সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

টাঙ্গাইলে দেশীয় প্রজাতির পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর কর্মসূচি উদ্বোধন

২০২৫ সালের ২৫ মে টাঙ্গাইলে পাঁচ লাখ গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি জানান, কর্মসূচির সব গাছ দেশীয় প্রজাতি থেকে বাছাই করা হয়েছে।

টাঙ্গাইলে দেশীয় প্রজাতির পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর কর্মসূচি উদ্বোধন
পরিবেশ

২০২৫ সালের ২৫ মে, রোববার সকালে টাঙ্গাইলে পাঁচ লাখ গাছের চারা রোপণের একটি কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। জাগো নিউজ ২৪ জানায়, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের জনসেবা চত্বরে বেলুন উড়িয়ে তিনি কর্মসূচির সূচনা করেন। এর আগে তিনি সেখানে দুটি গাছের চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এবং বন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

টাঙ্গাইল শহরে ঢোকার পথ। ছবি: NAHID at English Wikipedia / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
টাঙ্গাইল শহরে ঢোকার পথ। ছবি: NAHID at English Wikipedia / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)

দেশীয় প্রজাতির পাঁচ লাখ চারা


উপদেষ্টা জানান, কর্মসূচিতে যে পাঁচ লাখ গাছ লাগানো হবে, সেগুলো দেশীয় প্রজাতি থেকে বাছাই করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, "এই গাছগুলো প্রচুর পরিমাণে প্রাণীদের আশ্রয় দেবে।" তিনি বলেন, এসব গাছ শুধু সবুজ করার জন্য নয়; এতে ভালো অক্সিজেন পাওয়া যাবে, দূষণ কমবে এবং পাখির আশ্রয় হবে।

তিনি আরও বলেন, যাঁরা এই গাছগুলো লাগাবেন, গাছের সঙ্গে তাঁদের একটি আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হবে। "আমরা গাছগুলো লাগিয়েই বসে থাকবো না, সেগুলোর যত্ন ও পরিচর্যা করবো," বলেন উপদেষ্টা। ধ্বংসাত্মক উন্নয়ন প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে নতুন প্রজন্মকে প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার কথাও বলেন তিনি।

মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে একটি শালগাছের কাণ্ড; শাল এ অঞ্চলের দেশীয় গাছ। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে একটি শালগাছের কাণ্ড; শাল এ অঞ্চলের দেশীয় গাছ। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

গাছ কেটে বেশি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে সমালোচনা


বক্তব্যে উপদেষ্টা গাছ কেটে পরে আরও বেশি গাছ লাগানোর প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রকৃতিকে বিরক্ত করে নানা কর্মকাণ্ডে গাছ কেটে বলা হয়, ‘২০ হাজার গাছ কেটে ৪০ হাজার গাছ লাগাবো।’ তাঁর মতে, এ কারণেই বড় বড় বিপত্তি ঘটে। "আপনি কিছু প্রাকৃতিক অবস্থায় ফেরত আনতে পারেন, কিন্তু সবটা ফেরত আনতে পারবেন না," বলেন তিনি।

উপদেষ্টার মতে, বাংলাদেশ একসময় প্রাকৃতিক সম্পদে এতটাই ভরপুর ছিল যে এখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির দরকারই হওয়ার কথা ছিল না; প্রকৃতির ওপর অত্যাচারের কারণে এখন তা সংশোধনের কাজ করতে হচ্ছে। ধ্বংস হয়ে যাওয়া বা ধ্বংসের মুখে থাকা প্রকৃতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিজেদের স্বার্থেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশি গাছে জোর, দুই বিদেশি প্রজাতিতে নিষেধাজ্ঞা


এর আগে, ২০২৫ সালের ১৫ মে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত পর্যায়ের বৃক্ষরোপণে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি গাছের চারা তৈরি, রোপণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে বলে প্রথম আলো জানায়। প্রজ্ঞাপনে কারণ হিসেবে পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পূরণের কথা বলা হয়। মন্ত্রণালয়ের বন-১ অধিশাখার উপসচিব তুষার কুমার পাল তখন বলেন, নানা গবেষণায় দেখা গেছে এসব গাছের পানি শোষণক্ষমতা বেশি এবং এরা মাটিকে রুক্ষ করে তোলে; তাই আগ্রাসী প্রজাতির বদলে দেশি প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা লাগিয়ে বনায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের অধ্যাপক কামাল হোসেন প্রথম আলোকে জানান, ১৯২১ সালে সিলেটের চা-বাগানে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রথম ইউক্যালিপটাস আনা হয়; বড় আকারে ইউক্যালিপটাস ও আকাশমণি আসে ১৯৭৭ ও ১৯৭৮ সালের দিকে। তাঁর ব্যাখ্যায়, ইউক্যালিপটাস দ্রুত বাড়ে বলে পানি বেশি শোষণ করে এবং প্রচুর বীজ ছড়ায়, ফলে আশপাশে অন্য প্রজাতির গাছ জন্মানোর সুযোগ পায় না।

ঢাকার দোয়েল চত্বরের কাছে একটি গাছের চারার নার্সারি। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
ঢাকার দোয়েল চত্বরের কাছে একটি গাছের চারার নার্সারি। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

টাঙ্গাইল ও মধুপুরের শালবন


টাঙ্গাইল দেশের মধ্যাঞ্চলের একটি জেলা। এর আয়তন ৩ হাজার ৪১৪.২৮ বর্গকিলোমিটার, আয়তনে এটি ঢাকা বিভাগের সবচেয়ে বড় জেলা। এ জেলার মধুপুর উপজেলায় রয়েছে দেশের অন্যতম পুরোনো জাতীয় উদ্যান, মধুপুর জাতীয় উদ্যান, যার আয়তন ৮ হাজার ৪৩৬ হেক্টর। উদ্যানের প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা শালগাছে ঢাকা, আর মধুপুরের বনকে দেশের সেরা শালবনগুলোর একটি ধরা হয়। শাল (Shorea robusta) ভারত, বাংলাদেশ, নেপালসহ হিমালয় অঞ্চলের দেশীয় গাছ।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান পেশায় আইনজীবী ও পরিবেশবাদী। বাংলাদেশের জাহাজভাঙা শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কাজের জন্য তিনি পরিচিত; ২০০৯ সালে গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ এবং ২০১২ সালে র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পান।

ছবি: Antar Kubi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো (১৫ মে ২০২৫), উইকিপিডিয়া (টাঙ্গাইল জেলা, মধুপুর জাতীয় উদ্যান, শাল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)