সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ইলিশ উৎপাদন আট বছরে সর্বনিম্ন: মন্ত্রীর আশ্বাস ও কঠিন বাস্তবতা

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টন, যা আট বছরে সর্বনিম্ন; ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল এ তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী। ১১ এপ্রিল জাগো নিউজে প্রকাশিত কলামে ডেপুটি এডিটর লেখেন, আশ্বাসের সঙ্গে এখন বাস্তবায়নই আসল পরীক্ষা।

ইলিশ উৎপাদন আট বছরে সর্বনিম্ন: মন্ত্রীর আশ্বাস ও কঠিন বাস্তবতা
মৎস্য

দেশে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় ৫ লাখ টনে, যা গত আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরের পর সবচেয়ে কম। মৎস্য অধিদপ্তরের এই তথ্য তুলে ধরেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, সোমবার, ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোকে তিনি বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন। এর পাঁচ দিন পর, ১১ এপ্রিল, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও জাগো নিউজের ডেপুটি এডিটর "ইলিশ উৎপাদন: সংকট, মন্ত্রীর আশ্বাস ও কঠিন বাস্তবতা" শিরোনামের এক কলামে এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করেন। মন্ত্রীর আশ্বাসকে তিনি ইতিবাচক বলেন, তবে তাঁর যুক্তি ছিল, আশ্বাস নয়, বাস্তবায়নই হবে আসল পরীক্ষা, আর জাতীয় মাছের এই সংকটের পেছনে একসঙ্গে কাজ করছে একাধিক কারণ।

৬ এপ্রিল মন্ত্রী যা বলেছিলেন


সংবাদ সম্মেলনটি হয়েছিল জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে। সপ্তাহটি ৭ থেকে ১৩ এপ্রিল দেশের ২০টি ইলিশসমৃদ্ধ জেলায় পালিত হয়, প্রতিপাদ্যের মূল কথা ছিল, জাটকা ধরা বন্ধ হলে নদী ও সাগর ইলিশে ভরে উঠবে, আর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয় চাঁদপুর সদরে। ইউএনবি ও দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রী জানান, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ৯.৭৯ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রায় ১ শতাংশ; বিশ্বের মোট ইলিশের ৮০ শতাংশের বেশি আসে বাংলাদেশের নদী, মোহনা ও উপকূলীয় জলসীমা থেকে, আর ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম। তাঁর হিসাবে প্রায় ৬ লাখ মানুষ সরাসরি ইলিশ আহরণে যুক্ত, আর আরও ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ পরিবহন, বিপণন, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির কাজে জড়িত। ইলিশ যে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে, সে কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

উৎপাদন ধরে রাখা কেন কঠিন, তার কারণও মন্ত্রী তুলে ধরেন: নদী ভরাট হয়ে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীদূষণ এবং মৎস্যসম্পদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ। দৈনিক দেশ রূপান্তর ৭ এপ্রিল জানায়, তিনি নদীতে পলি জমাকে একটি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং বলেন, ইলিশ যাতে অবাধে চলাচল করতে পারে সে জন্য নদী ও খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে ডুবোচর অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে বলেও তিনি জানান।

ইলিশের উচ্চমূল্য নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ইউএনবির ভাষ্যে, সরকারের অগ্রাধিকার হলো উৎপাদন বাড়ানো; উৎপাদন বাড়লে সরবরাহ বাড়বে এবং বাজারে দামও কমবে, পাশাপাশি উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল করার কাজও চলছে। সরকারের সংরক্ষণ কার্যক্রমের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের ফলে ইলিশের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের যৌথ অভিযানের ফলে জাটকার বিস্তার মেঘনা ছাড়িয়ে পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও সুরমার মতো নদীতেও পৌঁছেছে; পদ্মা ও যমুনা তীরের অনেক জেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ার খবর আসছে।

একই সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, প্রথমবারের মতো ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে দুই মাসের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে: ৮০ কেজি চাল, ১২ কেজি আটা, ১০ কেজি তেল, ৮ কেজি ডাল, ৪ কেজি চিনি ও ১৬ কেজি আলু, যার মূল্য পরিবারপ্রতি প্রায় ৬ হাজার টাকা। দেশ রূপান্তর এ তথ্য জানায়। জ্বালানির ঘাটতির কারণে ট্রলার সাগরে যেতে পারছে কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত বড় কোনো সমস্যা নেই।

