ্কে ৩ হাজার ৪২৫টি মৃত্যু নথিভুক্ত হয়।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ‘দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ (সাউথইস্ট এশিয়া)’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, সরকার ২০১১ সালে জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচি চালু করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) কর্মকর্তারাও এ গবেষণার লেখকদের মধ্যে ছিলেন। কর্মসূচিতে জনসচেতনতা, কুকুরের কামড়ের আধুনিক চিকিৎসা, গণহারে কুকুরকে টিকা দেওয়া এবং কুকুরের সংখ্যা ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে যুক্ত করা হয়।
গবেষণাটি জানায়, গণহারে কুকুরকে টিকা দেওয়া শুরু হয় ২০১১ সালে কক্সবাজার পৌরসভায়, পরে দেশের ৬৪টি জেলাতেই অন্তত এক দফা করে তা ছড়িয়ে পড়ে। এক বছরে সবচেয়ে বেশি, ৬ লাখ ২৫ হাজার ২০৮টি কুকুরকে টিকা দেওয়া হয় ২০১৯ সালে। গবেষকেরা দেশে কুকুরের সংখ্যা আনুমানিক ১৬ লাখ ৬৮ হাজার ১৪০টি বলে হিসাব করেন। প্রতিটি টিকাদান দলে বিভিন্ন খাতের ছয়জন সদস্য থাকতেন: দুজন দক্ষ কুকুর ধরার কর্মী, একজন স্থানীয় কুকুর ধরার কর্মী, স্বাস্থ্য খাতের একজন জরিপকারী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একজন টিকাদানকারী এবং স্থানীয় সরকারের একজন সহায়ক। তাঁরা ধরা, টিকা দেওয়া ও ছেড়ে দেওয়ার পদ্ধতিতে কাজ করতেন।
গবেষণায় ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশে মানুষের জলাতঙ্কের ৮৭৯টি ঘটনা গোনা হয়। এ সময়ে সর্বোচ্চ ১০৬টি ঘটনা ঘটে ২০১৪ সালে; সবচেয়ে কম ছিল ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালে, যথাক্রমে ২৬, ৩৮ ও ৪৫টি, আর ২০২৩ সালে ৪৫টি ঘটনা রেকর্ড হয়। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। লেখকেরা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে শুধু কুকুর নয়, বিড়ালও সংস্পর্শের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস, ১২ দশমিক ১১ শতাংশ; আর কুকুরকে টিকা দেওয়ার কাজ বাড়াতে বাজেট বরাদ্দ এখনো একটি চ্যালেঞ্জ। লেখকদের মতে, নিম্নমুখী এই ধারা অব্যাহত থাকলে কুকুরবাহিত জলাতঙ্কে ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষের মৃত্যু শূন্যে নামানোর বৈশ্বিক লক্ষ্য, যা ‘জিরো বাই থার্টি’ নামে পরিচিত, অর্জনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জলাতঙ্ক-বিষয়ক তথ্যপত্রের ২০২৪ সালের ৫ জুনের সংস্করণে বলা হয়, জলাতঙ্ক কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা টিকায় প্রতিরোধযোগ্য এবং অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া সব মহাদেশে আছে। মানুষের জলাতঙ্কের ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত ঘটনায় কুকুর ভাইরাস ছড়ায়, ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুরা প্রায়ই এর শিকার হয়, এবং বিশ্বে বছরে আনুমানিক ৫৯ হাজার মানুষ এ রোগে মারা যান। উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর জলাতঙ্ক প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, গণটিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে কুকুরছানাসহ কুকুরকে টিকা দেওয়াই মানুষকে জলাতঙ্ক থেকে রক্ষার সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায়, কারণ এতে উৎসেই সংক্রমণ থামে; আর মুক্তভাবে ঘোরা কুকুর নিধন জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নয়। কুকুরের আচরণ, কামড় প্রতিরোধ, কামড়ের পর করণীয় এবং দায়িত্বশীলভাবে পোষা প্রাণী পালন নিয়ে জনশিক্ষা টিকাদান কর্মসূচির অপরিহার্য অংশ।
সন্দেহজনক জলাতঙ্কগ্রস্ত প্রাণীর সংস্পর্শকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তিন ভাগে ভাগ করেছে:
- প্রথম শ্রেণি, প্রাণীকে ছোঁয়া বা খাওয়ানো কিংবা অক্ষত ত্বকে চাটা: ত্বক ধুয়ে ফেলতে হবে; সংস্পর্শ-পরবর্তী চিকিৎসার দরকার নেই।
- দ্বিতীয় শ্রেণি, খোলা ত্বকে হালকা কামড় বা রক্তপাতহীন ছোট আঁচড়: ক্ষত ধুতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে টিকা শুরু করতে হবে।
- তৃতীয় শ্রেণি, ত্বক ভেদ করা কামড় বা আঁচড়, কিংবা ক্ষতযুক্ত ত্বক বা শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে লালা লাগা: ক্ষত ধুতে হবে, সঙ্গে সঙ্গে টিকা শুরু করতে হবে এবং র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন বা মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি দিতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ, সংস্পর্শের পরপরই সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালো করে ক্ষত ধুতে হবে। ২০২৪ সালের ল্যানসেট গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রধান রেফারেল কেন্দ্র ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জাতীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, এবং ৬৪ জেলার প্রতিটিতে অন্তত একটি করে মোট ৬৬টি সরকারি জেলা জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রাণীর কামড়ের শিকার মানুষকে বিনামূল্যে সংস্পর্শ-পরবর্তী চিকিৎসা দেয়। কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনো প্রাণী কামড়ালে বা আঁচড় দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে বা নিকটতম এমন কেন্দ্রে যাওয়া উচিত।
