সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

কেটে ফেলা বনের পাখিরা: বন উজাড় ও উন্নয়ন নিয়ে জাগো নিউজের কলাম

২০২৬ সালের ৬ জুলাই জাগো নিউজে প্রকাশিত কলামে ডেপুটি এডিটর ড. হারুন রশীদ দুটি পাখির কাল্পনিক কথোপকথন দিয়ে যুক্তি দেন, প্রজ্ঞাহীন উন্নয়নে বাংলাদেশের বন ও পাখির আবাস হারিয়ে যাচ্ছে। ২০১৫ সালের লাল তালিকা অনুযায়ী দেশের ৫৬৬ প্রজাতির পাখির ১৯টি হারিয়ে গেছে, ৩৯টি হুমকির মুখে।

কেটে ফেলা বনের পাখিরা: বন উজাড় ও উন্নয়ন নিয়ে জাগো নিউজের কলাম
পরিবেশ

২০২৬ সালের ৬ জুলাই অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজের মতামত বিভাগে প্রকাশিত হয় সাংবাদিক ও কলামিস্ট ড. হারুন রশীদের একটি লেখা, শিরোনাম ‘যে জঙ্গল কেটে ফেলা হয়েছে, তার পাখিদের কথোপকথন’। তিনি জাগো নিউজের ডেপুটি এডিটর। লেখাটি শুরু হয় দুটি পাখির কাল্পনিক কথোপকথন দিয়ে, যারা উড়ে যাচ্ছে সেই জায়গার ওপর দিয়ে, যেখানে একসময় তাদের গাছটি ছিল। এই কল্পনাকে সামনে রেখে লেখক যুক্তি দেন, সড়ক, শিল্পাঞ্চল, আবাসন ও পর্যটনের জন্য বাংলাদেশ তার পাহাড়ি বন, শালবন, উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ, গ্রামীণ বৃক্ষরাজি এবং শহরের পুরোনো গাছ হারাচ্ছে, অথচ এর সঙ্গে পাখি ও মানুষ কী হারাচ্ছে তার হিসাব কেউ করছে না। এই প্রতিবেদনে লেখকের যুক্তিগুলো তুলে ধরা হলো এবং পাশে রাখা হলো লেখাটি প্রকাশের আগে বন অধিদপ্তর, আইইউসিএন বাংলাদেশ, বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনালসহ সরকারি ও বৈজ্ঞানিক সূত্রগুলো বন ও পাখি নিয়ে যা প্রকাশ করেছিল।

হারানো গাছের ওপর এক কাল্পনিক কথোপকথন


লেখার শুরু আকাশে। পশ্চিম আকাশের দিকে উড়ে যেতে যেতে ছোট্ট একটি পাখি তার সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি কি আমাদের গাছটা দেখেছ?’ অন্য পাখিটি কিছুক্ষণ নিচের দিকে তাকিয়ে থেকে উত্তর দেয়, গাছটা আর নেই; সেখানে এখন কংক্রিটের দেয়াল, আর মানুষ বলছে, ওটাই নাকি উন্নয়ন। প্রথম পাখিটি চুপ হয়ে যায়, তারপর জানতে চায়, তাহলে তাদের বাসার কী হবে। উত্তর আসে, উন্নয়নের নকশায় বাসার জায়গা থাকে না।

এরপর দুটি পাখিই অনেকক্ষণ নীরবে উড়ে চলে। লেখক মন্তব্য করেন, মানুষের পৃথিবীতে এমন নীরবতা খুব কমই দেখা যায়, কিন্তু প্রকৃতির নীরবতা ভয়ংকর, কারণ সেখানে শব্দ হারিয়ে যাওয়ার আগে জীবন হারিয়ে যায়। তিনি স্পষ্ট করেই বলেন, কথোপকথনটি কাল্পনিক, কিন্তু এর বেদনা বাস্তব। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি বন উজাড়ের পর, প্রতিটি শতবর্ষী গাছ কাটার পর, প্রতিটি জলাভূমি ভরাটের পর এমন হাজারো কথোপকথন হয়, যা কেউ শুনতে পায় না: মানুষ করাতের শব্দ শোনে, কিন্তু ভাঙা বাসার শব্দ শোনে না; উন্নয়নের উদ্বোধন দেখে, কিন্তু একটি পাখির দেশান্তর দেখে না।