আট বছরের ইলিশ উৎপাদনের হিসাব


কলামের পরিসংখ্যানের উৎস মৎস্য অধিদপ্তর। ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী বিভিন্ন অর্থবছরে ইলিশের উৎপাদন ছিল:

  • ২০১৬-১৭: ৪ লাখ ৯৬ হাজার টন
  • ২০১৭-১৮: ৫ লাখ ১৭ হাজার টন
  • ২০১৮-১৯: ৫ লাখ ৩২ হাজার টন
  • ২০১৯-২০: ৫ লাখ ৫০ হাজার টন
  • ২০২০-২১: ৫ লাখ ৬৫ হাজার টন
  • ২০২১-২২: ৫ লাখ ৬৬ হাজার টন
  • ২০২২-২৩: ৫ লাখ ৭১ হাজার টন, এই সময়ের সর্বোচ্চ
  • ২০২৩-২৪: ৫ লাখ ২৯ হাজার টন
  • ২০২৪-২৫: প্রায় ৫ লাখ টন, আট বছরে সর্বনিম্ন

দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা অবশ্য ছিল ঊর্ধ্বমুখী। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানিয়েছিলেন, ১৫ বছরে ইলিশের উৎপাদন ৯২ শতাংশ বেড়েছে: ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ২ লাখ ৯৮ হাজার টন থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন। লেখক এই প্রবৃদ্ধির কৃতিত্ব দেন অভয়াশ্রম ঘোষণা, জাটকা সংরক্ষণ এবং মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার মতো উদ্যোগকে। আহরিত ইলিশের বড় অংশই এখন আসে সাগর থেকে: মঙ্গাবের ২০২৩ সালের জুনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে উৎপাদিত ৫ লাখ ৬৫ হাজার ১৮৩ টন ইলিশের প্রায় ৬৫ শতাংশ এসেছিল সাগর থেকে, বাকিটা অভ্যন্তরীণ নদী থেকে।

কলামে তিনি লেখেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই প্রবৃদ্ধি থমকে গেছে, কিছু এলাকায় উৎপাদন কমার অভিযোগও উঠছে, আর বিশেষ করে মেঘনা অববাহিকা ও উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা বলছেন, আগের তুলনায় তাঁরা কম ইলিশ পাচ্ছেন। তাঁর মতে, মন্ত্রীর বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সংকটটি বহুমাত্রিক ও গভীর।

ছোট হচ্ছে ইলিশ: বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা


সংবাদ সম্মেলনের দুই দিন পর বিজ্ঞানীরাও নিজেদের সতর্কবার্তা দেন। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের মিলনায়তনে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, ইলিশের গড় আকার ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হয়ে এসেছে। গড় দৈর্ঘ্য ২০১৯-২০ ও ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল ৩৫.৭ সেন্টিমিটার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৭.০ সেন্টিমিটার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৭.২ সেন্টিমিটার; এরপর তা কমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৬.৬ সেন্টিমিটার, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৪.৭ সেন্টিমিটার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৪.০ সেন্টিমিটারে দাঁড়ায়।

এই পতনের জন্য তিনি দায়ী করেন অতিরিক্ত আহরণ, জাটকা নিধন, মানুষের নানা হস্তক্ষেপ, পরিবেশের পরিবর্তন, পানির মানের অবনতি এবং নদীতে খাদ্যের ঘাটতিকে। অঞ্চলভেদে আকারেও পার্থক্য আছে। কক্সবাজারে ধরা ইলিশ, যারা সাগরেই জীবনচক্র সম্পন্ন করে, আকারে সবচেয়ে বড়: গড় দৈর্ঘ্য ৩৮.৫ সেন্টিমিটার, গড় ওজন ৭৮০ গ্রাম। অন্যদিকে রাজশাহীর ইলিশ, যারা নদীব্যবস্থার মধ্যেই আটকে থাকে এবং যেখানে বেড়ে ওঠার পরিবেশ দুর্বল, সবচেয়ে ছোট: গড় দৈর্ঘ্য ২৯ সেন্টিমিটার, ওজন ৩৪০ গ্রাম। তাঁর ব্যাখ্যায়, নদীতে অতিরিক্ত আহরণ ও অবৈধ জালে বড় মাছই বেশি ধরা পড়ে, আর সাগর থেকে নদীতে আসার পথে উপকূলে অতিরিক্ত আহরণের ফলে অনেক পরিপক্ব মাছ ডিম ছাড়ার আগেই ধরা পড়ে। তিনি ডিম উৎপাদনের যে প্রাক্কলন তুলে ধরেন, তাতে ২০১৫ সালে ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭২০ কেজি থেকে ২০২৪ সালে ৮ লাখ ১১ হাজার ৭১১ কেজি এবং ২০২৫ সালে ৮ লাখ ৮৪ হাজার ৮০২ কেজিতে ওঠার হিসাব রয়েছে; তবে ২০২৫ সালের আরেকটি প্রাক্কলনে এ সংখ্যা ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫৬৪ কেজি, এবং এই কমতিকে তিনি বড় প্রজননক্ষম মাছ হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে যুক্ত করেন।

