রংপুর জেলার হিমাগার গেটে এখন আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি মাত্র ১২ টাকায়। কৃষকদের হিসাবে, ৫৫ কেজির এক বস্তা আলু উৎপাদন থেকে হিমাগারে তোলা পর্যন্ত খরচ পড়েছে প্রায় ৮২৫ টাকা, অথচ এই দামে সেই বস্তা বিক্রি হচ্ছে ৬৬০ টাকায়। এ দামে আলু বের করলে কেজিতে ১৫ থেকে ১৬ টাকা লোকসান হবে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
খরচের ভাগ তাঁরা এভাবে দিয়েছেন: প্রতি বস্তার হিমাগার ভাড়া ৩৭৫ টাকা, খালি বস্তা কেনা ১০০ টাকা, হিমাগারে নেওয়ার পরিবহন ৫০ টাকা ও শ্রমিক ২০ টাকা। এর সঙ্গে সার, কীটনাশক, সেচ, বীজ ও খেতের শ্রমিকের খরচ যোগ করলে এক বস্তার মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৮২৫ টাকা।
মিঠাপুকুর উপজেলার চেংমারী গ্রামের কৃষক বোরহান উদ্দিন গত মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে টিভিএস, স্টিক ও শিল জাতের আলু চাষ করেছিলেন। তাঁর হিসাবে টিভিএস ও স্টিক আলুর কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ ২৭ টাকার বেশি। রানীপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আতাউর রহমান এবার ৪৯ বিঘায় আলু করেছেন; তিনি জানান, গত বছর ৬৯ বিঘায় খরচ হয়েছিল প্রায় ৫৭ লাখ টাকা, সেই টাকাই তিনি তুলতে পারেননি। রংপুর মহানগরের কৃষক ভুপাল চন্দ্র রায় দুটি হিমাগারে ৫০০ বস্তা আলু রেখেছেন; লোকসানের ভয়ে আপাতত বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৬ হেক্টর জমিতে ৫১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৮৭ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। বিভাগের ১২৪টি হিমাগারে রাখা হয়েছে ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯২ টন, যা উৎপাদনের ২৩.১ শতাংশ। সংরক্ষিত আলুর ৭৩.৮ শতাংশ, অর্থাৎ ৮ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮ টন, এখনো হিমাগারে মজুত আছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে চলতি বছর দেশে আলু উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টন। সরকারি-বেসরকারি ৪০২টি হিমাগার ও ৭০৩টি অ-হিমায়িত মডেল ঘরে রাখা হয়েছে ৩৩ লাখ ৯০ হাজার ৫৭ টন, এর মধ্যে ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৪৮ টন খাবার আলু ও ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৯১০ টন বীজ আলু। রংপুর জেলার ৪২টি হিমাগারে খাবার ও বীজ আলু আছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৬৩৮ টন।
বদরগঞ্জের শাহজালাল ও গঙ্গাচড়ার এমএনটি হিমাগারের ব্যবস্থাপক সুভাস মুখার্জি জানান, কয়েক দিন ধরে হিমাগার গেটে জাতভেদে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১১ থেকে ১৪ টাকায়। হিমাগার দুটির ধারণক্ষমতা যথাক্রমে ১৫ হাজার ও সাড়ে ৯ হাজার টন; সেখানে এখন যথাক্রমে ৪০ ও ৪৮ শতাংশ আলু মজুত আছে। সমকালের প্রতিবেদনের হিসাবে, বর্তমান দরে বিক্রি হলে রংপুর বিভাগের আলুতে কৃষকের সম্ভাব্য লোকসান ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়াতে পারে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, 'গত দুই বছর থেকে আলুতে কৃষকের লোকসান হচ্ছে। এর কারণ হচ্ছে চাষিরা পরিকল্পিতভাবে আলু চাষ করছেন না।' তাঁর ভাষায়, উৎপাদন চাহিদার কয়েক গুণ; তাই কৃষকদের শুধু আলু না করে কিছু জমিতে ভুট্টা, সবজি ও ধান চাষের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ছবি: NahidSultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0); বাংলাদেশের একটি বাজারে বিক্রির জন্য রাখা আলু।
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)