সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৭ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা৩০°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৫৭%বাতাস ৮ কিমি/ঘ

খাদ্যবৈচিত্র্য ফেরাতে খাদ্যব্যবস্থা বদলের ডাক পাভেল পার্থর

বিশ্ব খাদ্য দিবসের কলামে পাভেল পার্থ লিখেছেন, সবুজ বিপ্লবের পথে চলা মানুষকেন্দ্রিক ও বাণিজ্যনির্ভর খাদ্যব্যবস্থায় হারিয়ে যাচ্ছে দেশের খাদ্যবৈচিত্র্য; তিনি গ্রামভিত্তিক খাদ্যস্মৃতি মানচিত্র তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন।

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক কলামে পাভেল পার্থ লিখেছেন, বাংলাদেশের খাদ্যব্যবস্থা প্রবলভাবে মানুষকেন্দ্রিক এবং একই সঙ্গে নিওলিবারেল ও বহুজাতিক বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণে। তাঁর মতে, এই অসম ও অন্যায্য ব্যবস্থার বদল এখন জরুরি।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব তুলে ধরে তিনি জানান, বিশ্বে ৬৪ দশমিক ৫ কোটি মানুষ ক্ষুধার্ত এবং ২৬৯ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার জোগাতে পারে না। এবারের প্রতিপাদ্য "আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি"। লেখকের ব্যাখ্যায়, লোকায়ত জ্ঞান ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি মিলিয়ে সবার জন্য বৈচিত্র্যময়, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করাই সেই উদ্ভাবন।

কলামে তিনি অভিযোগ করেন, "বাম্পার ফলনের" বয়ানের আড়ালে সবুজ বিপ্লবের প্রকল্প চাপিয়ে কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থাকে জিম্মি করা হয়েছে। এতে বৈচিত্র্য নষ্ট হয়েছে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প কৃষিজমি গ্রাস করছে, তরুণেরা কৃষি থেকে সরে যাচ্ছে। নতুন কোনো "জিন-বিপ্লবেরও" দরকার নেই বলে মনে করেন তিনি; দেশের মাটি, পানি, প্রাণসম্পদ আর লোকায়ত জ্ঞানের ওপর আস্থাই তাঁর কাছে টিকে থাকার রসদ।

লেখকের মতে, গ্রামের মানুষের কাছে খাদ্য মানে শুধু মানুষের খাবার নয়। রাসায়নিক চাষাবাদে কেঁচো, ব্যাঙ, সাপ, মৌমাছি, শামুক ও মাছের সংসার ভেঙে পড়ছে। ধানের সঙ্গে তুষ, খুদ ও খড় না হলে গরু-ছাগল আর হাঁস-মুরগি কী খাবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

উদাহরণ হিসেবে তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈরের হাওরিয়াচালা গ্রামের কথা লিখেছেন। একসময়ের সচ্ছল গৃহস্থ সুনীল চন্দ্র বর্মণ এখন দিনমজুর। তাঁর বাবা ও দাদা শালবনের জমিতে বিন্নি, কালিজিরা, রাজাশাইলসহ বহু জাতের ধান চাষ করতেন; মা অঙ্কুরিত গুদধই বা বনকোষ ধান দিয়ে শীতে "বকনি" রাঁধতেন। উপকরণের অভাবে পরিবারটি এখন আর তা রাঁধতে পারে না; তাঁদের পোশাককর্মী মেয়ে কখনো বকনি খায়নি।

দেশ ইলিশ, কালিজিরা ধান, ফজলি ও ক্ষীরশাপাতি আম, সুন্দরবনের মধু, খেজুর গুড়সহ বহু পণ্যকে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে নিবন্ধন করেছে। তবু হাওরের "মুচি" থেকে মান্দিদের "খারি" পর্যন্ত অনেক খাবার হারিয়ে যাচ্ছে বলে লেখেন তিনি। তাঁর প্রস্তাব, স্থানীয় বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ মিলে গ্রামভিত্তিক "খাদ্যস্মৃতি মানচিত্র" তৈরি করুক, আর মেধাস্বত্ব নিশ্চিত করে অঞ্চলভিত্তিক গ্রামীণ রেসিপির দলিলায়ন হোক।

এই লেখায় প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব।

সূত্র: প্রথম আলো

প্রথম আলোসূত্র

মতামত

সম্পর্কিত খবর

মতামত

কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদন নয়, সুস্থ জীবনের ভিত্তি: সমীরণ বিশ্বাসের কলাম

জাগো নিউজে প্রকাশিত কলামে সমীরণ বিশ্বাস লিখেছেন, খাদ্যনিরাপত্তা মানে শুধু উৎপাদন নয়; নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার, মাটির স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির যাচাই করা ব্যবহার, অপচয় কমানো এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য মিলিয়েই টেকসই কৃষি।

জাগো নিউজ ২৪১৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

চিলমারীর চরের আট ক্লিনিকের একটিতেও প্রসবের ব্যবস্থা নেই

কুড়িগ্রামের চিলমারীর ব্রহ্মপুত্রের চরে আটটি কমিউনিটি ক্লিনিকের কোনোটিতে প্রসবের ব্যবস্থা নেই; চরের মানুষের মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর চিকিৎসাও সেখানে মেলে না বলে এক কলামে লিখেছেন লেখক ও সংগঠক নাহিদ হাসান।

প্রথম আলো১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
আঙিনা কৃষি

দেয়াল, কড়িকাঠ আর চুলার ওপরের তাক: সিকিমের ঘরে যেভাবে বাঁচে দেশি বীজ

বিশ্ব খাদ্য দিবসে ডাউন টু আর্থে লেখা এক মতামতে আনুশকা গুরুং ও সোনম ইয়াংচেন ভুটিয়া দেখিয়েছেন, সিকিমের গৃহস্থ বাড়ির দেয়াল, ছাদ, চুলা আর আঙিনার বাগান কীভাবে দেশি বীজ ও জ্ঞান বাঁচিয়ে রাখে।

ডাউন টু আর্থ১৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)