চাঁদপুরে ভোলার মনপুরা থেকে আসা একটি মাছের ট্রলার থেকে সাড়ে ৩০০ কেজি পচা ইলিশ জব্দ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর বুধবার বিকেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় শহরের পাইকারি মাছ বাজারের পাশে এই অভিযান চালানো হয়। পচা ইলিশ রাখার দায়ে ট্রলারের মালিককে নগদ এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দ মাছ মাটিচাপা দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে যা পাওয়া গেল
অভিযান পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের চাঁদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ইমরান। জাগো নিউজকে তিনি জানান, একাধিক ট্রলারে অভিযান চালানো হয় এবং এর মধ্যে একটি ট্রলার থেকে বিপুল পরিমাণ পচা ইলিশ উদ্ধার করা হয়। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস একই দিনে জানায়, অভিযানটি হয় চাঁদপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে, ইলিশগুলো মনপুরা থেকে বিক্রির জন্য আনা হয়েছিল এবং জব্দ মাছের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৩৩০ থেকে ৩৫০ কেজি। বাসসের তথ্য অনুযায়ী, মাছে কেরোসিন ঢেলে তারপর মাটিচাপা দেওয়া হয়।
সহকারী পরিচালক জানান, জরিমানার অর্থ ট্রলারমালিকের পক্ষে স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ী পরিশোধ করেন। উপস্থিত প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে ট্রলারমালিকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযানে জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ফারহানা আক্তার রুমা, চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির নেতারা এবং সেনাসদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

নিষেধাজ্ঞার পর বাজারে নরম ও পচা ইলিশ
মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ২০২৫ সালের ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুত নিষিদ্ধ করেছিল। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ যাতে নিরাপদে ডিম ছাড়তে পারে, সে জন্য এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে টানা কয়েক দিন বিপুল পরিমাণ নরম ও পচা ইলিশ আসে বলে ২৯ অক্টোবর দুপুরে জাগো নিউজ জানায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন সকাল থেকে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা সাত থেকে আটটি বড় ট্রলারে বরফ দিয়ে রাখা ইলিশ ঘাটে নামানো হচ্ছিল, যা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী দাবি করেন, নিষিদ্ধ সময়ে উপকূলীয় এলাকায় ধরা ইলিশ মজুত করে ট্রলারে করে এই ঘাটে আনা হচ্ছে। তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, আগের অভিযানে অল্প কিছু মাছ নষ্ট করা হয়েছে, বাকিটা বিক্রি হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন তখন বলেন, তিনি মাছঘাটে পচা ইলিশ বিক্রির বিষয়টি জেনেছেন এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগের দিন, ২৮ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে একই মাছঘাটে আরেকটি অভিযানে একটি আড়তে খাওয়ার অযোগ্য পচা ইলিশের স্তূপ পাওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করে অধিদপ্তর; কিছু মাছ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। সহকারী পরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা এমন মাছ আর বিক্রি করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে এই ঘাটে পচা ইলিশ আসার ঘটনা নতুন নয়: ২০২২ সালের অক্টোবরেও নিষেধাজ্ঞার পর বড় স্টেশন ঘাটে পচা ইলিশ আসার খবর প্রকাশ করেছিল ডেইলি স্টার বাংলা।

কোন আইনে জরিমানা করে ভোক্তা অধিদপ্তর
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কাজ করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ (২০০৯ সালের ২৬ নম্বর আইন) অনুযায়ী। আইনের ৭০ ধারা অনুযায়ী, ভোক্তা অধিকারবিরোধী অপরাধ হলে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফৌজদারি মামলা না করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে জরিমানা আরোপ, ব্যবসার লাইসেন্স বাতিল বা ব্যবসা সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে পারেন। এভাবে আরোপিত জরিমানা ওই অপরাধের জন্য আইনে নির্ধারিত সর্বোচ্চ অর্থদণ্ডের বেশি হতে পারে না, আর জরিমানা না দিলে এর বদলে কারাদণ্ড দেওয়া যায় না।
চাঁদপুরের এই জরিমানা আইনের কোন অপরাধের ধারায় করা হয়েছে, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ নেই। পচা বা খাওয়ার অযোগ্য মাছ বিক্রির সন্দেহ হলে ক্রেতারা অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন।

ছবি: Rezowan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ (বাংলাদেশের আইন, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ)





মন্তব্য
(০)