এই সূচনা থেকে লেখাটি আরও বড় পরিসরে যায়। লেখকের মতে, সভ্যতার ইতিহাস আসলে বন হারানোরও ইতিহাস: মানুষ প্রথম কৃষিজমি বানানোর সময় বন কেটেছে, শহর গড়ার সময় আবার কেটেছে, আর শিল্পবিপ্লবের সময় কেটেছে আরও বেশি। একবিংশ শতাব্দীতে তাই প্রশ্নটি কেবল বন কাটা নিয়ে নয়, তিনি লেখেন; প্রশ্ন হলো, মানুষ কি এমন এক পৃথিবী গড়ছে, যেখানে মানুষ ছাড়া আর কোনো প্রাণীর বেঁচে থাকার অধিকার থাকবে না।

লেখকের যুক্তি: প্রজ্ঞাহীন উন্নয়ন


বাংলাদেশের প্রসঙ্গে এসে ড. হারুন রশীদ লেখেন, দেশেও একই উদ্বেগ চোখে পড়ে। তাঁর ভাষায়, পাহাড়ি বন, শালবন, উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ, গ্রামীণ বৃক্ষরাজি, এমনকি শহরের পুরোনো গাছও ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে; কোথাও সড়কের জন্য, কোথাও শিল্পাঞ্চল, আবাসন বা পর্যটনকেন্দ্রের জন্য। এসবের প্রয়োজন আছে, তা তিনি মেনে নেন। তাঁর আপত্তি প্রজ্ঞাহীন প্রয়োজন নিয়ে: প্রয়োজনের সঙ্গে প্রজ্ঞার সম্পর্ক না থাকলে উন্নয়ন একসময় আত্মবিনাশের আরেক নাম হয়ে ওঠে, এই তাঁর যুক্তি।

পাঠককে তিনি বনকে অন্যভাবে দেখতে বলেন। তাঁর মতে, বন কোনো জমির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা কিছু গাছের সমষ্টি নয়, বরং অসংখ্য জীবনের এক সম্মিলিত রাষ্ট্র: সেখানে পাখি, মৌমাছি, প্রজাপতি, সাপ, শেয়াল আর অণুজীব এক অদৃশ্য সম্পর্কের জালে বাঁধা। এই দৃষ্টিতে একটি গাছ কাটা মানে কেবল কাঠ পাওয়া নয়, একটি ক্ষুদ্র মহাবিশ্ব ধ্বংস করা। পরিবেশবিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের সতর্কবার্তার কথাও তিনি তোলেন: পৃথিবী এখন জীববৈচিত্র্য সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ ও অবাধ ভোগবাদ মিলে বহু প্রজাতিকে বিলুপ্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। লেখকের মতে, এই বিলুপ্তি শুধু প্রাণীর নয়, মানুষের ভবিষ্যতেরও।

লেখাটিতে অর্থনীতি ও নিরাপত্তার যুক্তিও আছে। লেখক বলেন, বন বৃষ্টি ধরে রাখে, মাটি রক্ষা করে, নদীকে বাঁচিয়ে রাখে, বাতাস পরিশুদ্ধ করে ও কার্বন শোষণ করে, অথচ উন্নয়ন প্রকল্পের লাভ-ক্ষতির হিসাবে এসব সেবার মূল্য প্রায় কখনোই ধরা হয় না। তাঁর মতে, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত ইতিমধ্যে দৃশ্যমান: তাপমাত্রা বাড়ছে, বৃষ্টির ধরন বদলাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে, নদী বদলে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায় তিনি বনভূমিকে কেবল পরিবেশের সম্পদ নয়, জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখেন।

