প্রায় ৮০ লাখ মানুষের বন্দরনগরী চট্টগ্রামে এখনো কোনো পরিকল্পিত স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা নেই। বাসাবাড়ির পয়োবর্জ্য সেপটিক ট্যাংকে জমে, আর প্রতিদিন প্রায় ২৮৮ মিলিয়ন লিটার বর্জ্য পানি নালা ও খাল হয়ে নদীতে পড়ে। এই অবস্থা বদলাতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রথম আধুনিক স্যুয়ারেজ প্রকল্পের প্রথম জোন আগামী জুনে চালু হচ্ছে; কাজ শেষ হয়েছে ৭৮ শতাংশ।
ওয়াসার কর্মকর্তাদের হিসাবে, ২০৩০ সালে বর্জ্য পানির পরিমাণ দাঁড়াবে দিনে ৫১৫ মিলিয়ন লিটারে। সেপটিক ট্যাংকে দিনে প্রায় ৫৩৯ ঘনমিটার ফিক্যাল স্লাজ জমছে, যা ২০৩০ সাল নাগাদ ৭১৫ ঘনমিটারে উঠবে। শৌচাগারের বর্জ্য পানি নালা দিয়ে নদীতে যাচ্ছে, নালার ভেতর দিয়ে যাওয়া ওয়াসার পানির পাইপলাইনেও ঢুকে পড়ছে।
ঢাকায় স্যুয়ারেজ প্রকল্প হয়েছিল ১৯২৩ সালে, কিন্তু ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম ওয়াসা ৬৩ বছরেও নগরে স্যুয়ারেজ গড়তে পারেনি। এখন পুরো নগরকে ছয়টি জোনে ভাগ করে ছয়টি স্যুয়ারেজ ও দুটি ফিক্যাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে; প্রথম পর্যায়ে ক্যাচমেন্ট-১ এর কাজ শুরু হয় ২০২২ সালে।
প্রকল্প পরিচালক ও ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, প্রথম পর্যায়ে কোতোয়ালী, বাটালি হিল, লালখান বাজার, আগ্রাবাদ, পাঠানটুলী, চৌমুহনী, ঈদগাহ ও হালিশহরসহ ২১টি ওয়ার্ডের ২৮ হাজার বাড়িতে স্যুয়ারেজ লাইন যুক্ত হচ্ছে, সুফল পাবেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ। মাটির ৫ থেকে ১৫ মিটার গভীরে ২০০ কিলোমিটারের বেশি পাইপলাইন বসানো হচ্ছে, এর মধ্যে ১৩৫ কিলোমিটার শেষ।
হালিশহরের চৌচালায় ১৬৩ একর জমিতে দুটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট হচ্ছে। একটিতে পাইপলাইনে আসা দিনে নয় কোটি লিটার বর্জ্য পানি পরিশোধন করে পরিবেশসম্মতভাবে সাগরে ফেলা হবে; অন্যটিতে বিশেষ গাড়িতে বাসাবাড়ি থেকে সংগ্রহ করা দিনে ৩০০ টন বর্জ্য পরিশোধন করা যাবে। প্রকৌশলীরা জানান, বর্ষায় গভীরে পাইপ বসাতে সমস্যা হয়েছিল; বর্ষা শেষে পুরোদমে কাজ চলছে, জুনের মধ্যে শেষ হবে বলে তাঁদের আশা।
পয়োবর্জ্য সরাসরি খাল-নালা হয়ে নদীতে পড়া বন্ধ হলে নগরের পানি ও নদীর দূষণ কমবে, যার সুফল পাবে নদীর মাছ আর নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল মানুষ।
প্রতিবেদনটি দৈনিক আজাদীর জন্য লিখেছেন হাসান আকবর।
ছবি: শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে একটি পানি শোধনাগার (প্রতীকী), Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দৈনিক আজাদী





মন্তব্য
(০)