যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেশন জেডের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো 'প্রোটিনম্যাক্সিং', অর্থাৎ যত বেশি সম্ভব প্রোটিন খাওয়ার ঝোঁক দিয়ে শুরু হয়েছে অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য র্যান্ডিন গ্রেগের কলাম। তিনি হাউস ডিস্ট্রিক্ট ৭৮-এর প্রতিনিধি এবং হাউস এডুকেশন কমিটির সহসভাপতি; লেখাটি প্রকাশ করেছে নর্দার্ন অ্যাগ নেটওয়ার্ক। মতামত লেখকের নিজস্ব।
ইন্টারন্যাশনাল ফুড ইনফরমেশন কাউন্সিলের জরিপ উদ্ধৃত করে গ্রেগ লিখেছেন, নির্দিষ্ট পরিমাণ বা যত বেশি সম্ভব প্রোটিন খাওয়ার চেষ্টা করা আমেরিকানের হার ২০১৫ সালের ৫৪ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৭০ শতাংশে উঠেছে। ইউএসডিএর ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিসের হিসাবে মাথাপিছু লাল মাংস ও পোলট্রির প্রাপ্যতা ২০১৫ সালের প্রায় ২১১.২ পাউন্ড থেকে ২০২৬ সালে আনুমানিক ২২৮.৮ পাউন্ডে দাঁড়াচ্ছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, ইউএসডিএ এগুলোকে প্রাপ্যতার হিসাব বলে, যা প্রত্যেকে ঠিক কতটা খান তার মাপ নয়, ভোগের একটি আনুমানিক সূচক।
সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মুরগির মাংস, মাথাপিছু প্রায় ৮৯.১ পাউন্ড থেকে আনুমানিক ১০৫.৬ পাউন্ড; এরপর গরুর মাংস, প্রায় ৫৪.৪ থেকে ৬০ পাউন্ড। শূকরের মাংস প্রায় ৪৯ থেকে ৫০ পাউন্ডে স্থির, আর টার্কি প্রায় ১৫.৮ থেকে কমে ১৩.৬ পাউন্ড। লেখক উল্লেখ করেছেন হুইয়ের কথা: পনির তৈরির একসময়ের কম দামি উপজাত এখন ছেঁকে ঘন করে শুকনো ভিত্তিতে অন্তত ৯০ শতাংশ প্রোটিনের আইসোলেট বানানো হয়, যা বার, শেক, সিরিয়াল ও ওয়াফলে মেশানো হচ্ছে। এতে দুগ্ধ খামারিদের দুধের আরেকটি বাজার খুলেছে।
লেখকের মতে, এই চাহিদার পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করছে: জিএলপি-১ ওজন কমানোর ওষুধ, যার চিকিৎসায় পেশি রক্ষায় পর্যাপ্ত প্রোটিন ও শক্তি অনুশীলনের ওপর জোর দিয়েছে ২০২৫ সালের এক যৌথ ক্লিনিক্যাল পরামর্শ; ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ২০২৫-২০৩০ খাদ্য নির্দেশিকা, যাতে প্রতিবেলায় প্রোটিনকে অগ্রাধিকার দিতে এবং অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার, বাড়তি চিনি ও পরিশোধিত শর্করা অনেক কমাতে বলা হয়েছে; শরীরচর্চার সংস্কৃতি; আর কম প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ভোক্তাদের ঝোঁক।
তাঁর মূল যুক্তি, চাহিদা বাড়লেই খামারির আয় আপনাআপনি বাড়ে না। গরুর মাংস, মুরগি ও দুধ উৎপাদকেরা লাভবান হন, ভুট্টা, সয়াবিন, যবসহ পশুখাদ্যের চাষিরাও; ডাল ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের প্রতিও আগ্রহ আছে। কিন্তু মূল্যের বড় অংশ ধরে রাখতে হলে উৎপাদনের কাছাকাছি আরও প্রক্রিয়াজাতকরণ দরকার: মাংস ও দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, হুই ও দুধের প্রোটিন উৎপাদন, সয়াবিন মাড়াই এবং ডালের উপাদান আলাদা করা।
গ্রেগ লিখেছেন, পণ্য গ্রামীণ আমেরিকা ছাড়ার আগে যত বেশি মূল্য যোগ করা যাবে, ভোক্তার বাড়তি চাহিদার অংশ তত বেশি ফিরবে সেই কৃষক, পশুপালক ও গ্রামীণ জনপদে, যারা খাবারটি উৎপাদন করেছেন।
ছবি: USDAgov / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Northern Ag Network




মন্তব্য
(০)