সরকারি হিসাবে বাংলাদেশের বন


লেখাটি প্রকাশের সময় দেশের গাছপালা ও বনের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ সরকারি চিত্র ছিল বাংলাদেশ ফরেস্ট ইনভেন্টরি বা জাতীয় বন জরিপ, যা পরিচালনা করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন বন অধিদপ্তর। এর নকশা ও প্রধান ফলাফল ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ‘ফরেস্ট ইকোসিস্টেমস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। জরিপ দল ১ হাজার ৭৮১টি মাঠ-প্লট পরিদর্শন করে, ৬ হাজার ৪০০ খানায় জরিপ চালায় এবং ২০১৫ সালের জন্য একটি জাতীয় ভূমি-আচ্ছাদন মানচিত্র তৈরি করে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বনের সংজ্ঞা অনুযায়ী জরিপে দেশে বনভূমির পরিমাণ পাওয়া যায় ১৮ লাখ ৮৪ হাজার ১৯ হেক্টর, যা দেশের মোট আয়তনের ১২ দশমিক ৮ শতাংশ; জরিপের হিসাবে এটি প্রতি ১ হাজার মানুষের জন্য ১১ দশমিক ৭ হেক্টর। নদী বাদ দিয়ে কেবল স্থলভাগ ধরলে বনভূমি ১৪ দশমিক ১ শতাংশ। বনের ধরনগুলোর মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে বড় পাহাড়ি বন, দেশের ৪ দশমিক ৬ শতাংশ; এরপর বিক্ষিপ্ত গাছসহ ঝোপঝাড় ৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং ম্যানগ্রোভ বন ২ দশমিক ৭ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী ২০০০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে দেশে বৃক্ষ-আচ্ছাদন নিট ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

একই গবেষণায় দেখা যায়, দেশের গাছসম্পদের বড় অংশ বনের বাইরে, ঠিক সেই গ্রামীণ বৃক্ষরাজিতে, যার কথা লেখক বলেছেন। বসতবাড়ির আশপাশসহ বনের বাইরের গাছে রয়েছে মোট জৈববস্তুর ৬৬ শতাংশ, আর কেবল গ্রামীণ বসতিগুলোতেই রয়েছে দেশের মোট কাঠ-মজুতের অর্ধেক। গাছের ক্ষতির কারণ জানতে চাইলে খানাগুলো সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করেছে ঘূর্ণিঝড় ও অবকাঠামো উন্নয়নের কথা; আর বৃক্ষ-আচ্ছাদন কমার কারণ হিসেবে তারা মূলত দেখিয়েছে অতিরিক্ত আহরণ এবং নির্মাণকাজের জন্য গাছ সরিয়ে ফেলা।

মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের উঁচু গাছ; উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের চিরসবুজ ও আধা-চিরসবুজ পাহাড়ি বনের অংশ। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের উঁচু গাছ; উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের চিরসবুজ ও আধা-চিরসবুজ পাহাড়ি বনের অংশ। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া লেখকের উল্লেখ করা প্রধান বনগুলোর বর্ণনা দেয়। গ্রীষ্মমণ্ডলীয় চিরসবুজ ও আধা-চিরসবুজ উদ্ভিদে গড়া পাহাড়ি বন রয়েছে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে; এর আয়তন প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর, যার ৬ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর বন অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি ৭ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণাধীন অশ্রেণিভুক্ত রাষ্ট্রীয় বন। শালবন একটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আর্দ্র পত্রঝরা বন, যেখানে প্রাধান্য শালগাছের (Shorea robusta)। দেশে শালবনের আয়তন প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার হেক্টর, মোট বনভূমির প্রায় ৩২ শতাংশ; এর বেশির ভাগ গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, কুমিল্লা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, রংপুর ও রাজশাহীতে। সবচেয়ে বড় বলয়টি ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার মাঝে মধুপুর গড়, যা প্রায় ৯৬ কিলোমিটার লম্বা। বাংলাপিডিয়া সতর্ক করেছে, অতিরিক্ত আহরণ, বন উজাড়, মাত্রাতিরিক্ত পাতা সংগ্রহ ও জবরদখলের কারণে শালবন দ্রুত কমে যাচ্ছে।

টাঙ্গাইলের মধুপুরের শালবন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শালবন। ছবি: Antar Kubi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
টাঙ্গাইলের মধুপুরের শালবন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শালবন। ছবি: Antar Kubi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

উপকূলে দক্ষিণ-পশ্চিমের সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অবিচ্ছিন্ন ম্যানগ্রোভ বন। ২০১৫ সালের বাংলাদেশ লাল তালিকার হিসাবে এর আয়তন ৬ লাখ হেক্টর; ওই তালিকা আরও জানায়, বন অধিদপ্তর উপকূল জুড়ে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার হেক্টরে ম্যানগ্রোভ বনায়ন করেছে। সুন্দরবন একটি বিশ্ব ঐতিহ্য এবং রামসার এলাকা।