একই সেমিনারে মন্ত্রী বিজ্ঞানীদের আরও সক্রিয়ভাবে গবেষণা করতে, জাটকার সংখ্যা বাড়াতে এবং কৃত্রিম প্রজনন উন্নত করতে আহ্বান জানান, এবং ইলিশের ঘাটতিকে একটি জাতীয় সমস্যা বলে উল্লেখ করেন। প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, জাটকা ধরা পুরোপুরি বন্ধ করা গেলে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

ভোলা জেলায় মেঘনা নদীর কাছে জেলেদের মাছ ধরার নৌকা। ছবি: Toushik.hamid / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ভোলা জেলায় মেঘনা নদীর কাছে জেলেদের মাছ ধরার নৌকা। ছবি: Toushik.hamid / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

জাতীয় মাছ ইলিশ ও তার পোনা জাটকা


ইলিশ (বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha) হেরিং গোত্রের, অর্থাৎ ক্লুপিইডি পরিবারের মাছ এবং বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া একে দ্রুতগতির, রুপালি আঁশে ঢাকা মাছ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা দৈর্ঘ্যে ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে, তবে সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ সেন্টিমিটারের মাছই বেশি পাওয়া যায়; বড় একটি ইলিশের ওজন প্রায় আড়াই কেজি। স্ত্রী মাছ পুরুষ মাছের চেয়ে দ্রুত বাড়ে ও বড় হয়, আর এক থেকে দুই বছরে মাছটি প্রজননক্ষম হয়। সাগর, মোহনা ও নদী, তিন ধরনের পানিতেই এর বাস: পারস্য উপসাগর ও আরব সাগর থেকে বঙ্গোপসাগর এবং ভিয়েতনাম ও চীনের সাগর পর্যন্ত। নদীর মধ্যে সিন্ধু, ভারতের নদীগুলো, মিয়ানমারের ইরাবতী এবং বাংলাদেশের পদ্মা, যমুনা, মেঘনা ও কর্ণফুলীতে এটি উজানে যায়। এর প্রধান খাদ্য প্লাংকটন।

ইলিশ অ্যানাড্রোমাস বা সমুদ্রবাসী অভিপ্রয়াণী মাছ: প্রাপ্তবয়স্ক মাছ সাগর ছেড়ে নদীর উজানে যায় মিঠা পানিতে ডিম ছাড়তে। বড় একটি স্ত্রী ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। বছরের প্রায় সারা সময়ই ডিম ছাড়া চলে, তবে ফেব্রুয়ারি-মার্চে একটি ছোট মৌসুম এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে প্রধান মৌসুম। ভাসমান ডিম নদীতেই ফোটে, লার্ভা নার্সারি এলাকায় খেয়ে বড় হয় এবং ছয় থেকে দশ সপ্তাহে ১২ থেকে ২০ সেন্টিমিটার হয়। এই পর্যায়ের ইলিশকেই বলা হয় জাটকা; তখন এরা সাগরের দিকে নামতে শুরু করে, সেখানে খেয়ে বড় হয়ে প্রজননক্ষম হয়ে আবার নদীতে ফেরে।

সাগরের দিকে এই যাত্রার সময়ই পোনা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বাংলাপিডিয়ায় উল্লেখ আছে, ১৯৯২-৯৪ সালে বিএফআরআইয়ের এক জরিপে দেখা যায়, প্রতিবছর জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মৌসুমে জগৎবেড় জাল, কারেন্ট জাল ও বেহুন্দি জালের মতো নানা সরঞ্জামে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টন জাটকা ধরা পড়ত, যার অর্ধেকের বেশি মেঘনায়। জ্ঞানকোষটি লিখেছে, মৎস্য বিধিমালায় জাটকা ধরার অনুমতি না থাকলেও এই চর্চা থামেনি।

