গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হাই-টেক পার্কের জলাশয়ে পানির ওপর সারি সারি সৌর প্যানেল ভাসছে, আর তার নিচের পানিতে চলছে মাছ চাষ। সমকালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটিই দেশের বৃহত্তম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র; এর উৎপাদন ক্ষমতা ২.২৫ মেগাওয়াট।
প্যানেলগুলো ভাসিয়ে রাখা হয়েছে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের ড্রামের ওপর। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আলাদা জমি লাগছে না, আর একই জলাশয় কাজে লাগছে মাছ চাষেও। এর আগে শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুতের জন্য সাধারণত ছাদ ও খোলা জায়গা ব্যবহার হতো; জলাশয়কে বিদ্যুৎ ও মাছ, দুই কাজে লাগানোর দৃষ্টান্ত এখানে তৈরি হয়েছে।
জলাশয়ের পাশাপাশি কারখানার ছাদ, হাঁটার পথ ও গাড়ি রাখার জায়গাতেও প্যানেল বসানো হয়েছে। ফুটপাতের ওপর প্রায় আড়াই কিলোমিটার লম্বা সৌর শেড পথচারীদের রোদ-বৃষ্টি থেকে আড়াল দেয়, আবার ১.১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎও দেয়।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ আলী জানান, প্রতিষ্ঠানটির সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন ৩২ মেগাওয়াট; চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ১৮ মেগাওয়াট যোগ করে তা ৫০ মেগাওয়াটে নেওয়ার লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট, যার বড় অংশ দিনের বেলায় নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ থেকে মেটাতে চায় তারা।
কৃষিতেও সৌর প্যানেল ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। এ নিয়ে কৃষিবিদদের সঙ্গে আলোচনা চলছে; যেসব ফসলের জন্য একটানা কড়া রোদ ক্ষতিকর, সেসব জমিতে প্যানেল বসানো উপযোগী কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম দেশেই তৈরির প্রস্তুতিও নিচ্ছে ওয়ালটন: লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, বিদ্যুৎ সঞ্চয়ের ব্যাটারি ও সৌর ইনভার্টার। অবকাঠামো উন্নয়ন কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) প্রকল্পে ১৪৪ কোটি টাকা অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এর মধ্যে ৪৪ কোটি টাকা ছাড় হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, আগামী মাসে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন শুরু হতে পারে।
প্রতিবেদনটি গাজীপুর থেকে ফিরে লিখেছেন সমকালের হাসনাইন ইমতিয়াজ।
ছবি: SPG Solar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0); যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি সেচ-পুকুরে ভাসমান সৌর প্যানেল (প্রতীকী ছবি)।
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)