১৯৯৯ সালের নভেম্বর ও ২০০০ সালের নভেম্বরের পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে তৈরি নাসার ল্যান্ডস্যাট ৭ উপগ্রহচিত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলের সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বন। ছবি: NASA Earth Observatory (Jesse Allen) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
১৯৯৯ সালের নভেম্বর ও ২০০০ সালের নভেম্বরের পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে তৈরি নাসার ল্যান্ডস্যাট ৭ উপগ্রহচিত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলের সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বন। ছবি: NASA Earth Observatory (Jesse Allen) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

লাল তালিকায় বাংলাদেশের পাখি


লেখার পাখিরা কাল্পনিক, কিন্তু যে ক্ষতির কথা লেখক বলেছেন, তা মাপা হয়েছে। ২০১৫ সালে বন অধিদপ্তর ও আইইউসিএন বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘স্ট্রেংদেনিং রিজিওনাল কো-অপারেশন ফর ওয়াইল্ডলাইফ প্রটেকশন’ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের হালনাগাদ লাল তালিকা প্রকাশ করে। ২০১৬ সালের ২২ জুন ঢাকায় উন্মোচিত এই তালিকায় ১ হাজার ৬১৯ প্রজাতির প্রাণীর অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়; এর মধ্যে ৩৯০টি প্রজাতি হুমকির মুখে (৫৬টি মহাবিপন্ন, ১৮১টি বিপন্ন ও ১৫৩টি সংকটাপন্ন) এবং ৩১টি আঞ্চলিকভাবে বিলুপ্ত, অর্থাৎ বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গেছে। আইইউসিএন মাত্রাতিরিক্ত আহরণ ও আবাসস্থলের অবক্ষয়কে প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে।

লাল তালিকার তৃতীয় খণ্ডে ৫৬৬ প্রজাতির পাখির মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে ১৯টি প্রজাতি বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গেছে এবং আঞ্চলিকভাবে বিলুপ্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত; ১০টি মহাবিপন্ন, ১২টি বিপন্ন ও ১৭টি সংকটাপন্ন, সব মিলিয়ে ৩৯টি প্রজাতি হুমকির মুখে, যা মূল্যায়িত পাখির প্রায় ৭ শতাংশ। আরও ২৯টি প্রজাতি প্রায়-সংকটাপন্ন, আর তথ্যের অভাবে ৫৫টি প্রজাতির অবস্থা নির্ধারণ করা যায়নি। হারিয়ে যাওয়া ১৯টি প্রজাতির ৭টি ছিল বনের বাসিন্দা, ৬টি ঘাস ও বাঁশবনের এবং ৫টি জলাভূমির পাখি। সবচেয়ে বেশি হারিয়েছে বড় আকারের পাখি: হারানোর তালিকায় আছে চিতিঠুঁটি গগনবেড় (স্পট-বিলড পেলিকান), বড় মদনটাক, সারস, হোয়াইট-বেলিড হেরন, নীল ময়ূর ও সবুজ ময়ূর।

লাল তালিকায় পাখির নয় ধরনের আবাসস্থলের অবস্থারও মূল্যায়ন রয়েছে, আর তার ফলাফল সরাসরি লেখকের উল্লেখ করা বনগুলোর সঙ্গে মেলে। পত্রঝরা বা শালবনকে সেখানে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তিন আবাসস্থলের একটি বলা হয়েছে; বাকি দুটি বাঁশবন ও তৃণভূমি এবং নদী ও বিল। তালিকা জানায়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছে হওয়ায় পত্রঝরা বনের বড় অংশ ভূমিদস্যু, শিল্পকারখানা, অবৈধ দখলদার ও বনভোজনকারীদের হাতে রূপান্তরিত, পরিষ্কার ও লুণ্ঠিত হয়েছে এবং এসব বনে পাখির বৈচিত্র্য ও সংখ্যা অনেক কমে গেছে। কেবল বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক বাঁশবনে থাকা তিন প্রজাতির প্যারটবিল পাখির সবগুলোই দেশ থেকে হারিয়ে গেছে। মিশ্র চিরসবুজ পাহাড়ি বন, হাওর জলাভূমি ও বসতবাড়ির গাছপালাকে বলা হয়েছে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত ম্যানগ্রোভ বন, জোয়ারভাটার মোহনা ও বঙ্গোপসাগর; দেশের সব বনের মধ্যে সুন্দরবনের অবক্ষয় সবচেয়ে কম, আর সেখানে ৩০০টির বেশি প্রজাতির পাখি দেখা গেছে।

