ঠাকুরগাঁও সদরের জামালপুর ও পীরগঞ্জের খনগাঁও ইউনিয়নের মাঠে মাঠে এখন আগাম শিম। শীত জেঁকে বসার আগেই শিম বাজারে উঠছে; মৌসুমের শুরুতে কোনো কোনো কৃষক কেজিতে ১৫০ টাকা পেয়েছেন। কিন্তু খেতে শিম বাড়ার সঙ্গে দাম কমছে, আর কৃষকের দাম ও ভোক্তার দামের ফারাক চোখে পড়ার মতো: পাইকার কিনছেন ৮৫ টাকায়, আড়তে বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়, শহরের কালীবাড়ি বাজারে ভোক্তা কিনছেন ১৪০ টাকা কেজি।
বালিয়াখুড়ির দেলোয়ার হোসেন ২৫ শতকে শিম করেছেন। চার দফায় তুলেছেন: প্রথমে ১০ কেজি ১৫০ টাকায়, পরে ১৮ কেজি ১২০ টাকায়, ৩০ কেজি ১০০ টাকায়, সর্বশেষ ১০০ কেজি ৮৫ টাকায়; মোট ১৫ হাজার টাকার শিম বিক্রি। বীজ, সার, কীটনাশক ও মাচায় তাঁর খরচ ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা; খেতে এখনো অনেক শিম, দাম থাকলে লাভের আশা করছেন।
চানগাঁওয়ের হামিদুল ইসলাম (৪৮) ৩৩ শতকে চাষ করে দুই মণ বিক্রি করেছেন, শুরুতে ১৪০ টাকায়, গত শনিবার ৯০ টাকায়। শিমুলপুরের সাদেকুল ইসলাম (৩৫) ছয় বছর ধরে আগাম শিম করেন; গত বছর ২৫ শতক থেকে প্রায় ৯০ মণ পেলেও দাম দ্রুত পড়ে একপর্যায়ে কেজি ১০ টাকায়ও বেচতে হয়েছিল। বালিয়াখুড়ির পরিমল রায় (৫৮) ৫০ শতকে চাষ করে ১১০ ও ৮৫ টাকায় বিক্রি করেছেন।
কৃষকেরা বলছেন, অন্য ফসলের চেয়ে শিমে খরচ কম, ফলন আসে দ্রুত, তাই আগে তুলতে পারলে ভালো দাম মেলে। ঝুঁকিও আছে: চানগাঁওয়ের শরিফুল ইসলাম (৬২) জানান, অতিবৃষ্টি, অসময়ের বৃষ্টি ও তীব্র গরমে ফুল ঝরে যায়, কখনো শিকড় পচে; ফল ছিদ্রকারী পোকা ও জাব পোকার আক্রমণে বাড়তি বালাইনাশক লাগে।
খেত থেকে আড়তে শিম সরবরাহকারী লোহাগাড়ার জহিরুল ইসলাম (৩৭) বলেন, কেনার পর বাছাইয়ে কিছু শিম বাদ পড়ে, তার ওপর শ্রমিক ও পরিবহন খরচ যোগ হয়; সব হিসাব করেই দাম ঠিক হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, গত বছর জেলায় ৫৪৫ হেক্টরে আগাম শিম হয়েছিল, যা জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের নানা জায়গায় যায়; এ বছরের শীতকালীন সবজির লক্ষ্যমাত্রা এখনো ঠিক হয়নি। উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম জানান, সাধারণত মার্চ-এপ্রিলে, কখনো মে-জুনেও আগাম শিমের বীজ বোনা হয়; এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আবাদ ভালো, তবে সরবরাহ বাড়লে দাম কমে, তাই কৃষকদের বাজারের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
প্রতিবেদন: মজিবর রহমান খান, প্রথম আলো। ছবি: প্রথম আলো
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)