যে উপজেলা থেকে বছরে বিক্রি হয় ৯০০ কোটি টাকার সবজি
নানা জাত ও স্বাদের সবজিচাষে নীরব বিপ্লব ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া, রাজাগাঁও, নারগুন, বেগুনবাড়িসহ কয়েকটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামে। বছরে ৯০০ কোটি টাকার সবজি উৎপাদন হয় এ গ্রামগুলোতে।
নানা জাত ও স্বাদের সবজিচাষে নীরব বিপ্লব ঘটেছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া, রাজাগাঁও, নারগুন, বেগুনবাড়িসহ কয়েকটি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামে। বছরে ৯০০ কোটি টাকার সবজি উৎপাদন হয় এ গ্রামগুলোতে।
নাটোরের গুরুদাসপুরে হলুদ ও বেগুনি ফুলকপি সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বেশি মুনাফার আশায় ও পুষ্টি চাহিদা মেটাতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে রঙিন ফুলকপি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন বিলকাঠোর গ্রামের মো. আব্দুল আলিম। মাত্র ১৭ শতাংশ জমিতে ২ হাজর ২০০ চারা রোপণ করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ফসল উৎপাদন করে তাক
চলতি মৌসুমে কৃষক নাজিম উদ্দিন ৪০ শতাংশ জমিতে টমেটো চাষ করেন। ফলন ভালো হলেও গত সপ্তাহে তার টমেটো ক্ষেতের কয়েকটি গাছের কাণ্ডে কালো ও লালচে রং দেখা যায়। এখন তার উৎপাদিত সব টমেটো ও টমেটো গাছ ঝলসে গেছে। এ কারণে আর্থিকভাবে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন তিনি। শুধু নাজিম উদ্দিন নন, সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের
মাদারীপুরের রাজৈরে পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহার করার পর এক কৃষকের দুই বিঘা জমির টমেটো নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় ছয় হাজার গাছ মরে যাওয়ায় ক্ষতি হয়েছে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা।
সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৩০০ ফুট পাহাড়ের ঢালুতে টমেটো চাষ করে ৫০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন কৃষক মো. আবু সাঈদ। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার শান্তিপুরের সীমান্তঘেঁষা মেস্তরীর চর এলাকায় লিজ নেওয়া ৪ একর টিলা ভূমিতে প্রথমবারের মতো স্মার্ট-১২১৭ জাতের টমেটো চাষ করে সাড়া ফেলেছেন। নিজের অর্থনৈতিক সাফল্যের পাশা
বর্ণিল রঙের ফুলকপিগুলো দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, নামেও তাদের বাহার। বেগুনিটির নাম 'ভ্যালেন্টিনা' আর হলুদটির নাম 'ক্যারোটিনা'। এ জাতের ফুলকপির বাজারে যেমন চাহিদা দামও দ্বিগুণ। ভালো দাম পাওয়ায় তাই ভ্যালেন্টিনা আর ক্যারোটিনায় মজেছেন শরীয়তপুরের চাষীরা। বছর না ঘুরতেই বাড়ছে আবাদও।
যশোরের শার্শায় কৃষক আতাউর রহমান আগাম গ্রীষ্মকালীন (ইপসা-১) হাইব্রিড জাতের শিম চাষ করে লাভবান হয়েছেন। জেলার মাটি আগাম সবজি চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় দ্বিগুণ ফলন হচ্ছে। এতে আগাম শিম চাষে আশার আলো দেখছেন কৃষকেরা। এ বছর উপজেলায় ৪৫ হেক্টর জমিতে আগাম শিম চাষ হয়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দ্বিতীয়বারের মতো বিভিন্ন রঙের ফুলকপির আবাদ হয়েছে। সাদা ফুলকপির চেয়ে কিছুটা কম সময় লাগে রঙিন ফুলকপি চাষ করতে। তাই কৃষকদের মধ্যে রঙিন ফুলকপি চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বেগুন চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। দিন দিন চাষের পরিধি বাড়াচ্ছেন তারা। এখানকার উৎপাদিত বেগুন এলাকার চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শহরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বছরে অন্য সবজি চাষ করলেও শীত মৌসুমে বেগুন চাষ করেন অনেকেই। অনেকে আধুনিক পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল 'তাল বেগুন' চাষ
দেখতে সুন্দর। চাষের খরচ কম। সাদা ফুলকপির চেয়ে পুষ্টিগুণও বেশি। শুধু জৈব সার ব্যবহার করেই এ ফুলকপি চাষ করা যায়। এমন রঙিন ফুলকপি চাষে লাখ টাকা আয় করেছেন কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার বড় আজলদী গ্রামের কৃষক আবুল হাসিম। হলুদ ফুলকপি নিয়ে এরই মধ্যে কৃষকদের মাঝেও ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিটরুটের প্রথম চাষেই সফলতা মিলেছে। উপজেলার ২ কৃষক ভালো ফলন পেয়েছেন। ফলে আগামীতে এ উপজেলায় বিটরুট চাষের পরিধি বাড়বে বলে আশাবাদী উপজেলা কৃষি বিভাগ।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে স্কোয়াস চাষে সফল হয়েছেন কৃষক মুসলিম উদ্দিন। উপজেলার কাটাছড়া ইউনিয়নে বাড়ির পাশে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক ১০ শতক জমিতে স্কোয়াস চাষ করেছেন তিনি। দু'একদিন পর পর জমি থেকে ফলন তুলে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। অনেকে এসে জমি থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পরীক্ষামূলকভাবে গাজর চাষ করে প্রথমবারেই সফল হয়েছেন কৃষক নূর আলম। মাটির নিচে ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে গাজর। মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পেয়ে ফলও বৃদ্ধি হচ্ছে।