গ্রামের যে পাখিদের অভাব লেখক টের পান


লেখক মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশের গ্রামে বড় হওয়া মানুষের কাছে একসময় সকাল মানেই ছিল পাখির ডাক: দোয়েল, শালিক, বুলবুলি, কোকিল, মাছরাঙা, প্রতিটি ঋতুর নিজস্ব সুর ছিল। তাঁর মতে, সেই সুর এখন অনেকটাই ক্ষীণ; শহরের শিশুরা অনেক সময় পাখিকে চেনে বইয়ের ছবিতে, বাস্তবে নয়। একে তিনি শুধু পরিবেশগত ক্ষতি নয়, সাংস্কৃতিক দারিদ্র্যও বলেছেন।

লেখকের নাম করা পাখিগুলো দেশের সবচেয়ে পরিচিত পাখিদের মধ্যে পড়ে। দোয়েল (Copsychus saularis) বাংলাদেশের জাতীয় পাখি। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় এটি সাদা-কালো, বুলবুলির আকারের পাখি, মানুষের বসতিকে ভয় পায় না, খায় পোকামাকড়, শামুক, কেঁচো ও ছোট টিকটিকি; এর প্রজননকাল ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই, সবচেয়ে বেশি এপ্রিল ও মে মাসে, যখন পুরুষ পাখি পরিষ্কার ও বৈচিত্র্যময় শিস দিয়ে গান গায়। দেশে বুলবুলির প্রজাতি ১১টি; এরা বাগান, ফসলের মাঠ ও গৌণ জঙ্গলের পাখি, খায় ফল, ফুলের মধু, বেরি ও পোকামাকড়। শালিক ময়না-শালিক পরিবারের পাখি; এই পরিবারের ১২টি প্রজাতি দেশে আছে, যার ৩টি পরিযায়ী। মাছরাঙার প্রজাতি দেশে ১২টি, তার ২টি হুমকির মুখে। আর কোকিল এক ধরনের কুক্কু পাখি; বাংলাপিডিয়া জানায়, অন্য পাখির বাসায় ডিম পাড়ার এর অভ্যাস প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যেই বর্ণিত হয়েছে।

বাংলাদেশের নেত্রকোনায় একটি সিপাহী বুলবুল (Pycnonotus cafer), গ্রামের বাগান ও গাছপালার পরিচিত পাখি। ছবি: Fabian Roudra Baroi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের নেত্রকোনায় একটি সিপাহী বুলবুল (Pycnonotus cafer), গ্রামের বাগান ও গাছপালার পরিচিত পাখি। ছবি: Fabian Roudra Baroi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বসতবাড়ির এই সাধারণ পাখিরা এখন পর্যন্ত বনের বিশেষায়িত পাখিদের চেয়ে ভালো আছে। লাল তালিকার পর্যবেক্ষণ, গ্রামীণ অর্থনীতির প্রসার ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে আবাসস্থল হিসেবে বসতবাড়ির গাছপালার মান কমছে, তবে এখানকার পাখিরা অন্যদের মতো এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, সম্ভবত মানুষের তৈরি পরিবেশে টিকে থাকার দক্ষতার কারণে।

