আরব সাগর দীর্ঘদিন ধরে মুম্বইয়ের জন্য দূষণের বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ঢাল হয়ে ছিল; প্রতি শীতে উত্তর ভারতে যে বিষাক্ত বাতাস ছড়ায়, সমুদ্রের হাওয়া তা সরিয়ে দিত। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। কলকাতার সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার মুম্বইয়ের বায়ুমান সূচক (একিউআই) দিল্লিকে ছাড়িয়ে গেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে মুম্বইয়ের একিউআই প্রায় ৪০০ ছুঁয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও গত সপ্তাহে দূষণের মাত্রায় ভারতের শীর্ষে উঠে আসে শহরটি।
নির্মাণকাজের ধুলো আর যানবাহনের ধোঁয়া এই দূষণের দুই বড় উৎস হলেও একমাত্র কারণ নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মন্থর বাতাস দূষিত কণাকে জমে থাকতে দিচ্ছে; সঙ্গে আশপাশের গ্রামীণ এলাকায় আবর্জনা পোড়ানো এবং উৎসবের সময় আতশবাজির ধোঁয়া বাতাসকে আরও বিষিয়ে তুলছে। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, সুপার এল নিনোর প্রভাবে সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বম্বে হাইকোর্টও প্রশ্ন তুলেছে, দিল্লির চেয়ে মুম্বই কীভাবে বেশি দূষিত হতে পারে।
দিল্লিতেও পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। দশেরার পরদিন থেকে রাজধানীর বাতাসে দূষিত কণার পরিমাণ গত পাঁচ বছরের দশেরা-পরবর্তী সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি; নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও শহরের একাংশে বাজি পোড়ানো হয়েছে।
দশেরার পরদিন দিল্লির একিউআই ছিল ২৪৫। এ সময় স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণার ঘনত্ব ছিল প্রতি ঘনমিটারে ৮১ থেকে সর্বোচ্চ ২১৭ মাইক্রোগ্রাম; রাতের সবচেয়ে দূষিত সময়ে গড় ছিল ১৯১.২ মাইক্রোগ্রাম। সামনে দিওয়ালি, তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটি সংবাদ প্রতিদিনের বিশ্বদীপ দে-র।
ছবি: Udaykumar PR / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0); মুম্বইয়ের ঘাটকোপারে ধোঁয়াশা।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন





মন্তব্য
(০)