বৈশ্বিক উষ্ণতা সীমিত রাখতে আগামী কয়েক বছরে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ দ্রুত কমানোর তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপি। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে নিঃসরণ ১৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে; তা না হলে তাপমাত্রা আরও বাড়বে, বাড়বে তীব্র তাপপ্রবাহসহ জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার লক্ষ্য অর্জন এখন অত্যন্ত কঠিন। তবে নিঃসরণ ওই হারে কমানো গেলে উষ্ণতা বৃদ্ধি ১.৭ ডিগ্রির মধ্যে রাখার ভালো সম্ভাবনা থাকবে; তার পরও তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়া ঘন ঘন হতে পারে।
পূর্বাভাস বলছে, দেশগুলো তাদের হালনাগাদ জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলেও শতাব্দীর শেষ দিকে তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে; বর্তমান নীতি অপরিবর্তিত থাকলে বাড়তে পারে ২.৮ ডিগ্রি। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক নিঃসরণ আগের বছরের কাছাকাছি ছিল, তবে এক বছরের তথ্য দিয়ে নিঃসরণ বৃদ্ধি থেমে গেছে বলা যায় না; ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে তা আবার বাড়তে পারে।
ইউএনইপির নির্বাহী পরিচালক ইঙ্গার অ্যান্ডারসন বলেছেন, পদক্ষেপ নিতে দেরি করায় উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে রাখার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, তবে লক্ষ্যটি ছেড়ে না দিয়ে বাড়তি উষ্ণতার মাত্রা ও সময়কাল কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
জলবায়ু গবেষণা সংস্থা ক্লাইমেট অ্যানালিটিকসের প্রধান নির্বাহী বিল হেয়ার বলেছেন, সব দেশেরই নিঃসরণ কমানোর দায়িত্ব আছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মতো বড় জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর ভূমিকা বিশেষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি আর বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।
উষ্ণতার প্রতিটি দশমিক ডিগ্রি বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য তাপপ্রবাহ, লবণাক্ততা আর অনিয়মিত বৃষ্টির ঝুঁকি বাড়ায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে মাঠের ফসলে।
প্রতিবেদনটি প্রতিদিনের সংবাদের আন্তর্জাতিক ডেস্কের, গার্ডিয়ানের বরাতে।
ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র (প্রতীকী), Ken Lund / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: প্রতিদিনের সংবাদ





মন্তব্য
(০)