বন ও খেতের জন্য পাখি যা করে


লেখকের যুক্তি, পাখি কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়: তারা বন তৈরি করে, বীজ ছড়ায়, পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করে, ফুলের পরাগায়ন ঘটায়; তাই কোনো এলাকায় পাখি কমে যাওয়া পুরো বাস্তুতন্ত্রের অসুস্থতার লক্ষণ। বৈশ্বিক আইইউসিএন লাল তালিকায় পাখির মূল্যায়নের দায়িত্বে থাকা সংস্থা বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনাল ২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ডস বার্ডস ২০২২’ প্রতিবেদনে একই কথা বলেছে: পাখি শিকারি, পরাগায়নকারী, বীজ বিস্তারকারী, মৃতভোজী এবং বাস্তুতন্ত্রের প্রকৌশলী। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে পোকাখেকো পাখিরা বছরে আনুমানিক ৪০ কোটি থেকে ৫০ কোটি টন শিকার খায় এবং এতে ক্ষতিকর পোকার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে; পাখি ও পতঙ্গ দুইয়ের মাধ্যমেই পরাগায়ন হয় এমন গাছ থেকে পাখিকে দূরে রাখলে ফল ও বীজ উৎপাদন গড়ে ৪৬ শতাংশ কমে যায়; আর যেখানে ধনেশ পাখি বেশি, সেখানে তারা প্রতিদিন প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১২ হাজার ৭০০টি পর্যন্ত বড় বীজ ছড়াতে পারে।

একই প্রতিবেদন বিশ্বজুড়ে পাখি কমে যাওয়ার চিত্রও দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ১১ হাজার প্রজাতির পাখির ৪৯ শতাংশের সংখ্যা কমছে, আর ১ হাজার ৪০৯টি প্রজাতি, অর্থাৎ আটটির মধ্যে একটির কিছু বেশি, বিলুপ্তির ঝুঁকিতে। হুমকিগ্রস্ত পাখির ৭৩ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষির সম্প্রসারণ ও নিবিড়করণে, ৫০ শতাংশ কাঠ আহরণে। প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রজাতির পাখি বনে বাস করে, যাদের অনেকেই বনের বিশেষায়িত পাখি এবং অন্য কোনো আবাসস্থলে থাকে না; প্রতিবেদনের হিসাবে বনজ পণ্যের জন্য আহরণে প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ হেক্টর বন হারিয়ে যায়।

লেখক যে বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য সংকটের কথা বলেছেন, তার পেছনে আছে দুটি বড় মূল্যায়ন। জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র সেবা বিষয়ক আন্তঃসরকার বিজ্ঞান-নীতি প্ল্যাটফর্ম (আইপিবিইএস) ২০১৯ সালের ৬ মে জানায়, প্রায় ১০ লাখ প্রাণী ও উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্তির হুমকিতে, স্থলভাগের পরিবেশের তিন-চতুর্থাংশ মানুষের কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে, আর প্রকৃতির অবক্ষয়ের প্রধান প্রত্যক্ষ কারণ স্থল ও সমুদ্রের ব্যবহারে পরিবর্তন। এফএওর ‘গ্লোবাল ফরেস্ট রিসোর্সেস অ্যাসেসমেন্ট ২০২০’ অনুযায়ী বিশ্বে বনভূমি ৪০৬ কোটি হেক্টর, আর ২০১৫ থেকে ২০২০ সালে বছরে প্রায় ১ কোটি হেক্টর বন উজাড় হয়েছে, যা ২০১০ থেকে ২০১৫ সালে ছিল বছরে ১ কোটি ২০ লাখ হেক্টর।

প্রাকৃতিক পুঁজি ও সবুজ অবকাঠামো


ড. হারুন রশীদ লেখেন, অর্থনীতিবিদেরা এখন ‘ন্যাচারাল ক্যাপিটাল’ বা প্রাকৃতিক পুঁজির কথা বলছেন এবং বহু দেশ জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশগত সম্পদের অর্থনৈতিক মূল্য অন্তর্ভুক্ত করছে, কারণ তারা বুঝেছে, প্রকৃতি ধ্বংস করে অর্জিত প্রবৃদ্ধি টেকে না। এই ধারণার একটি আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান-মানদণ্ডও আছে: ২০২১ সালের মার্চে জাতিসংঘ পরিসংখ্যান কমিশন তার ৫২তম অধিবেশনে ‘সিস্টেম অব এনভায়রনমেন্টাল-ইকোনমিক অ্যাকাউন্টিং ইকোসিস্টেম অ্যাকাউন্টিং’ (এসইইএ ইএ) গ্রহণ করে। এটি বাস্তুতন্ত্রের বিস্তার ও অবস্থা এবং তা থেকে পাওয়া সেবাকে বস্তুগত ও আর্থিক উভয় হিসাবে লিপিবদ্ধ করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার একটি কাঠামো।

