মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুরভুরিয়া চা বাগান থেকে প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করেছিল বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। ২০২৬ সালের ৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন এই বাগানের ৯ নম্বর সেকশন থেকে সাপটি অক্ষত অবস্থায় ধরা হয়। পরে সেটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
পাতা তোলার সময় ঝোপে অজগর
জাগো নিউজ ২৪ জানায়, চা শ্রমিকেরা পাতা সংগ্রহের সময় হঠাৎ ঝোপের মধ্যে একটি বড় সাপ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁরা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান এবং বাগানের ব্যবস্থাপক সিদ্দিকুর রহমানকে খবর দেন। ঢাকা ট্রিবিউন বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুরভুরিয়া বাগানটি ফিনলে টি কোম্পানির এবং এর অবস্থান ভানুগাছ সড়কের পাশে।
ব্যবস্থাপক বিষয়টি বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানালে সংগঠনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা সাপটি শনাক্ত করে কোনো ক্ষতি না করেই উদ্ধার করেন।

ওজন প্রায় ১৪ কেজি, ঠাঁই হবে বনে
জাগো নিউজ ২৪-কে স্বপন দেব সজল বলেন, 'উদ্ধার হওয়া অজগরটি প্রায় ১০ ফুট লম্বা এবং ওজন আনুমানিক ১৪ কেজি। সাপটি সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছে।' শ্রীমঙ্গল বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাপটিকে বনে অবমুক্ত করা হবে। ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা বন বিভাগের বরাতে লিখেছে, অজগরটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ছাড়া হবে।
ঢাকা ট্রিবিউন বাংলার প্রতিবেদনে সজল দেবের বরাতে বলা হয়, বর্ষা মৌসুমে খাবার ও আশ্রয়ের খোঁজে অজগর চা বাগানে চলে আসে। সাপ দেখলে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে খবর দিতে তিনি শ্রমিকদের পরামর্শ দেন।

বার্মিজ অজগর, চা বাগান ও লাউয়াছড়া
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল বার্মিজ অজগরের (Python bivittatus) প্রাকৃতিক বিচরণক্ষেত্রের অংশ। এটি বিষহীন সাপ; শিকারকে দাঁতে আটকে শরীর দিয়ে পেঁচিয়ে মারে। প্রধান খাদ্য পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণী। ঘাসবন, জলাভূমি, পাহাড়ের পাদদেশ ও বনে এরা থাকে, সাঁতার কাটতে ও গাছে চড়তে পারে। বনে প্রাপ্তবয়স্ক অজগর সাধারণত ৫ মিটার (প্রায় ১৬ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হয়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) প্রজাতিটিকে 'সংকটাপন্ন' (Vulnerable) তালিকায় রেখেছে।
শ্রীমঙ্গলকে দেশের চায়ের রাজধানী বলা হয়। এখানেই বাংলাদেশ চা বোর্ডের অধীন বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, যার যাত্রা ১৯৫৭ সালের একটি চা গবেষণা কেন্দ্র থেকে এবং ১৯৭৩ সালে যা ইনস্টিটিউটে উন্নীত হয়। কাছেই লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, যা ১৯৯৬ সালের ৭ জুলাই জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। ১,২৫০ হেক্টরের এই অর্ধ-চিরসবুজ ও মিশ্র পত্রঝরা বনে উল্লুকসহ বহু প্রজাতির প্রাণী বাস করে।

ছবি: MD sajjad hossain photography / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা, উইকিপিডিয়া (বার্মিজ অজগর, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, শ্রীমঙ্গল উপজেলা)





মন্তব্য
(০)