কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্রের চরে আটটি কমিউনিটি ক্লিনিকের একটিতেও প্রসবের ব্যবস্থা নেই। প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক কলামে লেখক ও সংগঠক নাহিদ হাসান চরশাখাহাতী ঘুরে এসে এই চিত্র তুলে ধরেছেন।
তিনি লিখেছেন, গত দেড় বছরে চরশাখাহাতীর পশ্চিম দিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার নদীভাঙন হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দুবার সরাতে হয়েছে, কমিউনিটি ক্লিনিকটিও ভেঙে গেছে। মাঠে কৃষকেরা পাট কাটার পর ভুট্টা লাগাবেন বলে লাভজনক গাঞ্জিয়া ধানের বদলে ২৮ ধান লাগাচ্ছেন।
চরের বাসিন্দা শাপলা মণি (২৮) লেখককে বলেন, ক্লিনিকে একজনই লোক, তিনিও পুরুষ; চেকআপের জন্যও উপজেলা সদর থানাহাটে যেতে হয়। একটি এনজিওর এক কর্মী মাসে একবার এসে সর্দি-কাশির ওষুধ দেন, তাঁকে লোকে "৫ টাকার ডাক্তার" বলে ডাকে।
কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার ইয়াসিন জানান, উপজেলার ১৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকে এ পদে ১০ থেকে ১১ জন নারী আছেন। চিলমারী, অষ্টমীরচর ও নয়ারহাট, এই তিন ইউনিয়নই ব্রহ্মপুত্রের চরে। তাঁরা গর্ভবতী নারীদের ওজন, উচ্চতা, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হিমোগ্লোবিন মাপেন এবং ২২ ধরনের ওষুধ দেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম (৬৭) বলেন, চরেই নিরাপদ প্রসবের ব্যবস্থাই তাঁদের প্রধান দাবি।
লেখকের হিসাবে, চরের একজন নারীকে বাড়ি থেকে নদীর ঘাট পর্যন্ত নিরাপদে আনতেই দুই ঘণ্টা লাগে। এরপর নৌকায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার উজানে উপজেলা সদরে পৌঁছাতে আরও সময় লাগে, এতেই অনেকের মৃত্যু ঘটে।
চরে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি তীব্র ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতা, শিশুর নিউমোনিয়া, প্রসূতির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, প্রসবজনিত জটিলতা, নবজাতকের শ্বাসকষ্ট বা ধনুষ্টঙ্কার, হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও সাপের কামড়ের কথা লিখেছেন। ডায়রিয়া ছাড়া এর প্রায় কোনোটির চিকিৎসার ব্যবস্থা ক্লিনিকে নেই; তাহলে কমিউনিটি ক্লিনিকের কাজ কী, সে প্রশ্ন রেখেছেন তিনি।
এই লেখায় প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব।
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)