সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

পৃথিবীর আদি প্রাণী পিঁপড়ার জীবন থেকে কী শেখার আছে, বিজ্ঞান কী বলে

১০ কোটি বছরেরও বেশি পুরোনো বংশধারার পিঁপড়া পৃথিবীতে আছে প্রায় ২০ × ১০^১৫টি, বাংলাদেশে জানা প্রায় ২৫০ প্রজাতি। কলোনির শৃঙ্খলা, খাবার ভাগাভাগি ও বিপদ সংকেতের পেছনের বিজ্ঞান, আর পিঁপড়া ঘুমায় না বা এদের মস্তিষ্ক সবচেয়ে বড়, এমন দাবি নিয়ে গবেষণা কী বলে।

পৃথিবীর আদি প্রাণী পিঁপড়ার জীবন থেকে কী শেখার আছে, বিজ্ঞান কী বলে
পরিবেশ

২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল জাগো নিউজ ২৪ লেখক খায়রুল বাশার আশিকের একটি ফিচার প্রকাশ করে, যার বিষয় ছিল পিঁপড়ার কাছ থেকে মানুষ কী শিখতে পারে। লেখক পিঁপড়াকে পৃথিবীর আদিতম ও ক্ষুদ্রতম প্রাণীগুলোর একটি, পরিবেশের উপকারী বন্ধু এবং শৃঙ্খলা, দূরদর্শিতা, ভাগাভাগি ও ঐক্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। লেখাটির কয়েকটি তথ্য, যেমন বাংলাদেশে জানা ২৫০ প্রজাতির পিঁপড়া এবং দুটি পিঁপড়া দেখা হলে ঘ্রাণ ও রাসায়নিক সংকেতে পরস্পরকে চেনার কথা, কীটতত্ত্ববিদ বদরুল আমীন ভূঁইয়ার লেখা বাংলাপিডিয়ার 'পিঁপড়া' ভুক্তির সঙ্গে মিলে যায়। এই প্রতিবেদনে লেখকের মূল বক্তব্য রেখে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পিঁপড়া নিয়ে বিজ্ঞান কী জেনেছে, তা তুলে ধরা হলো। মূল লেখার কয়েকটি প্রচলিত দাবি গবেষণায় সমর্থিত নয়, যেমন পিঁপড়া কখনো ঘুমায় না বা কীটপতঙ্গের মধ্যে পিঁপড়ার মস্তিষ্ক সবচেয়ে বড়; সেগুলোও সংশোধন করা হলো।

প্রাচীন এক বংশধারা


লেখক বলেছিলেন, পিঁপড়া প্রায় ১০ কোটি বছরেরও আগে থেকে পৃথিবীতে টিকে আছে; জীবাশ্মের সাক্ষ্য এর পক্ষেই। পিঁপড়া ফরমিসিডি (Formicidae) গোত্রের পতঙ্গ; বোলতা ও মৌমাছির সঙ্গে এরা হাইমেনোপটেরা (Hymenoptera) বর্গের সদস্য। ক্রিটেশাস যুগে বোলতাজাতীয় (ভেসপয়েড) পূর্বপুরুষ থেকে পিঁপড়ার উদ্ভব। বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার পিঁপড়া নিবন্ধের (২০২৬ সালের মার্চের সংস্করণ) সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, পিঁপড়ার সবচেয়ে পুরোনো জীবাশ্মগুলো মধ্য-ক্রিটেশাস যুগের, প্রায় ১১ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১০ কোটি বছর আগের। এগুলো 'হেল অ্যান্ট' (হাইডোমিরমেসিনি), স্ফেকোমিরমিনি ও জিগ্রাসিমেসিনির মতো বিলুপ্ত আদি দলের। আধুনিক উপগোত্রগুলোর আবির্ভাব ক্রিটেশাস যুগের শেষ দিকে, প্রায় ৮ থেকে ৭ কোটি বছর আগে, আর প্রায় ৬ কোটি বছর আগে পিঁপড়া পরিবেশে প্রাধান্য বিস্তার করে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে লেপেকো ও সহকর্মীরা কারেন্ট বায়োলজি সাময়িকীতে ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ক্রাতো জীবাশ্মস্তরের চুনাপাথরে পাথরের ছাপ হিসেবে সংরক্ষিত একটি হেল অ্যান্টের খবর দেন; এটি আদি ক্রিটেশাসের অ্যাপশিয়ান যুগের। তাঁরা এটিকে সবচেয়ে পুরোনো জানা হেল অ্যান্ট হিসেবে বর্ণনা করেন এবং লেখেন, এটি বিজ্ঞানের জানা প্রাচীনতম নিঃসন্দেহ পিঁপড়াও। এর আগে হেল অ্যান্টের সন্ধান মিলেছিল ফ্রান্স, মিয়ানমার ও কানাডার অ্যাম্বারে (গাছের রস জমে তৈরি জীবাশ্ম রজন)। লেখকদের মতে, ব্রাজিলের নমুনাটি দেখায় যে ক্রিটেশাস যুগের ভূখণ্ডগুলোতে এ দলটি বিস্তৃতভাবে ছড়িয়ে ছিল।

