আকস্মিক বন্যাপ্রবণ হাওর অঞ্চলের প্রায় ৩,০০০ কৃষক পরিবার জলবায়ু-সহনশীল ধানের জাত চাষ করে বন্যার ক্ষতি কমাতে পারছে। ভালো মানের বীজ এখন হাতের কাছে পাচ্ছে তারা, অন্য ফসল ও আয়ের নতুন পথ খুঁজতে প্রশিক্ষণও পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি, IRRI) নেতৃত্বে চলা একটি প্রকল্পের এই ফল তুলে ধরা হয় ২ অক্টোবর সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত প্রকল্পের প্রভাব প্রদর্শনী ও কৃষক অভিজ্ঞতা বিনিময় দিবসে।
হাওর অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল ধানের মূল্যশৃঙ্খল (সিএস-আরভিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ইরি ও ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (এফআইভিডিবি), সহায়তা দিচ্ছে এইচএসবিসি বাংলাদেশ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) সুনামগঞ্জের উপপরিচালক মো. ওমর ফারুক বলেন, হাওরে জলবায়ুর ঝুঁকি কমাতে আগাম ও স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে আকস্মিক বন্যার আগেই ধান কাটা যায়।
সরাসরি সহায়তা পাওয়া ৩,০০০ পরিবারের বাইরে প্রকল্পটি পরোক্ষভাবে আরও ১০ হাজার কৃষকের কাছে পৌঁছেছে, আর কৃষি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন দুই হাজারের বেশি কৃষক। প্রকল্পের কাজ চলছে পাঁচ হাজার হেক্টরের বেশি ধানের জমিতে এবং মরিচ, চিনাবাদাম ও সরিষার ১০০ হেক্টরের বেশি জমিতে। উপকারভোগীদের প্রায় ২০ শতাংশ নারী।
সচেতনতা, প্রাপ্যতা ও সাধ্য, ইরির এই থ্রিএ কাঠামোয় পাঁচটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কমিউনিটি বীজ ব্যাংক এখন স্থানীয়ভাবে মানসম্মত বীজ দিচ্ছে, যার বেশির ভাগ চালান নারীরা। "ক্রপ ক্যাফেটেরিয়া" পদ্ধতিতে আমন ও বোরো মৌসুমের প্রদর্শনী প্লটে কৃষকেরা নিজের এলাকার অবস্থায় উন্নত জাতগুলো পাশাপাশি তুলনা করে দেখতে পারছেন। প্রদর্শনীর স্টলে ছিল প্রকল্পের সহায়তায় তৈরি মরিচের গুঁড়া, ভাজা চিনাবাদাম, সরিষার তেল ও মধু, সঙ্গে কৃষিযন্ত্র ও কেঁচো সার তৈরির প্রদর্শনী।
ইরির প্রকল্প ব্যবস্থাপক রেহানা নূর বলেন, গবেষণা, উন্নত বীজ ব্যবস্থা, ফসল বহুমুখীকরণ ও প্রশিক্ষণ কৃষকদের জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সাহায্য করছে, পাশাপাশি নারী ও তরুণদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে। প্রকল্পটি চলবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: IRRI





মন্তব্য
(০)