দামি আসবাব বা নতুন পর্দা নয়, ঘরের আনাচকানাচে গাছপালা, কাঠ, বাঁশ, বেত আর মৃদু আলোতেই ঘরকে প্রকৃতির কাছাকাছি করা যায়। অন্দরসজ্জার এই ধারার নাম বায়োফিলিক ডিজাইন; ‘বায়োফিলিয়া’ মানে প্রকৃতির প্রতি মানুষের সহজাত টান। অ্যাপার্টমেন্ট থেরাপি ও ম্যাজিক ব্রিকসের তথ্য অবলম্বনে জাগো নিউজ জানিয়েছে কীভাবে শুরু করা যায়।
গাছ বাছাই করুন ঘরের আকার, আলো-বাতাস আর আসবাবের অবস্থান বুঝে। বসার ঘরের ফাঁকা কোণে মনস্টেরা, স্নেক প্ল্যান্ট বা ফিডল লিফ ফিগ রাখা যায়। কম আলোয় মানিয়ে নিতে পারে জিজি প্ল্যান্ট বা কিছু জাতের মানিপ্ল্যান্ট; পিস লিলির আলো ও পরিচর্যার দিকে নজর রাখতে হবে। জানালার ধারে মানিপ্ল্যান্ট, বারান্দায় সিঙ্গোনিয়াম, অর্কিড বা মৌসুমি ফুল, রেলিংয়ে লতানো গাছ ঝোলানো যায়। গাছের সংখ্যা না বাড়িয়ে বিভিন্ন উচ্চতা ও পাতার আকৃতি মিলিয়ে সাজালে ঘর পরিপাটি থাকে।
শুধু গাছ রাখলেই হবে না; কাঠের টেবিল, বেতের চেয়ার, বাঁশের ঝুড়ি, পাটের কারুকাজ, মাটির ফুলদানি বা ছোট মাটির টব ঘরে স্বাভাবিক সৌন্দর্য আনে। খাবার টেবিলে প্লাস্টিকের বদলে বেত বা বাঁশের ঝুড়ি, দেয়ালে পাটের ওয়াল হ্যাঙ্গিং বা কাঠের ফ্রেম ব্যবহার করা যায়, তবে রং ও নকশায় সামঞ্জস্য রাখা জরুরি।
জানালার সামনে ভারী আসবাব না রেখে দিনের আলো ঢুকতে দিন, ভারী সিন্থেটিক পর্দার বদলে হালকা লিনেন বা সুতির পর্দা দিন। শোবার ঘরে ছোট গাছ রাখলে মাটির আর্দ্রতা আর পোকামাকড়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে; যে গাছের বেশি আলো লাগে, তা অন্ধকার ঘরে রাখবেন না, আর কৃত্রিম আলোকে গাছের আলোর বিকল্প ভাববেন না।
বড় বারান্দা বা ছাদ থাকলে কয়েকটি টব, লতানো গাছ, মৌসুমি ফুল আর বেতের চেয়ার-টেবিলে তৈরি হতে পারে ছোট সবুজ কোণ। কৃত্রিম ঘাসের বদলে আসল গাছের টব বিবেচনা করতে পারেন; জায়গা কম হলে দেয়ালে ঝোলানো টব বা উল্লম্ব বাগান ভালো বিকল্প।
একসঙ্গে সব কেনার দরকার নেই: প্রথমে জানালার পাশে একটি গাছ, কয়েকটি প্লাস্টিকের জিনিস বদলে প্রাকৃতিক উপকরণ, আর ঘরে আলো-বাতাসের পথ খুলে দেওয়া। তারপর ধীরে ধীরে নিজের পছন্দে সাজ বাড়ানো।
ছবি: JuliaWasniewska21 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪





মন্তব্য
(০)