জিনভিত্তিক গবেষণা পিঁপড়ার উৎপত্তিকে আরও পেছনে নিয়ে যায়। ২০০৬ সালে মোরো ও সহকর্মীরা সায়েন্স সাময়িকীতে জীবিত পিঁপড়ার বর্ণিত ২৮৮টি গণের মধ্যে ১৩৯টির জিন বিশ্লেষণ করে এবং ৪৩টি জীবাশ্ম দিয়ে সময় মিলিয়ে একটি আণবিক বংশবৃক্ষ তৈরি করেন। তাঁরা দেখান, জীবিত পিঁপড়ার বেশির ভাগ উপগোত্রের উদ্ভব আগের ধারণার চেয়ে অনেক আগে, তবে এদের বৈচিত্র্য বাড়তে শুরু করে কেবল ক্রিটেশাসের শেষভাগ থেকে আদি ইওসিন যুগে; এই সময়েই সপুষ্পক উদ্ভিদ ও বেশির ভাগ উদ্ভিদভোজী পতঙ্গের বিস্তার ঘটে। ২০১৩ সালে ইভোলিউশন সাময়িকীতে মোরো ও বেলের আরও বড় বিশ্লেষণে ২১টি জীবিত উপগোত্রের সবগুলো থেকে ২৯৫টি নমুনা ও ৪৫টি জীবাশ্ম ব্যবহার করা হয়। এতে আধুনিক পিঁপড়ার বয়স দাঁড়ায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ থেকে ১৫ কোটি ৮০ লাখ বছর, এবং দেখা যায় পিঁপড়ার আদি বৈচিত্র্যে আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

ক্রিটেশাস যুগের বিলুপ্ত পিঁপড়া জিগ্রাসিমেসিয়া টনসোরা, ২০১৩ সালের বৈজ্ঞানিক বর্ণনার অণুবীক্ষণ ছবিতে। ছবি: Barden, P. and Grimaldi, D. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
ক্রিটেশাস যুগের বিলুপ্ত পিঁপড়া জিগ্রাসিমেসিয়া টনসোরা, ২০১৩ সালের বৈজ্ঞানিক বর্ণনার অণুবীক্ষণ ছবিতে। ছবি: Barden, P. and Grimaldi, D. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

পৃথিবীতে কত পিঁপড়া, কত প্রজাতি


পিঁপড়ার সংখ্যা নিয়ে এ পর্যন্ত সবচেয়ে যত্নশীল হিসাবটি ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস (পিএনএএস) সাময়িকীতে প্রকাশ করেন শুল্টহাইস, গেনার ও সহকর্মীরা। তাঁরা সব মহাদেশ, প্রধান সব জীবমণ্ডল ও আবাসের ৪৮৯টি গবেষণা একত্র করেন; এতে ছিল ১,৩০৬টি স্থানের ২,৩৫৫টি প্রমিত নমুনা, যা নেওয়া হয়েছিল ঝরা পাতার স্তর থেকে কিংবা মাটিতে পোঁতা ফাঁদ (পিটফল ট্র্যাপ) দিয়ে। তাঁদের রক্ষণশীল হিসাবে মাটিতে বিচরণকারী পিঁপড়া ৩ × ১০^১৫টির বেশি, আর সব মিলিয়ে পৃথিবীতে পিঁপড়া প্রায় ২০ × ১০^১৫টি, অর্থাৎ প্রায় ২০ কোয়াড্রিলিয়ন। এর জৈবভর প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টন শুষ্ক কার্বনের সমান, যা বুনো পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর মোট জৈবভরের চেয়ে বেশি এবং মানুষের মোট জৈবভরের প্রায় ২০ শতাংশ। মাটির পিঁপড়া সবচেয়ে বেশি গ্রীষ্মমণ্ডল ও উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলে; ঝরা পাতার পিঁপড়ার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি বনে, আর খোলা মাটিতে খাবার খোঁজা পিঁপড়া সবচেয়ে বেশি শুষ্ক অঞ্চলে। এর আগে বাস্তুবিদ বার্ট হোলডোবলার ও এডওয়ার্ড ও. উইলসন মোটা দাগে পৃথিবীর পিঁপড়ার সংখ্যা প্রায় ১০^১৬ ধরেছিলেন, পরে তা সংশোধন করে ১০^১৫ থেকে ১০^১৬-এর মধ্যে বলেন।