বাংলাদেশ ফরেস্ট ইনভেন্টরি এই মূল্যের একটি ধারণা দেয়। এর আর্থসামাজিক জরিপে দেখা যায়, খানাগুলো যে প্রাথমিক গাছ ও বনজ পণ্য সংগ্রহ করে, তার মোট মূল্য ২০১৭-১৮ সালের চলতি মূল্যে জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদের (জিডিপি) ৩ দশমিক ০৭ শতাংশ; একটি খানার কাছে এর গড় মূল্য বছরে ১৯ হাজার ৫১৮ টাকা, যার বেশির ভাগ ফল ও জ্বালানি হিসেবে। শুধু রান্না ও তাপের কাজে ব্যবহৃত পণ্যের মূল্যই বছরে ২০২,৯২৭ মিলিয়ন টাকা।

লেখক বিশ্বের সেই শহরগুলোর কথাও বলেন, যেগুলো ‘গ্রিন ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ বা সবুজ অবকাঠামোর ধারণা গ্রহণ করেছে: সেখানে গাছ কাটা প্রথম নয়, শেষ বিকল্প; রাস্তার নকশা করা হয় পুরোনো গাছ বাঁচিয়ে; বন্যপ্রাণীর চলাচলের জন্য করিডোর রাখা হয়; আর ক্ষতিগ্রস্ত বন পুনরুদ্ধারে বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক। ২০১৩ সালে সবুজ অবকাঠামো নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশল ঘোষণাকারী ইউরোপীয় কমিশনের সংজ্ঞায়, সবুজ অবকাঠামো হলো প্রাকৃতিক ও আধা-প্রাকৃতিক এলাকা এবং অন্যান্য পরিবেশগত উপাদানের একটি কৌশলগতভাবে পরিকল্পিত নেটওয়ার্ক, যা নানা ধরনের বাস্তুতন্ত্র সেবা দেওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ করার জন্য নকশা ও ব্যবস্থাপনা করা হয়।

আইন এবং লেখকের প্রস্তাব


লেখক যেসব পদক্ষেপের কথা বলেছেন, তার মধ্যে আছে: পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নকে কাগুজে আনুষ্ঠানিকতা নয়, প্রকৃত বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় পরিণত করা; স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বন সংরক্ষণের অংশীদার করা; দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণ বাড়ানো; এবং জলাভূমি ও পাহাড়কে উন্নয়নের ফাঁকা জমি নয়, জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র হিসেবে দেখা। এর কিছু ধারণা আইনেই ছিল। ২০১০ সালের সংশোধনীসহ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১২ ধারা অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কোনো এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা প্রকল্প গ্রহণ করা যায় না, আর ছাড়পত্র-সংক্রান্ত বিধিমালায় পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ প্রতিবেদন, পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ও জনমত যাচাইয়ের বিষয় থাকতে হবে।

বন্যপ্রাণী ও গাছের ক্ষেত্রে লেখাটি প্রকাশের সময় কার্যকর ছিল বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮৬ নং আইন, তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২৬, কার্যকর ৭ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে), যা ২০১২ সালের আইন রহিত করেছে। এর কয়েকটি বিধান লেখাটির বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত:

  • ধারা ২(৫২) অনুযায়ী ‘শিকার’-এর সংজ্ঞায় বন্য পাখির বাসা বা ডিম সংগ্রহ বা ধ্বংস করাও অন্তর্ভুক্ত।
  • ধারা ২(৫৭) অনুযায়ী স্মারক বৃক্ষ হলো সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রথাগত মূল্যসম্পন্ন ঐতিহ্যবাহী বৃক্ষ বা পুরোনো বয়স্ক দেশীয় উদ্ভিদ বা শতবর্ষী বৃক্ষ; ধারা ১৬ অনুযায়ী বন অধিদপ্তর এমন বৃক্ষ ও কুঞ্জবন ঘোষণা করতে পারে, ধারা ১৭ জীবন রক্ষার প্রয়োজন ছাড়া এগুলো কাটা, সরানো বা ক্ষতি করা নিষিদ্ধ করেছে, আর এই বিধিনিষেধ ভাঙলে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড।
  • ধারা ১৮ অনুযায়ী সরকার অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করতে পারে, যার মধ্যে পাখি অভয়ারণ্যও আছে; তবে ঘোষণার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকার ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর মতামত নিতে হবে।
  • ধারা ১৯ অভয়ারণ্য ও জাতীয় উদ্যানে বন্যপ্রাণী শিকার, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল বিনষ্ট করা এবং সিলভিকালচারাল কাজ ছাড়া অন্য কারণে কোনো উদ্ভিদ কাটা নিষিদ্ধ করেছে; আইন প্রবর্তনের পর এগুলোর সীমানা থেকে ২ কিলোমিটারের মধ্যে শিল্পকারখানা বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং ইটভাটা স্থাপন বা পরিচালনাও নিষিদ্ধ।