কলামে সংকটের কারণগুলোর তালিকায় প্রথমেই ছিল জাটকা নিধন, যাকে লেখক বলেছেন ভবিষ্যৎ ধ্বংসের বর্তমান চর্চা। লেখক লেখেন, জাটকা ধরা আইনত নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, আর দারিদ্র্যপীড়িত জেলেদের পক্ষে এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা কঠিন।

চাঁদপুরে পুড়িয়ে ফেলার আগে স্তূপ করে রাখা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
চাঁদপুরে পুড়িয়ে ফেলার আগে স্তূপ করে রাখা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল। ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

নদী, দূষণ ও বদলে যাওয়া জলবায়ু


লেখকের দ্বিতীয় কারণ নদীর অবস্থা। তিনি লেখেন, পদ্মা-মেঘনা অববাহিকার অনেক নদী এখন আর আগের মতো প্রবহমান নেই; নদী দখল, পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়া এবং অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ এমন এক অভিপ্রয়াণী মাছের চলাচল ও প্রজননে বাধা তৈরি করছে, যাকে ডিম ছাড়তে সাগর থেকে মিঠা পানিতে আসতেই হয়। বাংলাপিডিয়া দীর্ঘ সময়ের পরিসরে একই চাপের কথা বলেছে। ১৯৭২ সালের দিকে পর্যন্ত ইলিশ আহরণ মূলত পদ্মা, মেঘনা, করতোয়া, রূপসা, শিবসা ও পায়রার মতো উজানের নদীতে কেন্দ্রীভূত ছিল; পরে উজানে তা মারাত্মকভাবে কমে গিয়ে ভাটির নদী, মোহনা, উপকূল ও সাগরে সরে আসে। কারণ হিসেবে জ্ঞানকোষটি উল্লেখ করেছে ফারাক্কা বাঁধের পর গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া ও তার ফলে ব্যাপক পলি জমা, অভিপ্রয়াণপথে বিঘ্ন, ডিম ছাড়া, খাদ্য গ্রহণ ও নার্সারি এলাকা হারিয়ে যাওয়া, এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্প। কুমার নদ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নবগঙ্গা হয়ে সাগর থেকে পদ্মায় ইলিশের আসার পথ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, আর চাঁদপুর সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প এবং মেঘনা-ধনাগোদা সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প জাটকার নার্সারি এলাকার ক্ষতি করেছে।

তৃতীয় কারণ দূষণ, যাকে লেখক বলেছেন অদৃশ্য ঘাতক। তিনি লেখেন, শিল্পকারখানার বর্জ্য, ট্যানারির বর্জ্য ও প্লাস্টিক দূষণ ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করছে, এবং বিশেষ করে ঢাকার আশপাশের নদীগুলোর কথা উল্লেখ করেন। বাংলাপিডিয়ার তালিকাতেও ইলিশ কমে যাওয়ার কারণের মধ্যে নদীদূষণ বৃদ্ধির কথা আছে। ২০২৩ সালের জুনে ইলিশ নিয়ে প্রতিবেদনে মঙ্গাবে ২০১৫ সালের একটি গবেষণার উল্লেখ করে, যাতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীর কম প্রবাহ, মাছ ধরার এলাকার উজানে ও ভাটিতে বাঁধ, পলি জমা এবং জনবসতি, শিল্প ও কৃষি থেকে আসা দূষণকে দায়ী করা হয়েছে; গবেষণাটি বলেছে, লবণাক্ততা, তাপমাত্রা ও পরিবাহিতা পানির মান ও দ্রবীভূত অক্সিজেনকে প্রভাবিত করে। একই প্রতিবেদনে ২০২০ সালে আন্ধারমানিক নদীর অভয়াশ্রম নিয়ে করা একটি গবেষণার কথাও আছে, যাতে দেখা গেছে, ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ মানুষের নানা কর্মকাণ্ড গবেষণা এলাকায় পানির প্রবাহ ও গভীরতা কমিয়ে দিয়েছে।

চতুর্থ কারণ জলবায়ু পরিবর্তন: সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও লবণাক্ততার পরিবর্তন, যা লেখকের ভাষায় ইলিশের স্বাভাবিক জীবনচক্রে প্রভাব ফেলছে। মঙ্গাবের প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ডিমের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে; আর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) জানিয়েছিল, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লে নদীর লবণাক্ততাও বাড়ে, এবং ডিম ছাড়ার এলাকা আরও ভাটিতে সরে গেলে জাটকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিএফআরআইয়ের তৎকালীন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনিসুর রহমান মঙ্গাবেকে বলেছিলেন, মানুষের কর্মকাণ্ড, জলবায়ু পরিবর্তন, পলি জমা ও নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়া ইলিশের অভিপ্রয়াণপথ ও প্রজননস্থল বিঘ্নিত করছে, স্থানান্তরিত করছে বা নষ্ট করে দিচ্ছে; দূষণের কারণে ইলিশ নদী ছেড়ে গভীর সাগরের দিকে সরে যাচ্ছে, আর ট্রলার ও অন্যান্য নৌযানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াও চাপ বাড়াচ্ছে।