মূল লেখায় বলা হয়েছিল, প্রায় ২২ হাজার প্রজাতির পিঁপড়া শনাক্ত হয়েছে। আসলে এটি মোট প্রজাতির একটি অনুমান, জানা প্রজাতির সংখ্যা নয়। উইকিপিডিয়ার ২০২৬ সালের মার্চের সংস্করণ অনুযায়ী, আনুমানিক ২২ হাজার প্রজাতির মধ্যে ১৩ হাজার ৮০০-র বেশি প্রজাতির বর্ণনা হয়েছে; পিএনএএস গবেষণায় নামকৃত প্রজাতি ও উপপ্রজাতির সংখ্যা ১৫ হাজার ৭০০-র বেশি বলা হয়েছে, আর সম্ভবত প্রায় ততগুলোই এখনো অবর্ণিত। বাংলাপিডিয়ার পুরোনো ভুক্তিতে বর্ণিত প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার বলা আছে, যা অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ সম্পর্কে বাংলাপিডিয়া বলছে, এ দেশ থেকে প্রায় ২৫০ প্রজাতির পিঁপড়ার কথা জানা যায়, যা সম্ভবত দেশের মোট পিঁপড়ার সামান্য অংশ; এ দল নিয়ে উল্লেখযোগ্য গবেষণাও এখনো হয়নি। পরিচিত পিঁপড়াগুলোকে সাধারণভাবে লাল পিঁপড়া, কালো পিঁপড়া, ডেঁয়ো পিঁপড়া, বিষ পিঁপড়া, ক্ষুদে পিঁপড়া ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। দেশে সচরাচর দেখা প্রজাতিগুলোর বেশির ভাগ Aenictus, Anochetus, Camponotus, Cardiocondyla, Diacamma, Dorylus, Monomorium, Odontomachus, Pheidole ও Tetramorium গণের। সারা বিশ্বে পিঁপড়া প্রায় সব ভূখণ্ডে বসতি গড়েছে; দেশীয় পিঁপড়া নেই কেবল অ্যান্টার্কটিকা এবং দূরবর্তী বা বসবাসের অযোগ্য কয়েকটি দ্বীপে।

কলোনির ভেতরের জীবন


বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায়, পিঁপড়ার একটি কলোনিতে কয়েক ডজন থেকে বহু হাজার সদস্য থাকতে পারে, যারা তিন জাতে বিভক্ত: রানি, শ্রমিক ও পুরুষ। একটি কলোনিতে এক বা একাধিক রানি, বহু স্ত্রী শ্রমিক ও কয়েকটি পুরুষ থাকে; প্রায় সব শ্রমিকই বন্ধ্যা স্ত্রী। সাধারণত বসন্তকালে ডানাওয়ালা পুরুষ ও রানি জন্মায় এবং মিলনের জন্য একসঙ্গে ঝাঁক বেঁধে উড়ে যায়। মিলনের পর নতুন রানি ডিম পেড়ে আলাদা কলোনি শুরু করে এবং সারা জীবন ডিম পাড়তেই থাকে; তার প্রথম প্রজন্মের প্রায় সবাই স্ত্রী শ্রমিক। এরপর শ্রমিকেরা খাবার সংগ্রহ, রানি ও শাবকের যত্ন এবং বাসা বড় করা ও মেরামতের দায়িত্ব নেয়। পুরুষেরা নতুন রানির সঙ্গে মিলিত হয় এবং অল্প দিনেই মারা যায়। সবচেয়ে বড় শ্রমিকেরা সেনা পিঁপড়া নামে পরিচিত; এদের মাথা ও চোয়াল (ম্যান্ডিবল) বড়, আর এরা শত্রুর হাত থেকে কলোনি রক্ষা করে।

পিঁপড়ার কলোনি দীর্ঘজীবী হতে পারে। উইকিপিডিয়ার সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, রানি ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে, শ্রমিক এক থেকে তিন বছর, আর পুরুষ মাত্র কয়েক সপ্তাহ; একই আকারের একাকী পতঙ্গের তুলনায় পিঁপড়ার রানি প্রায় ১০০ গুণ বেশি দিন বাঁচে বলে ধারণা করা হয়। নতুন শ্রমিক জীবনের প্রথম কয়েক দিন রানি ও শাবকের যত্ন নেয়, তারপর মাটি খোঁড়া ও বাসার অন্য কাজে যায়, আর পরে বাসা পাহারা ও খাবার খোঁজার দায়িত্ব পায়। বাসাও নানা রকম: কেউ মাটির নিচে বাসা বানায়, গ্রীষ্মমণ্ডলের তাঁতি পিঁপড়া (উইভার অ্যান্ট) গাছে জীবন্ত পাতা জুড়ে বাসা গড়ে, কেউ থাকে পাথর বা পচা গুঁড়ির নিচে কিংবা জীবন্ত গাছের ভেতরে।

