ঢাকায় ইলিশের সরবরাহ বেড়ে দাম কমল কেজিতে ২০০-৫০০ টাকা, তবু ক্রেতা নেই
নিষেধাজ্ঞার আগে জেলেরা বেশি মাছ ধরায় রাজধানীর বাজারে ইলিশ বেড়েছে, কিন্তু ‘গুজরাটি ইলিশ’ ঢোকার গুজবে আসল-নকল নিয়ে বিভ্রান্ত ক্রেতারা দোকান থেকে দূরে।
নিষেধাজ্ঞার আগে জেলেরা বেশি মাছ ধরায় রাজধানীর বাজারে ইলিশ বেড়েছে, কিন্তু ‘গুজরাটি ইলিশ’ ঢোকার গুজবে আসল-নকল নিয়ে বিভ্রান্ত ক্রেতারা দোকান থেকে দূরে।
দীর্ঘদিনের চড়া দামের পর বরিশালের বাজারে ইলিশের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত কয়েক দিনে মোকামগুলোতে ইলিশের সরবরাহও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এর প্রভাবে পাইকারি বাজারে মণপ্রতি দাম কমেছে সর্বোচ্চ প্রায় ২০ হাজার টাকা।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলে সোহরাফ গাজীর জালে ধরা পড়েছে ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি বড় আকৃতির ইলিশ। মাছটি কুয়াকাটা মৎস্য আড়তে নিলামে প্রতি কেজি ৩ হাজার ৬২৫ টাকা দরে মোট ৭ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
বাঙালির পছন্দের মাছের তালিকায় ইলিশ সবসময়ই শীর্ষে। সর্ষে ইলিশ, ভাপা ইলিশ কিংবা পাতুরি খাবারের টেবিলে আলাদা আনন্দ এনে দেয়। তবে ইলিশের স্বর্গীয় স্বাদের পাশাপাশি এর অসংখ্য সরু কাঁটা অনেকের কাছেই বড় সমস্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ইলিশ খাওয়াতে গেলে বাড়ির সবারই বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। অসাবধানতায় গলায় কাঁটা
চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ইলিশ আহরণ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে; ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আসছে।
ইলিশ নিয়ে ঘটেছে কিছুটা উল্টো ঘটনা। যে বাংলাদেশ থেকে সাধারণত ভারতে ইলিশ যায়, এবার সেই বাংলাদেশেই ইলিশ রপ্তানি করছে ভারত। পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত দুই মাসে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে এসেছে।
আশাশুনির বড়দল বাজার থেকে কেনা পটকা মাছ খেয়ে একই পরিবারের চারজন অসুস্থ; চিকিৎসক বলছেন, এই মাছে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রাকৃতিক বিষ থাকে।
কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৩৪০ টাকা দরে মাছটি কিনেছেন আড়তদার, যাচ্ছে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে; মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, খামারের পাঙাশ প্রচুর হলেও নদীর এত বড় দেশীয় পাঙাশ বিরল।
এক কেজির ইলিশ ২ হাজার ৮০০ থেকে নেমে ২ হাজার টাকায়; দাম কমলেও ভরা মৌসুমে সরবরাহ কম থাকায় তা এখনো সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে বলছেন বাজারে আসা মানুষ।
২৫ থেকে ১০২ হাত লম্বা জাল ১ হাজার ১০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায় কুরিয়ারে পৌঁছে যাচ্ছে; মৎস্য অধিদপ্তর বলছে জনবলসংকট, কত অভিযান হয়েছে তার হিসাবও নেই।
ইলিশের নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে।
মা ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে জাতীয় টাস্কফোর্স সভায় নিষেধাজ্ঞার সময় ঠিক হয়েছে; জেলেরা ভিজিএফের খাদ্য সহায়তা পাবেন, প্রজননক্ষেত্রে নজরদারি ও অবৈধ জাল অপসারণে অভিযান জোরদার হবে।
বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দর দিয়ে গত দুই মাসে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের প্রায় সাড়ে তিন লাখ কেজির (৩৫০ টন) বেশি ইলিশ বাংলাদেশে আমদানি করেছে ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। যদিও দেশের অনেক বাজারেই এসব মাছ বাংলাদেশের মাছ বলেই বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।