ঢাকার কাছে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে একটি কারখানা থেকে দূষণ। ছবি: Kritzolina / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ঢাকার কাছে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে একটি কারখানা থেকে দূষণ। ছবি: Kritzolina / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

একজন জেলের অভিজ্ঞতা


পরিসংখ্যানের অর্থ নদীতে কেমন দাঁড়ায়, তা বোঝাতে কলামে ভোলা জেলার চরফ্যাশনের জেলে আবদুর রহিমের কথা উল্লেখ করা হয়, যিনি ২০ বছর ধরে ইলিশ ধরেন। কলামে উদ্ধৃত তাঁর বক্তব্য: "আগে একদিনে ২০-২৫ কেজি ইলিশ পাওয়া যেত, এখন ৫-৭ কেজি পেলেই ভাগ্য ভালো বলতে হয়।" কলামে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার সময় বিকল্প কাজ না পেয়ে তিনি ঋণ নিতে বাধ্য হন, আর সে কারণে অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে জাটকা ধরতে নামেন। লেখকের মতে, রহিমের এই অভিজ্ঞতা আইন ও জীবিকার দ্বন্দ্বে আটকে থাকা হাজারো জেলের বাস্তবতা তুলে ধরে।

এমন অভিজ্ঞতার কথা আগেও এসেছে। ২০২৩ সালের জুনে মঙ্গাবে পটুয়াখালীর জেলে আবদুল গফফার মাঝির বক্তব্য প্রকাশ করে, যিনি দুই দশক ধরে রাবনাবাদ চ্যানেলে মাছ ধরেন; তিনি বলেছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওই চ্যানেল বা আশপাশের নদীতে তিনি কোনো ইলিশ দেখেননি। প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরে তিন সপ্তাহের দুটি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জেলেরা তাঁদের চেনা পথে আগের চেয়ে কম মাছ পাচ্ছিলেন।

২০২৬ সালের এপ্রিলে কার্যকর বিধিনিষেধ ও সহায়তা


৬ এপ্রিলের সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী সরকারের প্রধান সংরক্ষণ ব্যবস্থাগুলোর যে তালিকা দেন, ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী তা হলো:

  • বঙ্গোপসাগরে ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ।
  • প্রজননের ভরা মৌসুমে ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ।
  • ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরা, পরিবহন ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • ছয়টি ইলিশ অভয়াশ্রম এবং নির্দিষ্ট এলাকায় মৌসুমভিত্তিক মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা।
  • ৩ হাজার ১৮৮ বর্গকিলোমিটারের সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা।
  • জেলেদের খাদ্য সহায়তা ও বিকল্প জীবিকার সহায়তা, সঙ্গে টেকসই উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য প্রকল্প এবং ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের মতো কর্মসূচি।

মন্ত্রী জানান, প্রায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার জেলে পরিবার চার মাস ধরে মাসে ৪০ কেজি করে চাল পায়, বছরে মোট ৫৮ হাজার ৭২০ টন; এ ছাড়া প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞার সময় ৬ লাখ ১৯ হাজার ৩১২টি পরিবার ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা পেয়েছে। ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় জেলেদের বিকল্প আয়ের জন্য প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম, এমনকি বাছুরও দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ কারেন্ট জাল ও বেহুন্দি জালের বিরুদ্ধে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ১৮টি জেলার ৯৬টি উপজেলায় ৩০ দিনের "বিশেষ কম্বিং অপারেশন ২০২৬" চালানো হয়, মার্চে ৭৯টি উপজেলায় চলে ১৫ দিনের অভিযান, আর জুন পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানানো হয়।

মঙ্গাবের ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে ছয়টি অভয়াশ্রম ও তাদের দৈর্ঘ্যের তালিকা দেওয়া আছে: মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার; মেঘনার মোহনায় শাহবাজপুর চ্যানেলের ৯০ কিলোমিটার; তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার; আন্ধারমানিক নদীর ৪০ কিলোমিটার; নিম্ন পদ্মার ২০ কিলোমিটার; এবং মেঘনার হিজলা থেকে মেহেন্দিগঞ্জ পর্যন্ত ৮৩ কিলোমিটার। আন্ধারমানিক ছাড়া সব অভয়াশ্রমে মার্চ-এপ্রিলে মাছ ধরা বন্ধ থাকে; আন্ধারমানিকে বন্ধ থাকে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি।