লেখক বলেছিলেন, পিঁপড়ার উপনিবেশকে কখনো কখনো সুপার অর্গানিজম বা দলগত সত্তা বলা হয়; জীববিজ্ঞানীরা সত্যিই এ শব্দটি ব্যবহার করেন। কলোনিকে সুপার অর্গানিজম বলা হয়, কারণ পিঁপড়ারা যেন একটি অখণ্ড সত্তার মতো কাজ করে এবং সবাই মিলে কলোনিকে টিকিয়ে রাখে। খাদ্যের বিষয়ে বাংলাপিডিয়া বলছে, পিঁপড়াকে সর্বভুক মনে করা হয়, তবে সব প্রজাতি সব কিছু খায় না; ফল-ফুলের রসের মতো চিনিযুক্ত খাবার, মৃত প্রাণী এবং উদ্ভিদের রস চোষা পতঙ্গের নিঃসৃত মিষ্টি রস (হানিডিউ) এদের প্রিয়।

সংকেতের ভাষা: ঘ্রাণ, বিপদ সংকেত ও শেখানো


দুটি পিঁপড়ার দেখা হওয়ার বর্ণনাটি মূল লেখায় এসেছে বাংলাপিডিয়া থেকে: দুটি পিঁপড়া মুখোমুখি হলে অ্যান্টেনা দিয়ে একে অন্যের ঘ্রাণ নেয় অথবা ফেরোমোন নামের রাসায়নিক সংকেত ব্যবহার করে, আর অনেক বিজ্ঞানীর ধারণা, এরা স্পর্শ ও রাসায়নিক দুই ধরনের সংকেতই কাজে লাগায়। বিপদের খবর মুহূর্তে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার যে কথা লেখক বলেছেন, তারও রাসায়নিক ভিত্তি আছে। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী, পিষ্ট হওয়া পিঁপড়া বিপদ সংকেতের ফেরোমোন ছাড়ে, যা কাছের পিঁপড়াদের আক্রমণে উন্মত্ত করে তোলে এবং দূর থেকেও আরও পিঁপড়া টেনে আনে; কিছু প্রজাতি এমনকি 'প্রোপাগান্ডা' ফেরোমোন ছড়িয়ে শত্রু পিঁপড়াদের বিভ্রান্ত করে নিজেদের মধ্যে লড়াই বাধিয়ে দেয়।

পিঁপড়া সরাসরি জ্ঞানও হস্তান্তর করতে পারে। ২০০৬ সালে ফ্রাঙ্কস ও রিচার্ডসন নেচার সাময়িকীতে জানান, Temnothorax albipennis প্রজাতির পিঁপড়া 'ট্যান্ডেম রানিং' নামের একটি কৌশল ব্যবহার করে: খাবারের খোঁজ জানা একটি পিঁপড়া বাসার আরেকটি সঙ্গীকে পথ দেখিয়ে খাবারের কাছে নিয়ে যায়, আর দুজনের মধ্যে আদান-প্রদান করা সংকেত দৌড়ের গতি ও পথ দুটোই নিয়ন্ত্রণ করে। তাঁদের মতে, এটি শেখানোর একটি উদাহরণ; তাঁদের জানামতে মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণীর মধ্যে এটিই প্রথম, যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে দুই দিক থেকেই প্রতিক্রিয়া চলে। তাঁরা যুক্তি দেন, শেখানোর বিবর্তন হয়তো মস্তিষ্কের আকারের সীমাবদ্ধতার চেয়ে তথ্যের মূল্যের ওপরই বেশি নির্ভর করেছে।

