শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কলুকাঠি এলাকায় মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম নামের শিশুপার্ক ও পিকনিক স্পটের ভেতরে গড়ে তোলা একটি অনুমোদনহীন মিনি চিড়িয়াখানা থেকে ১০ প্রজাতির ৩১টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়। ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি, রোববার বন বিভাগ ও বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট যৌথভাবে দিনব্যাপী এ অভিযান চালায়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযান চলে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।
কোন কোন প্রাণী উদ্ধার হয়
বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট জানায়, চিড়িয়াখানাটিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী খাঁচায় রেখে প্রদর্শন করা হচ্ছিল। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উদ্ধার হওয়া প্রাণীর যে তালিকা দেওয়া হয়, তা এমন:
- ১টি ভাল্লুক
- ১টি মিঠা পানির কুমির
- ১টি বার্মিজ অজগর
- ৮টি শজারু
- ১টি মেছো বিড়াল
- ২টি বনবিড়াল
- ২টি কালিম পাখি
- ১০টি ঘুঘু
- ২টি টিয়া
- ৩টি বালিহাঁস
উদ্ধার হওয়া প্রাণীর মধ্যে মেছো বিড়াল জলাভূমির প্রাণী; বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বিস্তার। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) ২০১৬ সাল থেকে প্রজাতিটিকে ‘সংকটাপন্ন’ (ভালনারেবল) তালিকায় রেখেছে; জলাভূমি ধ্বংস ও মানুষের হাতে হত্যা এর প্রধান হুমকি।

অনুমতি ছাড়াই চলছিল চিড়িয়াখানা
বন অধিদপ্তর ও প্রতিষ্ঠানটির সূত্রের বরাতে প্রথম আলো জানায়, পদ্মা নদীর তীরে ২০০৫ সালে মডার্ন ফ্যান্টাসি কিংডম ও মিনি চিড়িয়াখানাটি গড়ে তোলা হয়। বিনোদন পার্কটির অনুমোদন থাকলেও এর ভেতরের ছোট চিড়িয়াখানা চালানোর কোনো অনুমোদন ছিল না। নড়িয়া উপজেলার উত্তর অংশ দিয়ে পদ্মা নদী বয়ে গেছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বন্যপ্রাণী এভাবে রাখা যাবে না, তা তাঁদের জানা ছিল না; কর্মকর্তারা এসে বিষয়টি জানানোর পর তাঁরা প্রাণীগুলো তাঁদের হাতে তুলে দেন। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘গত ২০ বছরে কখনো বাধার মুখে পড়িনি। এখন যেহেতু বাধা পেয়েছি, তাই এটা আর চালানো হবে না।’

আইন কী বলে
বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী বন্যপ্রাণী সংগ্রহ, দখলে রাখা, প্রদর্শন ও সংরক্ষণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি বলেন, তাঁদের কাছে তথ্য ছিল যে সেখানে অনুমতি ছাড়া দেশীয় বন্যপ্রাণী খাঁচায় রেখে প্রদর্শন করা হচ্ছিল, তাই অভিযান চালানো হয়।
২০১২ সালের ১০ জুলাই প্রণীত এই আইনটি ২০১২ সনের ৩০ নম্বর আইন। এর ধারা ৩১ অনুযায়ী সরকার বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট গঠন করতে পারে, আর ধারা ৩২ লাইসেন্স ছাড়া দখলে রাখা বন্যপ্রাণী জব্দ করার ক্ষমতা কর্মকর্তাদের দিয়েছে। ধারা ৩০-এ জব্দ বা আহত বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা, খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য উদ্ধার কেন্দ্র স্থাপনের বিধান রয়েছে।
রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস প্রথম আলোকে জানান, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মুচলেকা দেওয়া হয়েছে যে তারা আর কখনো বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করবে না। সে কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উদ্ধার হওয়া প্রাণী কোথায় যায়
অভিযান চালানো দলটি পাখিগুলো সেদিনই প্রকৃতিতে অবমুক্ত করে দেয়। প্রথম আলো জানায়, অন্য প্রাণীগুলো ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়; সেখানে কয়েক দিন রেখে চিকিৎসার পর সেগুলো গাজীপুর সাফারি পার্কে দেওয়ার কথা ছিল। জাগো নিউজকে রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাসও বলেন, কিছু প্রাণী গাজীপুর সাফারি পার্কে নেওয়া হবে এবং কিছু অবমুক্ত করা হয়েছে।
ঢাকার প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের কাছে গাজীপুর সাফারি পার্ক বন অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় চলে। শালবনের ভেতরে গড়ে তোলা পার্কটি ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর চালু হয়।

ছবি: Cliff / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, বাংলাদেশের আইন (bdlaws.minlaw.gov.bd), উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)