শারিরীক সুস্থতা ফিরে পেতেই গাছগাছালির সাথে সম্পর্ক
অবসর সময় কাটানো আর শারীরিক সুস্থতা ফিরে পেতে গাছগাছালির সাথেই ভালোবাসার সম্পর্ক গড়েছেন ঢাকার মোহাম্মপুরের রুবাবা আহমেদ। উদ্ভিদ আর ফল ফসলকে ঘিরে জীবন পরিপূর্ণ হতে পারে এমন বিশ্বাস তার।
অবসর সময় কাটানো আর শারীরিক সুস্থতা ফিরে পেতে গাছগাছালির সাথেই ভালোবাসার সম্পর্ক গড়েছেন ঢাকার মোহাম্মপুরের রুবাবা আহমেদ। উদ্ভিদ আর ফল ফসলকে ঘিরে জীবন পরিপূর্ণ হতে পারে এমন বিশ্বাস তার।
গত এক যুগ ধরে ছাদকৃষির চর্চা করছেন ঢাকার ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার জান্নাতুল মাসুদ কণা। বাসার ছাদটিকে রীতিমত আবাদি ক্ষেতের মতো গড়ে মৌসুমভিত্তিক ফসল ঘরে তোলেন তিনি। শহর জীবনেও থাকেন নির্মল আনন্দে।
ছাদকৃষি তথা নগরকৃষি এখন সারাদেশেই দ্রুত ছড়াচ্ছে। রাজধানী ঢাকার পরে বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও সবুজে সুশোভিত হয়ে উঠছে ভবনের উপরিভাগ। নগরবাসীরা ইট পাথরে ঘেরা জীবনে প্রশান্তি আর অপরিহার্যতা খুঁজে পেতে বেছে নিচ্ছেন ছাদকৃষিকে। কেউ কেউ এই কার্যক্রমকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে গড়ে তুলছেন সামাজিক সংগঠনও।
একসময় যৌথ পরিবার ছিলো বাঙালী ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ। সময়ের বিবর্তনে মানুষ এখন সেই ধারণা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। নগর জীবনে পারিবারিক শৃঙ্খলার সেই ধারা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ছাদকৃষির উদ্যোগগুলো অনেকক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করছে। এমনি এই দৃষ্টান্ত গড়েছেন ঢাকার কমলাপুরের শরিফ আজিজ ও তার পরিবার।
প্রবাস জীবন ছেড়ে দেশে ফিরে অবসর জীবন কাটানোর উৎস হিসাবে বেছে নিয়েছেন ছাদকৃষিকে। ঢাকা উত্তরার দেলোয়ার হোসেন মনের প্রশান্তি আর নিরাপদ খাদ্যের চাহিদা পুরণে চার হাজার বর্গফুটের ছাদে সাজিয়েছেন নানা ফল ফসল আর শাকসবজিতে।
একান্নবর্তী পরিবারের বন্ধনের উৎস ছাদকৃষি। এই লক্ষ্যে প্রশান্তি প্রাপ্তির খোঁজে ছাদকৃষি গড়েছেন ঢাকা মিরপুর পল্লবীর এ এম আক্তারুজ্জামান ও তার পরিবার। খুব অল্প পরিসরেও প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে ফলাচ্ছেন নিরাপদ ফল ফসল।
ঢাকার গুলবাগে অ্যাপার্টমেন্ট বাসায় থেকেও ছাদকৃষি আয়োজন করেছেন রিনা পারভীন ও আনোয়ার হোসেন দম্পতি। ছাদকৃষির বহুমাত্রিক সুবিধার কথা ভেবে প্রতিদিনের কৃষি অনুশীলনের ভেতর দিয়ে তারা মেটাচ্ছেন পারিবারিক পুষ্টি ও মানসিক তৃপ্তি।
ঢাকার পূর্বাচলে বরাদ্দকৃত নিজ প্লটে রকমারি শাকসবজি আর ফলমুলের সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন সরকারের দুই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও কাজী ফাহমিদা হক। ব্যস্ত জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য টিকিয়ে রাখতে আঙিনা কৃষি কিংবা ছাদকৃষি এক অনবদ্য উদ্যোগ, বলছেন তারা।
বিষমুক্ত ফল-সবজি আর বিশুদ্ধ অক্সিজেনের প্রত্যাশায় নাগরিকদের অনেকেই উৎসাহী হচ্ছেন ছাদকৃষিতে। ঢাকা বনশ্রীর সালেহা রহমান ও মাহবুবুর রহমান বাবুল দম্পতিও নতুন বাড়ি নির্মাণের সময় পরিকল্পনা এঁকেছিলেন কৃষি আয়োজনের।
শহরে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের জন্য কৃষি ও পরিবেশ বিষয়ে হাতে খড়ি দেয়ার অন্যতম উৎস হতে পারে ছাদকৃষি। এমন দৃষ্টান্তের সন্ধান পাওয়া গেলো ঢাকার বালুরঘাটে মালেক মিজির বাসভবনে।
ভবনের ছাদে হারানো ফসলি মাঠের মতই নমুনা গড়ে তুলেছেন ঢাকার কাফরুলের এক পরিবার। যাদের কাছে নিজেদের পুরোনো বসতভিটা আর বাল্যস্মৃতি পেতেও অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে ছাদকৃষি।
রাজধানী ঢাকার হেয়াররোডে পরিকল্পনা মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে ছাদকৃষি অনুশীলন। যা এখন আর শুধু পারিবারিক পুষ্টিচাহিদা পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সামগ্রিক সুস্থতা ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে কার্যকরী করে তুলেছেন আয়োজনটিকে।
ঢাকার সাভারের ব্যাংক টাউন বাজারে নিজ বাসভবনের উপরে রকমারি ফল ফসলের সংগ্রহশালা করেছেন মাহমুদা হক ও ফজলুল হক দম্পত্তি। অবসর জীবনে প্রাণচাঞ্চল্য টিকিয়ে রাখতে ছাদকৃষি এক অনবদ্য উদ্যোগ বলছেন তারা।