'দ্বিতীয় পাকস্থলী': পিঁপড়া কীভাবে খাবার ভাগ করে


লেখক বলেছিলেন, পিঁপড়ার দুটি পাকস্থলী: একটিতে নিজের খাবার, অন্যটিতে অন্যদের জন্য জমানো খাবার, আর পিঁপড়া শর্তহীনভাবে খাবার ভাগ করে। জীববিজ্ঞানীদের বর্ণনার সঙ্গে ধারণাটি কাছাকাছি, যদিও অঙ্গটি কঠোর অর্থে দ্বিতীয় পাকস্থলী নয়। পিঁপড়া তরল খাবার রাখে তার 'ক্রপ' নামের থলিতে, যাকে প্রায়ই 'সামাজিক পাকস্থলী' বলা হয়; সেখান থেকে খাবার উগরে মুখে মুখে সঙ্গী ও লার্ভাকে দেয়, এ প্রক্রিয়ার নাম ট্রোফ্যালাক্সিস। লার্ভা এভাবেই খাবার পায়, প্রাপ্তবয়স্করাও এভাবে খাবার ভাগ করে; কোনো কোনো প্রজাতির মুখের ভেতরের ছোট একটি থলিতেও (ইনফ্রাবাক্কাল চেম্বার) অন্যকে দেওয়ার খাবার জমা থাকে। মধুভান্ড পিঁপড়া বা হানিপট অ্যান্টের কিছু তরুণ শ্রমিককে এত খাওয়ানো হয় যে তাদের পেট ফুলে ওঠে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই আদান-প্রদানে শুধু খাবার যায় না। ২০১৬ সালে লেবফ ও সহকর্মীরা ইলাইফ সাময়িকীতে জানান, ফ্লোরিডার কাঠপিঁপড়া (Camponotus floridanus) যে তরল একে অন্যকে দেয়, তাতে নির্দিষ্ট কিছু প্রোটিন, হাইড্রোকার্বন, ক্ষুদ্র আরএনএ অণু (মাইক্রোআরএনএ) এবং বৃদ্ধির মূল নিয়ন্ত্রক জুভেনাইল হরমোন থাকে। শ্রমিকদের খাবারে এই হরমোন মেশানো হলে, তাদের ট্রোফ্যালাক্সিসে লালিত লার্ভার রূপান্তর সম্পূর্ণ করার সম্ভাবনা দ্বিগুণ হয় এবং সেগুলো বড় শ্রমিক হয়ে ওঠে। গবেষকদের সিদ্ধান্ত, ট্রোফ্যালাক্সিস রাসায়নিক যোগাযোগের একটি পথ হতে পারে, যার মাধ্যমে পুরো কলোনি মিলে শাবকদের বেড়ে ওঠা নিয়ন্ত্রণ করে।

মুখে মুখে খাবার বিনিময় করছে দুটি কালো পিঁপড়া (Camponotus cf. compressus); এ আচরণের নাম ট্রোফ্যালাক্সিস। ছবি: Rakeshkdogra / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
মুখে মুখে খাবার বিনিময় করছে দুটি কালো পিঁপড়া (Camponotus cf. compressus); এ আচরণের নাম ট্রোফ্যালাক্সিস। ছবি: Rakeshkdogra / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

