২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপণ্য, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, আইটি সামগ্রী ও পরিবেশবান্ধব গাড়িতে বড় অঙ্কের শুল্ক-করছাড় দিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চার মাস পর এনবিআর জানতে চায়, ছাড়ের ফলে বাজারে দাম কমেছে কি না, ভোক্তা উপকৃত হয়েছেন কি না। এ নিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে প্রতিবেদন চেয়ে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি, জানিয়েছে সমকাল।
চিঠিতে ১৮টি পণ্য ও পণ্যশ্রেণির কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে খাদ্যপণ্য, কৃষি উপকরণ, চিকিৎসাসামগ্রী, ওষুধশিল্পের কাঁচামাল, কম্পিউটার সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক ও প্লাগইন হাইব্রিড গাড়ি, বস্ত্র এবং বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান রয়েছে। যেসব পণ্যে শুল্কের পাশাপাশি ভ্যাট বা সম্পূরক শুল্কও কমেছে, সেগুলোর আমদানি ব্যয়, বিক্রয়মূল্য ও ভোক্তা পর্যায়ের দামের পরিবর্তন বিশ্লেষণ জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবারের বাজেটে খেজুর ও ৪৫ ধরনের মসলায় নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাজধানীর কয়েকটি খুচরা বাজারে মসলার দাম প্রায় আগের মতোই পাওয়া গেছে, কিছু পণ্যের দাম উল্টো বেড়েছে। কারওয়ান বাজারের খেজুর ও ফল ব্যবসায়ী মামুনুর রশিদ বলেন, দুই সপ্তাহে পাইকারিতে খেজুরের কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। মুদি দোকানি মো. রায়হানের ভাষায়, কর কমানোর সুবিধা ছোট ব্যবসায়ী বা ভোক্তা পান না, পুরোটাই যায় আমদানিকারকের পকেটে।
টিসিবির তথ্যে, এক বছরে সাধারণ মানের খেজুরের দাম প্রায় ১৭ শতাংশ, আমদানি করা রসুনের ২১ শতাংশ, আদার ৫ শতাংশ, লবঙ্গের ৪ শতাংশ ও তেজপাতার ২৫ শতাংশ বেড়েছে; একই সময়ে জিরার দাম ১১ শতাংশ আর এলাচের প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।
ওষুধেও একই চিত্র। ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ মূসক ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর তুলে নেওয়া, ক্যানসারের ওষুধ তৈরির ৯টি কাঁচামালে সব শুল্ক-কর অব্যাহতি আর এপিআই উৎপাদনকারীদের ৫৩টি নতুন কাঁচামালে অব্যাহতি দেওয়া হলেও কয়েকটি ফার্মেসিতে আগের দামেই ওষুধ বিক্রি হতে দেখা গেছে। তেজগাঁওয়ের এক ফার্মেসির মালিক জানান, উৎপাদন খরচ বাড়ার কথা বলে কিছু কোম্পানি সরবরাহ কমিয়েছে, দাম বাড়িয়ে আবার বাজারে আনবে।
কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, শুল্ক-কর কমিয়ে সরকার রাজস্ব ছাড়লেও ভোক্তা সুফল পাননি, লাভবান হয়েছেন আমদানিকারকেরা; শুধু শুল্ক কমালে বাজার নিয়ন্ত্রণে আসে না, দরকার কঠোর তদারকি।
ছবি: ঢাকার বাজারে রসুন, Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)