প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯
ক্লিনিক চালুর দিন কার্যকর আইন ছিল প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯ (২০১৯ সনের ১২ নং আইন), যার তারিখ ২০১৯ সালের ১০ জুলাই এবং যা ১৯২০ সালের ‘দ্য ক্রুয়েলটি টু অ্যানিমেলস অ্যাক্ট’ রহিত করে। সরকারের আইন-বিষয়ক ওয়েবসাইট বিডিল’জে থাকা সরকারি পাঠে বলা হয়েছে, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ, সদয় আচরণ এবং দায়িত্বশীল প্রতিপালনের মাধ্যমে প্রাণিকল্যাণ নিশ্চিত করতে আইনটি করা হয়। মানুষ ছাড়া সব স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি, সরীসৃপ এবং মাছ ছাড়া অন্যান্য জলজ প্রাণী এর আওতায় পড়ে।
ধারা ৪ অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রাণীর মালিক বা তত্ত্বাবধানকারীর দায়িত্ব প্রাণীর প্রতি কল্যাণকর ও মানবিক আচরণ করা এবং নিষ্ঠুরতা থেকে বিরত থাকা। ধারা ৬-এ অপ্রয়োজনীয় নিষ্ঠুর আচরণের তালিকা আছে; এর মধ্যে রয়েছে কোনো কাজ বা কাজ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে প্রাণীকে অসুস্থ করা, অতিরিক্ত খাটানো বা অকারণে প্রহার করা, প্রয়োজনমতো খাবার ও পানি না দেওয়া, এমনভাবে বেঁধে বা আটকে রাখা যাতে প্রাণী স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতে, বসতে বা শুতে পারে না, অসুস্থ প্রাণীকে মৃত্যুর জন্য লোকালয়ে ছেড়ে দেওয়া, প্রাণীকে লড়াইয়ে প্ররোচিত করা, এবং চলাফেরার সুযোগ না দিয়ে কুকুরকে একটানা ২৪ ঘণ্টা বা তার বেশি বেঁধে বা আটকে রাখা। অন্যান্য ব্যতিক্রমের মধ্যে এই ধারা নিশ্চিত জলাতঙ্কগ্রস্ত প্রাণীর ব্যথাহীন মৃত্যু ঘটানোকে নিষ্ঠুরতা হিসেবে গণ্য করে না, যদি তা সরকার-অনুমোদিত সংস্থা বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড মেনে করে।
পথপ্রাণীর জন্য সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ধারা ৭ বলে, আইনে উল্লিখিত কারণ ছাড়া কোনো মালিকবিহীন প্রাণী নিধন বা অপসারণ করা যাবে না, এবং মালিকবিহীন প্রাণী হত্যা অপরাধ। ধারা ১১ অনুযায়ী জেনেশুনে প্রাণীকে বিষ খাওয়ানো অপরাধ। ধারা ১৪ সংকটাপন্ন প্রাণীর সংকট লাঘবে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার এবং উদ্ধারে থানা, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। ধারা ১৫ অনুযায়ী, অপরাধের শিকার প্রাণীকে আটক করে চিকিৎসা ও পরিচর্যার জন্য সরকারি ভেটেরিনারি হাসপাতাল বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো যায়।
ধারা ১৬-তে দণ্ড নির্ধারিত: নিষ্ঠুর আচরণ ও মালিকবিহীন প্রাণী হত্যার মতো অপরাধে অনধিক ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড; আর অঙ্গহানি ও বিষ প্রয়োগে অনধিক দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড। ধারা ১৮ অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো আদালত মামলা আমলে নিতে পারেন না; আইনে কর্তৃপক্ষ বলতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা তাঁর কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অধিদপ্তরের কোনো ভেটেরিনারি সার্জনকে বোঝানো হয়েছে। ধারা ১৯ অনুযায়ী অপরাধগুলো অ-আমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য, আর ধারা ২০ অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর তফসিলভুক্ত হলে এসব অপরাধের বিচার মোবাইল কোর্টে করা যাবে।
আইনটি কতটা কাজ করছে, তা নিয়ে আইনজীবী ও প্রাণিকল্যাণকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছিলেন। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, এই আইন সম্পর্কে মানুষের ধারণা খুবই কম; অপরাধগুলো অ-আমলযোগ্য হওয়ায় আদালতের অনুমতি ছাড়া পুলিশ গ্রেপ্তার বা তদন্ত করতে পারে না; আর আইনটি তখনো ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের তফসিলভুক্ত হয়নি। অভয়ারণ্যের প্রতিষ্ঠাতা পত্রিকাটিকে বলেন, আইন কার্যকর করার জন্য আলাদা কোনো ইউনিট নেই, ফলে প্রাণী নির্যাতনের অনেক মামলা বিচার ছাড়াই নিষ্পত্তি হয়ে যায়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে পত্রিকাটি জানায়, জনমতের চাপে পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে এর বদলে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪২৯ ধারায় মামলা নেয়, যাতে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারের সুযোগ থাকে।