ঘুম, মস্তিষ্ক, শক্তি ও অলসতা নিয়ে গবেষণা কী বলে


মূল লেখার কয়েকটি দাবি জনপ্রিয় হলেও বৈজ্ঞানিক তথ্যের সঙ্গে মেলে না।

  • ঘুম। মূল লেখায় বলা হয়েছিল, পিঁপড়া ঘুমায় না। জার্নাল অব ইনসেক্ট বিহেভিয়রে ২০০৯ সালে প্রকাশিত ক্যাসিল ও সহকর্মীদের ফায়ার অ্যান্ট (Solenopsis invicta) নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে উল্টোটা। শ্রমিক পিঁপড়া দিনে গড়ে প্রায় ২৫৩ বার ঘুমায়, প্রতিবার প্রায় ১.১ মিনিট, সব মিলিয়ে প্রায় ৪.৮ ঘণ্টা; রানি গড়ে প্রায় ৯২ বার, প্রতিবার প্রায় ৬ মিনিট, দিনে মোট প্রায় ৯.৪ ঘণ্টা। গভীর ঘুমে পিঁপড়ারা অ্যান্টেনা ভাঁজ করে রাখে এবং অন্য পিঁপড়া ছুঁলেও সাড়া দেয় না। তবু যেকোনো সময় প্রায় ৮০ শতাংশ শ্রমিক পরিচর্যা, খাওয়ানো বা খোঁড়ার কাজে ব্যস্ত থাকে।
  • মস্তিষ্ক। মূল লেখায় বলা হয়েছিল, পোকামাকড়ের মধ্যে পিঁপড়ার মস্তিষ্ক সবচেয়ে বড় এবং অন্য প্রাণীর চেয়ে এদের মস্তিষ্কে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার কোষ বেশি। প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি সাময়িকীতে ২০২১ সালে গডফ্রে, সোয়ার্টজল্যান্ডার ও গ্রোনেনবার্গ মৌমাছি, বোলতা ও পিঁপড়ার ৩২টি প্রজাতির মস্তিষ্কের কোষ গুনে দেখান, ভর ও কোষসংখ্যা দুই হিসাবেই মৌমাছি ও বোলতার তুলনায় পিঁপড়ার মস্তিষ্ক বিশেষভাবে ছোট। '২ লাখ ৫০ হাজার বেশি কোষ'-এর হিসাব কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি, তাই তা বাদ দেওয়া হয়েছে।
  • শক্তি। মূল লেখায় বলা হয়েছিল, পিঁপড়া নিজের ওজনের ২০ গুণ পর্যন্ত বহন করতে পারে। পিঁপড়া সত্যিই নিজের আকারের তুলনায় ভারী বোঝা মুখের অংশ দিয়ে তোলে ও বয়ে নেয়, আর সেই ভার যায় ঘাড়ের সন্ধির ভেতর দিয়ে। জার্নাল অব বায়োমেকানিকসে ২০১৩ সালের নভেম্বরে অনলাইনে প্রকাশিত পরীক্ষাগার গবেষণায় নুয়েন, লিলি ও কাস্ত্রো দেখান, অ্যালেগেনি মাউন্ড অ্যান্টের (Formica exsectoides) ঘাড়ের সন্ধি টান (টেনসাইল) চাপে পিঁপড়ার নিজের ওজনের প্রায় ৫ হাজার গুণ সহ্য করতে পারে। এটি সন্ধির শক্তির মাপ, প্রতিদিন পিঁপড়া কত ভার বয় তার নয়; সব পিঁপড়ার জন্য প্রযোজ্য কোনো সাধারণ সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।
  • অলসতা। মূল লেখায় বলা হয়েছিল, কোনো পিঁপড়া অলসভাবে দিন কাটায় না। শার্বনো, ডর্নহাউস ও সহকর্মীদের গবেষণায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ সামাজিক পতঙ্গের কলোনিতেই বিপুলসংখ্যক প্রায় নিষ্ক্রিয় শ্রমিক থাকে। Temnothorax rugatulus প্রজাতির কলোনি থেকে সবচেয়ে কর্মঠ শ্রমিকদের সরিয়ে নিলে এক সপ্তাহের মধ্যে আগের নিষ্ক্রিয় শ্রমিকেরা সক্রিয় হয়ে ওঠে, অর্থাৎ তারা সংরক্ষিত শ্রমশক্তির কাজ করে (প্লস ওয়ান, ২০১৭)। একই বছরের আরেক গবেষণায় দেখা যায়, নিষ্ক্রিয় শ্রমিকেরা ধীরে হাঁটে, বাসার কেন্দ্রের কাছে থাকে, তুলনামূলক মোটা এবং এদের শরীরে বিকাশমান ডিম থাকার সম্ভাবনা বেশি; এটি তাদের তরুণ হওয়া কিংবা কলোনির জন্য খাবার জমিয়ে রাখার ধারণার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
  • নেতৃত্ব ও শীতের সঞ্চয়। মূল লেখায় বলা হয়েছিল, প্রতিটি পিঁপড়ার নেতৃত্ব দেওয়ার প্রবল মেধা আছে এবং শীতের জন্য পিঁপড়া সারা বছর খাবার জমায়। গবেষকেরা সামাজিক পতঙ্গের কলোনিকে স্ব-সংগঠিত ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেন (শার্বনো ও সহকর্মীরা, ২০১৭), আর বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় রানির আজীবন কাজ ডিম পাড়া। গ্রীষ্মমণ্ডলে পিঁপড়া সারা বছর সক্রিয় থাকে; শীতপ্রধান অঞ্চলে এরা শীতকাল কাটায় বিশ্রাম অবস্থায়, কোনো কোনো প্রজাতির লার্ভা সুপ্ত দশায় (ডায়াপজ) যায়, কোনোটিতে কেবল প্রাপ্তবয়স্করা কম সক্রিয় থেকে শীত পার করে। কিছু প্রজাতি অবশ্য সত্যিই খাবার জমায়: দক্ষিণ আফ্রিকায় কালো পিঁপড়া রুইবস গাছের বীজ এত পরিমাণে বাসায় সংগ্রহ করে রাখে যে মানুষ সেখান থেকেই বীজ তুলে নেয়।

নিষিক্ত ও অনিষিক্ত ডিম


মূল লেখায় বলা হয়েছিল, নিষিক্ত ডিম থেকে স্ত্রী আর অনিষিক্ত ডিম থেকে পুরুষ পিঁপড়া হয়। এটিই হ্যাপ্লোডিপ্লয়েডি নামের লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি, পিঁপড়ার স্বাভাবিক নিয়ম: অনিষিক্ত ডিম থেকে জন্মায় পুরুষ, যার ক্রোমোজোমের একটি সেট থাকে, আর নিষিক্ত ডিম থেকে জন্মায় স্ত্রী, যার থাকে দুটি সেট। শ্রমিক পিঁপড়া মিলিত হতে পারে না, তবে বেশ কিছু প্রজাতিতে তারা অনিষিক্ত ডিম পাড়তে পারে, যা থেকে পূর্ণ প্রজননক্ষম পুরুষ জন্মায়।