কলাম প্রকাশের ঠিক আগের দিন এসব নিষেধাজ্ঞার আইনি ভিত্তিতেও পরিবর্তন আসে। মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ২৫ নং আইন), যার তারিখ ১০ এপ্রিল ২০২৬ এবং যা অবিলম্বে কার্যকর হয়, ১৯৫০ সালের Protection and Conservation of Fish Act সংশোধন করে। এতে মৎস্য অভয়াশ্রমের সংজ্ঞা দেওয়া হয়: সরকারি গেজেটে ঘোষিত এমন কোনো এলাকা বা পুরো জলাশয়, যেখানে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী সুরক্ষিত থাকে, যাতে তারা নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশে প্রজনন করতে, বেড়ে উঠতে ও অবাধে চলাচল করতে পারে; আর সরকারকে এমন অভয়াশ্রম ঘোষণার ক্ষমতা দেওয়া হয়, যেখানে স্থায়ীভাবে বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। আইনের প্রধান দণ্ড, অর্থাৎ ন্যূনতম এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা, বদলে করা হয় সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা; আর কারেন্ট জাল-সংক্রান্ত অপরাধে সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে দণ্ড বাড়িয়ে করা হয় সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা।

কলামে অভয়াশ্রম, প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞা ও ভিজিএফের চাল বিতরণের কথা স্বীকার করা হয়, এবং মন্ত্রীর এই বক্তব্যও উল্লেখ করা হয় যে এসব উদ্যোগ আরও জোরদার করা হবে ও উৎপাদন বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। তবে লেখক লেখেন, অনেক ক্ষেত্রে এই সহায়তা যথেষ্ট নয় বা সময়মতো পৌঁছায় না, ফলে জেলেরা বাধ্য হয়ে আইন অমান্য করেন।

কলামিস্টের প্রস্তাব


কলামের শেষে পাঁচটি প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা লেখকের যুক্তি অনুসারে এখানে তুলে ধরা হলো:

  • বিকল্প জীবিকা: শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তাই জেলেদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ, প্রশিক্ষণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
  • নদী পুনরুদ্ধার ও খনন: নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত খনন এবং দখলমুক্ত করার উদ্যোগ জোরদার করতে হবে।
  • কঠোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ: শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার বাধ্যতামূলক করা এবং কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা।
  • প্রযুক্তি ও গবেষণা: স্যাটেলাইট ট্যাগিংসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইলিশের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, যা নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে।
  • আঞ্চলিক সহযোগিতা: বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের সমন্বিত উদ্যোগ, যা ছাড়া লেখকের মতে ইলিশ সংরক্ষণ পুরোপুরি সফল হতে পারে না।

তিনি লেখেন, ইলিশ রক্ষায় বাংলাদেশ অতীতে সাফল্যের নজির গড়েছে, কিন্তু সেই ধারা ধরে রাখতে হলে আরও কঠোর, বিজ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন; আর এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে ইলিশ হয়তো শুধু গল্পেই থেকে যাবে।

ছবি: Fahad Faisal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ (জাগো নিউজের ডেপুটি এডিটরের কলাম, ১১ এপ্রিল ২০২৬), ইউএনবি, দ্য ডেইলি স্টার, দেশ রূপান্তর, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, মঙ্গাবে, বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশ আইন (মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

কেরালার উপকূলীয় নারীদের ৮৪টি মাছের ব্যবসা, পারিবারিক আয় বেড়েছে ৩০-৩৫ শতাংশ

আইসিএআর-সিএমএফআরআইয়ের এক কর্মসূচির সহায়তায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালে কেরালার আট জেলায় ৮৪টি মৎস্যভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে; সরাসরি উপকৃত ৪৬৯ জন, যাঁদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

আট পদের পাঁচটিই শূন্য, তিনজনে চলছে শায়েস্তাগঞ্জের সরকারি মৎস্য বীজ খামার

১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ সরকারি মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারে ১২টি পুকুরে পোনা উৎপাদন চললেও আট পদের পাঁচটি শূন্য, নৈশপ্রহরী নেই, বরাদ্দ না থাকায় চাষি প্রশিক্ষণও বন্ধ।

মানবজমিন১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)