প্রাণীর চিকিৎসা কে করতে পারেন: ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন, ২০১৯
প্রাণীর চিকিৎসা দেওয়া ক্লিনিক একই বছরের আরেকটি আইনের আওতায় চলে: বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন, ২০১৯ (২০১৯ সনের ১৩ নং আইন), যার তারিখও ২০১৯ সালের ১০ জুলাই এবং যা বাংলাদেশ ভেটেরিনারি প্র্যাকটিশনার্স অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর জায়গা নেয়। এ আইনে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল বহাল রাখা হয় এবং ভেটেরিনারিয়ান বলতে সরকার-স্বীকৃত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা ভেটেরিনারি প্রতিষ্ঠান থেকে ভেটেরিনারি শিক্ষায় অন্তত স্নাতক ডিগ্রিধারী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। প্যারাভেটও আইনে স্বীকৃত; তাঁরা জীববিদ্যাসহ বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করে অন্তত তিন বছর মেয়াদি ভেটেরিনারি কোর্স সম্পন্ন করেন।
আইনে ভেটেরিনারি প্র্যাকটিসের সংজ্ঞা বিস্তৃত: প্রাণীর চিকিৎসা, রোগ নির্ণয়, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও দমন, সঙ্গনিরোধ, কৃত্রিম প্রজনন, গণস্বাস্থ্য এবং প্রাণিস্বাস্থ্য নিয়ে পরামর্শ এর অন্তর্ভুক্ত। ধারা ১৭ বলে, এই আইনের অধীন নিবন্ধন ও সনদ ছাড়া কেউ ভেটেরিনারি প্র্যাকটিস করতে বা নিজেকে ভেটেরিনারি চিকিৎসক বা প্র্যাকটিশনার হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। অন্যদিকে প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯ ভেটেরিনারি সার্জন বলতে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিলে নিবন্ধিত ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মরত ভেটেরিনারিয়ান, অথবা আইনের উদ্দেশ্যে কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নিবন্ধিত ভেটেরিনারিয়ানকে বুঝিয়েছে।

সরকারের ভেটেরিনারি সেবা
বাওয়ার মতো বেসরকারি ও দাতব্য ক্লিনিক কাজ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর পরিচালিত সরকারি ভেটেরিনারি সেবার পাশাপাশি। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, অধিদপ্তরটি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির জন্য ভেটেরিনারি সেবা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ সেবা দেয়। এর কাজ শুরু হয় ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ সরকারের সিভিল ভেটেরিনারি ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে; সে বছরই বেঙ্গল ভেটেরিনারি ইনস্টিটিউট ও একটি ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশভাগের পর এটি পূর্ব পাকিস্তানের পশুপালন অধিদপ্তর হিসেবে পুনর্গঠিত হয় এবং ১৯৬০ সালে নাম হয় প্রাণিসম্পদ সেবা অধিদপ্তর। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকার ফার্মগেটে কৃষি খামার সড়কের প্রাণিসম্পদ ভবনে, এবং একজন মহাপরিচালক এর নেতৃত্বে থাকেন।
নতুন ক্লিনিক যে বিষয়গুলো সামনে এনেছে, তার কয়েকটিতে অধিদপ্তরের ভূমিকা আছে। প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী এর মহাপরিচালক বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ভেটেরিনারি সার্জনই সেই কর্তৃপক্ষ, যিনি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ আদালতে নিতে পারেন, এবং আটক প্রাণীকে চিকিৎসার জন্য যেসব জায়গায় পাঠানো যায় তার একটি সরকারি ভেটেরিনারি হাসপাতাল। ২০২৪ সালের ল্যানসেট গবেষণায় বর্ণিত জাতীয় জলাতঙ্ক কর্মসূচিতে প্রতিটি গণটিকাদান দলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একজন টিকাদানকারী ছিলেন, আর প্রতিটি অভিযানের আগে কুকুর ধরার কর্মী, জরিপকারী ও টিকাদানকারীদের এক দিনের প্রশিক্ষণে নেতৃত্ব দিতেন জেলা বা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।
ছবি: Sakibnb / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাসস, দ্য ডেইলি স্টার, বাংলা ট্রিবিউন, ইউএনবি (ঢাকা ট্রিবিউন), বাংলানিউজ২৪, পিএলওএস নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজেস (তেনজিন ও সহকর্মী, ২০১৫), দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেলথ (সাউথইস্ট এশিয়া) (ঘোষ ও সহকর্মী, ২০২৪), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, প্রাণিকল্যাণ আইন, ২০১৯ ও বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল আইন, ২০১৯ (বিডিল’জ), বাংলাপিডিয়া





মন্তব্য
(০)