লেখক যে 'বিশেষ ক্লোনিং প্রক্রিয়া'র কথা বলেছেন, তার বৈজ্ঞানিক নাম থেলিটোকাস পার্থেনোজেনেসিস, যেখানে কোনো পুরুষ ছাড়াই অনিষিক্ত ডিম থেকে স্ত্রী পিঁপড়া জন্মায়। সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে ২০২২ সালে বারোস ও সহকর্মীদের গবেষণা অনুযায়ী, এ ধরনের অযৌন প্রজনন ২০টির বেশি পিঁপড়া প্রজাতিতে ভালোভাবে নথিভুক্ত। এদের একটি মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ছত্রাকচাষি পিঁপড়া Mycocepurus smithii, যার কেবল স্ত্রী সদস্যই এতদিন জানা ছিল; ওই গবেষণায় ব্রাজিলের পারা রাজ্যের যৌন প্রজননকারী একটি জনগোষ্ঠী থেকে প্রজাতিটির প্রথম পুরুষ সদস্যের খবর দেওয়া হয়।

খেতের বন্ধু, খেতের শত্রু


মূল লেখা শেষ হয়েছিল ক্ষতিকর পোকা খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পিঁপড়ার ভূমিকার কথায়, যা বাংলাপিডিয়া থেকে নেওয়া। বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, পিঁপড়া নিজেও পাখি, ব্যাঙ, টিকটিকিসহ বহু প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য, আর কৃষকের জন্য এরা উপকারী ও ক্ষতিকর দুই-ই হতে পারে।

উপকারের দিকটির ইতিহাস দীর্ঘ। এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফরেস্ট এন্টোমোলজি সাময়িকীতে ২০০৮ সালের এক পর্যালোচনায় ফান মেলে লেখেন, তাঁতি পিঁপড়া Oecophylla জৈব বালাই দমনের প্রথম লিখিত নথি, যা ৩০৪ খ্রিস্টাব্দের; দক্ষিণ চীনে লেবুজাতীয় ফলের বাগানে তাঁতি পিঁপড়ার ব্যবহার জৈব দমনের প্রাচীনতম জানা প্রয়োগগুলোর একটি হিসেবে গণ্য। তিনি গুনে দেখান, ১৯৭০-এর দশকের শুরু থেকে এশিয়ায় জৈব দমনের উপকরণ হিসেবে এ পিঁপড়া নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা ৭০টিরও কম, আফ্রিকায় ২৫টিরও কম। আফ্রিকায় গবেষণা হয়েছে মূলত নারকেল ও কোকোর মতো রপ্তানি ফসলে, আর এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় ফল ও বাদামজাতীয় ফসলে; ফান মেলের ধারণা ছিল, জৈব পণ্যের চাহিদা বাড়ায় এর গুরুত্বও বাড়বে।

ক্ষতির দিকটি প্রায়ই আসে অন্য পতঙ্গের সঙ্গে জোট থেকে। জাবপোকা, ছাতরাপোকা (মিলিবাগ) ও স্কেল পোকা গাছের রস খাওয়ার সময় মিষ্টি হানিডিউ নিঃসরণ করে; অনেক পিঁপড়া তা সংগ্রহ করে, এসব পোকাকে শিকারির হাত থেকে পাহারা দেয়, এমনকি নতুন জায়গায় সরিয়েও নেয়। যেখানে পিঁপড়া ছাতরাপোকাকে প্রাকৃতিক শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করে, সেখানে আনারসে এরা মারাত্মক বালাই হয়ে উঠতে পারে। কিছু পিঁপড়া সরাসরি ফসলের ক্ষতি করে বা রস চোষা বালাইকে সাহায্য করে, আর দক্ষিণ আমেরিকার রেড ইমপোর্টেড ফায়ার অ্যান্টের মতো কিছু প্রজাতি পৃথিবীর অন্য অঞ্চলে আগ্রাসী প্রজাতিতে পরিণত হয়েছে।

মাটির নিচেও পিঁপড়া মাটিকে গড়ে তোলে। পিএনএএস গবেষণায় উল্লেখ আছে, এক হিসাবে পিঁপড়া প্রতি হেক্টরে বছরে ১৩ টন পর্যন্ত মাটি খুঁড়ে ওলট-পালট করে এবং স্থানীয়ভাবে পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা প্রায় দশ গুণ বাড়িয়ে দেয়; এরা গাছের বীজ ছড়ায় (মিরমেকোকোরি), রস চোষা পতঙ্গের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কে থাকে, বহু জীবের আশ্রয় দেয়, আর নিজেরা একই সঙ্গে শিকারি ও শিকার।