পাখি রক্ষায় লাল তালিকার নিজস্ব সুপারিশও লেখকের প্রস্তাবের কাছাকাছি: আবাসস্থল সুরক্ষায় বিনিয়োগ, কীটনাশক, আগাছানাশক ও সারের ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ, এবং পাখির প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে সংরক্ষণের কাজে লাগানো; এর মধ্যে আছে প্রাথমিক শিক্ষায় পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ের সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণহীন পাঠগুলো নতুন করে লেখা, যাতে নতুন প্রজন্ম পরিবেশ-সচেতন হয়ে বেড়ে ওঠে। শিক্ষা নিয়ে লেখকও একই কথা বলেছেন: শিশুদের পরীক্ষায় ভালো করতে, প্রতিযোগিতায় জিততে ও সফল হতে শেখানো হয়, কিন্তু খুব কমই শেখানো হয় একটি গাছের মূল্য, একটি পাখির প্রয়োজন, একটি নদীর ভাষা।

লেখাটি শেষ হয় আবার পাখিদের কাছে ফিরে। লেখক কল্পনা করেন, কাটা জঙ্গলের পাখিরা যদি সত্যিই একদিন ফিরে আসে, তারা কাউকে আদালতে দাঁড় করাবে না, ক্ষতিপূরণও চাইবে না; শুধু জানতে চাইবে, মানুষ কি সত্যিই বিশ্বাস করেছিল, পাখিদের ছাড়া তাদের পৃথিবী আরও সুন্দর হবে। তাঁর ভাষায়, অট্টালিকা যত উঁচুই হোক, পাখিহীন আকাশ সভ্যতার প্রতীক হতে পারে না; বনহীন দেশ নিরাপদ হতে পারে না; আর হারিয়ে যাওয়া বাস্তুতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রযুক্তি এখনো মানুষের হাতে নেই। কাল্পনিক এই কথোপকথনকে তিনি বলেছেন ভবিষ্যতের ইতিহাসের আগাম খসড়া, যেখানে মানুষ পরিচিত হবে হয় বনের হত্যাকারী, নয় বন রক্ষার শেষ প্রহরী হিসেবে। লেখার শেষ ভাবনা: পৃথিবী আমাদের পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকার নয়, সন্তানদের কাছ থেকে ধার নেওয়া এক আমানত।

ছবি: Arif tonmoy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ (ড. হারুন রশীদের কলাম, ৬ জুলাই ২০২৬), বন অধিদপ্তর ও আইইউসিএন বাংলাদেশ (বাংলাদেশের লাল তালিকা ২০১৫, তৃতীয় খণ্ড: পাখি; লাল তালিকা উন্মোচন বিষয়ে আইইউসিএনের বিজ্ঞপ্তি, ২০১৬), ফরেস্ট ইকোসিস্টেমস (বাংলাদেশ ফরেস্ট ইনভেন্টরি, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১), বাংলাপিডিয়া, বার্ডলাইফ ইন্টারন্যাশনাল (স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ডস বার্ডস ২০২২), আইপিবিইএস (বৈশ্বিক মূল্যায়ন বিজ্ঞপ্তি, ৬ মে ২০১৯), এফএও (গ্লোবাল ফরেস্ট রিসোর্সেস অ্যাসেসমেন্ট ২০২০), জাতিসংঘ পরিসংখ্যান বিভাগ (এসইইএ ইকোসিস্টেম অ্যাকাউন্টিং), ইউরোপীয় কমিশন (সবুজ অবকাঠামো), প্রথম আলো (২২ জুন ২০১৬), বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ ও বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০২৬ (bdlaws.minlaw.gov.bd)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)