কিছু পিঁপড়া নিজেরাই চাষি। ২০০৮ সালে পিএনএএস সাময়িকীতে শুল্টজ ও ব্র্যাডি উল্লেখ করেন, জানামতে কৃষিকাজের বিবর্তন ঘটেছে মাত্র চারটি প্রাণিগোষ্ঠীতে: মানুষ, বাকল-পোকা (বার্ক বিটল), উইপোকা ও পিঁপড়া। তাঁরা দেখান, ছত্রাকচাষি পিঁপড়া প্রায় ৫ কোটি বছর আগে আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলে ছত্রাক চাষ শুরু করে, সেখান থেকে পাঁচটি আলাদা চাষপদ্ধতির উদ্ভব হয়, আর মাত্র প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ বছর আগে আবির্ভূত পাতাকাটা পিঁপড়া (লিফকাটার অ্যান্ট) হয়ে ওঠে আমেরিকার গ্রীষ্মমণ্ডলের প্রধান উদ্ভিদভোজী। পাতাকাটা পিঁপড়া বয়ে আনা পাতা নিজে খায় না; পাতা ছোট টুকরো করে ছত্রাকের বাগানকে খাওয়ায়। সবচেয়ে বড় শ্রমিকেরা ডাঁটা কাটে, ছোটরা পাতা চিবায় আর সবচেয়ে ছোটরা ছত্রাকের যত্ন নেয়; কোনো পাতা ছত্রাকের জন্য বিষাক্ত প্রমাণিত হলে কলোনি সে পাতা আনা বন্ধ করে দেয়।

কোস্টারিকার হেরেদিয়ার লা সেলভা জৈব গবেষণাকেন্দ্রে পাতার টুকরো বয়ে নিচ্ছে পাতাকাটা পিঁপড়া। ছবি: Geoff Gallice / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
কোস্টারিকার হেরেদিয়ার লা সেলভা জৈব গবেষণাকেন্দ্রে পাতার টুকরো বয়ে নিচ্ছে পাতাকাটা পিঁপড়া। ছবি: Geoff Gallice / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

ধর্মগ্রন্থ ও উপকথায় পিঁপড়া


জাগো নিউজ ২৪-এর লেখায় খায়রুল বাশার আশিক পিঁপড়ার জীবন থেকে দূরদর্শিতা, নিয়মিত রুটিন, কাজের ভাগাভাগি, পরস্পরের প্রতি মমতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার শিক্ষা নিয়েছেন; তাঁর মতে, এসব গুণেই কোটি বছরের পুরোনো বংশধারার এই প্রাণী আজও টিকে আছে। ওপরের গবেষণাগুলো আরও একটি শিক্ষা যোগ করে: কলোনি তার শ্রমশক্তির একটি অংশ সংরক্ষিত রাখে, আর সবচেয়ে কর্মঠ শ্রমিকেরা হারিয়ে গেলে বিশ্রামে থাকা সেই পিঁপড়ারাই কাজে নেমে পড়ে।

ছবি: J.M.Garg / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাপিডিয়া (বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি), প্রসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস (শুল্টহাইস ও সহকর্মী ২০২২; শুল্টজ ও ব্র্যাডি ২০০৮), সায়েন্স (মোরো ও সহকর্মী ২০০৬), ইভোলিউশন (মোরো ও বেল ২০১৩), কারেন্ট বায়োলজি (লেপেকো ও সহকর্মী ২০২৫), নেচার (ফ্রাঙ্কস ও রিচার্ডসন ২০০৬), ইলাইফ (লেবফ ও সহকর্মী ২০১৬), জার্নাল অব ইনসেক্ট বিহেভিয়র (ক্যাসিল ও সহকর্মী ২০০৯), প্রসিডিংস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি বি (গডফ্রে ও সহকর্মী ২০২১), জার্নাল অব বায়োমেকানিকস (নুয়েন ও সহকর্মী ২০১৩), প্লস ওয়ান ও ইন্টিগ্রেটিভ অ্যান্ড কমপ্যারেটিভ বায়োলজি (শার্বনো ও সহকর্মী ২০১৭), সায়েন্টিফিক রিপোর্টস (বারোস ও সহকর্মী ২০২২), এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড ফরেস্ট এন্টোমোলজি (ফান মেলে ২০০৮), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ব্যাংকক বাঁচাতে প্রতিবছর ডুবছে থাইল্যান্ডের গ্রাম

২০১১ সালের বন্যার পর থাইল্যান্ডে তৈরি বাঁধ ও জলকপাট ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরিয়ে দেয়, কিন্তু আয়ুথায়ার নদীতীরের গ্রামগুলো এখন মাসের পর মাস মাথার ওপর পানিতে ডুবে থাকে; ঘর উঁচু করতে সঞ্চয় খরচ করছেন বাসিন্দারা।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

সুস্থ যমজের ছোঁয়ায় কয়েক সপ্তাহে প্রাণ ফিরে পেল বিবর্ণ প্রবাল

স্ট্যানফোর্ডের বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, একই কলোনির সুস্থ প্রবালের গায়ে বিবর্ণ প্রবালের টুকরা লাগিয়ে রাখলে দুটি জুড়ে যায় এবং বিবর্ণ প্রবাল আবার শৈবাল ফিরে পায়; পাঁচটি টুকরার সবকটি সাত সপ্তাহে সেরে উঠেছে।

ইউরোনিউজ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)